গ্রামে মাটির নিচে পাওয়া কঙ্কাল থেকে খুনের রহস্য উদঘাটন, খুনি গ্রেফতার

গ্রামে মাটির নিচে পাওয়া কঙ্কাল থেকে খুনের রহস্য উদঘাটন, খুনি গ্রেফতার

চট্টগ্রামে এক বছর আগে মাটি খননকালে পাওয়া কঙ্কালের সূত্র ধরে এক খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো আব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা কঙ্কালটি নীলফামারী জেলার গৌড়ঘাট এলাকার আজিজুর রহমানের পুত্র বুবেলের।
জানা যায়, রুবেল চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর চৌচালা এলাকায় বর্গা জমির চাষ ও সুদের ব্যবসা করত। সুদের টাকা নিয়ে সোহরাব হোসেন নামের আরেক বর্গা চাষির সাথে রুবেলের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে  সোহরাব ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলকে খুন করে গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেয়।
এ ঘটনায় নগরীর হালিশহর থানায়  মামলা দাযের করা হলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ইনভেস্টিগেশন বুরো (পিআইবি)। দীর্ঘদিন তদন্ত- শেষে রুবেল হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামে মেট্টো ইউনিটের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার নেতৃত্বে গঠিত টিম।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক সোহরাবকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার সকালে আটক করে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক সোহরাব রুবেল হত্যার  দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২ মার্চ চট্টগ্রামের হালিশহর চৌচালা এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার শ্রমিকরা মাটি খনন কালে একটি কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ কঙ্কারটি উদ্ধার করে। এক সময় উদ্ধারকৃত কঙ্কালটি আপন ভাই রুবেলের বলে দাবী করে রুবেলের ভাই সমসু।
তিনি দাবী করে বলেন, রুবেলকে গত পাঁচ মাস ধরে খুজে পাওয়া যাচেছ না। পিবিআই সমসু’র কথা আমলে নিয়ে কঙ্কালের ডিএনএ নমুনা ও সমসুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। পরে সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে দুই জনের ডিএনএ নমুনাকে মিলে যায়। 
এদিকে রুবেলের কঙ্কাল উদ্ধারের ঠিক পাঁচ মাস আগে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর রুবেল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ভিকিটিম রুবেলের পরিবার নগরীর হালিশহর থানায় একটি জিডি করেন। গ্রেফতারের পর ঘাতব সোহরাব পিবিআই কর্মকর্তাদের জানান, সে লালমনির হাট জেলার হাতিবান্ধা থানার পূর্ব সিন্দুণা গ্রামের বাসিন্দা।
গত ৬ বছর আগে সপরিবারে হালিশহর চৌচালা এলাকায় আসেন। হালিশহর আসার পর কিছুদিন দিনমজুরের কাজ করে পরে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ শুর” করেন। ভিকটিম রুবেলও একই এলাকায় বর্গা চাষ করতেন।
এক পর্যায়ে সোহরাব ও রুবেলের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রুবেল জমি বর্গা চাষের পাশাপাশি সুদের ব্যবসা করতেন। এক সময় রুবেলের কাছ থেকে সোহরাব ২ হাজার টাকা সুদে নেন এবং বিভিন্ন সময় সোহরাব তার অন্যান্য বন্ধুদের জন্য নেন ২৮ হাজার টাকা। কিছুদিন পর রুবেল সব টাকা একত্রে ফেরত চাইলে সোহরাবের সাথে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে রুবেল কোদল দিয়ে সোহরাবের হাত পা ও পিটে আঘাত করে।
এ সময় সোহরাবের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলকে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থ’লে মারা যান। ঘটনায় হিতাহিত জ্ঞান শূন্য, অনন্যোপায় হয়ে সোহরাব গর্ত করে রুবেলকে মাটি চাপা দেন। ঘটনার পর রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইলটি নিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন সোহরাব। 
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্টো ইউনিটের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার গাজিপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে ঘাতক সোহরাবকে গ্রেফতার ও ভিকটিম রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে রুবেলের পরিবারের দায়ের করা জিডিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে ঘাতক সোহরাবকে এই মামলার আসামী হিসাবে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারের পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *