মাগুরায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নৃশংসভাবে খুন, প্রতিবাদে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, আটক ১১

মাগুরায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নৃশংসভাবে খুন, প্রতিবাদে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, আটক ১১

//মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//
মাগুরা সদর উপজেলার ১১নং বেরইল পলিতা ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামের (মহিষগাড়ে) বিলের মাঠের পূর্ব পাশের বেগুনের জমি থেকে কৃষক আতর আলী মোল্লা (৪২) ধাওয়া করে পাশ্ববর্তী পাকা রাস্তা সংলগ্ন ফুফু বাড়ির উপরে নিয়ে মারাত্মক ভাবে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে একদল দূবৃত্ত।
বৃহস্পতিবার ৩০ মার্চ অনুমান বিকাল ৫.৩০ টার দিকে ঘটনাস্থল মহিষগাড়ে বিলের মাঠের পাশে পাকা রাস্তা সংলগ্ন ফুফু বাড়িতে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। সরেজমিনে গেলে প্রাথমিক ঘটনার বিবরণ দেন প্রতক্ষদর্শী, ইউনুস (৪০) পিং- কামাল উদ্দিন মোল্লা, নান্নু (৪২) পিং- মতিয়ার মোল্লা, দুলাল (৩৬) পিং- ছিরু শেখ জানান, খুনি সন্ত্রাসীদের হাতে চাপাতি, চাইনিজ কুরাল, রামদা,লোহার রড,বাঁশ ও কাঠের লাঠি ইত্যাদি মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মনিরামপুর গ্রামের মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লার পুত্র আতর আলী মোল্লা (৪২)কে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।স্থানীয়রা বলেন, আতর আলী ঘটনার দিন ও সময়ে নিজ বেগুনের জমিতে গেলে তাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে চারিদিক থেকে ঘিরে হামলা চালায় সন্ত্রাসীদের দল,এসময় চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যা করার ইন্দন দেন বলে স্বীকারোক্তি দেন নিহতের ভাই ও বাবা।তারা আরও বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো বড়জোখা গ্রামের কাদের শেখ এর পুত্র মিরাজুল (২৫), জলিল মোল্লার পুত্র বাবলু (৩০), মৃত আকবরের পুত্র জুয়েল (২৫), রামদেরগাতি গ্রামের আমিনুরের পুত্র সুজন (২০), দীঘলকান্দি গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র আমির হামজা (২৫), ময়েন শেখের পুত্র গায়েজ (১৮), কামারপাড়া-রামদেরগাতি গ্রামের চান্নু শেখ এর পুত্র রাজিব (২৫), মনিরামপুর গ্রামের আব্দুল হাই এর পুত্র কাবিয়ার (২৫), লুৎফর এর পুত্র মোস্তাক (৩২), তাইজেল (৩৫)।
এছাড়াও আশেপাশে উপস্থিত ছিলো অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনের অধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন। এই হত্যা কান্ডের পূর্ব ঘটনার সূত্র হলো গত বুধবার ২৯ মার্চ তারিখে মনিরামপুর গ্রামের হায়দার ফকিরের জমি জোর দখল করে ভোগ করতো কাশেম ফকির। এই জমিতে হায়দার ফকির বাধা দেয় তখন কাশেম ফকির আমিন নিয়ে এসে জমি মাপলে হায়দার ফকির জমি দখলকৃত জমির পরিমাণ বেশি পায়। এই সূত্র ধরে কাশেম ফকির ও তার লোকজন তার প্রতিবেশী চাচিকে ধরে ব্যাপক আকারে মারধর করে। মনিরামপুর গ্রামের পাকার মাথা থেকে তাইজেল, মোস্তাক, জসিম, কাবিয়ার দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপায় মনিরামপুর গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে হেমায়েত (৩০), সোহরাব মোল্লার ছেলে সাইফুল্লাহ (৫০), আতর আলীর ছেলে হোসাইন (২০), সাইফুল্লাহর ছেলে আকিদ মোল্লা (২৫) বাম চোখের পাতায় কোপ,
কালাম ফকিরের ছেলে হাবিবুল্লাহ, সীমা খাতুন ও কালাম ফকিরের স্ত্রীকে। এসময় মনিরামপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ইমামুল (৩৬), শাহজাহানের ছেলে শাফিকুল (২৮), শামীম, সাহেব, আশরাফুল, শহিদুল্লাহ ফকির, আমিরুল, মুকুল সাক্ষী দেয়। তবে এলাকাবাসীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোপন সূত্র থেকে জানা যায়, হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার সময় বেরইল পলিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং হত্যাকাণ্ডের সময় মাত্র ১০/১২ জন লোক উপস্থিত ছিলেন ।অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে অন্তত ২০ টি বাড়িতে ওই দিন রাতে ভাংচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জাব্বারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে কে জানান,
আতর আলী মোল্লা হত্যা কান্ডের আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।মাগুরা সদর থানা ওসি ও জাব্বারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের দায়িত্বরত অবস্থায় আতর আলী মোল্লার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *