//খুলনা ব্যুরো//
রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে জমির সীমানা তুলে ফেলায় বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ গুরুতর জখম। খুলনা মেডিকেল ও সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আহতরা। এ ঘটনায় রূপসা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বেলা আনুমানিক ১১ টার সময় আলাইপুর শেখপাড়া মসজিদের কাছে এই ঘটনা ঘটে
অশিকুর রহমান খান তার লোকজন নিয়ে রুনা বেগমের জমির সীমানার পিলার তুলে ফেলে। এ সময় রূনা বেগম সীমানা পিলার তুলে ফেলার প্রতিবাদ করলে অশিকুর তার লোকজন নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা রুনা বেগম (২৮)
কে মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। এ সময় তার বোন লিজা বেগম(২২)রুনা বেগমকে ঠেকাতে আসলে তাকেও বেদম মারপিট করে রক্ত জখম করে। আহতরা আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক শিকদারের মেয়ে।
রফিক সিকদার বলেন, তার জমির পাশে অসিকুর খান জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন সীমানা নিয়ে বিরোধ করে আসছে। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা
ওয়াহিদুজ্জামান মিজান এবং ইউ’পি মেম্বার আইরিন পারভীন আমিন নিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেন।
সেটি উপেক্ষা করে গত শনিবার সকাল ১১ টার দিকে জমির পিলার অসিকার খান (৩৫) ফরাদ শিকদার (২৮) এবং ফাহিম শেখ (২৪) তিনজন মিলে ভেঙে ফেলে। আমার বড় মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা রুনা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং রড দিয়ে বাড়ি দিলে পড়ে যায় এবং লাথি কিল ঘুষি ও কাঠের বাতা দিয়ে মারপিট করে।
ছোট মেয়ে লিজা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে।
এসময় ক্যানস্যারে আক্রান্ত রুনা বেগমের মাকেও মারপিট করে তারা।
এসময়ে তাদের জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মারপিট করে নগদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা স্বর্ণের চেইন ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে তারা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকার সুযোগে মহিলাদের উপর এ হামলা চালানো হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আহতবস্থায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে গুরুতর আহত
হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা বলেন, অসিকার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক তার নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন রকম সমাজ বিরোধী কাজ করে থাকেন এবং নিরীহ লোকদের হুমকি দিয়ে থাকেন। তার ভয়ে কেউ সাক্ষী দিতে চাই না।
ভুক্তভোগীর রফিক সিকদার বলেন আরো বলেন, রূপসা থানায় তাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখিত এজাহারে (৩,৪,৫) আসামী ঢাকায় মাছের ব্যবসা করেন। ঘটনার দিনে তারা ঢাকায় ছিলেন।
তাহলে কিভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন।
ঘটনা জানতে পেরে শনিবার সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ এর সময় খুলনার উদ্দেশ্যে তারা ঢাকা থেকে বাসের টিকিট কাটেন। যার প্রমান মোবাইল এসএমএস এবং টিকিট রয়েছে।
এব্যাপার থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবুল কাইয়ুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া ওসিকরের শাশুড়ি তিনিও জখম হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। তাই এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

