দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকনের আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

//দৈনি বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

জানা যায়, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুরুগেশ্বর এলাকায়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

 

৫ আগস্ট জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় দেড় দশকের আবাসস্থল ছিল গণভবন। এখানেই তৈরি হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তবে এই জাদুঘরের জনবল নিয়োগ এখনো হয়নি।

গত ১২ মে গণভবনে জাদুঘরের কাজ পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জুলাই মাসের শেষে অথবা ৫ আগস্টের মধ্যেই জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জুলাই স্মৃতি জাদুঘরেরও মহাপরিচালক। গতকাল রোববার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাদুঘরের জনবল নিয়োগ না হলেও আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। সে অনুযায়ী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, ভেতরে ঢোকার টিকিটের ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণ–আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবনে ঢোকে জনতার স্রোত। বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভাঙচুরে অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। সেই সঙ্গে চলে লুটপাট। ভবনের বিদ্যুতের সুইচবোর্ড পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়েছে। বড় করে গণভবন লেখা বোর্ডটিও ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনের আয়তন ১৭ দশমিক ৬৮ একর। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর জাদুঘর হিসেবে

প্রতিষ্ঠার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

জাদুঘর নির্মাণে কত খরচ

শুরুর দিকে জাতীয় জাদুঘরের অধীনে এটি পরিচালনার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জাদুঘরের শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। পরে এ অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করে। এ দুই মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, এটি নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট বরাদ্দ পেয়েছে ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জাদুঘর পরিচালনায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, গণভবনের ক্ষতিগ্রস্ত মূল ভবন সংস্কারসহ পূর্ত ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোগত কাজ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর ভাস্কর্য নির্মাণ, নিদর্শন সংগ্রহ ও শিল্পকর্ম কেনা, গ্যালারি সাজানো, তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন এবং অফিস আসবাব ও সরঞ্জামাদি কেনার দায়িত্ব ছিল জাতীয় জাদুঘরের।

জাদুঘর নির্মাণে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানকে আর চুক্তিপত্র ছাড়াই কাজ করেছে অন্য প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা, ভাস্কর্য নির্মাণ, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, আপ্যায়ন বিলসহ বিভিন্ন খাতে খরচের বাড়াবাড়ি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা ও প্রকাশিত হয়েছে। জাদুঘরের পক্ষ থেকে তার লিখিত প্রতিবাদও জানানো হয়েছে দফায় দফায়।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করে কাজগুলো করা হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে কোনো কোনো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকারের রাজস্ব বাজেটের এ বিশাল কার্যক্রমে খরচ বেশি হয়েছে, কেউ এ অভিযোগ করতেই পারেন। আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত এখনো জাদুঘরটি হস্তান্তর করেনি। অডিটও হয়নি।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর জাদুঘরের অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সংশোধনীসহ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হয়। মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি হিসেবে বাইরে থেকে মনোনীত কোনো বিশেষজ্ঞের বদলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থাকবেন।

৯ জুলাই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী জাদুঘরের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এ পর্ষদের সভাপতি হয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জাদুঘরটির মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জনবল নিয়োগ নিয়ে জটিলতা

জনবল নিয়োগের বিষয়ে তানজিম ওয়াহাব বলেন, জাদুঘরের জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত জাতীয় জাদুঘরের ১৮ জন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ জাদুঘরে কাজ করছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়া হবে। এভাবেই আপাতত জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হবে। জাদুঘরের নতুন পর্ষদ গঠিত হওয়ায় নিয়োগসহ অন্যান্য জটিলতা দ্রুত দূর করা সম্ভব হবে।

জাদুঘরে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ৬২টি পদে ৯৬ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। আবেদনের সময় দেওয়া হয় মাত্র সাত দিন। গত ২৮ জানুয়ারি এ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি ‘প্রমার্জন’ (শিথিল) করেছেন বলেও তখন কর্তৃপক্ষ জানায়। পরে সমালোচনা শুরু হলে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

গত বছরের ১৫ জুলাই জাদুঘর নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য দুটি প্রকল্পের কাজ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে করার নীতিগত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। দুই প্রকল্পেই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ওই বছরের ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধন করা সম্ভব হয়। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মত দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে গণ খাতে ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং গণ খাতে ক্রয়বিধি, ২০০৮-এর ৭৬ (২) ধারা অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদনের পর এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে মানদণ্ড থাকা উচিত, তা এই প্রক্রিয়ায় গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির নামে বিদ্যমান সরকারি ক্রয়নীতি ও বিধান এড়িয়ে যে প্রক্রিয়ায় কাজ দেওয়া

হয়েছে, তা অনিয়ম ও পক্ষপাতের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লেখ রয়েছে, সরাসরি ক্রয় শুধু জরুরি অবস্থা, দুর্যোগ কিংবা বিশেষায়িত পণ্য বা সেবার জন্য ব্যবহারযোগ্য এবং এর ব্যবহার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বিঘ্নিত না করে হতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের প্রক্রিয়াটি কোনো বিশেষায়িত ক্রয় নয়।’

এ বিষয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব প্রথম আলোকে বলেন, জাদুঘর দ্রুত সময়ে উদ্বোধন করার জন্য সরকারের অনুমতিতেই সব কাজ হয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ না বললেও ‘সঠিক উপায় না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণভবন থেকে জাদুঘর

স্বাধীনতার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে অফিস করতেন। প্রেসিডেন্ট ভবন তখন গণভবন নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সচিবালয় হিসেবে শেরেবাংলা নগরে এই গণভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গণভবনে বসবাস না করলেও ভবনটিকে অফিসের কাজে ব্যবহার করতেন।

বিশাল কমপ্লেক্স, উন্মুক্ত মাঠসহ ২৯ হাজার বর্গফুটের দ্বিতল ভবনটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক কাজও হতো এখানে। গণভবনের খোলা জায়গায় নানা শাকসবজি, ফল এমনকি বিভিন্ন জাতের ধানের চাষও করতেন শেখ হাসিনা। বিশাল লেকে মাছ চাষ করতেন। গরু, মুরগি, কবুতরসহ নানা জাতের পশুপাখি পালন করতেন। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য ছিল বিশাল টেনিস কোর্ট।

গত বছরের ২ জুন সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অনুমতি নিয়ে গণভবনে ঢোকার সুযোগ হয়েছিল এই প্রতিবেদকের। তবে জাদুঘরের সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করেও অনুমতি পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জাদুঘরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের বিবরণ, ভুক্তভোগীদের স্মৃতি ও স্মারক, জুলাই শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, গণভবন থেকে উদ্ধার করা নথিপত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মারক ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। পাঁচটি নতুন ওয়াকওয়ে, তিন দিকে সম্প্রসারিত লেক, ফুডকোর্ট, প্রার্থনাকক্ষ, প্রক্ষালনকক্ষ, টিকিট হাউস, স্যুভেনির শপ, হেলিপ্যাডে জুলাই মঞ্চ এবং ২২টি সেল নিয়ে প্রতীকী আয়নাঘর বানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলন, শাপলা ট্র্যাজেডি, বিডিআর বিদ্রোহ ইত্যাদিসহ গুম–খুনের শিকার প্রায় ৪ হাজার মানুষের নাম ও স্মৃতি সংরক্ষণে মেমোরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি ডামি কবর বানানো হয়েছে, এটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন থিমে মোট ৬২টি প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়েছে। মনসুন থিয়েটার সেলুলয়েডে ১৬ বছরের ফ্যাসিজম, বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘর নির্মাণে চীনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার জাদুঘরটি উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরের ২০ জানুয়ারিসহ একাধিকবার জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। ২০ জানুয়ারি তিনি বলেছেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে। যদি আমাদের জাতি কখনো দিশাহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট জাদুঘর উদ্বোধনের কথা জানিয়েছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দফায় দফায় প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জাদুঘর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাদুঘর পরিদর্শন করা অতিথিদের আপ্যায়ন বিল এসেছে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জাদুঘর পর্ষদে সদস্য হিসেবে আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের নানা অত্যাচার–অবিচারের ইতিহাসগুলো মানুষকে জানানোর জন্যই জাদুঘরটি দ্রুত খুলে দেওয়া প্রয়োজন। জাদুঘরে সব জুলাই শহীদের স্মারক থাকা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘরে গিয়ে সবাই যেন জানতে পারেন এই নামে কেউ একজন ছিলেন, যিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।

 

হৃদযন্ত্রের অবস্থা সম্পর্কে জানতে ড. দেবী শেট্টি কিছু অতি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

বয়স ২০ পেরোলেই সিটি স্ক্যান! জিমে কসরতের আগে হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দিলেন দেবী শেট্টি

তারকাদের মতো চেহারা পাওয়ার বাসনায় জিমে গিয়ে শারীরিক কসরত করার হিড়িক পড়েছে কমবয়সিদের মধ্যেই। না জেনে ভারী ব্যায়াম করা কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে পরামর্শ দিলেন কার্ডিয়াক সার্জন দেবি শেট্টি।

বয়স কুড়ির গণ্ডি পার হলেই করিয়ে নিতে হবে সিটি স্ক্যান। বাইশে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট জরুরি। এমনই পরামর্শ দিলেন কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেট্টি। আচমকা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তা বেশি হচ্ছে কমবয়সিদেরই। বাইরে থেকে দেখতে যতই সুস্থ ও চনমনে লাগুক না কেন, ভিতরে ভিতরে হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা কিছু পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় থাকে না। চিকিৎসকের পরামর্শ, বয়স কুড়ির কোঠা পেরোলেই হার্টের কিছু পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা জিমে গিয়ে ভারী কসরত করেন বা ওজন তুলে ব্যায়াম করেন, তাঁদের সবচেয়ে আগে চার থেকে পাঁচটি হার্টের টেস্ট করাতেই হবে। না হলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

তারকাদের মতো চেহারা পেতে জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। পেশির ব্যায়াম করতে হলে আগে দেখে নিতে হবে শরীর সে ভাবে প্রস্তুত কি না। দেবী শেট্টি জানাচ্ছেন, শরীর যদি ভিতর থেকে দুর্বল হয় বা হৃদ্‌যন্ত্রের কোনও রোগ থেকে থাকে, তা হলে ভারী কসরত বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বাইরে থেকে একজনকে ফিট দেখালেও তাঁর ধমনীতে ব্লকেজ বা জন্মগত কোনও হার্টের সমস্যা রয়েছে কি না, তা সাধারণ অবস্থায় বোঝা যায় না। যখন কেউ হঠাৎ জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলেন বা এমন ব্যায়াম করেন যাতে হার্ট রেট বা হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৫০-এর উপরে চলে যায়, তখন হার্টের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই বিপদ থেকে বাঁচতেই কিছু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

কী কী পরীক্ষা করাতে হবে?

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা জরুরি।হৃৎস্পন্দন ঠিক আছে কি না, তা জানতে ইলেক্ট্রোকার্ডিয়োগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষা করানো জরুরি।

হার্টের পেশি ঠিক মতো কাজ করছে কি না, তা জানতে ইকোকার্ডিয়োগ্রাম করতে হবে।

হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীতে ব্লকেজ আছে কি না বুঝতে সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করানো জরুরি।

সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট (সিআরপি) টেস্ট করাতেই হবে। ‘সিআরপি’ এক ধরনের প্রোটিন। রক্তে এই প্রোটিন বৃদ্ধি পেলে প্রদাহ বাড়ে। সিআরপি টেস্ট করালে বোঝা যায়, শরীরে কী পরিমাণ প্রদাহ হচ্ছে। যার থেকে বোঝা সম্ভব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে কি না।

হিমোসিস্টিন টেস্টে হার্ট অ্যাটাকের আগাম খবর পাওয়া সম্ভব। এটি এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময়ে তৈরি হয়। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন এটি ধমনীর ভিতরে জমা হতে থাকে ও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে। দিনের পর দিন যদি রক্তে হিমোসিস্টিন জমা হতে থাকে, তা হলে ধমনীতে তা ‘প্লাক’-এর মতো জমতে থাকবে ও হার্ট ব্লকেজের কারণ হয়ে উঠবে।

ডক্টর শেট্টি সতর্ক করেছেন যে, ব্যায়াম করার সময়ে যদি বুকে চাপ চাপ ব্যথা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, পিঠের ব্যথা বেশি হয়, তা হলে সাবধান হতে হবে।

ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর-  আরো যা থাকছে…..

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

আগামী জুলাই থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের পূর্বের দাখিলকৃত কাগজভিত্তিক (হার্ড কপি) ভ্যাট রিটার্নগুলো ইলেকট্রনিক ভ্যাট (ই-ভ্যাট) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রোববার (৭ জুন) এনবিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে হার্ড কপিতে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্নসমূহ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার সুবিধার্থে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল সংযোজন করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, এ সাব-মডিউল ব্যবহারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে গত ৫ জানুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করা হয় এবং সব হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাগজভিত্তিক রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আগামী জুলাই থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে তাদের কাগজের রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে ব্যর্থ হবে, তারা বিধিনিষেধের সম্মুখীন হবে।

এ ক্ষেত্রে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের সমাপনী স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালেন্স) স্থগিত (ফ্রিজ) করে দেওয়া হবে। ফলে ভবিষ্যতে ওই স্থিতির বিপরীতে কোনো সমন্বয় করা যাবে না।

রাজস্ব বোর্ড আরও জানায়, ভ্যাট ফেরতের (রিফান্ড) আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে যে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ববর্তী সব ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করবে না, তারা রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে না।

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগে করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে এনবিআর।

 

নিশ্চিত জয়- ট্রাম্প, আসলে কে জয়ী….!

//দৈনি বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, তখন তিনি একটি দ্রুত এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যুদ্ধের মাত্র ১০ দিনের মাথায় তিনি বড় গলায় দাবি করেছিলেন, আমেরিকা ‘ইতিমধ্যেই জিতে গেছে’। কিন্তু যুদ্ধের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও রণক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা তো আসেইনি, বরং এই সংঘাত এখন পুরো বিশ্বকে এক অন্তহীন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের হাহাকার: ধ্বংসস্তূপে ইরান ও লেবানন যেকোনো যুদ্ধের মতো এখানেও সবচেয়ে বড় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইসরাইল ও আমেরিকার হাজার হাজার হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১,৭০০ জনই সাধারণ নাগরিক। ট্রাম্প এমনকি ইরানের পুরো ‘সভ্যতা’ ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শাসনামলে দমন-পীড়ন আরও কঠোর হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পাশাপাশি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

লেবাননের অবস্থাও তথৈবচ। হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের সরাসরি লড়াইয়ে গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জন লেবানিজ প্রাণ হারিয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একের পর এক গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘শক’:

পকেটে টান পড়ছে সবার এই যুদ্ধের উত্তাপ এখন পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুমে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তেলের বাজার টালমাটাল। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর কৃষিখাতকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

‘লস’-এর তালিকায় যারা:

ট্রাম্প, উপসাগরীয় দেশ ও ইউক্রেন ডোনাল্ড ট্রাম্প: রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প এখন চাপে। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে ৩৭ শতাংশে ঠেকেছে। যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য তার আসন্ন নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসাগরীয় দেশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত যারা এই যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে। বিশেষ করে ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের তেল ও গ্যাস রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ইউক্রেন:

ইউক্রেনের জন্য এই যুদ্ধ দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। আমেরিকার নজর এখন ইরানের দিকে থাকায় ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ অন্যান্য অস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।

ছাইচাপা আগুনের মধ্যেও ‘জয়ী’ যারা এত ধ্বংসলীলার মাঝেও হাতেগোনা কয়েকজন কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিয়েছে:

চীন:

বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক হয়েও চীন বেশ স্থিতিশীল। তারা নিজেদের তেলের বিশাল মজুত গড়ে তুলেছে এবং এই সুযোগে বিশ্বে শান্তির দূত হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।

রাশিয়া ও তেল কোম্পানি:

তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, অক্সফাম-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ৬টি তেল কোম্পানি এই বছর প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা লুটবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী:

তেলের বিকল্প হিসেবে সৌর ও বায়ু শক্তির চাহিদা বাড়ছে। আবার যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্বজুড়ে সমরাস্ত্র কেনাবেচা ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্রাম্পের দুই মাস আগের ‘নিশ্চিত বিজয়’ এখন এক দীর্ঘস্থায়ী চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঝুঁকি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

খুলনার রূপসায় মর্ন্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

খুলনার রূপসায় একটি লোকাল বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী লিলি কুন্ডু (৪৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী অমর কুন্ডু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার ৩ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার আমদাবাদ এলাকার ককসেট মোড়ের পাশে। লিলি কুন্ডু খুলনার একটি আই হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে স্বামীর সাথে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

পেছন দিক থেকে আসা একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে লিলি কুন্ডু সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাস ও এর চালক সাগর (২৬) কে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লিলি কুন্ডুর স্বামী অমর কুন্ডু বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গোরম্ভা গ্রামের বাসিন্দা।

এনবিআর: অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল 

//দৈনি বিশ্ব ডেস্ক//

ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রোববার (১৫ মার্চ) এনবিআরের প্রথম সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদ নওশাদ মুকুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ সময় সরকারি ছুটি থাকায় এবং ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা কিছুটা ধীরগতির হওয়ায় জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (১ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ই-ভ্যাট সিস্টেমে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ২৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান

//দৈনি বিশ্ব ডেস্ক//

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার পুলিশের যে খাকি পোশাকটা ছিল, তা ২০০৪ সালে পরিবর্তন করে বর্তমানে যে ব্লু পোশাকটা আমরা পরেছি, পরতেছি এই পোশাকটা নির্ধারণ করেছিলেন। এই পোশাকটাতেই আমরা ফিরতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে পোশাক পরিবর্তন করেছে ওইটা আমরা নিতে চাই না। আমরা পূর্ববর্তী পোশাক তথা ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার খাকি পোশাকটা পরিবর্তন করে ব্লু যে পোশাকটা বাংলাদেশ পুলিশকে দিয়েছিল, এই পোশাকটাতেই আমরা ফিরতে চাই।

সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিবর্তনের আগে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন ও রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়ার বিষয় এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত, গায়ের রং ও আবহাওয়াগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরও দাবি করেন, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। তাদের মতে, বর্তমান পোশাক বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সব পুলিশ সদস্য বর্তমান ইউনিফর্ম পরেই দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পেশাদারিত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এছাড়া ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো বেশি যৌক্তিক হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাকের রং বা নকশা নয় বরং পুলিশ সদস্যদের মনোবল, মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত এবং পুলিশ সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের নতুন পথচলা শুরু

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মাধ্যমে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ন্যস্ত করল জাতি, যা বাংলাদেশে আগে ঘটেনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশের নতুন পথচলা শুরু হলো।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। তারেক রহমান দীর্ঘদিন রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও অতীতে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। এবার ঢাকায় ও পিতৃভূমি বগুড়ায় দুটি আসনে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

১৯৯১ সালের পর প্রথম কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে দেশ। এর আগে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রায় তিন যুগ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে। দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনের পর তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু হলো নির্বাচিত সরকারের পথচলা।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। অভিষিক্ত হয়ে তাঁর নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিএনপিও তাঁকে একক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। নির্বাচনী প্রচারের সময়ই তাঁকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকারে ফেরে বিএনপি।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশের মাটিতে ফেরেন তারেক রহমান। বিপুল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেন তারেক রহমান। বিএনপির দলীয় ওয়েবসাইটে দেওয়া তারেক রহমানের জীবনীতে বলা হয়, স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তাঁর মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। তৃণমূল থেকে জনগণকে সংগঠিত করেছিলেন এবং এইচ এম এরশাদের সরকারের পতনে অবদান রেখেছিলেন তারেক রহমান। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তাঁর মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন। খালেদা জিয়া হন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি দলকে সংগঠিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের সম্মেলন করে আলোচনায় আসেন তারেক রহমান। সাংগঠনিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি তাঁকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।

বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। সরকারটি এক–এগারোর সরকার নামে পরিচিত। এরপর ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবার লন্ডনে চলে যান তিনি।

লন্ডনে থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে দলের কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। এরপর ধীরে ধীরে বিএনপির পুনর্গঠনে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হন। তখন তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত হন। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তিনিই দলকে শেখ হাসিনার নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে এবং ভোটাধিকার অর্জনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জিয়াউর রহমান। সেনাপ্রধান হন তিনি। এরপর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাঁকে। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে জিয়ার প্রতিষ্ঠিত এই দলটি চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোদস্তুর গৃহিণী। স্বামীহারা খালেদা দলের হাল ধরেন। যুক্ত হন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে।

বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথের মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখাল জিয়া পরিবারও। বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর এবার বাংলাদেশ পরিচালনার ভার নিলেন ছেলে তারেক রহমান।

প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আরেক ছেলে ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। তারেক রহমানের এই ছোট ভাই ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তিনি পেশায় চিকিৎসক। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

খুলনার রূপসায় একাধিক অবৈধ কয়লার চুল্লি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

English DainikBiswa

বাগেরহাটের কচুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলম হোসেনকে কুপিয়ে জখম

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বাগেরহাটের কচুয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মো. আলম হোসেন (৬২) নামের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। ২রা ফেব্রুয়ারী ২০২৬  ইং শুক্রবার সকালে কচুয়া উপজেলার ফুলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত আলমকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। আহত আলম কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

আহত জানান, শ্রমিকদল নেতা জামাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এদিন সকালে তিনি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে জামাল শেখ লোকজন নিয়ে এসে তার ওপর হামলা করে। এতে আলমের হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায় আলম।

আলম হোসেন আরও বলেন, জামাল শেখ শুধু আমার কাছেই নয়, আমার মতো আরও অনেকের কাছেই চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় আমার ওপর হামলা করেছে।

মারধরের বিষয়ে গোপালপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা জামাল শেখ বলেন, আলম আওয়ামী লীগের লোক ছিল। সকালে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে আসছিলাম, অনেক লোক দেখে ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে আহত হয় আলম। আমি তার কাছে কোন চাঁদা চাইনি।