চুল পরা রোধে রসুনের গুরুত্ব অনেকেই জানেননা কারণ ঘন, লম্বা ও রেশমি চুল কার না পছন্দ। বিশেষ করে চুলের যত্নের পেছনে অনেক সময় ব্যয় করে থাকেন নারীরা। তবে এ বিষয়ে পিছিয়ে নেই পুরুষরাও। চুলের যত্নে কত কিছুই না করে থাকি আমরা। নারিকেলের তেল, আমলকী, লেবু, টকদই, নিমপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে থাকি।
রুক্ষ চুলের সমস্যায় ভুগছেন? গোছা গোছা চুল উঠছে? সেই সঙ্গে অকালপক্বতা? এখনকার ব্যস্ত জীবনে চুলের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে প্রায় প্রত্যেকেরই। একদিকে দূষণের আধিক্য, অন্যদিকে জেল, স্ট্রেটনার ও কেমিক্যালের কারিগরিতে চুলের হাল দফারফা।
তবে কখনও কি শুনেছেন রসুন ব্যবহারে পেতে পারেন নজরকাড়া চুল। শুনে হয়তো বিশ্বাস হচ্ছে না। তবে ঘটনা কিন্তু সত্যি। চুলে রসুন ব্যবহার থেকে আপনাকে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
জানেন তো, ঘন ও লম্বা চুল করতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণসমৃদ্ধ রসুন চুলের গোড়া মজবুত করে। রসুনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’, যা চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রুক্ষতা দূর করে। খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
আসুন ছবিতে দেখে নিই কীভাবে রসুন ব্যবহার করলে পাবেন নজরকাড়া চুল-
প্রথমে রসুনের পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে লাগান। ৩০ মিনিট ওই মিশ্রণ লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা জলে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন।

রসুন ভালো করে বেটে নিয়ে তার সঙ্গে উষ্ণ গরম নারিকেল তেল মিশিয়ে হেয়ারপ্যাক বানিয়ে ফেলুন। ভালো করে চুল ও স্ক্যাল্পে ওই মিশ্রণ লাগিয়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুল ভালো রাখতে বাড়িতেই বানিয়ে নিন রসুনের তেল। ওলিভ ও নারিকেলের তেলের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পর দিন চুলে ভালো করে ওই মিশ্রণ লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে চুল ধুয়ে নিন।

রসুন ও আদা একসঙ্গে বেটে নিন। এবার ওই মিশ্রণ যে কোনো ভালো ওলিভ তেলে মিশিয়ে গরম করুন। মিশ্রণ বাদামি হয়ে এলে সেটি চুলে ১৫ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করুন। এর পর আধাঘণ্টা রেখে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন।


পেঁয়াজের রস চুল পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রসুনও যাদুবিদ্যার মতো কাজ করে। এটি কেবল চুল পড়া রোধ করে না, মাথার ত্বকের সংক্রমণ এবং খুশকি দূর করতে সহায়তা করে। শুধু এটিই নয়, রসুনের সাহায্যে নতুন চুল বাড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মত, তেলের মতো করে চুলে ও মাথার ত্বকে রসুনের রস লাগালে অনেক দ্রুত নতুন চুল গজায়। রসুনের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এলিসিন যা রক্তে হিমোগ্লোবিন সঞ্চালন বাড়িয়ে দিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার যা চুলকে ঘন ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তোলে।
রসুনের রস ব্যবহার পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: প্রথমে রসুন পেস্ট করে এর রস বের করে নিতে হবে। এরপর একটি এয়ার টাইট বোতলে তা সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে যখন প্রয়োজন তখন তেলের মতো করে এই রস চুলে ব্যবহার করা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ: চুল শুষ্ক হলে গোলাপজলের পানিতে তা আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। গোলাপজল চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। এই আধঘণ্টা পর ভালো করে চুলে ও মাথার তালুতে রসুনের রস লাগাতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: চুলে রসুনের রস লাগিয়ে আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চিরুনি দিয়ে তা আঁচড়াতে হবে। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার চুলে ভালো করে মাইল্ড শ্যাম্পু লাগিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এর ১৫ মিনিট পর কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
কতদিন বা কয় দিন পরপর ব্যবহার করবেন?
১. অতিরিক্ত হারে চুল পড়লে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন রসুনের রস ব্যবহার করতে পারেন। এতে এক মাসের মধ্যে মাথায় নতুন চুল গজাতে পারে।
২. মাথার তালুতে ক্ষত থাকলে রসুনের রস ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এটি ব্যবহারে ক্ষত আরও বেড়ে যেতে পারে।
৩. মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে চুলে তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে শুধু রসুনের রস লাগাতে হবে।
হায়রে আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে দেশে আশ্চর্য !!!

