ইউক্রেন চরম দুর্নীতিতে পরে গেছে- জেলেনস্কির অবস্থান নড়বরে- পশ্চিমাদের সহায়তায় বাধা

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইউক্রেনে দুর্নীতি নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য ফাঁস হলো, সেটা একটি জটিল গল্প। এই কেলেঙ্কারিটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে। ১ লাখ মর্টার সেলের (যার মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার) কিনতে অর্থ পরিশোধ করা হলেও মর্টার সেলগুলো সরবরাহ করা হয়নি। এই কেলেঙ্কারির গল্প যখন সামনে এল, তখন দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে ইউক্রেন এযাবৎকালের সবচেয়ে সেরা স্কোর করেছে।

টিআইয়ের সূচকে ইউক্রেনের এই অগ্রগতি থেকে বোঝা যায়, ঘনিষ্ঠজনসহ দুর্নীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভলোদিমির জেলেনস্কি যে প্রচেষ্টা নিয়েছেন, তার কিছুটা অগ্রগতি ঘটেছে।

পক্ষান্তরে মর্টার সেল কেলেঙ্কারি পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়, ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে দুর্নীতি কতটা বিস্তার লাভ করেছে ও কতটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই দুর্নীতি এমন এক সময়ে জেঁকে বসেছে, যখন ইউক্রেন বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতি ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু গত ১০ বছরে ইউক্রেন নিয়ে টিআইয়ের যে ধারণাসূচক, তাতে দেখা যায়, দেশটি দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি করে চলেছে। রাশিয়া ও আজারবাইজনকে বাদ দিলে ইউরোপের আর কোনো দেশে ইউক্রেনের মতো এতটা দুর্নীতি নেই।

দুর্নীতির এই মহামারির মধ্যেও দুই বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন এখনো টিকে আছে। তারা রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে অবিস্মরণীয় প্রতিরোধক্ষমতা দেখিয়ে চলেছে। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের এসব কেলেঙ্কারিসহ অন্য যেসব দুর্নীতি তাতে বলা যায়, ইউক্রেনকে এখনো প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। দুর্নীতি ইউক্রেনকে আরেকটি অস্তিত্বের হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। আর সেটা ঘটছে সে সময়েই, যখন দেশটির টিকে থাকা না-থাকা পশ্চিমা অস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, জার্মানির প্রভাবশালী ডানপন্থী বিরোধী দল এএফডি ইউক্রেনকে আর অর্থ ও অস্ত্রসহায়তা না দেওয়ার জন্য দুর্নীতির অকাট্য যুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তদারকির ঘাটতির মানে হচ্ছে, ইউক্রেনকে দেওয়া আমেরিকার সহায়তা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যাওয়া।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখন ইউক্রেনকে সহযোগিতা দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক বাড়ছেই এবং দেশগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় সেটি অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন তহবিল তছরুপের এসব অকাট্য প্রমাণ ইউক্রেনকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

জেলেনস্কির নড়বড়ে অবস্থান

পশ্চিমা সমর্থন অব্যাহত থাকা নিয়ে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হয়েছে, তখন দেশের ভেতরে জেলেনস্কির অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে জেলেনস্কির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি তিনি উচ্ছেদ করবেন। কিন্তু তার সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দুর্নীতি সেই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর আঘাত হানল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য দমন-পীড়ন হচ্ছে।

বর্তমান কেলেঙ্কারি ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিভাজনকেই গভীর করবে। যুদ্ধকৌশল নিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারী বিতর্ক যখন তুঙ্গে এবং এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার মতবিরোধের বিষয়টি যখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে, সে সময়ে জেলেনস্কির কাছে রাজনৈতিক বিভাজন কাম্য কোনো বিষয় হতে পারে না।

জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করবেন কি না কিংবা সেই ক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটা একদমই পরিষ্কার নয়। বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধানকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। কিন্তু জালুঝনি সেটা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি ও জালুঝনির মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ অভিযান তেমন কোনো সাফল্য বয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায়, সেটা চরম রূপ ধারণ করে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জেলেনস্কি তাঁর শীর্ষ জেনারেল জালুঝনিকে নিন্দা করেন। এর কারণ হলো জালুঝনি প্রকাশ্যে বলেন, যুদ্ধ অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। আরেকটি জল্পনা ডানা মেলেছে, জালুঝনি রাজনীতিতে আসতে চলেছেন এবং জেলেনস্কির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন। ডিসেম্বর মাসের এক জরিপ বলছে, ৬২ শতাংশ ইউক্রেনীয় বলছেন, তাঁরা জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন আর জালুঝনির ওপর আস্থা রাখছেন ৮৮ শতাংশ।

দুর্নীতি-কেলেঙ্কারি ও ইউক্রেনের ক্ষমতাকাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের খবর—দুইয়ের কোনোটাই রাশিয়ার সঙ্গে জয় তো দূরে থাক পরাজয় এড়াতে ইউক্রেনীয়রা একটা বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি করতে পারছে—পশ্চিমাদের মধ্যে এই আস্থা আনবে না। আর এ ধরনের আস্থা ছাড়া, সহযোগিতার ব্যাপারটা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জোরালো অস্ত্র ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর আইনসভা থেকে সহযোগিতা অনুমোদনের ব্যাপারটি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতির কারণে ইউক্রেন ভেঙে যাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে দুর্নীতি এমন বাজে একটা ব্যাপার, যার কারণ ইউক্রেন ভেঙে যেতে পারে। কেননা, দুর্নীতি ইউক্রেনের ভেতরে ও বাইরে বড় প্রভাব ফেলছে।

Daily World News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাতে তিনি বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থনের পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ রোববার সকালে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায় শুরুর পর্বে আমি বলতে চাই, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ আরও অনেক ইস্যুতে আমাদের প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করার ঐকান্তিক ইচ্ছা আমি তুলে ধরছি।’

জো বাইডেন লিখেছেন, ‘সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘ ও সফল ইতিহাস রয়েছে। আর আমাদের এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুই দেশের জনগণের শক্তিশালী সম্পর্ক।’

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর চিঠিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থন এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) হেফাজতে আছে।

বিজিবির একটি সূত্র আজ রোববার বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে গতকাল শনিবার রাতে শুরু হওয়া গোলাগুলি আজ দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলছিল। বিরামহীন গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকার শত শত পরিবার যে যেদিকে পারছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে তুমব্রুতে একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাইশফাঁড়ি সীমান্তে এক ব্যক্তির বাড়িতে গোলা এসে পড়ে আগুন ধরেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েক জনপ্রতিনিধি জানান, যে এলাকা থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে, সেখানে বিজিপির তুমব্রু রাইট ক্যাম্প এবং ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি অবস্থিত। এ দুই স্থাপনা ছাড়া আশপাশের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিপির বাকি সব চৌকি আরাকান আর্মি এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে। বাকি দুটি স্থাপনা দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আরাকান আর্মির হামলা চলছে।

তুমব্রু এলাকার একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে বিজিপির তুমব্রু রাইট ক্যাম্পের বিপরীতে পশ্চিম পাশে তাঁদের বাড়ি। দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই ক্যাম্পে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন থেকে তাঁরা পাড়ার শতাধিক পরিবার বাড়ি ছেড়ে যে যেদিকে পারেন পাহাড়ের খাদে, গর্ত তৈরি করে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায়ও গোলাগুলি চলছে। একইভাবে কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া, বাইশফাঁড়ি এলাকার লোকজনও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। পুরো এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার বলেন, গতকাল বিকেলে গোলাগুলি শুরু হলেও চারটার দিকে বন্ধ হয়েছিল। আবার রাত তিনটার দিকে মুহুর্মুহু গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। রাতে বাইশফাঁড়ি সীমান্তে একটি গোলা এসে প্রবাসী নুরুল কবীরের বাড়িতে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় বাড়ির কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ভোরে তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ থেকে ১৫ সদস্য বিজিবির তুমব্রু ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নেওয়ার কথা তিনিও শুনেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বলেছেন, ঘুমধুম সীমান্তের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই নিরাপদে আশ্রয়ে থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এই বিদ্যালয়গুলো আগে থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, সীমান্তের গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের লোকজনকে সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্য আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে শোনা যাচ্ছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে এখনো বলা যাচ্ছে না।

Daily World News

রামপালে র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটক-১

ব্রিকস- এ আর্জেন্টিনা যোগদেয়নি

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ব্রিকসের সর্বশেষ সম্মেলন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জোট সম্প্রসারণ করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুসারে আর্জেন্টিনা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জোটে যোগ দেওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তবে সেই সিদ্ধান্তের আলোকে জোটে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনা। তবে বাকি পাঁচটি দেশ আনুষ্ঠিকভাবে জোটে যোগ দিয়েছে।

ব্রিকস জোটের বর্তমান সভাপতি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেডি প্যান্ডর বুধবার জানিয়েছেন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে।

ব্রিকস জোটে আগে থেকেই পাঁচটি—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা—সদস্য দেশ ছিল। এবার মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে যোগ দেওয়ায় জোটের সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১০।

নালেডি প্যান্ডর আরও বলেছেন, আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, তারা ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য আগের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে না। আমরা তাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।

এর আগে গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডায়ানা মন্ডিনো গত রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুৎনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ১ জানুয়ারি আর্জেন্টিনা ব্রিকসে যোগ দেবে এমন কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা করা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স কারা- ইরান বি জরিত…?

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ৩ জন সেনাকে হত্যা ও ৩৪ জনকে আহত করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। আক্রান্ত মার্কিন ঘাঁটিটি টাওয়ার ২২ হিসেবে পরিচিত। এটি ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। হামলার জন্য ইরান–সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ইরান এই হামলার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

 ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানোও তাদের লক্ষ্য।

ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়াদের তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই। সশস্ত্র এই গোষ্ঠী গাজায় ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের মতে, এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচয় স্পষ্ট নয়। ফলে কোনো হামলার পর দায় এড়ানোর সুযোগ পায় গোষ্ঠীর সদস্যরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি বলেছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এখানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর অন্তত ২০টি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স।

গতকাল রোববার জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পরে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, সিরিয়ার তিনটি স্থানে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইরাক, সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তের নিকটবর্তী দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে তাদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি গোষ্ঠীটি।

গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর অন্তত ২০টি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স।

তবে সব মিলিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর দেড় শতাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। গতকালের হামলার আগপর্যন্ত অন্তত ৭০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগেরই মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টাওয়ার ২২ কীঃ

টাওয়ার ২২ জর্ডানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। দেশটির উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এই টাওয়ারের এক পাশে ইরাক, অন্য পাশে সিরিয়া।

তবে এই ঘাঁটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। ঘাঁটিটি আল-তানফ সেনানিবাসের কাছাকাছি। সিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত এসব সেনানিবাসে অল্পসংখ্যক মার্কিন সেনা থাকে।

টাওয়ার ২২ জর্ডানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। দেশটির উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এই টাওয়ারের একপাশে ইরাক, অন্য পাশে সিরিয়া।

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আল-তানফ। এ ছাড়া সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে আল-তানফ ঘাঁটিটি।

টাওয়ার ২২ আল-তানফে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের কাছাকাছি। এটা এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যেন প্রয়োজনে একে অন্যদের সহযোগিতা করতে পারে। ওই এলাকায় ইরান-সমর্থিত জঙ্গি দমনেও ভূমিকা রেখেছে টাওয়ার ২২। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে আইএসের অবশিষ্ট কেউ থাকলে তাদের নজরদারি করতে মার্কিন সেনাদের সাহায্য করছে ওই ঘাঁটিটি।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর জর্ডানে বিস্তৃত নজরদারি পদ্ধতি চালু করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে ওয়াশিংটন। সিরিয়া ও ইরাক থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া এই ব্যবস্থা বর্ডার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম নামে পরিচিত।

জর্ডানে শত শত মার্কিন প্রশিক্ষক রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব মিত্র বছরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে ব্যাপক মহড়া করে, সেগুলোর মধ্যে জর্ডান অন্যতম।

সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে গত বছর ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছিল আম্মান। এ ছাড়া সিরিয়া সীমান্তে শত শত বিলিয়ন ডলারের মাদক চোরাচালানবিরোধী লড়াইয়ে ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও সহায়তা চেয়েছে তারা। এই চোরাচালানের জন্য দক্ষিণ সিরিয়ায় শক্ত অবস্থানে থাকা ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করছে আম্মান।

আটলান্টিক কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আইএসের অবশিষ্ট অনুসারীদের দমনের জন্য ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় ৯০০ মার্কিন সেনা রয়েছে।

তবে টাওয়ার ২২-এ কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, সেটি জানা যায়নি। এ ছাড়া তাদের কাছে কী ধরনের অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এবং হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, সেটিও অজ্ঞাত। সূত্রঃ প্রথম আলো

Daily World News

সেতু নির্মাণে স্পেন প্রতিনিধি দলের সাথে সালাম মূর্শেদী এমপির বৈঠক

রামপালে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ কারবারি আটক

JN-1 VIRUS/ জেএন.১ সংক্রমণ এবং বাংলাদেশ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন জেএন.১-এর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক মাসে সংক্রমণের হার বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীত কমলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা সংক্রমণ আরো কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮.৭০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের ৩২ জনই ঢাকা মহানগরের এবং একজন করে কক্সবাজার ও চাঁদপুরের। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিদপ্তর যে শনাক্তের হার দেখাচ্ছে, প্রকৃত হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

সংক্রমিত ব্যক্তি সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডায় কভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাই শনাক্তও হচ্ছে না। যারা পরীক্ষা করাচ্ছে তারা কোনো জরুরি প্রয়োজনে করাচ্ছে। হয় সার্জারি করার আগে, নয়তো বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৪৩ জনের মধ্যে ৬২৪ জনই ঢাকা মহানগরের। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৯৭ শতাংশ রোগী ঢাকার। এই সময়ে মৃত চারজনের দুজন ঢাকা মহানগরের ও দুজন চাঁদপুরের।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে ২৯ জন কভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ছয়জন, আইসিইউতে ২২ জন ও এইচডিইউ শয্যায় একজন।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৪ হাজার ৩০৩ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত শীতকালে বাংলাদেশে করোনা রোগী কম থাকে। বর্তমানে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত কমলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন উপধরন মারাত্মক না হলেও এর সংক্রমণের হার অনেক বেশি। যাঁরা মেডিক্যাল বা হাসপাতালে কাজ করেন, যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা কোমরবিডিটি আছে, তাঁদের জন্য এখনো করোনা ঝুঁকিপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, এসব ব্যক্তির জন্য কডিভ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যারা টিকা নেয়নি তাদের টিকা নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেমন—হাসপাতাল, গণপরিবহন বা যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানে মাস্ক পরা নিরাপদ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে বছর শনাক্ত হয় পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন। মৃত্যু হয় সাত হাজার ৫৫৯ জনের।

পরের বছর ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন। মৃত্যু হয় ২০ হাজার ৫১৩ জনের। ওই বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয় ২৮ জুলাই। ২০২২ সালে শনাক্ত হয় চার লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৩৬৮ জনের। ২০২৩ সালে শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন। মৃত্যু হয় ৩৭ জনের।

ইরান-সিরিয়া-ইরাক ও পাকিস্তান সবাই মিত্র দেশ তবু কেন ইরান হামলা চালাল- বিবিসি বিশ্লেষণ

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সিরিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান—তিনটি দেশই ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তিন দেশে বিমান হামলা চালিয়েছে তেহরান। অন্য কোনো দেশ উচ্চবাচ্য না করলেও হামলার জেরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা করে বসেছে দেশটি। কিন্তু কথা হলো, ইরান কেন তিন মিত্রদেশে হামলা চালাল? কেনই–বা এই সময়ে এসব হামলা চালিয়েছে ইরান?

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী, বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (রেভল্যুশনারি গার্ড) দেশের অভ্যন্তরে ইসলামি রক্ষণশীলদের কাছ থেকে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু এরপরও তেহরান যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে মনে করছেন ইরানি ইসলামপন্থীরা। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে গোস্সা বাড়ছে। আর সেই চাপ গিয়ে পড়েছে ইরানি বাহিনীর ওপর।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বুঝতে পারছিল, তাদের কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু যেটাই করা হোক না কেন, তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি উত্তেজনা এড়িয়ে। কেননা, ইসরায়েল–ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া থেকে সচেতনভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে ইরান।

ইরানে ইসলামপন্থীদের অসন্তোষের আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেটি হলো সিরিয়ায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কমান্ডারকে হত্যার পরও কিছুই করতে না পারা। সাম্প্রতিক সময়ে ইঙ্গ–মার্কিন হামলার শিকার হওয়ার পরও ইয়েমেনের মিত্র হুতিদের শুধু মৌখিক সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া। হুতিদের জন্য কার্যত কিছুই করতে পারছে না তারা।

এ ছাড়া সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরানের কেরমান শহরে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। এতে প্রাণ যায় অন্তত ৮৪ জনের। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। প্রাণঘাতী এই হামলার পরও আইএসের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি ইরান। এটা অসন্তুষ্ট করেছে দেশটির ইসলামপন্থীদের।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বুঝতে পারছিল, তাদের কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু যেটাই করা হোক না কেন, তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি উত্তেজনা এড়িয়ে। কেননা, ইসরায়েল–ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া থেকে সচেতনভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে ইরান।

যদিও ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে তেহরান, এমন দাবি পশ্চিমাদের। এই পরিস্থিতিতে তিন মিত্রদেশ ইরাক, সিরিয়া ও পাকিস্তানে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পেছনে তেহরানের বেশ কিছু নিজস্ব লক্ষ্যও রয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ আল–আদলির ঘাঁটিতে। তেহরানের কাছে তারা ‘ইরানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’। তবে পাকিস্তান বলেছে, ইরানের হামলায় নিহত দুজনই শিশু।

পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ একটি দেশ। ইরানের হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি আঘাত’ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের মতে, এই হামলার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশটির নমনীয়তাকে খাটো করে দেখা হয়েছে।

কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি ইসলামাবাদ। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কারের পাশাপাশি দ্রুত ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। পাকিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর (বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি ও বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট) হামলা করা হয়েছে। যদিও হামলায় তিনজন নারী, দুজন পুরুষ ও চার শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান।

হঠাৎ এমন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকা দুই প্রতিবেশীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এতে সন্দেহ নেই। মনে করা হচ্ছে, ইসলামাবাদ দ্রুততার সঙ্গে এত কড়া জবাব দেবে, সেটা আগে থেকে অনুধাবন করতে পারেনি ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী।

ধারণা করা হচ্ছে, শুধু সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে পরামর্শের পর তিন মিত্রদেশে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী। এমনকি হামলার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ানের পরামর্শ নেওয়া হয়নি, এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ৯০০ কিলোমিটারের (৫৬০ মাইল) সীমান্ত রয়েছে। সেখানকার ভূরাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে পারস্পরিক সহাযোগিতা ছাড়া সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন। আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরান ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বিষয়ে ভোটাভুটিতে তেহরানের পক্ষে অবস্থান নেয় ইসলামাবাদ।

অন্যদিকে মনে করা হচ্ছে, কেরমান শহরে আইএসের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার জবাবে সিরিয়ায় পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। কিন্তু সিরিয়ার ভূখণ্ডে আইএসের বড় কোনো স্থাপনায় ইরানের হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেনি।

ইরানের আরেক প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরাক। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিলে প্রায় ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইরাকের কুর্দিস্তানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের আস্তানা ছিল, তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও ইরাক সরকার ও কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানকার খ্যাতনামা একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় ওই ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তানের প্রাণ গেছে। নিহত দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স এক বছরের কম।

হামলার পর ইরাক সরকার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তেহরানের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। এই বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু হামলার জেরে অনেক বছরের মিত্র ও প্রতিবেশী দেশ দুটির সম্পর্ক বেশ শীতল হয়ে উঠেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, শুধু সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে পরামর্শের পর তিন মিত্রদেশে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী। এমনকি হামলার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ানের পরামর্শ নেওয়া হয়নি, এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তিন দেশে সাম্প্রতিক হামলা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এসব ঘটনা ইরানের প্রতিরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন। সেই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর বেপরোয়া আচরণ ও অগণিত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার প্রকাশ ঘটিয়েছে এসব হামলা।

Daily World News

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১১দিন যাবৎ কৃচ্ছ্রসাধনা, জপ, ধ্যান এবং পূজা করছেন

বিশ্বে সামরিক শক্তিতে যুক্তনাষ্ট্র ভারত চীন রাশিয়া বাংলাদেশ কার অবস্থান কত…

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সামরিক শক্তির নিরিখে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি যুক্তরাষ্ট্র। ঘাড়ের কাছে চীন নিঃশ্বাস ফেললেও ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া এখনও রয়েছে দুই নম্বরে। আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স’ বা জিএফপি এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

ওই তালিকা অনুযায়ী, সামরিক শক্তির সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে চীন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দেশগুলোর সেনা সংখ্যা, সমরাস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের মান ও পরিমাণ উৎকর্ষ, সেনা সন্নিবেশের কৌশলগত অবস্থান এমনকি, সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক হাল বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত হয়েছে ওই তালিকা। বিশ্বের মোট ১৪৫টি দেশের ওই তালিকায় ভারত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স’-এ প্রথম দশে থাকা পরের দেশগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, জাপান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইতালি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রথম দশের মধ্যে নেই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র তথা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স।

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে সামরিক বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মিলিটারি ডিরেক্ট’ প্রকাশিত ‘আল্টিমেট মিলিটারি স্ট্রেংথ ইনডেক্স’ বা ‘প্রকৃত সামরিক শক্তি সূচক’ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বে এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠেছে চীন।

এদিকে সামরিক শক্তির বিচারে ১৪৫ দেশের মধ্যে ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে এ অবস্থান ছিল ৪০তম। সেই হিসাবে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে।

শীর্ষ পাঁচ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ অন্যদিকে আরও দরিদ্র হয়েছে ৫০০ কোটি মানুষ

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

বিশ্বে একদিকে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে, অন্যদিকে দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হচ্ছে। বৈশ্বিক সম্পদের এই অসম বণ্টনে বিশ্বের সবচেয়ে ধনিক শ্রেণির হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক বৈষম্য। এই চিত্র ফুটে উঠেছে দাতব্য সংস্থা অক্সফামের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে গত সোমবার শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন।

এই সম্মেলন ঘিরে গত সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনীর সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এই অবস্থায় কর ব্যবস্থার ওপর এসব সম্পদশালীর প্রভাব প্রতিহত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়, তাদের সম্পদের পরিমাণ ২০২০ সালে ছিল ৪০৫ বিলিয়ন বা ৪০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯ বিলিয়ন বা ৮৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

অথচ ২০২০ সাল থেকে একই সময়ে বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ আরো দরিদ্র হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম ১০টি কম্পানির মধ্যে অন্তত সাতটি কম্পানি পরিচালনা করছে বা তার প্রধান শেয়ারহোল্ডার একজন শতকোটিপতি বা বিলিয়নিয়ার।

ডাভোস সম্মেলনের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অক্সফাম বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে, করপোরেট শক্তির একচেটিয়াতন্ত্র ভেঙে তাদের যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব কম্পানি যে অতিরিক্ত মুনাফা করছে তার ও তাদের সম্পদের ওপর বিশেষ করারোপ করা এবং শেয়ারভিত্তিক মালিকানার বিকল্প হিসেবে কর্মীদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে অক্সফাম।

অক্সফামের আনুমানিক হিসাব, ২০২০ সালের পর গত তিন বছরে বিশ্বের ১৪৮টি শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান ১.৮ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার মুনাফা করেছে, আগের তিন বছরের গড় মুনাফার চেয়ে যা ৫২ শতাংশ বেশি। বিপুল অঙ্কের মুনাফা করার কারণে শেয়ারহোল্ডাররা বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পেয়েছে, যদিও এসব প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি কর্মী জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিজনিত সংকটে পড়েছে। একদিকে যখন মূল্যস্ফীতির কারণে কোটি কোটি মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে, অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডাররা তখন বড় লভ্যাংশ পেয়েছে।

অক্সফামের ইন্টারন্যাশনালের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেছেন, ‘এই অসমতা দুর্ঘটনাবশত সৃষ্টি হয়নি, শতকোটিপতিরা এটা নিশ্চিত করেছে যে করপোরেশনগুলো অন্যদের বঞ্চিত করে তাদের বিপুল অঙ্কের লভ্যাংশ দেবে।’

ডাভোসের এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য কিছুটা ভিন্ন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম মনে করে, করপোরেশনগুলোর কাজ কেবল মুনাফা বৃদ্ধি করা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মানবিক ও সামাজিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাও তাদের কাজ।

কিন্তু অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এই উদ্দেশ্য মোটেও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এই বৈষম্য প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংক ও ফোর্বসের ধনীদের তালিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়।

অক্সফামের অসমতাবিষয়ক নীতি বিভাগের প্রধান ম্যাক্স লসন বলেছেন, ‘আমরা জানি, এখনকার এই শেয়ারহোল্ডার ক্যাপিটালিজমের মূল উদ্দেশ্য হলো শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেওয়া। বাকি সব উদ্দেশ্য গৌণ, এটাই মুখ্য। সে জন্য অসমতা বাড়ছে।’

মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে মোট সম্পদের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে যে পাঁচজন শীর্ষ শতকোটিপতির কথা অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা হলেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট, ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন, আমাজনের প্রধান জেফ বেজোস এবং বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে বিশ্বের ৮০ কোটি কর্মীর মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি, পরিণামে বার্ষিক হিসাবে তাদের আয় ২৫ দিনের মতো কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের এক হাজার ৬০০টি বড় করপোরেশনের মধ্যে মাত্র ০.৪ শতাংশ করপোরেশন জনসমক্ষে কর্মীদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং তাদের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদেরও সেই মজুরি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে আরও ১৫ মাসের কারাদণ্ড

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে আরও ১৫ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত।

বিভিন্ন অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নার্গিস মোহাম্মদি এরই মধ্যে ১২ বছর কারাভোগ করেছেন। নতুন এ সাজার কারণে তাঁকে আরও ১৫ মাস কারাবন্দী থাকতে হবে।

নার্গিস মোহাম্মদির বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় এ অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ সরকারের।

নতুন করে এ সাজা ঘোষণার সমালোচনা করেছে নার্গিস মোহাম্মদির পরিবারের সদস্যেরা। তাঁরা জানান, ২০২১ সালের মার্চের পর থেকে এ নিয়ে নার্গিস মোহাম্মদির বিরুদ্ধে পাঁচবার দণ্ডাদেশ দেওয়া হলো।

এবার বিচার ও রায় ঘোষণার সময় নার্গিস মোহাম্মদিকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

কয়েক দশক ধরে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছেন নার্গিস মোহাম্মদি। এসব কাজের জন্য গত দুই দশকে তাঁকে বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছে। মোট ১৩ বার আটক হয়েছেন তিনি। নার্গিস মোহাম্মদিকে মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নার্গিস মোহাম্মদিকে বর্তমানে তেহরানের আলোচিত এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে নতুন সাজায় বলা হয়েছে, কারাভোগের পাশাপাশি তাঁকে দুই বছরের জন্য তেহরানের বাইরে থাকতে হবে। ফলে এখন তাঁকে তেহরানের বাইরে নেওয়া হবে।

আদালত আরও বলেছেন, সাজাভোগের পর নার্গিস মোহাম্মদি দুই বছর দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তিনি কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। এমনকি ওই সময় মুঠোফোন ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে নার্গিস মোহাম্মদিকে।

৫১ বছর বয়সী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ইরানে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করায় তিনি সম্মানজনক এ পুরস্কার পান।

কারাবন্দী থাকায় নার্গিস মোহাম্মদি নিজে উপস্থিত হয়ে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। নরওয়ের রাজধানী অসলোর সিটি হলে নার্গিস মোহাম্মদির সন্তান তাঁর পক্ষে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করে। ওই সময় তাঁর কিশোর সন্তান জানায়, কয়েক বছর সে তার কারাবন্দী মায়ের দেখা পায়নি।