নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক স্কুল শিক্ষককে মারধর

নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক স্কুল শিক্ষককে মারধর

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক স্কুল শিক্ষককে জনসম্মুখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে । ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, নাঙ্গলকোট শাখা কার্যালয়ে । বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজ সহ সর্ব মহলে আলোচনা, সমালোচনা ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
ঘটনার বিবরণ জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫অক্টোবর) বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া চেয়ারে বসা নিয়ে
সোনালী ব্যাংক অফিসে অবস্থানরত আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের পুজকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মনিরুল ইসলামকে ব্যাংকের ভেতরে প্রচন্ড মারধর করেন। একজন জনপ্রতিনিধির কর্মকান্ডে উপস্থিত ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সাধারণ গ্রাহকগণ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। মূহুর্তের মধ্যে ঘটনারস্থলে উপস্থিত হন অসংখ্য লোকজন। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই খবর।

শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত শিক্ষক মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সর্ব মহলে বইছে আলোচনা সমালোচনা । ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক সমাজের মাঝে।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সংগঠন গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করে বিচার দাবী করে আসছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো.মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সমাধান করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ।

ঘটনার বিষয় জানার জন্য অভিযুক্ত রশিদ চেয়ারম্যানের মুঠো ফোনে চেষ্টা করেও লাইন পাওয়া যায় না । ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না । রশিদ চেয়ারম্যান যে কোন দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় মোবাইল বন্ধ অথবা বদলিয়ে পেলেন । এর আগেও তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। তখনও ফোনে পাওয়া যায়নি । সেটা ধামাচাপা পড়ে গেছে । এখন এ ঘটনাও হয়ত ধামাচাপা পড়ে যাবে ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক নেতা বলেন, ইতিমধ্যেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিক্ষক সমিতির কিছু নেতা তত্পর হয়ে উঠছেন । কারণ স্বরূপ জানা গেছে, রশিদ চেয়ারম্যান নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । পরে উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন কালু’র সাথে সম্পর্ক করে আওয়ামীলীগ হয়ে যান। এখন তিনি পুরোদমে কালু চেয়ারম্যানের ডান হাত বাম হাত।

রশিদ কালু চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত হওয়ায় তাকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সমিতির সেক্রেটারী পদে পুরুস্কৃত করেন । কালু চেয়ারম্যানের অন্যতম সিপাহশালা ও সেক্রেটারী পদ পেয়ে আন্ডার মেট্রিক রশিদ চেয়ারম্যান ধরাকে সরাজ্ঞান করে । এছাড়া রশিদ চেয়ারম্যান শিক্ষিত হলে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হত ।

তাই শিক্ষক ও শিক্ষিত সমাজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবী করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *