ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি’-এর পরিচালকের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো আজ

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি’-এর পরিচালকের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো আজ

 

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির অবদান বাংলাদেশের সার্বজনীন শিক্ষার আলোক বর্তিকা হিসাবে  অনস্বীকার্য। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে ননফরমাল ও ফরমাল প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমসহ গণকেন্দ্র লাইব্রেরির মতো কার্যক্রম প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে হাওড়,বাওড়,হিল ও সমূদ্র তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় পৌঁছে গেছে।

এছাড়াও করোনার এই মহামারীর সময় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যখন সংসদ টিভি, রেডিও নির্ভর ছিল সেই সময় ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির কার্যক্রম নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়।

তার মধ্যে ছিল ফোন কল,হোম ভিজিট, মা ও শিশু পাঠশালা,রিমেডিয়াল ক্লাস,পিবিএল( প্রজেক্ট বেজ লার্নিং),সিএলজি ( চাইল্ড বেজ লার্নিং গ্রুপ),মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষিকাদের জন্য অনলাইনে প্রশিক্ষণ যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছিল খুবই যুগোপযোগী।

আর ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির এই শিক্ষা বিপ্লবের ধারক এবং বাহক আর কেউ নয় তিনি ড. শফিকুল ইসলাম, পরিচালক,ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। আজ ৩১মার্চ-২০২১ রোজ বুধবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষক,লাইব্রেরিয়ানসহ সকল স্তরের কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল ভার্চুয়াল বিদায় অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক, কর্মসূচি প্রধান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপকসহ সর্বস্তরের কর্মীরা অংশ গ্রহন করেন এবং বিদায়ী পরিচালকের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

ড. শফিকুল ইসলাম ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির সমন্বয়কারী হিসাবে ১৯৯৫ সালে ও পরবর্তীতে পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করে অদ্যাবধি সুন্দর সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে হাঙ্গেরিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সাইন্সেস থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে ব্র্যাকে যোগদানের পূর্বে সেন্টার ফর ইনটিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক( সিরডাপ)- এ সহযোগী গবেষক হিসাবে কাজ করেছেন।

ব্র্যাকে যোগদানের পর বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ব্র্যাকের মূল্যায়ন ও গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ গভেষক হিসাবে এবং অবলোকন বিভাগের কর্মসূচি সমন্বয়কারী হিসাবে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭-৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিসেফ – পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি পাকিস্তানের উত্তর- পশ্চিম প্রদেশের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের পরামর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১- ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি সিডার কর্মকর্তা হিসাবে বাংলাদেশ সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন। ড. শফিকুল ইসলাম সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কমিটির পাশাপাশি এডুকেশন ফর অল( ইএফএ) – এর কান্ট্রি রিভিউ কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *