কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার টাকা আত্মসাৎ

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার টাকা আত্মসাৎ

// বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট //

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে করোনার টিকা ক্যাম্পেইনে ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার  টাকার আত্মসাথের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সহকারী বেতন থেকে ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার  টাকার দিতে হয়েছে।

জানাগেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৬দিনের করোনা টিকা ক্যম্পেইন এ বরাদ্দকৃত ৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৬ শত টাকার  বিল ভাউচার করে উত্তলোন করা হলেও ৭টি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে ১৫ হাজার ৩ শত ৬০ টাকা করে  ২১টি ইপিআই কেন্দ্রে ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৫শত ৬০ টাকাদেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী যোগসাজসে ওই বরাদ্দের টাকা থেকে ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪০টাকা কর্মীদের না দিয়ে আত্মসাথ করার চেষ্ঠা করছে বলে স্বাস্থ্য সহকারী  জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কথা মতো ইপিআই কেন্দ্রের স্থানে ১৬দিনের করোনার টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য প্রতি ৫ শত টাকা বেতনে দুই জন ভেক্সিনেটর ও ৩ শত ৫০ টাকা বেতনে তিন জন ভলানটিয়ার নিয়ে বাড়ি থেকে লোক ডেকে এনে ভেক্সিনেটরদের দিয়ে এক যোগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনার টিকা দেওয়া হয়।

সাবেক ১টি ওয়ার্ড (বর্তমান ৩টি ওয়ার্ড) এ ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতা ৩২ হাজার ৮শত টাকা স্বাস্থ্য সহকারীদের মাসিক  বেতনের টাকা থেকে পরিশোধ করেন। এর পর বিল ভাউচার করে পাঠানোর পর বরাদ্দের টাকা পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়াজ মোস্তাফি চৌধুরী ও আফিস সহকারী সোমেন সাহা ৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৬ শত টাকার মধ্যে হতে প্রথমে ২০% অফিস  খরচ হিসাবে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩ শত ২০ টাকা রেখে বাকি ৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ২ শত ৮০ টাকা প্রতি জন স্বাস্থ্য সহকারীকে ২৬ হাজার ৩শত ৪৬টাকা করে দেওয়ার কথা বলে, গত ৩০ এপ্রিল তাদেরকে ১৫ হাজার ৩ শত ৬০ টাকা  দিয়ে বলে এই টাকা এখন নেন বাকী টাকা পরে দেখা যাবে। এর পর ১৭ মে আফিস সহকারী সোমেন সাহা  স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে একটি ফাকা রেজুলেশস খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে  নিয়েছে।অফিস সহকারী সোমেন সাহা ফাকা খাতায় স্বাস্থ্য সহকারীদের স্বাক্ষর নেওয়া ও টাকা আত্মসাথের  ব্যাপারে অস্বীকার করে বলেন, আমি অফিসের এক জন কর্মচারী, আমি কিছু জানি না।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(টিএইচএ) নিয়াজ মোস্তাফি চৌধুরী বলেন,আয়কর ও ভ্যাট বাবদ সাড়ে ১০ % কেটে রেখে দেওয়া হয়। আনেক স্বাস্থ্য সহকারীর দুই জন ভেক্সিনেটর ও তিন জন  ভলানটিয়ারের পরিবর্তে এক জন ভেক্সিনেটর ও দুই জন ভলানটিয়ারের রেখে সম্পূন্য বিল ভাউটার করেছে। যে যা পাবে তাদেরকে সব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা বিল ভাউচার করে পাঠানো হয়েছে এখন পর্যন্ত চেক হয়নি। সোমেন সাহা একজন অফিস সহায়কারী সে তাদেরকে দিয়ে ফাঁকা রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেবে আর তারা স্বাক্ষর করে কেন?  সোমেন  কি হইছে,এটা তাদের ব্যাপার। আমার পদায়ন বদলীর কারনে গত ১৯ মে রিলিজ নিয়েছি । এখন আর আমার অথরিটি নেই। তার পরেও বৃহস্পতি বার এক দিন অফিস করবো। সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহম্মেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও ব্যাপারে নো কমান্ট।

English Dainikbiswa

ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ যুবক আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *