অভয়নগরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীসহ দুলাভাই এর মুক্তিপণ দাবি, থানায় অভিযোগ

অভয়নগরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীসহ দুলাভাই এর মুক্তিপণ দাবি, থানায় অভিযোগ

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

যশোরের অভয়নগরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীর দুলাভাই ও স্ত্রী মিলে মুক্তিপণ দাবি -বাচাঁর আকুতিতে ৯৯৯ কল। স্থানীয় ও পুলিশের সহযোগিতায় জলিল মোল্যাকে (৩৫) উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে অভয়নগর সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে।

এ ব্যাপারে ১৬ জুলাই রবিবার দুপুরে জলিল মোল্যা নিজে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিবরণী থেকে জানা যায়, চলতি মাসের ইং-০৪/০৭/২০২৩ তারিখ বিকাল ৪:০০ টার  সময় ০৩ নং বিবাদী তার মোবাইল নাম্বার ০১৯৫৪-৪৪৫৫১৫ দিয়া আমাকে কল করিয়া অভয়নগর থানাধীন আমতলা কালিবাড়ী রোডে ভুক্তভোগি জলিল মোল্যার ফুপু শাশুড়ি অসুস্থ বলিয়া সেখানে যেতে বলে।

পরবর্তীতে রাত ০৯:৩০ ঘটিকার সময় তার ফুপু শাশুড়ির বাড়ীতে গেলে তিন মোটর সাইকেল যোগে সকল বিবাদীরা সেখানে গিয়ে তাকে বলে তোর স্ত্রীকে এখনই তালাক দিতে হইবে এবং নগদ ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা দিতে হইবে। তিনি দিতে না চাইলে বিবাদীরা তাকে গাছের সাথে বেঁধে এলোপাথাড়ি মারধর করিতে থাকলে  তার মাথা ফেটে যায়। একপর্যায়ে তার আত্বীয় সাদ্দাম হোসেন (২৩) পিতা- মৃত নাজের মোড়ল,সাং-জামিরা (পিপরাইল), থানা-ফুলতলা, জেলা-খুলনা তার কথাতে ৯৯৯-এ কল করিলে পুলিশ-প্রশাসন স্থানীয় মেম্বার ইসমাইলকে বিষয়টি দেখতে বলেন, তাৎক্ষণিক মেম্বর ঘটনা স্থানে গিয়ে ভিকটিম জলিল মোল্যাকে উদ্ধার করেন।

বিবাদীরা মারধর করে চলে যাওয়ার সময ভিকটিম জলিলকে এই বলে শাসিয়ে যায় থানায় অভিযোগ করলে প্রাণে মেরে ফেলবো । জলিলের প্রচুর রক্ত ক্ষরণের কারণে  শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এলাকাবাসী অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। ভুক্তভুগি জলিল মোল্যা খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার সাং-জামিরা পিপরাইলে মৃত মোসলেম মোল্যা ছেলে।

ভুক্তভোগি জলিল মোল্যা জানান, আমার ভায়রা জাহিদুল ইসলাম (৩৮) পিতা- অজ্ঞাত,মাতা-রোকেয়া বেগম,মিতু বেগম (৩০), স্বামী- জাহিদুল ইসলাম, উভয় সাং-শংকরপাশা, রাজু ফকির (৩২) হিরা বেগম (২৩) উভয় পিতা- নিজাম ফকির,নিজাম ফকির (৬০) পিতা- অজ্ঞাত, সর্ব সাং- গোপিনাথপুর, সর্ব থানা-অভয়নগর, জেলা- যশোর তাদের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছি। ০১ নং বিবাদী আমার ভায়রা-ভাই। ০২ নং বিবাদী তার স্ত্রী। ০৩ নং বিবাদী আমার শ্যালক এবং ০৪ নং বিবাদী আমার স্ত্রী ও ০৫ নং বিবাদী আমার শ্বশুর। আমি একজন ড্রাইভার। ০১ নং বিবাদীও একজন ড্রাইভার। ০১ নং বিবাদীর নিজের একটি পুরাতন ৬ চাকার কাভার্ড ভ্যান সে বিক্রয় করিতে চায়। কাভার্ডভ্যানের মূল্য ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ধার্য্য করা হয়। গত ইং-১০/০৫/২০২৩ তারিখ আইএফ আইসি ব্যাংক, ফুলতলা শাখায় ০১ নং বিবাদীর নিজ একাউন্ট নাম্বার ০১৯০০৫৬৫১৪৮১১-এ বায়না স্বরুপ নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা জমা দেয়। পরবর্তীতে বিবাদীর পার্সোনাল নগদ ও বিকাশ নাম্বারে দুইবারে ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা প্রদান করি।

উক্ত টাকা নেওয়ার পরে স্ট্যাম্পে লিখিত বায়না পত্র করার কথা থাকিলেও ০১ নং বিবাদী অসৎ উদ্দেশ্যে বায়নাপত্র করিতে বিলম্ব করিতে থাকে। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়া মানিকগঞ্জে বাসা ভাড়া থাকি এবং একটি কোম্পানীর গাড়ি চালাই। সর্ব শেষ গত ইং-২৭/০৬/২০২৩ তারিখ সকালে আমি আমার স্ত্রী অর্থাৎ ০৪ নং বিবাদীকে নিয়া বাড়ীতে আসি।

ওই দিনেই আমার স্ত্রী বায়নাপত্র করার জন্যে তার বাপের বাড়ী যাওয়ার কথা বলিয়া তাদের বাড়ীতে যায়। পরবর্তীতে সে আর না আসায় তাকে মোবাইলে কল করিলে সে মোবাইল বন্ধ করিয়া রাখে। এমনকি ০৪ নং বিবাদী আমাকে না জানিয়ে অন্যান্য বিবাদীদের সহায়তায় মানিকগঞ্জের আমার ভাড়া বাসা হইতে ঘরের যাবতীয় ফার্নিচার, ফ্রীজ, ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি সহ সাংসারিক সমস্ত মালামাল, যাহার মূল্য ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা নিয়ে চলে আসে।

বিবাদী জাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, এটা তেমন কিছু না এটা পারিবারিক সমস্যা আমি আমার ভাইরা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে নেব। এ ঘটনায় সিদ্দিপাশা ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আকরাম হোসেন জানান, বাচাঁর আকুতিতে ৯৯৯ কলে জলিলের ঘটনাটি জানান ওসি স্যার। ওসি স্যারের নির্দেশে আমি স্থানীয় মেম্বারকে কল করি এবং মেম্বার এর সহযোগিতায় জলিলকে উদ্ধার করি। অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মিলন কুমার মন্ডল জানান, এমন একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত চলছে । তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *