//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//
গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রামে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতে হচ্ছে। এ একটানা বৃষ্টিপাতের কারনে নগরীতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী আকবর খান বলেন, শনিবার ভোর ছয়টা থেকে রোববার ভোর ছয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রোববার (৩০ জুন) ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় চট্টগ্রামে। এ সময়ে চট্টগ্রামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে সকাল ৮টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কলাবাগান এলাকায় দেয়াল ধসে জেসমিন আক্তার নামে এক মহিলা আহত হন। তিনি কলাবাগান এলাকার খলিল মিয়ার কন্যা। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস আগামী তিনদিন বৃষ্টি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। রোববার সকাল নয়টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় চট্টগ্রামের তাপমাত্রাও কমতে পারে।
রোববার সকালে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তীব্র বৃষ্টির মধ্যে যানবাহন না পেয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুর্ভোগে পড়েন । চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নগরীতে ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। যেখানে শিশু, বৃদ্ধসহ বসবাসরত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি।

