//বিশেষ প্রতিনিধি//
মাসুদ চেয়ারম্যান নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এলাকায় এক মূর্তিমান আতংকের নাম ! এক সময় ছিল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য । নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন কালু’র মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের এপিএস কে এম সিং রতনকে ম্যানেজ (?) করে ২০১৮ সালে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন নেন এবং সরকারী যন্ত্র ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে জোড্ডা পঃ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ন্যূনতম অবদান না থাকায় তাঁর দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সেই সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঘোর আপত্তি ছিল ।
মাসুদদের আদিবাস নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে । তার বাপের নাম আবুল বাশার । পেশায় ড্রাইভার । বিয়ে করেন জোড্ডা পঃ ইউপির গোহারুয়া গ্রামের কুখ্যাত হাফেজ ডাকাতের বোন । এখানেই ঘর জামাই আবুল বাশার । তার ঔরশে মাসুদ । বড় হয়ে অনুসরণ করেন মামা হাফেজ ডাকাতের পথ । যোগ দেন মনোহরগঞ্জের আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সর্দার কাদেরের সাথে ।
কাদের কুমিল্লা- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতি, অপহরণ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালাতেন । পরবর্তীতে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আবদুল কাদের নিহত হলে সেকেন্ড ইন কমান্ড হসেবে দায়িত্ব নেন মাসুদ ও তার ভাগিনা জনি । এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে । কখনো রাজনৈতিক পরিচয়, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাচ্ছেন নানাহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড । মাসুদ রানা ও জনির সাথে রয়েছে মোঃ হেলাল ( মানিক মুড়া), বেলল (গোহারুয়া,), সুমন ( মানিক মুড়া), জনি ( লক্ষীপুর), রাসেল ( মানিক মুড়া), মুকবুল গোহারুয়া ) ও সৌরভ সহ ১৫/২০ জন ডাকাত দলের সদস্য । ডাকাতির পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, ব্যক্তিগত শত্রুতা, লেনদেন নিয়ে বিরোধ, জমি নিয়ে বিরোধ, পরকীয়া, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ অহরহ । চুরি ও ডাকাতির মামলায় মাসুদ কয়েকদফা জেল খেটেছেন । দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম গ্রামে ঘরে ডুকে মোবাইল চুরি করে । পরে ট্রাকিংয়ে ধরা পেড়ে জেলহাজতে যান। এভাবে চুরি ও ডাকাতির মামলায় বেশ কয়েকদফা জেল খেটেছেন।
মাসুদ রানা নিজেই মান্দ্রা বাজার এলাকায় ও বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল ও মদের ব্যবসা পরিচালনা করতো। এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে ২০১৫ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে এক প্রতিবাদ সভা করেন । সেই প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাঙ্গলকোট থানার তৎসময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, আর বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎসময়ের জোড্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলী আক্কাছ, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ নাছির উদ্দিন মানিক, আবু জাহের ভূইয়া, শহিদুল আলম ভুট্ট ভূঁইয়া, শামছু উদ্দিন ভূঁইয়া (গার্ড), আব্দুল লতিফ, মোঃ আব্দুল হক ভূঁইয়া, বক্তারা সবাই এই ডাকাত মাসুদ ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন । শেষতক, এই মাসুদকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মনোনয়ন দেয়া দেখে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন । চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদের আস্ফালান অনেক বেড়ে যায়। আগে যাহা করতো রাতে আর চেয়ারম্যান হয়ে একেবারে প্রকাশ্য দিবালোকে । চুরি, ডাকাতি আর মাদক ব্যবসা ছিল তার প্রধান কাজ । ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র সহযোগিকে নিয়ে সে এলাকার অবস্থান করতো । এ জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে টু শব্দও করতো না ।
তার এসব অপকর্ম জানাজানি হবার পর পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ বিদ্রোহী প্রার্থি হয়। মাত্র নয়’শ ভোট পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় । নৌকার মনোনীত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাত্র দেড়’শ ভোটে ফেল করেন।
উল্লেখ্য, নৌকা প্রতীকের প্রার্থি ও বিদ্রোহী একই গ্রামের হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হন ।
ভোটে অর্থ হারা মাসুদ অনেকটা দ্বিগবিদিক শূন্য। কিছুদিন ইটের ব্যবসা করতেন। ইটা দিবেন বলে অনেকের কাছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন । এখন ইটাও টাকাও না । টাকা প্রদান কারীরা টাকা বা ইট চাইলে জীবন নাশের হুমকি খেয়ে ফেরত যাচ্ছেন ।
সম্পৃতি তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে একটা হত্যা হয় । মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে তাদের পাশের গ্রাম মানিক মুড়ায় পোল্যান্ড প্রবাসী বেলাল হোসেনের ঘরে ডাকাতেরা ডাকাতি করে স্বর্ণ অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় । ঘরে থাকা একমাত্র প্রবাসীর মা ডিসিস রাশেদা বেগম ৬০ কে নামাজরত অবস্থায় এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করে । যাবার সময় সন্ত্রাসীরা রাশেদা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইলটিও নিয়ে যায় । ঘটনার পরে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হলে কোর্টে মামলা হয় । এতে আসামী করা হয় মাসুদ রানা, মাসুদের ভাই মাহবুব আলম কাঞ্চন ও কাঞ্চন কন্যা তাহমিনা আক্তারকে ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রবাসী বেলাল হোসেন ঘটনার দুই মাস আগে দেশে এসে কাঞ্চনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিবাহ করেন । প্রবাসে ফেরত যাবার সময় বেলাল হোসেন স্ত্রীকে মায়ের তত্ত্বাবধায়নে রেখে যান । বেলাল হোসেন প্রবাসে যাবার পর পরই তার স্ত্রী তাহমিনা বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা শুরু করে । এতে শ্বাশুড়ি ডিসিস রাশেদা বেগম বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে ঘরে থাকা যাবতীয় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায় । ডিসিস রাশেদা বেগম বিষয়টি ছেলে বেলাল হোসেনকে জানালে মাসুদ ও কাঞ্চন একদল সন্ত্রাসী এনে বেলাল হোসেনের মাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে । রাশেদা বেগম পাড়া প্রতিবেশীকে জানালে তারা.আরও বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন ধারালো.অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নামাজরত অবস্থায় রাশেদা বেগমকে হত্যা করে ।
হত্যার দুই মাস পার হলেও এ পর্যন্ত কোনও আসামী গ্রেফতার হয়নি এবং মোবাইল উদ্ধার হয়নি । বরং আসামীরা রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় বুক ফুলিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে । এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে ।
মহিষের মাংস কিভাবে গরুর মাংসে রূপান্তরিত হয়ে রেস্তোরায় বিক্রি হয়
অভয়নগরে ১৩৪ টি পুজা মন্ডপে চলছে দেবী দুর্গার সাজসজ্জা রংয়ের প্রস্তুতের কাজ
ডুমুরিয়ায় বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা।

