চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্ত্রান হবে ৪ লক্ষ মানুষের

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজ পাবে অন্তত চার লাখ মানুষের কর্মসংস্ত্রান হবে। দেশে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আরও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর মধ্যে নানা কারণে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রামের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। প্রত্যাশিত বিনিয়োগই শুধু নয়, কর্মসংস্থান ও বার্ষিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও অন্য যে কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ে সেখানে বেশি।

২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুরুতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল মাত্র দেড় লাখ। পরে আওতা আরও বাড়িয়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় চার লাখে।

একইভাবে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুরুতে রপ্তানি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের শুরুতে সেই লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৯৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা দেড় বিলিয়ন থেকে এখন ঠিক করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার। মিরসরাইয়ের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে বছরে মাত্র ১ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার আয়ের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু পরে পরিকল্পনার আওতা বাড়িয়ে সেটি এখন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি মার্কিন ডলারে।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নতুন এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পপ্লটের সংখ্যা ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৩৯টি করা হচ্ছে। এর প্রতিটি প্লটই হবে তিন হাজার ৬০০ বর্গমিটারের। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে নতুন করে ফায়ার স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, দুটি কারখানা ভবন, ফুটপাত, গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, তিনটি আবাসিক ভবন, একটি মসজিদ এবং একটি মেডিকেল সেন্টার নির্মাণসহ কয়েকটি নতুন স্থাপনা তৈরি করা হবে।

সংশোধিত নতুন প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ১০ একর ভূমি উন্নয়ন, এক হাজার ১৩৮ দশমিক ৫৫ একর জমিতে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, এক হাজার ১৩৮ দশমিক ৫৫ একর জমিতে নর্দমা তৈরি করা হচ্ছে। নতুন করে অফিসার্স ডরমিটরি ও স্টাফ ডরমিটরি, আবাসিক ভবন, দুটি কারখানা ভবন, মসজিদ, মেডিকেল সেন্টার, ফায়ার স্টেশন, হেলিপ্যাড ও কালভার্ট, সিকিউরিটি ও কাস্টম ভবন, সিকিউরিটি ব্যারাক, সীমানাপ্রাচীর, প্রধান ফটক ও কাস্টমস ফটকও তৈরি করা হবে।

সবমিলিয়ে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ধরা হয়েছিল ৭৫০ কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সেই ব্যয় এখন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকায়।

এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছয় শতাধিক শিল্পপ্লটের চাহিদার কথা জানানো হয়েছে বেপজাকে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৫০টি শিল্পপ্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাবও পেয়েছে বেপজা।

English Dainikbiswa

রাশিয়ান সৈন্যদের দখলকৃত এলাকায় ভয় দেখাতে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত টিপুর ড্রাইভার মরার ভান করেছিল তাই বেঁচে গেছে

গণহত্যা দিবসে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি

//আজিজুল ইসলাম//

১৯৭১ সালের  ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঠাণ্ডা মাথায় নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত সাধারণ বাঙালির ওপর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার নজির। ২০১৭ সাল থেকে এ দিনটি ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

গণহত্যা দিবসে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাত ১২ টা ০১ মিনিটে গল্লামারি স্মৃতিসৌধে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড সুজিত অধিকারী সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান করেছেন।

 

খুলনার রূপসায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মেলার সমাপনী

//রূপসা প্রতিনিধি//

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণ জয়ন্তী মেলার সমাপনী আজ ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বঙ্গবন্ধু হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষক আলোচনা সভা এবং পরিশেষে পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়।

রূপসা উপজেলা পরিষদ বিজয় মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন বাদশা।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজ্জাদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ যোবায়ের, রূপসা থানা ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার কাজি ইয়াহিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ ফকির, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার মজুমদার, আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তারেক ইকবাল আজিজ, বন কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান, তথ্য সেবা কর্মকর্তা দিলশান আরা, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

কুকিং রেসিপি

বাগেরহাটে এসআইকে কুপিয়ে হত‍্যাচেষ্টা মামলার ২ আসামী অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

খুলনার ডুমুরিয়ায় মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণ জয়ন্তি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া সংবাদদাতা//

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৭ দিন ব‍্যাপী  মহান স্বাধীনতার মুক্তির উৎসব ও সুর্বন জযন্তি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার  দুপুরে  স্থানীয়  শহীদ জোবাযেদ আলী মিলনযতনে অনুষ্ঠিত হয।

উপজেলা  নির্বাহী  অফিসার  মো: আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি র বক্তব‍্য দেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনর ভূমি মামুনুর রশিদ, মাধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহম্মেদ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল, প্রকল্প বাস্তবায়ন  কর্মকর্তা মো: আরশাফ হোসেন, ভিডিপি কর্মকর্তা মিশু দে।

মেলায় অংশগ্রহনকারী সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের মধ‍্যে সেবা প্রদানের  জন‍্য নির্বাচিত হযেছেন ডুমুরিয়া  হাসপাতাল, সমাজ সেবা দপ্তর, শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর, তথ‍্য আপা সহ বিভিন্ন দপ্তরকে পুরষ্কৃৃত করা হয। এসময সেবা প্রদান দপ্তরের কর্মকর্তার হাতে পুরষ্কার তুলে  দেন অনুষ্ঠানের প্রধান আতিথি।

 

 

নারীদের পিছনে রেখে দেশ ও জাতির কল‍্যাণ বয়ে আনতে পারে না। নারীদের শিক্ষিত হতে হবে- সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া সংবাদদাতা//

সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন   নারীদের পিছনে রেখে দেশ ও জাতির কল‍্যান বযে আনতে পারে না। বতমান সরকার পুরুষের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে তুলতে  শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। নারীরা সর্ব ক্ষেতে এগিয়ে যাচ্ছে।  শিক্ষার্থীদের উদেশে বলেন এই বযসটি লেখা  পড়ার শেখার সময। প্রতিযোগিতায় টিকে  থাকতে হবে খেলাধুলা করে মানষিক প্রশান্তির বিকাশ ঘটতে হবে।  জননেত্রী  শেখ হাসিনা দেশকে  উন্নযনের মহাসড়কের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । এবং  নারীদের সকল ক্ষেতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সরকার চেষ্টা করছে।  ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ডুমুরিয়া

সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ‍্যালযের বার্ষিক ক্রীড়া  ও সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতার  পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্ততায় এ কথা বলেন  সহকারী কমিশনার ভূমি  মো: মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব‍্য দেন   প্রধান শিক্ষক সালমা রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ আহম্মেদ, প্রাক্তন জেলা মাধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার গাজী মোহাম্মদ রফি,  সাবেক প্রধান শিক্ষিকা জিরুবালা বিশ্বাস,  সমাজ সেবক মোশাররফ হোসেন কচি, প্রকল্প বাস্তবায়ন  কর্মকর্তা মো: আরশাফ হোসেন শিক্ষক রতন বিশ্বাস ,গোপী নাথ মন্ডল,  পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক  প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ প্রমুখ।

 

 

শুক্রবার রাতে অন্ধকারে ১ মিনিট প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালিত হবে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

আগামীকাল ভয়াল ২৫ মার্চ। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এই দিনের শেষে এক ভয়াল বিভীষিকাময় রাত নেমে এসেছিল। গণহত্যা দিবসে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে।

এ সময় সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। তবে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জা করা যাবে। কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাগুলো ব্ল্যাক আউটের আওতামুক্ত থাকবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তার পর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যা এ বছরই ৫০ বছর পূর্ণ করল।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম অপারেশন সার্চলাইট।

২৫ মার্চ দিবাগত রাতে সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চ (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

একাত্তরে মানবতাবিরোধী জামায়াতের মাওলানা আবদুল খালেকের ফাঁসির আদেশ

ডায়াবেটিসের একটি নতুন কারণ আবিষ্কার: আপনিও জেনে নিন…

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

যাদের শরীরে আইএপির পরিমাণ কমে যায়, তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৩ দশমিক ৮ গুণ বেড়ে যায়

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আরও একটি নতুন কারণ আবিষ্কারের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী। তারা বলছেন, ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরের অংশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি জারক রস কমে গেলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই জারক রস বা এনজাইমের নাম ইন্টেস্টাইনাল অ্যালকেলাইন ফসফেটাস, সংক্ষেপে আইএপি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে আইএপির পরিমাণ কমে যায়, তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৩ দশমিক ৮ গুণ বেড়ে যায়। এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের ভিজিটিং অধ্যাপক ডা. মধু এস মালো।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক সহকারী অধ্যাপক। ‘ ইন্টেস্টাইনাল অ্যালকেলাইন ফসফেটাস ডেফিসিয়েন্সি ইনক্রিজেস দ্য রিস্ক অব ডায়াবেটিস’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রবন্ধ সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য বিএমজে ওপেন ডায়াবেটিস রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আবিষ্কারের তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইএপি কমে যাওয়া ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে আবিষ্কারের এ বিষয় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ডা. মধু এস মালো সাংবাদিকদের বলেন, গত পাঁচ বছরে (২০১৫-২০ সাল) ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সি ৫৭৪ জন মানুষের ওপর গবেষণা করে ডায়াবেটিসের এই নতুন কারণ সম্পর্কে জানা গেছে।

তিনি বলেন, আইপিএ স্বল্পতায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি-যারা এমন স্বল্পতায় ভোগেন না, তাদের চেয়ে অনেক বেশি হয়।

যাদের অন্ত্রে এ এনজাইমটি কম ছিল এবং পরে বেড়েছে তাদের ডায়াবেটিস হয়নি। এনজাইমটি যাদের অন্ত্রে কম ছিল, তাদের ফাস্টিং সুগার বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ। এর মাত্রা বেশি হলে স্থূল বা মোটা মানুষেরও ডায়াবেটিস হয় না।

তিনি জানান, স্টুল (মল) পরীক্ষা করে, কারও শরীরে আইপিএ কম আছে কিনা-তা ৩ মিনিটের মধ্যে জানা যাবে। এনজাইমটির স্বল্পতার কারণে যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ডায়াবেটিস মুক্ত থাকতে পারবেন।

স্টুল পরীক্ষার জন্য মাঠপর্যায়ে তার প্রস্তুতকৃত কিট ব্যবহারের জন্য নীতিনির্ধারক ও সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন এই গবেষক।

সংবাদ সম্মেলনে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একে আজাদ খান বলেন, যাদের আইএপি কমে যায়, জেনেটিক কারণ, ইনসুলিন রেজিস্টেন্স, কায়িক পরিশ্রমের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে হয় ডায়াবেটিস।

তবে ইনটেস্টিনাল (অন্ত্রে) অ্যালকাইন ফসফেট (আইপিএ) নামক একটি এনজাইমের ঘাটতিও ডায়াবেটিস রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও বড় কাজ করতে সক্ষম। আমি মনে করি, ‘এ আবিষ্কার হবে যুগান্তকারী, যা ডায়াবেটিক প্রতিরোধে বড় অবদান রাখবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরেক গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম জানান, যাদের দেহে এ এনজাইমের পরিমাণ কম তাদের এনজাইম দেওয়া সম্ভব হলে ডায়বেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে-হলুদ, জিরা ও লাল ক্যাপসিকাম খেলে আইপিএ অ্যানজাইম বাড়ে। তবে এখনো মানব দেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়নি।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিল বারডেম, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষক।

২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে বর্তমানে ৫৪ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর তিন-চতুর্থাংশ বাস করে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক সমিতির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে এ রোগীর সংখ্যা ৮৪ লাখের বেশি।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ঐতিহাসিক সিরিজ জয় টাইগারদের

চোরদের চাপের কারণে আমি পদত্যাগ করবনা- ইমরান খান

সকল ষড়যন্ত্র থেকে আদালতের জামিন পাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের মিলাদ ও দোয়া

মোঃ হোসেন গাজী।।

মিথ্যা মামলার জামিন পেলেন গাজী পরিবার।

হাইমচর উপজেলার গত শুক্রবার ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদে হামলার ঘটনা ঘটে  হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার সহ ১৫ জন নারী—পুরুষ আহত হওয়ার ঘটনায়, উত্তর আলগীর নজরুল ইসলাম নজু—কে আটক করে পুলিশ সোপর্দের পরে ইউ.পি চেয়ারম্যান বাদী হয়ে গত শনিবার হাইমচর থানায় নজু—কে ১নং ও সোহেল রানা মাঝি পিতা মৃৃৃত আব্দুল জলিল মাঝি, উত্তর আলগী ইউনিয়ন ২নং আসামি করে মোট ৮ জনের নাম লিপিবদ্ধ  করে একটি মামলা দায়ের করেন।

রোববার সকালে আটককৃত নজুকে পুলিশ আদালতে প্রেরন করলে তাকে কারাগারে প্রেরন করে, একই দিনে আসামি সোহেল রানা ছারা বাকি ৬ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে। সোমবার সকালে ওই মামলার আসামি বাদী হয়ে হাইমচর থানায় পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আক্তার গাজী পিতা হাবিবুর রহমান গাজী —কে ১নং আসামি করে মোট ১১ জনের নামে মামলা দায়ের  করেন, বাকি আসামিরা হলো ২নং আবুল কালাম গাজী, ৩নং আবুল বাসার গাজী, ৪নং ফারুক গাজী , ৫নং আবু তাহের গাজি, ৬নং নেছার আহামেদ গাজী, ৭নং সুলতান আহামেদ গাজী, উভয়ের পিতা হাবিবুর রহমান গাজী, ছেলে সহ একই পরিবারের মোট ৭ জন, ৮ মেম্বার মোঃ শাহআলম গাজী, পিতা নুরুল  হক গাজী, ৯ মেম্বার হাবিবুর  রহমান ঢ়াড়ি, পিতা মৃত নুর মোহাম্মদ ঢ়াড়ি, ১০আক্তার ঢালী পিতা বাসু ঢালী, ১১ পারভেজ গাজী, পিতা  শাহজাহান গাজী। সকলের বাড়ি হাইমচর উপজেলায়। এর বিরুদ্বে মামলা করলে। ২২ মার্চ মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর চীফ জুডিশিয়ান ম্যজিস্ট্রেট আদালতে আত্যসম্পর্পণ করে, আসামিদের আইনজীবী  হিসেবে লড়াই করেন, এডভোকেট আবদুল্লাহ  আল মামুন, অপর দিকে বাদি সোহেল রানার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সেলিম আকবর, আদালতে আসামিদের জামিনের বিরুদ্ধে বলেন, চেয়ারম্যান সহ তার ছেলেরা প্রতিবাদি জেলের উপরে হামলা করেছে, একজন কারাগারে আরেকজন হাসপাতালে আছেন। আর যে হাসপাতালে আছে তিনি জেলে ৪০ কেজি চাউলের পরিবর্তে ৩০ কেজি দেওয়ায় সে প্রতিবাদ করায় তাকে আহত করেছে এবং চেয়ারম্যান  জেলেদের চাল কম দেয়, এই কথার পরে আদালত বলেন সেটা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবে। তাছাড়া কোন জেলে কি অভিযোগ করে স্বারক লিপি দিয়েছেন, তাহলে আপনি সরাসরি চাল কম দেবার কথা বলতে পারেন না বলে চেয়ারম্যান পরিবারসহ মোট ১০ জনকে আদালত জামিন দেন।

অপরদিকে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নজু ও সোহেল উত্তর আলগীর ভোটার তারা আমার জেলে বা ভোটার না, তাহলে তারা ওই সময় কেনো আমার পরিষদে এসে হামলা করে। তাছাড়া সোহেল রানা আমার মামলার আসামি হয়ে সে আমাদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করে প্রমাণিত করলো তারা নিজেদের বাঁচাতে কাউন্টার মামলা করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে। আমরা দেখেছি হামলার দিনে শাহজাহান পেদাসহ তার বাড়ির লোকজন তার বাড়ি থেকে বের হয়ে হামলা করে এতে কি প্রমাণিত হয় না শাহজাহান পেদা এই হামলার মূল নায়ক ও নাটের গুরু। যদি তা না হয় তাহলে সোহেল মামলা করতে থানায় নিজেই ততবির করে কেনো এবং আমাদের জামিনের দিনে আদালত পাড়ার বারিন্দায় তিনি সহ পেদা বাড়ির আরো কয়েকজন অবস্থান কেনো।

আমি মনে করি মাঝিদেরসহ উত্তর আলগীর লোকজনকে পরিকল্পিপতভাবে তিনি পিছনে থেকে আমার পরিষদসহ আমাদের পরিবারের উপর হামলা করেছে।

এদিকে অনান্য আসামিরা বলেন, পূর্বে থেকে তিনি নানাহ ধরনের ষড়যনন্ত্র করে আসছে। সেদিন তিনি পুলিশের কাজেও বাধা দিয়েছে। তাছাড়া দলীয় সরকারি যত অনুষ্ঠান আছে হাবিবুবুর রহমান চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে সকল দলীয় অনুষ্ঠান করেছে এবং হাজারো নেতাকর্মি নিয়ে অংশগ্রহন করেছে। আর কেউতো করেনি, তাহলে চেয়ারম্যান দলীয় কান্ডারি হয়ে আজ কেনো দলের ভিতরে হাইব্রিড নেতাদের ঠাঁই, দলের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত কেন!

সকল ষড়যন্ত্র কে উপেক্ষা করে আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় ১ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি  হাবিবুর রহমান গাজীর নিজ উদ্যােগে ইউনিয়নের বিভিন্ন মজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

English Dainikbiswa

বাঁশখালীর চাম্ব‌লে বঙ্গবন্ধু জা‌মে মস‌জি‌দ নির্মান কা‌জের উ‌দ্বোধন

 

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র//  জেনে রাখার মত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সোমবার উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কেন্দ্রের থেকে প্রতিদিন ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলার ধানখালীতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে তেল বা ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কুইক রেন্টালের আরেকটি বিকল্প তৈরি হবে।

পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে যে পাঁচটি তথ্য জেনে রাখতে পারেন:

১. চীন-বাংলাদেশের যৌথ প্রকল্প

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে। ২০১৪ সালে এই সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল। নির্মাণের কাজ করেছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। আড়াইশো কোটি ডলার ব্যয়ে এই কেন্দ্র নির্মাণের সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে চীন।

এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র//  জেনে রাখার মত ৫টি গুত্বপূর্ণ তথ্য

এই ধানখালী গ্রামের ১,০০০ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

এর কাছেই রয়েছে পায়রা বন্দর। যেখান থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি কয়লা আমদানি সহজ হবে বলে সরকার আশা করছে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

২. এক বছরের বেশি সময় পরে বিদ্যুতের ব্যবহার

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সোয়া এক বছর আগে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলেও, সঞ্চালন অবকাঠামোর কারণে গত এক বছরে কাজে লাগানো যায়নি।

পরীক্ষামূলক চালানোর পর ২০২০ সালের ১৫ই মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে। আর দ্বিতীয় ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করে সেই বছরের ডিসেম্বর মাসে। তবে সঞ্চালন লাইন পুরোপুরি নির্মাণ শেষ না হওয়ার কারণে সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়নি।

এখন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত, আমিনবাজার-মাওয়া-গোপালগঞ্জ- মোংলা পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন এই প্ল্যান্টে ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র//  জেনে রাখার মত ৫টি গুত্বপূর্ণ তথ্য

৩. দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সঙ্কট দূর করবে

সরকার বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুতের বিপুল চাহিদার এক দশমাংশ পূরণ হবে পায়রার এই একটি কেন্দ্র থেকে। এখানকার বিদ্যুৎ দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুতের সমস্যা অনেকাংশে মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা ও উন্নয়নের যে আশা করা হচ্ছে, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই কেন্দ্রটি।

পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ।

বাংলাদেশের পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গত বছরের ২৭শে এপ্রিল। সক্ষমতা থাকলেও গড় উৎপাদন হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় ১১৬০ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশে এখন ৫৬ শতাংশ বিদ্যুৎই আসছে বেসরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে, এবং বাংলাদেশে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য নিয়ে বেসরকারি খাতের কেন্দ্রগুলোকেই দায়ী করা হয়।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র//  জেনে রাখার মত ৫টি গুত্বপূর্ণ তথ্য

আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইনের অভাব থাকায় বিদ্যুতে গ্রাহকদের কাছে সেটি ঠিকমতো সরবরাহ করা যায় না। বাংলাদেশে প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও অনেক গ্রাহকই ঠিকমতো বিদ্যুৎ পান না। বিশেষ করে এজন্য সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) ২০২০ সালে একটি প্রতিবেদনে বলেছিল, বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪৩ শতাংশ ব্যবহৃত হয়, বাকি ৫৭ শতাংশ অলস বসিয়ে রেখে কেন্দ্র ভাড়া দেয়া হয়।

তবে আশা করা হচ্ছে, এই বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সরকার কুইক রেন্টাল প্রকল্পগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচও কমে যাবে।

৪. কয়লা ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা পোড়ানো হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে বঙ্গোপসাগরের রামনাবাদ চ্যানেল হয়ে কয়লা আসে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ যখন শুরু হয়, তখন থেকে সেখানকার পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা ওঠে।

সরকারের বিদ্যুৎ খাতে ২০১৬ সালের মহা-পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। যেখানে আমদানি ও নিজস্ব গ্যাসে ৩৫ শতাংশ, আমদানি নির্ভর কয়লায় ৩৫ শতাংশ, তেল, বিদ্যুৎ আমদানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাকি ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশও সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে কয়লার ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনায় থাকা ১০টি কয়লানির্ভর কেন্দ্র বাতিল করেছে সরকার কিছুদিন আগে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র//  জেনে রাখার মত ৫টি গুত্বপূর্ণ তথ্য
আমদানি করা কয়লা দিয়ে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো হবে

যদিও সরকার শুরু থেকেই বলে এসেছে, পরিবেশের ক্ষতি না করে করা হবে এ কাজ। কিন্তু কার্যত গত কয়েক বছরে সেখানকার পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন স্থানীয় মানুষেরা।

ধানখালী গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক মুস্তাফা তুহিন বলছিলেন, গাছপালায় কালো ছোপছোপ পড়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলেছে ওটা ছত্রাক বা ফাঙ্গাস। কিন্তু নারকেল ও অন্যান্য গাছপালায় আগে তো ছত্রাক ছিল না, হঠাৎ ২/৩ বছরে ছত্রাক আসলো কোথা থেকে? আর গাছপালার ফলনও কমে গেছে।

সরকার বলছে, পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে এই কেন্দ্রে আলট্রা সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এম খোরশেদুল আলম বলছেন, বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনেই বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে এখানে এবং কার্বন ও সালফার নিঃসরণের মাত্রা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ।

তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এরপরেও পরিবেশের ক্ষতি হবেই। তারা বলছেন, সরকারের উদ্যোগের ফলে ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে, কিন্তু নির্মূল হবে না।

পরিবেশবাদীদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোটের সদস্য-সচিব হাসান মেহেদী বলছেন, ফ্লাই-অ্যাশের পরিমাণ কমলেও যে পরিমাণ নিঃসরণ হচ্ছে আর হবে সেটির ব্যবস্থাপনা কঠিন।

তিনি বলছেন, ” ধরুন আগে হয়ত ১০০ গ্রাম ছাই হত এখন ৭০ গ্রাম হবে। এখনো বছরে ২০ লাখ টন ছাই হবে, সেই ছাইয়ের ব্যবস্থাপনা কঠিন কাজ। এর বাইরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা ঠাণ্ডা করার জন্য যে পানি ব্যবহার হবে সেটি ডিসচার্জ হবে রামনাবাদ চ্যানেল এবং পাশের নদীতে। সমস্যা হচ্ছে ইলিশের একটি অভয়ারণ্য, এবং গত এক বছর ধরে ওখানে ইলিশের সংখ্যা কমে গেছে বলে স্থানীয় মানুষেরা বলছে। ”

বাংলাদেশে রামপাল, মাতারবাড়ি প্রকল্পসহ আরও কয়েকটি বড় আকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

৫. আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি

পরিবেশ রক্ষায় যে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বা প্ল্যান্টের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা হয়, তাকে বলা হয় আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি।

এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩ দেশে পরিণত হয়েছে।

এশিয়ায় ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান ও মালয়েশিয়ায় আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

এ.এম খোরশেদুল আলম বলেছেন, ঢাকনিযুক্ত কোল ইয়ার্ড ব্যবহার করার ফলে বাতাসের মাধ্যমে খোলা কয়লার গুঁড়ো ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যাবে। ফলে পরিবেশ দুষণের সম্ভাবনাও থাকবে না। সূত্র: বিবিসি

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

হার্টল্যান্ড ভাইরাস// আমেরিকায় ভয় ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস 

আজ পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আজ পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ কলাপাড়া উপজেলায় দেশের বৃহত্তম পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং আগামীকাল প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে সারাদেশে ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল বিকেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানে আসবেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন এবং সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবেন, কারণ প্রতিটি ঘর বিদ্যুতে আলোকিত হয়েছে।’

গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশে এমন একটি অতি-আধুনিক বৃহত্তম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ‘আমাদের সবার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি পাওয়ার প্ল্যান্ট।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করেছি,  দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় এবং সারা বিশ্বে ১১তম দেশ হিসেবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে।

পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিটটি ২০২০ সালের মে মাসে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়, এটি ৪০০ কেভি পায়রা-গোপালগঞ্জ পাওয়ার ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে এবং দ্বিতীয়টি গত বছরের ডিসেম্বরে উৎপাদন শুরু করে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা- বেগবান হয়েছে।

এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম চলামান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে কেন্দ্র করে সরকারের একটি বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে।

কমিশনার বলেন, ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও আরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে এবং এখানে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি আরো বলেন ‘এই অঞ্চলটি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে একটি পাওয়ার হাবে পরিণত হবে’।

বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এএম খুরশেদুল আলম বলেন, কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিবেশ রক্ষা করে নির্মাণ করা হয়েছে অতি-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

বিসিপিসিএল কর্মকর্তা বলেন, দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোদমে চালু হলে বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র: বাসস

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa