জাস্টিন ট্রুডো: কানাডায় ‘ফ্রিডম কনভয়’ নামে ট্রাক চালকদের বিক্ষোভের মুখে রাজধানী ছেড়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী

জাস্টিন ট্রুডো: কানাডায় ‘ফ্রিডম কনভয়’ নামে ট্রাক চালকদের বিক্ষোভের মুখে রাজধানী ছেড়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী

কানাডার রাজধানী অটোয়া দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রাক চালকদের অবরোধের মুখে অচল হয়ে আছে। টিকা না নেয়া ট্রাক চালকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

কিন্তু টিকা এবং লকডাউন বিরোধী আরো হাজার হাজার মানুষও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।

এই বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তাঁর পরিবার শনিবারই রাজধানী ছেড়ে অজানা স্থানে চলে যান।

কানাডার ট্রাক চালকরা তাদের এই বিক্ষোভের নাম দিয়েছে ‘ফ্রিডম কনভয়।’ সরকারি বিধিনিষেধের প্রতিবাদ জানাতে তারা কানাডার নানা প্রান্ত থেকে তাদের ট্রাক বহর নিয়ে রাজধানী অটোয়ার দিকে রওনা দিয়েছিল।

অটোয়ায় বিক্ষোভের সময় নাৎসিদের ব্যবহৃত প্রতীক ‘স্বস্তিকা’ পতাকা ওড়ানোর ঘটনা এবং একজন অনামা সৈনিকের কবরের উপর এক নারীর নাচের দৃশ্যের ভিডিও ফুটেজ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অটোয়ার পুলিশ বলছে, রাজধানীতে বেশ কিছু স্মারক স্তম্ভকে অবমাননার কয়েকটি ঘটনা তারা তদন্ত করছে।

জাস্টিন ট্রুডো: কানাডায় ‘ফ্রিডম কনভয়’ নামে ট্রাক চালকদের বিক্ষোভের মুখে রাজধানী ছেড়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী
শত শত ট্রাক চালক দেশের নানা প্রান্ত থেকে এই ‘ফ্রিডম কনভয়ে’ যোগ দেন।

এছাড়া পুলিশ, নগরীর কর্মকর্তা এবং অন্য কিছু মানুষকে হুমকি ও হয়রানি এবং নগরীর যানবাহন ভাংচুরের কিছু অভিযোগও তারা পেয়েছে।

কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেছেন, এসব ঘটনা কেবল ‘নিন্দনীয়’ বললে কম বলা হবে।

ট্রাক চালকরা অটোয়ায় কানাডার পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশের রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে।

অটোয়ার মেয়র জিম ওয়াটসন বলেছেন, কিছু বিক্ষোভকারী দুঃস্থদের জন্য পরিচালিত এক স্যুপ কিচেনে গিয়ে সেখানকার কর্মীদের হয়রানি করেছেন। এই বিক্ষোভকারীরা সেখানে বিনামূল্য খাবারে দাবি জানাচ্ছিলেন।

এর আগে অটোয়ার কিছু রেস্টুরেন্টে বিক্ষোভকারীদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, কারণ তারা মাস্ক পরার নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন।

কানাডার যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ট্রাক চালক সীমান্তের এপারে-ওপারে চলাচল করেন, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। কানাডার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও টিকা নেয়ার হার এরকমই।

কিন্তু সরকারের একটি সিদ্ধান্ত তাদের বেশ ক্ষুব্ধ করে। টিকা না-নেয়া যে ট্রাক-চালকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থল সীমান্ত পেরিয়ে কানাডায় ঢুকবে, তাদের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।

ট্রাক চালকরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এর প্রতিবাদে তারা ‘ফ্রিডম কনভয়’ নামে এক বিক্ষোভের ডাক দেয়। হাজার হাজার ট্রাক চালককে তাদের ট্রাক নিয়ে রাজধানীর দিকে রওনা দিতে বলা হয়।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক সংবাদ সম্মেলনে টিকা-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের খুবই ‘ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু এক গোষ্ঠী’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সূদ্র: বিবিসি বাংলা।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

ব‌রিশালে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *