//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের অনুসারীর বিরুদ্ধে খলিল নামের এক দিনমজুরকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার কয়েকজন অনুসারী সটকে পড়েন।
শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, দুপুরে ভিজিডির চাল দেওয়ার সময় দিনমজুর খলিলকে কে বা কারা লাথি মেরেছে, তা আমার জানা নাই। তবে-ওই সময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী ও তার অনুসারী তুহিন বিধিবর্হিভূতভাবে পরিষদে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন। এ সময় দলের নেতাকর্মীদের চালের কার্ড না দিলে কয়েকজন কর্মীকে দিয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করলে ঘটনাস্থলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমি এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী, এমপি গোলাম ফারুখ পিংকু ও নয়ন ভাইকে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেব।
ভুক্তভোগী দিনমজুর খলিলের অভিযোগ, তার কাছে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত দুটি টোকেন ছিল। ওই টোকেনগুলো নিয়ে তিনি চাল নিতে পরিষদে যান। দুটি টোকেন দেখেই চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার দুইজন অনুসারী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়থাপ্পড় মারেন। শত শত লোকজনের সামনে তাকে ‘চাল চোর’ বলেও অপমান করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে ভিজিএফের আওতায় ইউনিয়নের দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর আগে দুস্থদের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত টোকেন সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একাধিক টোকেন নিয়ে যে কেউ চাল নিতেই পারে। পাড়া প্রতিবেশীদের চাল একজনে গিয়ে পরিষদ থেকে নিয়ে আসে। ওই দিনমজুর একাধিক টোকেন নিয়ে চাল নিতে গিয়ে কোনো অন্যায় করেননি।
বামনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী বলেন, কোনো অসহায় লোকের গায়ে হাত তোলা অপরাধ। ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন কাজটি ঠিক করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান অসুস্থ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একজন ১০ কেজি করে চাল পাবেন। কিন্তু ওই দিনমজুর দুই-তিনটা টোকেন নিয়ে আসছিল। সে চাল নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা আটকিয়েছে। এতে সুমন পাটোয়ারী ও তুহিনসহ দলের কয়েকজন কর্মী আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করেছে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে এখনো বিচার পাইনি। আমার প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।
বামনী ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভিজিডির কার্ড ও চাল বিতরণ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক পিআইওসহ চারজন কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

