২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে দেশটির ওপর এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলা, যা নাইন/ইলেভেন নামে পরিচিত, তার ২০তম বার্ষিকী।

ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে ২০০১ সালে আল-কায়দার চালানো এই আক্রমণে নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ার এবং ওয়াশিংটনের পেন্টাগন আক্রান্ত হয়। আরেকটি বিমান কোথাও আঘাত হানার আগেই বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই হামলায় নিহত হন প্রায় তিন হাজার লোক ।

এই ঘটনা সারা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে বিশ্বের পরবর্তীকালের অনেক ঘটনাপ্রবাহে, নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এবং বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের জীবনেও।

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে
নিহতের একজন স্বজন তার নাম পড়ে শোনাচ্ছেন।

নাইন/ইলেভেনের পরপরই আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয়দাতা তালেবান-শাসনাধীন আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়। এর ২০ বছর পর এবছরেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তাদের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে, এবং ক্ষমতায় ফিরে আসে তালেবান।

দিনটি উপলক্ষে শনিবার সকালে আয়োজিত এক স্মারক অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক শহরের স্মৃতিসৌধে নিহতদের স্বজনরা এক এক করে তাদের প্রিয়জনের নাম উচ্চারণ করেন। এসময় অনেককে নিরবে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় স্থানীয় সময় সকালে । মোট ছয়টি মুহূর্তে পালন করা হয় নিরবতা – ২০ বছর আগে ঠিক যে সময়টায় ছিনতাই করা বিমান দিয়ে টাওয়ার দুটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, যখন টাওয়ারগুলো ধসে পড়েছিল, আরও রয়েছে পেন্টাগনে আঘাত হানার মুহূর্ত, এবং চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হবার মুহূর্তগুলো।

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে
হামলার পর দমকল বাহিনীর উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ।

 

প্রথম নিরবতা পালন করা হয় ৮টা ৪৬ মিনিটে, ঠিক যে সময়ে উত্তর টাওয়ারে প্রথম হামলাটি চালানো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দিনটি উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি আজ নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া এবং ওয়াশিংটন- এই তিনটি স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, “কতো সময় পার হয়েছে সেটা কোনো বিষয় নয়, এই স্মরণ অনুষ্ঠান সবকিছু ফিরিয়ে আনে যেন মনে হয় এই খবরটা আমি মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে পেয়েছি।”

সাবেক প্রেসিডেন্টরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। যার আমলে এই হামলা চালানো হয়েছিল সেই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ পেনসিলভেনিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন সেসময় তারা যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন সেটা বর্ণনা করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আজ নাইন/ইলেভেনের ২০তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেজ, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুল ফন ডার লাইন এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টুইট করে বলেছেন, “আমরা কখনও ভুলবো না। আমরা সবসময় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করবো।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, “১১ই সেপ্টেম্বর আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে স্বাধীনতা সবসময়ই নাজুক।”

আমেরিকার জন্য এক কঠিন সময়ে এ অনুষ্ঠান হচ্ছে।

নাইন/ইলেভেনের হামলার সূত্র ধরেই আফগানিস্তানে আশ্রয় পাওয়া আল-কায়দার ওপর আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র – যাতে ক্ষমতাচ্যুত হয় তৎকালীন তালেবান শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু তার ২০ বছর পর মার্কিন বাহিনী এ বছরই আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে, আর তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করেছে।

এসব ঘটনা প্রবাহের কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নীতি ও আফগানিস্তান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার – কড়া সমালোচনার শিকার হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

//আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আফগানিস্তান থেকে উচ্চমাত্রার গোপন দলিল হাতিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান

নারীদের বিদেশ পাচারের জন্যই বিয়ে করত লিটন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *