অভয়নগরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবারও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
অভয়নগরে প্রশাসনকে বদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবারও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানাের অভিযােগ উঠেছে । এতে ওই এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই কাজটি দেদারসে করে যাচ্ছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি।

উপজেলার সিদ্দিপাশা এলাকায় প্রতিনিয়ত কাঠ পুড়িয় কয়লার ব্যবসা করে যাছে । তারা ট্রলিতে করে কাঠ নিয়ে শতাধিক মাটির কাঁচা চুল্লি তৈরি করে কয়লা বানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাছপালা কেটে ছােট ছােট কাঠের টুকরা বানিয়ে চুল্লির মধ্য দিয়ে জ্বালানাে হচ্ছে। এক পাশ দিয়ে ছােট কয়লা বড় করা হচ্ছে। অন্যপাশে সেই কয়লা শুকানাে হচ্ছে। বাকি জায়গায় বস্তায় ভর্তি করে রাখা হয়েছে । চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে চুল্লির খােলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়।

অভয়নগরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবার ও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে

প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পােঁড়ানার পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ২৫০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পােঁড়ানা হয়। কাঠ পুঁড়ে কয়লা হয় পরে সে গুলাে বের করে ঠান্ডা করে, বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সচেতন মহল বলেন, এ এলাকায় অনেক গাছপালা ছিল। বর্তমান গাছের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে । এই কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানাের কারনে আমাদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রােগ দেখা দিয়েছে । সরকারি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে এসকল ব্যক্তি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তেরি করে আসছে। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চারবার অভিযান চালিয়ে চুল্লিগুলাে গুড়িয়ে দিলেও বন্ধ হয়নি এ অবৈধ ব্যবসা।

প্রতিবারই আরও নতুন নতুন চুল্লি তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবশ দূষিত হচ্ছে , উজাড় হচ্ছে গাছপালা অপরদিকে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রােগে ভুগছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন বলেন, এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের উপর নানা হুমকি ধামকি নেমে আসে বলে অভিযােগ রয়েছে। সেই সাথে এই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলােকে ও পােহাত হচ্ছে নানা রকমের সমস‍্যা । এর আগে অনেকবার এলাকাবাসীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযােগও দিয়েছেন। এলাকাবাসির দাবি, কতিপয় ব্যক্তি জােটবদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে মাটির চুল্লি বানিয়ে কাঠ ও সীসা পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছে। এমনকি সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় ও তারা এ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কয়লা তৈরির চুল্লি নির্মাণ করছে। উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অবৈধ চুল্লিতে এ কয়লা তৈরি হওয়ায় নির্গত ধােঁয়ায় পরিবশ দূষিত হচ্ছে । নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। স্বাস্থ‍্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সােনাতলা গ্রামের জিয়া মােল্যা, ছােট্ট মােল্যা, শহিদ মােল্যা, হারুন মােল্যা, রফিক মােল্যা, তকির মােল্যা, কবীর শেখ, হাবিব হাওলাদার, তসলিম মিয়া, মনির শেখ কামরুল ফারাজী এবং ধূলগ্রামের হরমুজ সর্দার, রশিদ সর্দার, ফারুক হাওলাদার এ অঞ্চলে১’শতটি চুল্লি তৈরি করে কয়লা বানিয়ে আসছেন।

তারা এতটাই দূর্ধর্ষ যে, স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতো দুরের কথা, মুখ খুলতেও সাহস পায়না। মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা চুল্লিতে প্রতিদিন কয়েক’শ মণ কাঠ পােঁড়ানা হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়কজন চুল্লি মালিকের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়ে আমাদর ব্যবসা চালাতে হয়। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সব মহলকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই তারপর ব্যবসা চালাই। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজলার নিবার্হী অফিসার মেজবাহ উদ্দীন বলেন, এ বিষয় খােঁজ খবর নিয়ে দ্রুতই অভিযান চালানাে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *