দূর্গা দেবী কেন প্রতিবছর বিভিন্ন বাহনযোগে মর্তলোকে আসেন

দূর্গা দেবী কেন প্রতিবছর বিভিন্ন বাহনযোগে মর্তলোকে আসেন

আমরা জানি মা দূর্গার সর্বকালের শ্রেষ্ট বাহন সিংহ কিন্তু মা দূর্গার মর্তে আগমন ও গমনে মা দূর্গা বিভিন্ন বাহন এ আসেন। কখনো গজ, ঘোটক , দোলায় বা নৌকায়।  প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের বিচার অনুযায়ী দেবীর আগমন ও গমনের বাহন দ্বারা সূচিত হয় সারা বছর কেমন যাবে। ষষ্ঠীতে অধিবাস ও বোধনের পরেই দেবী সপ্তমীতে প্রবেশ করে পিতৃক গৃহে। অর্থাৎ সপ্তমী সপ্তাহের কোন দিন পড়েছে তার উপর ভিত্তি করে দেবী এই মর্তলোক থেকেই প্রস্থান করবেন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে

রবি চন্দ্রে গজা রুরা

ঘোটকে সহিভৌমই

গুরুশুক্রে চ দোলায়ং

নৌকায়াং বুধবাস্বরে।

এর মানে হলো মা দূর্গার আগমন বা গমন রবিবার বা সোমবার হলে গজে

মঙ্গলবার বা শনিবার হলে ঘোটকে

বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হলে দোলায় বুধবার হলে নৌকায়।

এবছর ২০২১ সালে সপ্তমী তিথি পড়েছে ১২ ই অক্টোবর মঙ্গলবার  তাই এবছর দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে। দেবী দূর্গার আগমন ঘোটক বা ঘোড়ায় হলে চরম বিশৃঙ্খলা ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়। সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে ধ্বংস ও অস্থিরতা ডেকে আনে। বলা হয় ঘোড়ায় মায়ের পদার্পন হলে ঘোড়ার গতির মতই অশান্তির তীব্রতা বাড়ে।

সংঘাত, যুদ্ধ , হানাহানি লেগে থাকার আশংকা থাকে এই ধরিত্রীতে চলে নতুন কোনো বিপ্লব। এছাড়াও আরো একটি দিক আছে যেটি সুত্র ধরে বিচার করা যেতে পারে। দেবী দূর্গা ঘোড়ায় যাত্রা করে শনিবার বা মঙ্গলবারে। শনি গ্রহ কে আমরা অনিষ্টকারী ও কুটবুদ্ধি সম্পন্ন হিসেবে দেখি। আর মঙ্গল গ্রহ তেজস্রী ও বীর দর্বী। তাই দেবী ঘোড়ায় আগমন ও গমন করলে এই গ্রহের চারিত্রিক প্রভাব পড়ে এই মর্তলোকে। ২০২১ সালের দূর্গা পূজার শুভ বিজয়া তিথি পড়েছে শুক্রবার ১৫ অক্টোবর যেবছর দেবী দূর্গার আগমন ও গমন বৃহস্পতি বা শুক্রবার পড়বে সেই বছর দেবী দোলায় গমন করবে। দোলাং মরকাং ভবেত

দেবী যদি দোলায় গমন করেন তাহলে মর্তে বহু মৃত্যু ঘটে। এই বহু মৃত্যু বিভিন্ন কারনে হতে পারে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে, যুদ্ধের কারনে বা মহামারীর কারনে। দোলা হল পালকির মত একটি যান, যার স্থিরতা কম ও নোদুল্য মান। অল্পতে দুলে আবার অনেক সময় বিপদের কারন। তাই দেবীর দোলায় গমনাগমনে মর্ত ভূমির স্থিরতা ব্যাহত হয়। দেবী দূর্গা দোলায় গমনাগমন করেন বৃহঃস্পতি ও শুক্রবার। দেবগুরু বৃহঃস্পতি হলে বিদ্যান বুদ্ধিমান এবং চিন্তাশীল। ফলে ভবিষ্যতের ভালো মন্দ ভাবতে তিনি এতটাই বিভোর হয়ে পড়েন যে তিনি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব বা সময় নেন।

শাস্ত্রে বর্ণিত: অতি বিলম্বের ফল ভালো নয়। বহুবিধ বিগ্ন বিভ্রা বেশে উপস্থিত হয়। অন্যদিকে শুক্রার্চায্য হলেন দৈত্য গুরু। তিনি বিদ্যান ও তেজস্রী কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বহন এতটাই দ্রুততার সাথে হয় যে প্রায়ই তাকে সমস্যায় পড়তে হয়। অতি বিলম্বের ফল যেমন সুফল বয়ে আনে না। তেমনি অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন ও কুফলের কারন হয়ে দারায়।  আর এই দুই গুরুর চারিত্রিক প্রভাবের প্রভাবিত হয়ে দেবীর  গমনাগমনে প্রভাব পড়ে মর্তলোকে। তাই বলা যেতে পারে দেবীর আগমন ও গমনের সাথে বাহন বার ও প্রকৃতির জোর প্রবল

//পলাশ চন্দ্র দাস//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে তিন কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *