আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম আকতার কুলসুমীর পরিবর্তে বদলী সাজা ভোগকারী মিনুকে আদালতে তোলা হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুইয়া’র আদালতের খাস কামরায় তোলা হয় মিনুকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার মো: ওমর ফুয়াদ। তিনি জানান, জেলখানার কয়েদির ছবি সম্বলিত রেজিষ্টার খাতা বিজ্ঞ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত মিনুসহ জেলখানার রেজিস্টার খাতা দেখে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।
জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কুসুম আকতার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ড দেন আদালত। কুলসুমীর পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পন করে জেল খেটেছের মিনু। নামের মিল না থাকলেও মিনুকে কুলসুম আকতার কুলসুমী বলে গত ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন যাবৎ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের রাখা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শফিকুল ইসলাম খান আদালতকে জানান।
গত মোমবার সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুইয়া’র আদালতে পি, ডবিউ মূলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্র জানায়, কোতোয়ালী থানার মামলা নং ০৯(৭)০৬ ও জি আর ৪৫৯/০৬। মামলার দায়রা নম্বর ৫৯০/০৮। নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কমী কোহিনুর আকতার পারভিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। তারপর একটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনুর আকতার পারভিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবী করেন তার র”মমেট অপর গার্মেন্টস কর্মী কুলসুম আকতার কুলসুমী। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পুলিশ দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত করে কোহিনুর আকতার পারভিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে রির্পোট দিলে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়। গত ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কোহিনুর আকতার পারভিন হত্যা মামলার আসামী কুলসুম আকতার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন। সাজার পরোয়ানা মূলে কুলসুম আকতার কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু গত ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারের যান। গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন কালে মিনু কোন মামলার আসামী নন বলে জানান।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার সূত্র জানায়, কারাগারের সংরক্ষিত হাজতি রেজিষ্টার পর্যালোচনা করে জানা যায়, উক্ত মামলা সংক্রান্ত হাজতি নম্বর ১৫৭১৯/০৭ কুলসুম আকতার, স্বামী ছালে আহম্মেদ নামীয় বন্দি বিজ্ঞ মেট্ট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন। তিনি প্রায় ১ বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জামিন মঞ্জুর করেন। ঐ দিন কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন কুলসুম আকতার কুলসুমী।

