বরিশালে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদ আহম্মেদ মান্নার নেতৃত্বে হামলা খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তদন্তে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন এবং এএসআই মিজান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মুসলিম গোরস্থান রোডে যান। এসময় কাউন্সিলর মান্না বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মৃত চাচা বিমল বিশ্বাসের ছেলে নিক্কন বিশ্বাস (৪৮) নামের ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নেন এবং লোকজন নিয়ে ওসি-এসআইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করাসহ হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদ্বয়ের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও কাউন্সিলর পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিক বিশ্বকে জানান, ২১ নং ওয়ার্ডের মৃত বিধান বিশ্বাসেরর ছেলে বিলাস বিশ্বাস (৪৮) তাদের জমিতে দেয়াল দেওয়ার বিষয় তুলে ধরে চাচাতো ভাই নিক্কন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগটি তদন্তে ওসি আনোয়ার এএসআই মিজানুর রহমানকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান এবং দেওয়ার নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বিলাস বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন।
ঘটনাপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সদস্যরা জানায়, এই খবর পেয়ে কাউন্সিলর মান্না বেশকিছু লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশ কেন তার এলাকায় আসছে তা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। এতে পুলিশ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং তাদের সাথ্যে অসৌজন্যমূলক আচারণের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে মুঠোফোন হাতে নিয়ে কাউন্সিলরের সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এবং ওসি আনোয়ার ও এএসআই মিজানসহ অপর এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের তিনজনের মুঠোফোন নিয়ে যায়।
পুলিশের ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ছুটে যায়। এবং ঘটনায় জড়িত কাউন্সিলরের ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এর আগেই কাউন্সিলর মান্না ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এর পূর্বে কাউন্সিলর মান্না তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে বিলাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ করেন। ৬ মিনিটের ওই ভিডিওটিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখিয়ে তিনি আরও বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। যদিও ফেসবুক লাইভের সেই ভিডিওটি কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসার পরে সরিয়ে নিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে কাউন্সিলর মান্নার বক্তব্য না পাওয়া গেলেও স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, ওসি মর্যাদার কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাপোশাকে থাকায় মান্না ভেবেছিলেন এএসআই মিজান ও তিনি উভয়ে সমর্যদার কর্মকর্তা। এই কারণে তিনি বেশি রেগে গিয়েছেন এবং গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা গালাগালির বিষয়টির প্রতিবাদ করলে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার উদ্যোগ নিলে তাদের ওপর কাউন্সিলরের সহযোগীরা হামলা করে। এবং একপর্যায়ে দুই কর্মকর্তাসহ আরও এক পুলিশ সদস্যের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, যখন কাউন্সিলর মান্না কোন এক মাধ্যম জানতে পারলেন যে, সাদাপোশাকের পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ওসি পদমর্যাদার তখনই তিনি ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়েন। এর পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।
পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার এই ঘটনায় কাউন্সিলরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা গ্রহণ করা হবে বলে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন।
এই বিষয়ে জানতে মেট্রোপলিটন পুলিশ উপ-কমিশনার (ডিসি/দক্ষিণ) মোকতার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। বিষয়টিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
//পলাশ চন্দ্র দাস :: বরিশাল //
বালিয়াডাঙ্গীতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভিত্তিস্থাপন উদ্বোধনে এমপি দবিরুল

