সম্মেলন কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামী লীগ, নেতৃত্ব পরিবর্তনের অপেক্ষায়

সম্মেলন কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামী লীগ, নেতৃত্ব পরিবর্তনের অপেক্ষায়

স্টাফ রিপোর্টারঃ-

বহু প্রতীক্ষার পর আগামী কাল বৃহস্পতিবার বাগমারা হাইস্কুল মাঠে কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন ওবায়েদুল কাদের। প্রধান অতিথি থাকবেন প্রেসিয়াম সদস্য শেখ সেলিম। সম্মেলনে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাচ্ছেন জেলার নেতৃবৃন্দ। ফলে সর্বত্র জল্পনা কল্পনা কে হতে যাচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলীয় সূত্রে জানা যায় সভাপতি হিসেবে নাম উঠে আসছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম অথবা কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বাবলু, আর সাধারণ সম্পাদক পদে এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, সোনার বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ অথবা বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন, আনিসুর রহমান মিঠু, নাসিমুল আলম নজরুল এমপি।

বিশ্লেষণ স্ব্রুপ নেতা কর্মীরা বলছেন, বর্তমান সভাপতি দীর্ঘকাল আহবায়ক ও সভাপতির দায়িত্বে আছেন। অর্থাৎ ২০০৬ সালে আহবায়কের দায়িত্ব পান।  দীর্ঘ ১৪বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে সেই সম্মেলনে তিনিই সভাপতি দায়িত্ব নেন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের কোনও সভা সমাবেশে হাজির হননি। জেলা আওয়ামী লীগের কোন কর্মী সভা অথবা বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি শুধু নাঙ্গলকোট আওয়ামী লীগ নিয়ে ভাঙ্গা গড়ার খেলা খেলেছেন। অসুস্থতার অজুহাতে গত ৪বছর বাসা থেকে বের হননি। মাঝে মাঝে ভার্চুয়ালে ও অডিও বার্তাায় যোগ দিয়েছেন। অনেকেই বলেন, মন্ত্রণালয় ভার্চুয়ালে চললেও রাজনীতি ভার্চুয়ালে চলে না। তিনি পিএস ও তার ভাইদের দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করেছেন। উনার ভাইদের বিরুদ্ধেও পাহাড়সম অভিযোগ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ’মি দুর্নীতি দলীয়,মনোনয়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ অহরহ।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদকের পরিবর্তনও চায় তৃণমূল কর্মিরা। দুই যুগের বেশী সময় ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন মুজিবুল হক মজিব এমপি। কুমিল্লা আওয়ামীলীগে গ্রুপিং এর জন্য অনেকেই দায়ী করেন তাঁকে। মুজিবুল হক প্রথমে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের মৃত’্যর পর এক লাফে তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সেই থেকে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একই পদে দুই যুগের বেশী। গত সংসদ নির্বাচনে আফজানের ছেলে ইমরান দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী করান। তার নির্বাচনি এলাকায় নিজ দলীয় কর্মীদেও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রেলপথ মন্ত্রী থাকাকালে তাঁর স্ত্রী’র বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল এবং এলাকায় থেকে নেতাকর্মী আসলে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করতো । এছাড়া, রোগ ও হনুফার ভারে নুয়ে পড়া এবং ভারী বয়সে দল পরিচালনা করা আদৌ তার পক্ষে সম্ভব নয় মনে করেন অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *