জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের মৎস্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি প্রকৃত যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য যারা যোগ্য, তাদেরই এসব সুবিধা দিতে হবে। যারা এসব কার্ডের জন্য জরিপ করবেন এবং কার্ড বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের অবশ্যই স্বচ্ছতা, সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কে কোন দলের কৃষক, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী এসব বিবেচনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাকেই সরকারি সুবিধা দিতে হবে। জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে।

তিনি বলেন, জলাশয়গুলোকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং দখলমুক্ত করতে হবে। খাল-বিল, নদী ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এগুলো সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই জলাশয় দখল করে কৃষক ও মৎস্যজীবীর অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না এবং  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জলাশয় দখলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ছাড়ব, মাছের উৎপাদন বাড়াব, আর কেউ সেই জলাশয় দখল করে সেই মাছ ভোগ করবে এটা হতে পারে না। জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। সে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই। এসব দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি, মৎস্য ও জ্বালানি খাতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়  খাল-বিল ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সোচ্চার থাকতে হবে। কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ রক্ষা করা মানে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কৃষি ও মৎস্যখাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে জলাশয় রক্ষা, নদী-খাল দূষণমুক্ত রাখা, দখল বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রূপসা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও জাতীয় মৎস্য পক্ষ রূপসা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সফল মৎস্য চাষী, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন। এরপর তিনি দুপুরে

উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ও ঘাটভোগ ইউনিয়নের নড়নীয়া বিলে মোট ১২০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতিকনা দাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এনামুল কবীর সজল,

উপজেলা আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।

অনুষ্ঠানে রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খন্দকার হিমেল, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম,সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফাদর, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক,পূর্ব রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির সভাপতি রুবেল মীর, মৎস্যচাষী খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সুজন বসু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুজ্জামান আনিস,আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,জেলা মহিলাদলের সাধারন সম্পাদক সেতারা বেগম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, বিএনপি নেতা এসএম আঃ মালেক, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন,জেলা মহিলাদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরা বেগম, বাদশা জমাদ্দার, সাইফুল ইসলাম পাইক, আবুল কাশেম কালা, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সৈয়দ মাহমুদ আলী, শামীম হাসান, প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, শাবানা,হাকিম কাজী, মোঃ সাজ্জাত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা  খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, মুন্না সরদার, আরিফ মোল্যা, জাহিদুল ইসলাম রবি, কামরুজ্জামান নান্টু, জেলা যুবদলের সদস্য তরিকুল ইসলাম রিপন,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রয়েল, রহিমা আক্তার নয়ন, ছাত্রদল নেতা কাজী জাকারিয়া, মো. দাউদ শেখ, এসএম আবু সাঈদ, মাহমুদুল হাসান, নাঈম ইসলাম, মনিশংকর রায়,  মিজানুর রহমান, সিহাবুল ইসলাম, মোল্যা দুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মোল্যা, আসলাম লস্কর, রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।

“কিচির মিচির” — রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা’র শুভ উদ্বোধন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্লে-জোন “কিচির মিচির” রূপসা উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে উন্নয়ন তহবিল থেকে নির্মিত করা হয়েছে। গত ৩ আগষ্ট বিকেলে শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রি্কতা রূপসায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, আমি যখন এ উপজেলায় প্রথম যোগদান করি, তার কিছু দিনপর এ পথ দিয়ে হেঁটে চলার মধ্যে হঠাৎ একটি বাচ্চা এসে বললো, ম্যাম আপনিতো আমাদের নতুন নির্বাহী, আমাদের একটা পার্ক করে দিবেন। যেখানে আমারা দোলানায় দোল খাবো, ষড়াত খাবো, হাঁসের পিঠে নড়াচড়া করবো এবং হেসে-খেলে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো। তার এ কথাগুলো অবশ্য কারোর শেখানো বুঝতে পারছিলাম। তারপরও ওর কথাগুলি আমার মনে মায়ার স্বরে জায়গা করে নেয়। ঐসময় শিশুটিকে আশ্বস্তী করি তোমার মনের আশা অল্পদিনের মধ্যেই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। ঐ ছোট শিশুর কথা মনে রেখেই ‘কিচির মিচির’ পার্কের সৃষ্টি হয়েছে।

"কিচির মিচির" --- রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা'র শুভ উদ্বোধন

শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করাতে স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় শিশুদের নিয়ে ঘোরার মতো ভালো কোনো স্থান ছিল না। বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে হলে শহরের দিকে যেতে হতো। ছোট শিশুদের নিয়ে দূরে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কিচির মিচির প্লে-জোনটি হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। শিশুরা একসঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ করে নিজেদের মধ্যে মিশছে। শিশুদের মুখের এই হাসির চেয়ে একজন বাবা-মায়ের কাছে বড় শান্তি আর কী হতে পারে। এটি শুধু একটি প্লে-জোন নয়, এটি আমাদের সন্তানদের আনন্দময় শৈশবের একটি সুন্দর ঠিকানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বুরহান উদ্দীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আলী আকবর, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন, আইচগাতী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুম, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রধান শিক্ষক সাবানা, শিক্ষক চন্দ্র শেখর পাল, শিক্ষক শামীমা নাসরিন, দিলারা খানম, সঙ্গীত শিক্ষক নীলমনি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী ওবায়েদ ফারাজী প্রমূখ।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা স্বরুপ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্যে রূপসার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আবেদনকারীর নিয়োগ পরীক্ষা গত ২৯ ও ৩০ জুলাই উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে দেখা গেছে প্রায় ৮০০  পরীক্ষার্থী এ পদ ২ টিতে অংশগ্রহণ করেছে। এসময় আগত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বেশ কয়েক বছর পরে স্থানীয় ভাবে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে খুবই ভালো লেগেছে। আশা করছি উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

নিয়োগ বোর্ড কমিটির সদস্য সচিব সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার জানান, সুপারভাইজার পদে ১০৭ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৬৫০ জন আবেদনকারীর মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৭২ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৬ জন। (মোট ৭৮ জন) অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৫ দিনের জন্য নিয়োগ পাইবেন। নির্বাচিতরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সংরক্ষণ করবেন।

নিয়োগ বোর্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হয়েছে।

এ পরীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কৃষি অফিসার তরুণ কুমার বালা, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, কমিটির সদস্য- মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন।

খুলনার রূপসায় দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

‘একটি দেশের দারিদ্রতার মূল কারণ দূর্নীতি’। এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে রূপসায় ৩ দিন ব্যাপী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক রচনা প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ গত ৩০ জুলাই উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে- ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবেশ ও জলাবায়ু সংরক্ষণ এবং বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপস্থিত সকলের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেছেন।

খুলনার রূপসায় দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা।

উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ শেখ মো. খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার-উল কুদ্দুস।

বিতর্ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন- সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, রূপসা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিপ্রা রানী নন্দী, শিয়ালী এস জি সি টেকনিক্যাল কলেজ সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী এবং সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল।

উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়েদ ফারাজী, সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ শেখ, সদস্য- শিক্ষক শামসুর রহমান, নাহিদুজ্জামান খান, আসমা আক্তার লিপি, সাংবাদিক আখতার খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী, শিক্ষক মিল্টন বিশ্বাস, শিক্ষক সীমা পান্ডে, শিক্ষক কামনা শীষ রায়, মো. শামীম হাসান, শিক্ষক উত্তম কুমার চ্যাটার্জী, উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার আব্দুস সালাম প্রমুখ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকনের আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

//দৈনি বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

জানা যায়, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুরুগেশ্বর এলাকায়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

 

৫ আগস্ট জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় দেড় দশকের আবাসস্থল ছিল গণভবন। এখানেই তৈরি হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তবে এই জাদুঘরের জনবল নিয়োগ এখনো হয়নি।

গত ১২ মে গণভবনে জাদুঘরের কাজ পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জুলাই মাসের শেষে অথবা ৫ আগস্টের মধ্যেই জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জুলাই স্মৃতি জাদুঘরেরও মহাপরিচালক। গতকাল রোববার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাদুঘরের জনবল নিয়োগ না হলেও আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। সে অনুযায়ী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, ভেতরে ঢোকার টিকিটের ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণ–আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবনে ঢোকে জনতার স্রোত। বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভাঙচুরে অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। সেই সঙ্গে চলে লুটপাট। ভবনের বিদ্যুতের সুইচবোর্ড পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়েছে। বড় করে গণভবন লেখা বোর্ডটিও ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনের আয়তন ১৭ দশমিক ৬৮ একর। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর জাদুঘর হিসেবে

প্রতিষ্ঠার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

জাদুঘর নির্মাণে কত খরচ

শুরুর দিকে জাতীয় জাদুঘরের অধীনে এটি পরিচালনার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জাদুঘরের শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। পরে এ অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করে। এ দুই মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, এটি নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট বরাদ্দ পেয়েছে ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জাদুঘর পরিচালনায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, গণভবনের ক্ষতিগ্রস্ত মূল ভবন সংস্কারসহ পূর্ত ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোগত কাজ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর ভাস্কর্য নির্মাণ, নিদর্শন সংগ্রহ ও শিল্পকর্ম কেনা, গ্যালারি সাজানো, তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন এবং অফিস আসবাব ও সরঞ্জামাদি কেনার দায়িত্ব ছিল জাতীয় জাদুঘরের।

জাদুঘর নির্মাণে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানকে আর চুক্তিপত্র ছাড়াই কাজ করেছে অন্য প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা, ভাস্কর্য নির্মাণ, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, আপ্যায়ন বিলসহ বিভিন্ন খাতে খরচের বাড়াবাড়ি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা ও প্রকাশিত হয়েছে। জাদুঘরের পক্ষ থেকে তার লিখিত প্রতিবাদও জানানো হয়েছে দফায় দফায়।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করে কাজগুলো করা হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে কোনো কোনো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকারের রাজস্ব বাজেটের এ বিশাল কার্যক্রমে খরচ বেশি হয়েছে, কেউ এ অভিযোগ করতেই পারেন। আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত এখনো জাদুঘরটি হস্তান্তর করেনি। অডিটও হয়নি।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর জাদুঘরের অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সংশোধনীসহ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হয়। মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি হিসেবে বাইরে থেকে মনোনীত কোনো বিশেষজ্ঞের বদলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থাকবেন।

৯ জুলাই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী জাদুঘরের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এ পর্ষদের সভাপতি হয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জাদুঘরটির মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জনবল নিয়োগ নিয়ে জটিলতা

জনবল নিয়োগের বিষয়ে তানজিম ওয়াহাব বলেন, জাদুঘরের জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত জাতীয় জাদুঘরের ১৮ জন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ জাদুঘরে কাজ করছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়া হবে। এভাবেই আপাতত জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হবে। জাদুঘরের নতুন পর্ষদ গঠিত হওয়ায় নিয়োগসহ অন্যান্য জটিলতা দ্রুত দূর করা সম্ভব হবে।

জাদুঘরে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ৬২টি পদে ৯৬ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। আবেদনের সময় দেওয়া হয় মাত্র সাত দিন। গত ২৮ জানুয়ারি এ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি ‘প্রমার্জন’ (শিথিল) করেছেন বলেও তখন কর্তৃপক্ষ জানায়। পরে সমালোচনা শুরু হলে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

গত বছরের ১৫ জুলাই জাদুঘর নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য দুটি প্রকল্পের কাজ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে করার নীতিগত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। দুই প্রকল্পেই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ওই বছরের ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধন করা সম্ভব হয়। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মত দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে গণ খাতে ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং গণ খাতে ক্রয়বিধি, ২০০৮-এর ৭৬ (২) ধারা অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদনের পর এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে মানদণ্ড থাকা উচিত, তা এই প্রক্রিয়ায় গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির নামে বিদ্যমান সরকারি ক্রয়নীতি ও বিধান এড়িয়ে যে প্রক্রিয়ায় কাজ দেওয়া

হয়েছে, তা অনিয়ম ও পক্ষপাতের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লেখ রয়েছে, সরাসরি ক্রয় শুধু জরুরি অবস্থা, দুর্যোগ কিংবা বিশেষায়িত পণ্য বা সেবার জন্য ব্যবহারযোগ্য এবং এর ব্যবহার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বিঘ্নিত না করে হতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের প্রক্রিয়াটি কোনো বিশেষায়িত ক্রয় নয়।’

এ বিষয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব প্রথম আলোকে বলেন, জাদুঘর দ্রুত সময়ে উদ্বোধন করার জন্য সরকারের অনুমতিতেই সব কাজ হয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ না বললেও ‘সঠিক উপায় না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণভবন থেকে জাদুঘর

স্বাধীনতার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে অফিস করতেন। প্রেসিডেন্ট ভবন তখন গণভবন নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সচিবালয় হিসেবে শেরেবাংলা নগরে এই গণভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গণভবনে বসবাস না করলেও ভবনটিকে অফিসের কাজে ব্যবহার করতেন।

বিশাল কমপ্লেক্স, উন্মুক্ত মাঠসহ ২৯ হাজার বর্গফুটের দ্বিতল ভবনটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক কাজও হতো এখানে। গণভবনের খোলা জায়গায় নানা শাকসবজি, ফল এমনকি বিভিন্ন জাতের ধানের চাষও করতেন শেখ হাসিনা। বিশাল লেকে মাছ চাষ করতেন। গরু, মুরগি, কবুতরসহ নানা জাতের পশুপাখি পালন করতেন। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য ছিল বিশাল টেনিস কোর্ট।

গত বছরের ২ জুন সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অনুমতি নিয়ে গণভবনে ঢোকার সুযোগ হয়েছিল এই প্রতিবেদকের। তবে জাদুঘরের সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করেও অনুমতি পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জাদুঘরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের বিবরণ, ভুক্তভোগীদের স্মৃতি ও স্মারক, জুলাই শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, গণভবন থেকে উদ্ধার করা নথিপত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মারক ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। পাঁচটি নতুন ওয়াকওয়ে, তিন দিকে সম্প্রসারিত লেক, ফুডকোর্ট, প্রার্থনাকক্ষ, প্রক্ষালনকক্ষ, টিকিট হাউস, স্যুভেনির শপ, হেলিপ্যাডে জুলাই মঞ্চ এবং ২২টি সেল নিয়ে প্রতীকী আয়নাঘর বানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলন, শাপলা ট্র্যাজেডি, বিডিআর বিদ্রোহ ইত্যাদিসহ গুম–খুনের শিকার প্রায় ৪ হাজার মানুষের নাম ও স্মৃতি সংরক্ষণে মেমোরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি ডামি কবর বানানো হয়েছে, এটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন থিমে মোট ৬২টি প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়েছে। মনসুন থিয়েটার সেলুলয়েডে ১৬ বছরের ফ্যাসিজম, বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘর নির্মাণে চীনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার জাদুঘরটি উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরের ২০ জানুয়ারিসহ একাধিকবার জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। ২০ জানুয়ারি তিনি বলেছেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে। যদি আমাদের জাতি কখনো দিশাহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট জাদুঘর উদ্বোধনের কথা জানিয়েছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দফায় দফায় প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জাদুঘর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাদুঘর পরিদর্শন করা অতিথিদের আপ্যায়ন বিল এসেছে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জাদুঘর পর্ষদে সদস্য হিসেবে আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের নানা অত্যাচার–অবিচারের ইতিহাসগুলো মানুষকে জানানোর জন্যই জাদুঘরটি দ্রুত খুলে দেওয়া প্রয়োজন। জাদুঘরে সব জুলাই শহীদের স্মারক থাকা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘরে গিয়ে সবাই যেন জানতে পারেন এই নামে কেউ একজন ছিলেন, যিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।

 

মনিরামপুরে দলিত এর উদ‍্যেগে প্রশিক্ষণ বীজ ও ফলজবৃক্ষ বিতরন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিতের উদ্যোগে ২১ জুলাই  মঙ্গলবার মনিরামপুর উপজেলায় জৈব‍্য    সার ও কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষের উপর তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দলিত এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস ধরা দেবী দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহরিয়ার হোসেন,  প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূর্বাডাঙ্গা  ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার লিটন সরকার ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি অফিসার অচ্যুত গাইন গাইন।

প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন দলিত এর স্পন্সরশিপ অফিসার বিপ্লব মন্ডল, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার বিপ্লব দাস ও অঞ্জনা দাস, শিক্ষক স্মৃতি কুন্ডু ও মাসুদা পারভিন। প্রশিক্ষণ কর্মশালা দুটি পাড়ালা এবং চিনাটোলার  দলিত শিক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠত হয়। প্রশিক্ষণে ২০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেয় । প্রশিক্ষণ শেষে উক্ত প্রশিক্ষণার্থীসহ পাড়ালা এবং চিনাটোলা গ্রামের মোট ৯৯ টি দলিত  পরিবারের মধ্যে সবজির বীজ ও ফলজ  গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হলো খুলনার রূপসায়

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

‘তামাকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ বাংলাদেশ গড়ি’। এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের এক র‍্যালি শেষে আলোচনা সভা গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

তামাকমুক্ত করনীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন (সভার সভাপতি) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। তিনি বলেন- দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রচুর মানুষের মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটেছে। মানব জীবন রক্ষায় ১৯৮৯ সাল থেকে বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এ দিনে  দিবসটি পালনের মাধ্যমে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানব জীবনে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাপারে।

পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং পাবলিক পরিবহনে সতর্কতামূলক নোটিস প্রদর্শন এবং তামাকজাত দ্রব্য প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়া থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের আশপাশ ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ।  তাছাড়া ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এগিয়ে আসলে তামাকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, রূপসা থানা (ওসি তদন্ত)) আব্দুর সবুর খান, মেডিকেল অফিসার মো. আল আমিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বুরহান উদ্দীন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,

ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ মো. আতাহার আলী ফকির, রূপসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সাবানা, মোছাঃ নাসরিন খাতুন, কমল চন্দ্র সানা প্রমুখ।

তামাকমুক্ত দিবসটি যথাযথ পালনের লক্ষ্যে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না ……রূপসায় আজিজুল বারী

//এম মুরশীদ আলী//

এম মুরশীদ আলী : “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামী ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস সফল করার লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই বিকেলে রূপসা উপজেলার মডেল মসজিদ মিলনায়তনে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কৃষি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বললেন-  বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। এছাড়া সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা, কৃষি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষকদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। মাঠের কৃষক ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতিও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার, বীজ, কৃষি উপকরণ, ঋণসহ সরকারি সহায়তা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রভাবশালীর হাতে না গিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি সংগঠন যাদের নেতা-কর্মীর জনগণের জবাবদিহিতায় বিশ্বাসি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার জনগণের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। সকলকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উর্ধ্বে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে সেবার মাধ্যমে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। রাস্তা-ঘাট, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হলে তা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের অর্থের অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিন বলেন কৃষকদের কথা চিন্তা করে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড  বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ প্রদান ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সেই উদ্যোগ আজও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। পল্লী কৃষি, উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিবারের প্রতিটি সন্তানের নামে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করতে হবে।  কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া টেকসই কৃষি সম্ভব নয়। তাই বৃক্ষরোপণে কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।

কৃষক সমাবেশে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার তারেক ইকবাল আজিজ।

রূপসা ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি হাসিবুর রহমান বাবুল লস্করের সভাপতিত্বে এবং ফিল্ড অফিসার কৃষ্ণ গোপাল সেনের সঞ্চালনায় বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিন্টু, সমবায়ী এ্যাডঃ সুশীল কুমার পাল, তাইজুল শেখ, ধিমান দাস, অমেলা শিকদার প্রমূখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, খুলনা জেলা আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান,জেলা মহিলাদল নেত্রী শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, এসএম সবুর রাজীব,এসএম আঃ মালেক, মিকাইল বিশ্বাস, দিদারুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম নন্দু, মনিরা বেগম, শারমিন আক্তার আঁখি, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম রেজা, শামীম হাসান, সরদার শিহাব, ফিরোজ মাহমুদ, মহিতোষ ভট্টাচার্য, আমিনুল ইসলাম তারেক, জহিরুল হক শারাদ, তরিকুল ইসলাম রিপন, মনিশংকর রায়, এসএম আবু সাঈদ, নাঈম আহম্মেদ, মঞ্জু শিকারি, জাহাঙ্গীর হোসেন, ওমর ফারুক প্রমূখ।

সভা শেষে ২০০ জন কৃষকের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন এমপি।

হৃদযন্ত্রের অবস্থা সম্পর্কে জানতে ড. দেবী শেট্টি কিছু অতি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

বয়স ২০ পেরোলেই সিটি স্ক্যান! জিমে কসরতের আগে হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দিলেন দেবী শেট্টি

তারকাদের মতো চেহারা পাওয়ার বাসনায় জিমে গিয়ে শারীরিক কসরত করার হিড়িক পড়েছে কমবয়সিদের মধ্যেই। না জেনে ভারী ব্যায়াম করা কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে পরামর্শ দিলেন কার্ডিয়াক সার্জন দেবি শেট্টি।

বয়স কুড়ির গণ্ডি পার হলেই করিয়ে নিতে হবে সিটি স্ক্যান। বাইশে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট জরুরি। এমনই পরামর্শ দিলেন কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেট্টি। আচমকা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তা বেশি হচ্ছে কমবয়সিদেরই। বাইরে থেকে দেখতে যতই সুস্থ ও চনমনে লাগুক না কেন, ভিতরে ভিতরে হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা কিছু পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় থাকে না। চিকিৎসকের পরামর্শ, বয়স কুড়ির কোঠা পেরোলেই হার্টের কিছু পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা জিমে গিয়ে ভারী কসরত করেন বা ওজন তুলে ব্যায়াম করেন, তাঁদের সবচেয়ে আগে চার থেকে পাঁচটি হার্টের টেস্ট করাতেই হবে। না হলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

তারকাদের মতো চেহারা পেতে জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। পেশির ব্যায়াম করতে হলে আগে দেখে নিতে হবে শরীর সে ভাবে প্রস্তুত কি না। দেবী শেট্টি জানাচ্ছেন, শরীর যদি ভিতর থেকে দুর্বল হয় বা হৃদ্‌যন্ত্রের কোনও রোগ থেকে থাকে, তা হলে ভারী কসরত বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বাইরে থেকে একজনকে ফিট দেখালেও তাঁর ধমনীতে ব্লকেজ বা জন্মগত কোনও হার্টের সমস্যা রয়েছে কি না, তা সাধারণ অবস্থায় বোঝা যায় না। যখন কেউ হঠাৎ জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলেন বা এমন ব্যায়াম করেন যাতে হার্ট রেট বা হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৫০-এর উপরে চলে যায়, তখন হার্টের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই বিপদ থেকে বাঁচতেই কিছু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

কী কী পরীক্ষা করাতে হবে?

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা জরুরি।হৃৎস্পন্দন ঠিক আছে কি না, তা জানতে ইলেক্ট্রোকার্ডিয়োগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষা করানো জরুরি।

হার্টের পেশি ঠিক মতো কাজ করছে কি না, তা জানতে ইকোকার্ডিয়োগ্রাম করতে হবে।

হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীতে ব্লকেজ আছে কি না বুঝতে সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করানো জরুরি।

সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট (সিআরপি) টেস্ট করাতেই হবে। ‘সিআরপি’ এক ধরনের প্রোটিন। রক্তে এই প্রোটিন বৃদ্ধি পেলে প্রদাহ বাড়ে। সিআরপি টেস্ট করালে বোঝা যায়, শরীরে কী পরিমাণ প্রদাহ হচ্ছে। যার থেকে বোঝা সম্ভব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে কি না।

হিমোসিস্টিন টেস্টে হার্ট অ্যাটাকের আগাম খবর পাওয়া সম্ভব। এটি এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময়ে তৈরি হয়। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন এটি ধমনীর ভিতরে জমা হতে থাকে ও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে। দিনের পর দিন যদি রক্তে হিমোসিস্টিন জমা হতে থাকে, তা হলে ধমনীতে তা ‘প্লাক’-এর মতো জমতে থাকবে ও হার্ট ব্লকেজের কারণ হয়ে উঠবে।

ডক্টর শেট্টি সতর্ক করেছেন যে, ব্যায়াম করার সময়ে যদি বুকে চাপ চাপ ব্যথা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, পিঠের ব্যথা বেশি হয়, তা হলে সাবধান হতে হবে।