//রূপসা প্রতিনিধি//
খুলনার রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে প্রকৃত দলের কর্মীদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকদের রাখা হয়েছে কমিটিতে। দলের পৌড় খাওয়া পদপ্রত্যাশী পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে একদিকে বিরাজ করছে হতাশা। বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
দলের পরীক্ষিত কর্মীদের ভাষ্য যাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা আদৌও কখনো আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ছাড়াই গঠন করা হয়েছে এ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

কমিটি গঠনের ব্যাপারে কিছু জানেন না উপজেলা আ’লীগ নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপসা উপজেলা ঘাটভোগ ইউনিয়ন আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে চঞ্চল অধিকারীকে আহবায়ক, কুয়েত প্রবাসী আব্দুর জব্বার শেখকে যুগ্ম-আহবায়ক করা হয়েছে।
তৃণমূল পদ প্রত্যাশীদের ভাষ্যমতে, ঘোষিত কমিটির আহবায়ক চঞ্চল অধিকারী কখনো আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এমনকি দলের দুর্দিনে কখনো রাজপথে তাকে দেখা যায়নি। এ কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।
জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ঘাটভোগ ইউনিয়ন আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তাকে কখনো কোন দলীয় প্রোগ্রামে আমি দেখিনি। এমনকি তাকে আমি চিনি না। এছাড়া প্রবাসে যিনি থাকেন কিভাবে তাকে যুগ্ম-আহবায়ক করা হয়েছে এটাও আমার জানা নেই।
উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম বলেছেন, এই কমিটির বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমাদের উপজেলা কমিটিকে না জানিয়ে একটা মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল বলেন, উপজেলা আ’লীগের কোন সভা ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি কমিটি ঘোষণা দিতে হলে কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করতে হয়, কিন্তু করা হয়নি। কমিটিতে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তাকে কখনো দলের মিছিল, মিটিং-এ দেখিনি। এছাড়া আব্দুর জব্বার শেখ বিদেশ থাকেন, তাকে করা হয়েছে যুগ্ম-আহবায়ক।
উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে একটি কমিটি দেখেছি। কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে, তাদের নাম দেখে হতাশ হয়েছি। উপজেলা আ’লীগের কোনো সভায় এ কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়নি। দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের দিয়ে এ কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব জানান, ফেসবুকে এ কমিটি দেখে হতবাক হয়েছি। পরীক্ষিতদের কমিটিতে রাখা হয়নি। উপজেলা আ’লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও কমিটি গঠনের ব্যাপারে কিছু জানতে পারলাম না, এটা খুবই কষ্টের এবং দুঃখজনক। যিনি আহবায়ক হয়েছেন তাকে কখনোই দলীয় প্রোগ্রামে দেখিনি।
এছাড়া দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তি কিভাবে যুগ্ম-আহ্বায়ক হলো এটা আমার জানা নেই। আমরা এই সকল বির্তক ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত দলের নিবেদিত কর্মীদের দিয়ে কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

