খুলনার ডুমুরিয়ায় কৃষিজমি ও সরকারী খাল -জলাশয় ভরাট করে তৈরি হচ্ছে বসতি শিল্প-কারখানা। অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিরবতা। এক শ্রেনীর দা
প্লট ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যের কৃষি জমি কিনে প্লট আকারে বিক্রি করেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করেই খুলনায় কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প কল কারখানা, আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা। এতে ক্রমেই কমছে কৃষি জমি, ফলে উৎপাদন কমছে কৃষিপণ্যের। সরকারী খাল জলাশয় ভরাট হলে ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভূমিহীন সেজে অনেকেই বরাদ্দ নিয়ে বেআইনীভাবে বিক্রি করছে প্রভাবশালীদের কাছে।

সরকারি এ নিদের্শনার মাঝেই উপজেলায় সর্বত্র এ নির্দেশনা উপেক্ষিত চলছে বালি ও মাটি দ্বারা কৃষি জমি ভরাট করে ব্যক্তিমালিকানার প্রতিষ্ঠান বসতি স্থাপন করা হচ্ছে।
কৃষি অধিপ্তরের হিসেব মতে প্রতিবছর উন্নয়নমূলক কাজ, বসতি, শিল্প কল-কারখানা স্থাপনে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দখলবাজি ও সরকারী খাল জলাশয় ভরাটের ঘটনা ঘটছে। শহর সংল্গন্ন গুটুদিয়া ইউনিয়নটিতে কৃষি জমি প্লট আকারে বেচা কেনা হচ্ছে। এ উপজেলার চক আসানখালী চক মথুরাবাদ ,বিলপাবলা, জিলেরডাঙ্গা, কুলটি পঞ্চ, ভেলকামারী, উপজেলা সদরের জোয়ারের বিলসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জমি কিনে তা বালি দিয়ে ভরাট করছে। একই সাথে খুলনা- সাতক্ষীরা সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের খাল খরাট করা হচ্ছে।
খুলনার জিরোপয়েন্ট থেকে পুরো ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে চলছে দখল বাজি খেলা। যে যার মত বিল-খাল ভরাট করে রাস্তা তৈরির ফলে পানি নিষ্কাশন হতে পারেছে না। ভেলকামারী বিলের গুটুদিয়া ব্র্যাক হ্যাচারীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালটির উপরে এক প্লট ব্যবসায়ী ছোট একটি কালভার্ট তৈরি করছে। হ্যাচারীর দক্ষিণ পাশে অপর এক প্লট ব্যবসায়ী বিলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা আকা বাকা খালটির উপরে ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করছে।
ওই খালটি দোয়ানিয়া খাল থেকে উৎপত্তি যা ভরাট হয়ে যায়। ভূমিহীন হিসেবে এক ব্যক্তি এটি বরাদ্দ নিয়ে ওই প্লট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে বলে দাবি তাদের।
স্থাণীয়দের অভিমত এসব দখলবাজরা প্রভাবশালী তাই প্রশাসনকে জানানোর পরও দখলবাজি বন্ধ হয় না। এক সাথে কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করার পর তা ভরাট করে প্লট আকারে তৈরি করছে। এতে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ডুমুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এক শ্রেনির প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি জায়গা জবর-দখল করে অবৈধ স্হাপনা গড়ে তুললেও প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর কোন পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় দখলদাররা তাদের কার্যক্রম অব্যহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরো বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ের চুকনগর হতে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের সরকারি- বেসরকারি জায়গার প্লট ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভাবে দখল করে বালু-মাটি দিয়ে ভরাট করছে। অথচ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে সরকারি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা চলাচল করছেন। বিষয়টি তাদের কি চোখে পড়েনা?
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারী খাল ভরাট করা বেআইনী। এরুপ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: হাফিজুর রহমান বলেন, কোন অবস্থাতেই কৃষি জমির শ্রেণির পরিবর্তন করা যাবে না।
যদি বিশেষ কারণে শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তা করতে হবে। কৃষি জমি ভরাট করে দেদারছে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা জেলায় ২২শত কিলোমিটারের মত সরকারী খাল রয়েছে যার মধ্যে ৫৬০ কিলোমিটার খাল ভরাট হয়ে বেদখল হয়েছে। এসকল খাল উদ্ধার করে সেটি খনন করে জলাধার সৃষ্টি করলে কৃষি পণ্য উদপাদনে ভূমিকা রাখবে।
জানতে চাইলে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারী খাল ও জলাশয় ভরাট করা আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ। যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার দু’ধরনের খাস জমি বরাদ্দ দিযে থাকে। এর মধ্যে কৃষি ও অকৃষি। কৃষি জমি বরাদ্দ নিয়ে সেটা কেউ বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না। এমন কোথাও হলে তদন্ত করে বরাদ্দ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
/জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া, খুলনা//

