ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে …. রূপসায় জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, এর আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উৎস ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় মশার প্রজননের তৈরি হচ্ছে এবং কোন এলাকাগুলোতে ঝুঁকি বেশি, এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, অভিযান পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেটিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাজার, সড়কের পাশসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা অন্য কোনো বস্তুতে পানি জমে থাকলে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষ যদি এসব বিষয়ে সচেতন হয়, তাহলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত সেই এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর লক্ষণ, মশার প্রজননস্থল এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানাতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই; সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রশাসন মাঠপর্যায়ে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ যুক্ত হলে উদ্যোগগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে। ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, তাই এর নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় পর্যায় থেকে দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি চলমান কার্যক্রম। এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান নয়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক সবার দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং অন্যদেরও সচেতন করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই আতঙ্ক নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত ডেঙ্গু মশাবাহিত ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি (অতিরিক্ত) এস এম নুরুন্নবী, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আছাফুর রহমান।

সেমিনার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাঃ ইব্রাহিম হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. নাসির উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক শাবানা, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বাবু, ইনতাজ মোল্যা, হোসনেয়ারা পারভিন হেনা, নাজমা বেগম, বিএনপি নেতা শিহাবুল সরদার, সাজ্জাত হোসেন, জাহাঙ্গীর হালদার, নজরুল ইসলাম, জাকির শেখ, আকতার শেখ প্রমুখ।

এর পূর্বে তিনি নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে দেবীপুর এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা ও অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুজিত মন্ডল।

এছাড়া তিনি রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সরকারি দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডি-নথির মাধ্যমে অফিসিয়াল পত্র নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন এবং রূপসা থানা, উপজেলা ভূমি অফিস ও আঠারোবেকী নদীর তীরে অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

“কিচির মিচির” — রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা’র শুভ উদ্বোধন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্লে-জোন “কিচির মিচির” রূপসা উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে উন্নয়ন তহবিল থেকে নির্মিত করা হয়েছে। গত ৩ আগষ্ট বিকেলে শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রি্কতা রূপসায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, আমি যখন এ উপজেলায় প্রথম যোগদান করি, তার কিছু দিনপর এ পথ দিয়ে হেঁটে চলার মধ্যে হঠাৎ একটি বাচ্চা এসে বললো, ম্যাম আপনিতো আমাদের নতুন নির্বাহী, আমাদের একটা পার্ক করে দিবেন। যেখানে আমারা দোলানায় দোল খাবো, ষড়াত খাবো, হাঁসের পিঠে নড়াচড়া করবো এবং হেসে-খেলে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো। তার এ কথাগুলো অবশ্য কারোর শেখানো বুঝতে পারছিলাম। তারপরও ওর কথাগুলি আমার মনে মায়ার স্বরে জায়গা করে নেয়। ঐসময় শিশুটিকে আশ্বস্তী করি তোমার মনের আশা অল্পদিনের মধ্যেই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। ঐ ছোট শিশুর কথা মনে রেখেই ‘কিচির মিচির’ পার্কের সৃষ্টি হয়েছে।

"কিচির মিচির" --- রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা'র শুভ উদ্বোধন

শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করাতে স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় শিশুদের নিয়ে ঘোরার মতো ভালো কোনো স্থান ছিল না। বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে হলে শহরের দিকে যেতে হতো। ছোট শিশুদের নিয়ে দূরে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কিচির মিচির প্লে-জোনটি হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। শিশুরা একসঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ করে নিজেদের মধ্যে মিশছে। শিশুদের মুখের এই হাসির চেয়ে একজন বাবা-মায়ের কাছে বড় শান্তি আর কী হতে পারে। এটি শুধু একটি প্লে-জোন নয়, এটি আমাদের সন্তানদের আনন্দময় শৈশবের একটি সুন্দর ঠিকানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বুরহান উদ্দীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আলী আকবর, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন, আইচগাতী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুম, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রধান শিক্ষক সাবানা, শিক্ষক চন্দ্র শেখর পাল, শিক্ষক শামীমা নাসরিন, দিলারা খানম, সঙ্গীত শিক্ষক নীলমনি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী ওবায়েদ ফারাজী প্রমূখ।

‘জীবন রক্ষায় প্রয়োজন, নার্সদের ক্ষমতায়ন’ – রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ১২ মে উদযাপন উপলক্ষে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ১১ টায় কেক কাটার মাধ্যমে নার্সরা আনন্দ উল্লাসে  দিবসটি পালন করেছেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- আমাদের নার্স। আমাদের ভবিষ্যৎ- জীবন রক্ষায় প্রয়োজন, নার্সদের ক্ষমতায়ন’।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মো. মাজেদুল হক কাওসার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খন্দকার হিমেল, মেডিকেল অফিসার ডাঃ কল্লোল, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আসাদুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম মুরশীদ আলী।

নার্সদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নার্সিং সুপারভাইজার নুরুন্নাহার শিল্পি, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সিরাতে আয়শা, ভাইয়া ইনচার্জ সুপর্ণা রানী বিশ্বাস, মরিয়ম খাতুন, শারমিন সুলতানা, হিমালা বিশ্বাস, ঝুমুর হাওলাদার, বৈশাখি ব্যাপারী, শিল্পী মল্লিক, খুকুমনি মজুমদার, ফারজানা লিজা, রাবেয়া সুলতানা, তিথী পোদ্দার, ঝুমুর সরকার, শিরিন খাতুন, সম্পা সরকার, গৌরিবাকচি, খাদিজা খাতুন, সুপর্না সরকার, নাছরিন নাহার, ইন্দ্রা সিংহ এবং মিডওয়াইফ নাজনীন সুলতানা, দিলরুবা ইয়াসমিন প্রমুখ।

হাম রুবেলা টিকার আওতায় রূপসায় ২১২০৫ জন শিশুর মধ্যে প্রথমদিন নিল ৭৬৪ জন

//এম মুরশীদ আলী//

হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরী হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩ সপ্তাহ ব্যাপী কার্যক্রম সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। রূপসায় ২১২০৫ জন শিশুর মধ্যে প্রথমদিন টিকা নিল ৭৬৪ জন শিশু।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র রূপসা উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে শিশুদের জরুরি হাম রুবেলা টিকা বিনামূল্যে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি স্থায়ী কেন্দ্র ব্যতীত প্রতি ইউনিয়নে ২৪ টি করে অস্থায়ী কেন্দ্র করা হয়েছে। তাছাড়া, প্রাক-প্রাথমিক প্লে, নার্সারি ও ইবতেদায়ীর শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে। এ সকল টিকাদান ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কমবয়সী শিশুরা টিকা কর্মসূচির আওতায় থাকবে। রূপসায় মোট- শিশু ২১ হাজার ২ শত ৫ জন। তারমধ্যে ছেলে ১০ হাজার ৬ শত ৬১ জন এবং মেয়ে শিশু ১০ হাজার ৫ শত ৪৪ জন।

চিকিৎসকরা জানান- শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। শিশুকে টিকা দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিকর খাবারের। হাম হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে প্রতিটি-শিশুর জন্য হাম রুবেলা টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মীদ্বারা প্রদান করা হচ্ছে। অভিভাবকগণ নিশ্চিন্তায় বাচ্চাকে টিকা দিতে পরামর্শ প্রদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী কেন্দ্র-১টি  ব্যতীত ইউনিয়ন পর্যায়ে অস্থায়ী কেন্দ্র ১২০ টিতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তদরকি কমিটি পুণঃগঠন ও সেবা সমূহ

 //এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঢাকা অফিস কর্তৃক পরিচালিত আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তদরকি কমিটি ৯ সদস্য বিশিষ্ট পুণঃগঠন করা হয়েছে।

রূপসা আঞ্জুমান সম্পর্কে জানা যায়, খুলনা জেলা-রূপসার ইলাইপুর গ্ৰামের কৃতি সন্তান মরহুম এসএম দলিল উদ্দিনের পূত্র এসএম হারুনার রশিদ (যুগ্ম-সচিব, অবসরপ্রাপ্ত)। তাঁর নিজ এলাকার জনসাধারণের সেবা দান ও নানান সুবিধার কথা বিবেচনা করে রূপসার ইলাইপুর এলাকায় দলিল উদ্দিন সড়কের পাশে ২ বিঘা জমি সহ পাকা ভবন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সংস্থায় দান করে দেন। সেখানে- আঞ্জুমান ঢাকা হেড অফিস হইতে রূপসায় উক্ত সংস্থার নামকরণ করা হয় আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

এরপর থেকে এ কেন্দ্রটিতে একেরপর এক জনসেবা ও প্রশিক্ষণ সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। যেমন- প্রতি শনিবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা সহ ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে সংস্থাটি। প্রতিমাসে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়। এছাড়াও এলাকার অসহায় নাজুক মহিলা ও পুরুষ রোগীর মধ্যে সপ্তাহে ৩ দিন অর্থাৎ রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ”প্রশিক্ষিত থেরাপিষ্ট” দ্বারা ফিজিওথেরাপী সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ ধরনের অসুস্থ রোগী প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন থেরাপী সেবা নিতে আসেন।

তাছাড়া উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশের গ্ৰাম অঞ্চলের মানুষেরা যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সেদিক বিবেচনা করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সাবলম্বী করতে ২৬ সালের ১ জানুয়ারী হইতে আরো ২টি নতুন প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এখানে- বিবাহিত নারী ও মেয়েরা বিনামুল্যে ৩ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ক্লাসে ২০ জন শিক্ষার্থী কম্পিউটার প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।

আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক, ড. মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী কর্তৃক স্বাক্ষরিত ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ২৬ সালের ৪ এপ্রিল পূণ:গঠন করা হয়েছে।

উক্ত তদারকি কমিটিতে আহ্বায়ক- এডভোকেট মো. সফিউল আলম সুজন, যুগ্ম-আহ্বায়ক- মো. মিজানুর রহমান ডিকেন (সমাজ সেবক), কোষাধক্ষ্য- শাহ আব্দুল হাই কচি (সাবেক অডিটর), সদস্য- মো. হায়দার আলী (প্রধান শিক্ষক- সামসুর রহমান হাইস্কুল), এম এ আজিম (সাংবাদিক), এম মুরশীদ আলী (সাংবাদিক), এস এম মিজানুর রহমান (সমাজ সেবক), গোলাম রসুল (সমাজ সেবক) এবং সদস্য সচিব- এস এম আরিফুল ইসলাম রিপন (নিউজ এডিটর, খুলনার বাণী) এর নাম প্রকাশ করেছেন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক।

রূপসায় পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে পরিবেশ নোংরা; বসতিরা রক্ষা পেতে নির্বাহীর কাছে একাধিক স্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা, খুলনা//

রূপসায় ঘনবসতি এলাকায় মশিউর রহমানের পোল্ট্রি খামার, ক্ষতিকর দুর্গন্ধে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওই খামার বন্ধের দাবিতে একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ পত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের আফসার হাওলাদারের ছেলে মশিউর রহমান হাওলদার কয়েক মাস আগে নিজের এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে জয়পুর হাফিজ মাস্টার সড়ক ঘনবসতি এলাকায় বিশাল পোল্ট্রি খামার নির্মাণ করে শত শত মুরগি পালন করেছেন। উল্লেখ্য খামারের মুরগির পায়খানার বিষাক্ত দুর্গন্ধ সৃষ্টির ফলে ওই এলাকার বসতিদের বসবাস একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ক্ষতিকর দুর্গন্ধে পেটের পীঁড়াসহ নানান রোগের দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কায় পড়েছে ভূক্তভোগীরা। এলাকাবাসী মশিউর রহমানকে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিক বার বলেন। সে কারোর কথা মূল্যায়ন না করে বহাল তবিয়তে খামখেয়ালিভাবে খামার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মহল্লাবাসী দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ সহ্য করে কোন উপান্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একাধিক স্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা বলেন- পরিবেশ ও সমাজ নষ্ট করে মুরগির খামার স্থাপন করা যাবে না। এটি খুবই দুঃখজনক। সরেজমিন তদন্ত পূর্বক উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রূপসায় টাইফয়েড টিকা প্রথমদিন পেল ১৯৯৫ জন শিক্ষার্থী

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

টাইফয়েড জ্বর থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে দেশে প্রথমবারের মতো টিকাদান ক্যাম্পেইন হিসেবে রূপসায় উদ্বোধনী কার্যক্রম ১২ অক্টোবর সকাল ১০ টায় কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

স্কুলে স্কুলে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী। উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. সাইদুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার- উল- কুদ্দুস।

রূপসায় টাইফয়েড টিকা প্রথমদিন পেল ১৯৯৫ জন শিক্ষার্থী

টিকা সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাজেদুল হক কাওছার জানান, সমগ্ৰ রূপসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশু প্রাক-প্রাথমিকে- ১১,১৪৩ জন। মাধ্যমিক নবম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী ৮৬৭৯ জন এবং মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী ২৭২৩ জন শিক্ষার্থী টিকার আওতায় থাকবে। তার মধ্যে প্রথম দিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯৫ জন শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

বিনামূল্যে ১টি ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমুনিটিতে ৮ দিন টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ টি স্থায়ী কেন্দ্র যা ১৮ দিন টিকাদান কার্যক্রম চলবে। টাইফয়েড ঠিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মীদ্বারা প্রদান করা হচ্ছে। অভিভাবকগণ নিচিন্তায় সকাল বাচ্চাকে টিকা দিতে উদ্বুদ্ধ করুন।

রক্তের কোলেস্টেরল কমান ওষুধ ছাড়াই

//দৈনিক বিশ্ব//

রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরলকে বলা হয় গোপন শত্রু। এটি ধীরে ধীরে আপনার শরীরকে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের মতো বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নিয়ে যায়, যা অনেক সময় আপনি টেরই পান না। টের যখন পান, তখন আর করণীয় তেমন থাকে না। তাই কোলেস্টেরলের মতো গোপন শত্রুকে আপনার চিনে নিতে হবে প্রথমেই, যখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

রক্তে দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে—খারাপ ও ভালো। খারাপটা হলো লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল। আর ভালোটাকে বলে হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা এইচডিএল নামে পরিচিত।

কানাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাডিসন ব্রাউন এমন কিছু গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতির কথা বলেছেন, যার জন্য আপনার কোনো ওষুধপত্র খেতে হবে না, কিন্তু খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমবে প্রাকৃতিকভাবেই। এসব এতই সাধারণ ও ছোট যে আপনি জেনে অবাকও হতে পারেন।

১. দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার আরও খান

খাবারে আঁশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি পেটের ভেতর জেলের মতো একধরনের বস্তু তৈরি করে, যা রক্তে মেশার আগেই কোলেস্টেরলকে এর ফাঁদে আটকে ফেলে।

ওট, ডাল, চিয়া ও তিসি বীজের মতো অনেক খাবারই আঁশযুক্ত ও পানিতে দ্রবণীয়। এসব দ্রবণীয় আঁশ খাবারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে হজমপ্রক্রিয়ায় ঢুকতে বাধা দেয় এবং বর্জ্য হিসেবে শরীরের বাইরে বের করে দেয়।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা যায়, দিনে মাত্র ৫–১০ গ্রাম দ্রবণীয় আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় প্রায় ৫ শতাংশ।

২. খাবার প্লেটকে ‘প্ল্যান্ট’ দিয়ে পরিপূর্ণ করুন

এখানে ‘প্ল্যান্ট’ হচ্ছে উদ্ভিজ্জ খাবার। বলা হচ্ছে, আপনার খাবারের প্লেটে পুষ্টিপূর্ণ উদ্ভিজ্জ খাদ্য বেশি রাখুন। ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার শুধু খাবারের প্লেটকে বৈচিত্র্যপূর্ণই করে না; বরং এসব খাবারে স্টেরল ও স্ট্যানলের মতো উদ্ভিজ্জ চর্বি যোগ করে। এই স্টেরল ও স্ট্যানল রক্তে কোলেস্টেরল শোষণ কমায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কোলেস্টেরল শিক্ষা কর্মসূচি অনুযায়ী, খাবারে দৈনিক ২ গ্রাম উদ্ভিজ্জ স্টেরল থাকলে তা ১০ শতাংশ পর্যন্ত এলডিএল কমায়। উদ্ভিজ্জ খাবারে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টও থাকে, যা ধমনি ভালো রাখে। এটি আঁশ তৈরি করে, যা কোলেস্টেরল নিষ্কাশনে সহায়ক।

৩. ক্ষতিকর চর্বি বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ

সাধারণত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবারে ক্ষতিকর চর্বি থাকে। এটি রক্তে ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে এলডিএলের মাত্রা বাড়ায়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন খাবারে ক্ষতিকর চর্বি গ্রহণ বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জলপাইয়ের তেল, অ্যাভোকাডো, আখরোটসহ চর্বিযুক্ত মাছ খেতে উৎসাহিত করেছে।

৪. সক্রিয় থাকুন প্রতিদিন

কোলেস্টেরলের পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন ব্যায়ামাগারে যেতে হবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে ৫ দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটুন। দ্রুত হাঁটা আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখবে। একই সঙ্গে এটি শরীরে রক্ত চলাচলও বাড়ায়। শারীরিক পরিশ্রম কোলেস্টেরলকে রক্ত থেকে যকৃতে পাঠায়। সেখানে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে দেহ থেকেই বের করে দেওয়া হয়।

৫. পরিশোধিত শর্করা ও চিনি কমান

বেশি পরিশোধিত বা প্রক্রিয়াজাত শর্করা ও চিনি শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়ায়। ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে জমে থাকা চর্বি। এটি নির্দিষ্ট পরিমাণে দরকারি। কিন্তু এর অতিরিক্ত মাত্রা হৃদ্‌রোগের উচ্চঝুঁকি তৈরি করে।

২০১৪ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোক তাঁদের ক্যালরির ২৫ শতাংশের বেশি চিনি থেকে গ্রহণ করেন, তাঁদের হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। চিনিযুক্ত পানীয়, ক্যান্ডি, পেস্ট্রি ও পাউরুটি খাওয়া বাদ দিলে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে এবং রক্তচাপ ঠিক থাকে।

শেষকথা

মনে রাখতে হবে, কোলেস্টেরল কমানোর এই প্রক্রিয়ায় কিন্তু রাতারাতি সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি চর্চার বিষয়। কাজেই এই পদ্ধতি অভ্যাস করুন এবং কোলেস্টেরল প্রাকৃতিকভাবেই কমিয়ে ফেলুন।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক

মোংলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের মোংলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

মোংলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছে। দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের বিভিন্ন সময় মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক বাগেরহাট জেলার মোংলা থানাধীন জয়মনিঘোল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে দুই শতাধিক অসহায়, দুঃস্থ ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। উক্ত কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেডিকেল অফিসার সার্জন লেঃ কমান্ডার মাকসুদা জাহান, এএমসি। এসময় জয়মনিঘোলে পরিদর্শনে আগত Military Support Element, US, Emassy এর ০২ জন প্রতিনিধি উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন অবলোকন করেন।

এছাড়াও, অবৈধ মৎস্য আহরন, মাদক ও মানব পাচার রোধ, অবৈধ জালের ব্যবহার, বনজ সম্পদ রক্ষা, নৌযান ও নৌপথে জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবিদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। উক্ত জনসচেতনতামূলক সভায় স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধিগণ এবং সাধারন জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধু’র মায়ের আত্মার মাগফেরাতে দোয়া এবং ৮৯ ব্যাচ কমিটি ঘোষনা

//এম মুরশীদ আলী//

বন্ধু (সাংবাদিক) জিএম আসাদুজ্জামানের মমতাময়ী মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজনে করে খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজ-৮৯ ব্যাচের বন্ধুরা। গত ৯ জানুয়ারী মাগরিব বাদ হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া শেষে- অধ্যাপক ডা: বঙ্গ কমল বসুকে সভাপতি এবং রবিউল ইসলামকে সেক্রেটারী করে ৮৯ ব্যাচ, খুলনা (সরকারি সুন্দরবন কলেজ) সংগঠন নাম ঘোষণা করা হয়।

এ সময় বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- টিকু রহমান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খন্দকার আবুল বাশার, দিলরুবা নিম্নী, সাংবাদিক জিএম আসাদুজ্জামান, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. সাজ্জাদ খান চপল, মো. মঈনুল হাসান শিমুল, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, লাভলি খান, শামছুন নাহার, হোসনে আরা খনম, রাশিদা আক্তার ময়না, তানজিদুর রহমান চৌধুরী (তাপস), মো. শরিফুল আলম বাবু, কুমার (সমির), রাজিবুল হাসান রিপন, মো. বাবর আলী শেখ, মীর আলমগীর হোসেন, বিভাষ কুমার দাম, ফয়সাল আমিন তপু, মীর রেজওয়ান রহমান, রফিকুল ইসলাম শাহীন, মো. জসিম উদ্দিন লাবু, মো. মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

You May Also Like