নিশ্চিত জয়- ট্রাম্প, আসলে কে জয়ী….!

//দৈনি বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, তখন তিনি একটি দ্রুত এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যুদ্ধের মাত্র ১০ দিনের মাথায় তিনি বড় গলায় দাবি করেছিলেন, আমেরিকা ‘ইতিমধ্যেই জিতে গেছে’। কিন্তু যুদ্ধের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও রণক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা তো আসেইনি, বরং এই সংঘাত এখন পুরো বিশ্বকে এক অন্তহীন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের হাহাকার: ধ্বংসস্তূপে ইরান ও লেবানন যেকোনো যুদ্ধের মতো এখানেও সবচেয়ে বড় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইসরাইল ও আমেরিকার হাজার হাজার হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১,৭০০ জনই সাধারণ নাগরিক। ট্রাম্প এমনকি ইরানের পুরো ‘সভ্যতা’ ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শাসনামলে দমন-পীড়ন আরও কঠোর হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পাশাপাশি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

লেবাননের অবস্থাও তথৈবচ। হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের সরাসরি লড়াইয়ে গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জন লেবানিজ প্রাণ হারিয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একের পর এক গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘শক’:

পকেটে টান পড়ছে সবার এই যুদ্ধের উত্তাপ এখন পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুমে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তেলের বাজার টালমাটাল। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর কৃষিখাতকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

‘লস’-এর তালিকায় যারা:

ট্রাম্প, উপসাগরীয় দেশ ও ইউক্রেন ডোনাল্ড ট্রাম্প: রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প এখন চাপে। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে ৩৭ শতাংশে ঠেকেছে। যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য তার আসন্ন নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসাগরীয় দেশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত যারা এই যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে। বিশেষ করে ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের তেল ও গ্যাস রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ইউক্রেন:

ইউক্রেনের জন্য এই যুদ্ধ দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। আমেরিকার নজর এখন ইরানের দিকে থাকায় ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ অন্যান্য অস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।

ছাইচাপা আগুনের মধ্যেও ‘জয়ী’ যারা এত ধ্বংসলীলার মাঝেও হাতেগোনা কয়েকজন কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিয়েছে:

চীন:

বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক হয়েও চীন বেশ স্থিতিশীল। তারা নিজেদের তেলের বিশাল মজুত গড়ে তুলেছে এবং এই সুযোগে বিশ্বে শান্তির দূত হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।

রাশিয়া ও তেল কোম্পানি:

তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, অক্সফাম-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ৬টি তেল কোম্পানি এই বছর প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা লুটবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী:

তেলের বিকল্প হিসেবে সৌর ও বায়ু শক্তির চাহিদা বাড়ছে। আবার যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্বজুড়ে সমরাস্ত্র কেনাবেচা ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্রাম্পের দুই মাস আগের ‘নিশ্চিত বিজয়’ এখন এক দীর্ঘস্থায়ী চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঝুঁকি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

ইথিওপিয়ার টিগরে ১৯০০ মানুষকে হত্যা

 

ইথিওপিয়ার টিগরেতে ১৯০০ মানুষকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীরা বলে জানা গেছে। বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ঘেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে এক সংবাদে জানায় দ্য গার্ডিয়ান

সেখানে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সের মানুষটি ৯০ বছরের এবং সবচেয়ে কম বয়সেরটি হচ্ছে শিশু। গত বছরের নভেম্বরে শান্তিতে নোবেল পাওয়া প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ  টিগরের বিদ্রোহীদের দমনে সেনা অভিযানের নির্দেশ দেন। এবং সেই অভিযানে বিদ্রোহী টিগরে পিপলস লিবারেশ ফ্রন্ট পরাজিত হয়। এরপর থেকেই  ইথিওপিয়ার বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা ও সহিংসতা চালাতে শুরু করে।

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

জঙ্গিদের হাতে মোজাম্বিকে হোটেলে ১৮০ জন জিম্মি

অনলাইন ডেস্ক।।

মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলে একটি হোটেলে বিদেশি কর্মীসহ অন্তত ১৮০ জন আটকা পড়েছে। জঙ্গিরা হামলা চালানোর পর তিন দিন ধরে তাদের সেখানে জিম্মি করে রেখেছে।

শুক্রবার নিরাপত্তা সূত্র ও কর্মীরা এ তথ্য জানান। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানায়, কাগো দালগাদো প্রদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের কাছে পালমায় হামলার পর বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, জঙ্গিরা বুধবার বিকেলে উপকূলীয় এ শহরে হামলা শুরু করে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা আশপাশের বনাঞ্চলে পালিয়ে যায় এবং এলএনজি ও সরকারি কর্মীরা আমেরুলা পালমা হোটেলে আশ্রয় নেন।

এলএনজি সাইটে থাকা এক কর্মী শুক্রবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বলেন, ‘জঙ্গিদের হামলায় প্রায় পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা-জাতিসংঘ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর।। নতুন এ্যাসাইলমের আবেদনে আর বাঁধা নেই

অনলাইন ডেস্ক।।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয় প্রার্থী শরনার্থীদের এখন থেকে এ্যাসাইলম সিকার নতুন আবেদন করতে আর কোন বাঁধা নেই।দীর্ঘ দিন থেকে নতুন আবেদনের জন্য অপেক্ষা করা শরনার্থী এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন করে প্রবেশ করা সকল শরনার্থীদের জন্য এ্যাসাইলমের নতুন আবেদন গ্রহন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকারের হোম এফেয়ার্স মন্ত্রী ডাঃএ্যারন মোটসোলাড়ি।
আজ সোমবার কেপটাউনে ইউনাইটেড ন্যাশান হাইকমিশনার ফর রিফুজি ও দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের হোম এফেয়ার্স মন্রনালয়ের মধ্যে এই বিষয়ে এক যৌথ এবং ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন,দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয় নিতে এসে যারা নতুন আবেদনের জন্য কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছেন বা আবেদন করার পর এখনো আপিল আবেদনর সুযোগ পায়নি তারা এখন থেকে নতুন আবেদন করতে পারবেন।জাতিসংঘের সাথে চুক্তির ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন ভাবে আশ্রয় নিতে আসা শরনার্থীদের নতুন আবেদনের জন্য আর অপেক্ষা করতে হবেনা।মন্রী বলেছেন,দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয় প্রার্থী শরনার্থীদের প্রতি দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা গুলো গুরুত্বের সাথে শরনার্থীদের দায়িত্ব পালন করবে।
মন্ত্রী আরো বলেছেন,দেশে প্রবেশ করা প্রত্যেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান এবং অধিকার বিলের দ্বারা সুরক্ষিত আছে এবং থাকবে।
উল্লেখ্য,গত কয়েকবছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয় প্রার্থী ১ লাখ ৮৫ হাজার শরনার্থী নতুন এ্যাসাইলমের আবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
© বাংলাদেশি ভয়েস অব সাউথ আফ্রিকা
facebook: সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীদের জন্য খবর

দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনসহ বাংলাদেশে করোনার ১২ রূপ শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক : 

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে আরও একটি দুঃসংবাদ এল। প্রথমবারের মত বাংলাদেশে শনাক্ত হল করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান স্ট্রেইন। শুধু তাই নয়, এটিসহ করোনার মোট ১২টি অ্যাকটিভ ধরন শনাক্ত হয়েছে এ দেশে।

করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার, গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএআইডি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জার্মান প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় গেল ২৪ জানুয়ারি। করোনাভাইরাসের এই স্ট্রেইনটি বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটির প্রভাবে মারাত্মক অসুস্থতা দেখা দেওয়ার প্রমাণ না থাকলেও এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়।

এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র করোনার টিকা দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেইন প্রতিরোধে কম কার্যকরি।