জগন্নাথপুরে ভুমিহীন সেজে প্রকৃত ভুমিহীনের জমি দখল : এলাকায় তোলপাড়

জগন্নাথপুরে ভুমিহীন সেজে প্রকৃত ভুমিহীনের জমি দখল : এলাকায় তোলপাড়

 

জগন্নাথপুরে ভুমিহীন সেজে নান রকম দুর্ণীতি করে যাচ্ছে জনৈক ব্যক্তি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর গ্রামের দিনমজুর ও অস হায় পরিবারের ভুমিহীন বন্দোবস্তের জায়গা একই গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উটেছে।

 

বার বার গরীব ও অসহায় পরিবারকে ভুমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভুমিহীন সেজে প্রকৃত ভুমিহীনের জমি দখলে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ফলে নানা লাঞ্চনা- বঞ্চনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অবশেষে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছে।

 

অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুবাজপুর গ্রামের ভুমিহীন রফু মিয়া পীর ও তার স্ত্রীর নামে কুবাজপুর মৌজায় ১ একর ভুমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হলে সরেজমিনে দখল প্রাপ্ত হয়ে সরকারের সন সন খাজনা ও নামজারীসহ চলমান জরিপে ফাইনেল ফর্সা তাদের নামে প্রস্তুত হয়।

 

রফু মিয়া পীর ও তার স্ত্রী, ১ ছেলে, ৫ মেয়ে ওয়ারিশান রেখে মারা গেলে বন্দোবস্তের ভুমির নজর পড়ে এলাকায় ভুমিখেকো হিসেবে পরিচিত গ্রামের সাজ্জাদুর রহমান ঝুনু মিয়ার । তিনি সু-কৌশলে জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। বছরের পর বছর নানা হয়রাণির পর শুরু করেন জমি দখলের নানা পরিকল্পনা।

 

সাজ্জাদুর রহমান ঝুনু মিয়া এলাকার প্রভাবশালী ও লন্ডন প্রবাসী পরিবারের মধ্যে একজন হলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকার থেকে ২ টি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ২ একর জমি ভাগিয়ে নেন তাদের পরিবারে । প্রায় ২/৩ মাস পূর্বে ভুমিহীন রফু মিয়ার জমিতে ঝুনু মিয়ার লোকজন রাতারাতি মাঠি কাটা শুরু করলে বাধা দেন ছেলে আনোয়ার শাহ ও তার বোনেরা। বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।

 

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে ইউপি সদস্য মিলাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ফল পাননি ভুক্তভোগী পরিবার। রফু মিয়ার জমিতে ছেলে আনর শাহ কাজ করতে গেলে বাধা হয়ে দাড়ান ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া।

 

তাদের নির্দেশে ভুমিহীন মৃত রফু মিয়া পীরের মেয়ে শিনারা বেগম (৩৫) কে মারধোর করে মিনার ও রিয়াদ। আহতাবস্থায় তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসলেও ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া সময় ক্ষেপন করে আবারও জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেন।

 

মৃত রফু মিয়া পীরের ছেলে ভুক্তভোগী আনোয়ার শাহ, মেয়ে সাফিয়া বেগম, রাহেনা বেগম, শিবজিয়া বেগম, শিনারা বেগম, শেফালী বেগম, কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন আমরা গরীব ও অসহায়। আমাদের কথা কেউ শুনেনা।ভুমিহীন বন্দোবস্ত মূলে আমাদের পিতা মৃত রফু মিয়া ও মাতার ওয়ারিশ হিসেবে আমরা দাবীদার। এলাকার ভুমিখেকো ও প্রভাবশালী ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে মিলাদ মেম্বার এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির মিনার, রিয়াদের অত্যাচার- নির্যাতনে আমরা অতীষ্ট।

 

জমি থেকে বার বার মারধোর করে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। গ্রামের ধন্যাঢ্য ও লন্ডনী পরিবার হয়েও একই পরিবারে ২ টি ভুমিহীন বন্দোবস্ত নিয়ে আমাদের জমিসহ বহু জায়গা দখল করে রেখেছে। বর্তমানে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণিসহ আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৬ নং রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন মৃত রফু মিয়া পীর ও তার পরিবারের লোকজন ভুমিহীন এবং বন্দোবস্ত পেয়েছে এটা সত্য।

 

আমার পরিষদের একজন ইউপি সদস্য উক্ত ভুমি দখল করেছে বলে ভুক্তভোগীরা আমাকে জানিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমি বার বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটি পক্ষ না মানায় বিষয়টি সমাধান হচ্ছেনা। জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই রাজিব রহমান বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি।

 

ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া বার বার সময় নিয়েও কাগজপত্র নিয়ে আসছেনা। গরীব ও ভুমিহীন পরিবারের কাগজপত্র দেখেছি। শান্তি শৃংখলার স্বার্থে উভয়পক্ষকে জমিতে না যেতে বলা হয়েছে। ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মিলাদ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মারধোরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন দখলীয় জমি সরকারি হলেও এখন আমাদের মালিকানা। উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। কারো জমি আমরা দখল করিনি।

 

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা এই ভুমিখেকো পরিবারের কবল থেকে রক্ষা ও সরকার হতে প্রাপ্ত ভুমি ফেরত পেতে সরকার সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

শিবগঞ্জে নিসচা’র সহযোগিতায় পাকা  মুদির দোকান পেল  প্রতিবন্ধি শাকিল 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *