চট্টগ্রাম কারাগারে বিদ্রোহ, ব্যাপক গোলাগুলি 

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদীরা বিদ্রোহ করেছেন বলে জানা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেটে ও ফাঁকা গুলি ছুড়েন কারারক্ষীরা। এতে কয়েকজন কয়েদি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। বর্তমানে কারাগারে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারাগারে অবস্থান করছে সেনাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে, দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ কারাগারের ভেতরের সাঙ্গু ভবনের দেয়াল কুঁচিয়ে ইট বের করে কয়েদিরা। তারপর ইট গুলো গুড়ি করে কারারক্ষীদের দিকে ছুঁড়তে থাকে। সাঙ্গু ভবনের বর্তমানে ৯০০ কয়েদি অবস্থান করছেন। একই সময়ে সব ভবনে থাকা কয়েদিরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারা কতৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। তাৎক্ষণিক একদল সেনাবাহিনীর মাত্র ৫ জন সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে চেষ্টা করেন পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনতে। এ সময় কারারক্ষীরা ১৫/২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েন। পরে সব কয়েদিদের মারধর করে স্ব স্ব ভবনের রুমে প্রবেশ করাতে সক্ষম হন তারা। কয়েদীরা সাঙ্গু ভবনসহ অনেক ভবনের রুমের লোহার গেইট ভাঙতে চেষ্টা করেন কয়েদিরা। এতে নড়েবড়ে হয়ে গেছে অনেক লোহার গেইট। সেনাসদস্য ও জেলা কারাগার কতৃপক্ষের ৩০ মিনিটের চেষ্টায় পরে শান্ত  হয় চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের পরিবেশ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গেটের দায়িত্বে থাকা আক্তার জানান, দুপুরে নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের একাধিক ভবনে কয়েদিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আমাদের কারারক্ষীদের সঙ্গে এখনো আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। আমাদের অনেক কারারক্ষী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, জুমার নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের ভেতর থেকে বিকট আওয়াজ ও গোলাগুলির শব্দ আসে। এ সময় লালদীঘির চারপাশে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান , জুমার নামাজের পরে কিছু কয়েদি বিদ্রোহ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় কারাগারে পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কতজন

আহত হয়েছেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারাগারের ভেতরে সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবসময় কারাগারে সেনাবাহিনী রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।

চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারাগারে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পৌঁছেছে। কোন বন্দি পালাতে পারেনি। কোন বহিরাগত কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে নি। এ ঘটনা কেন ঘটেছে সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *