//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//
যশোরের অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে একটি বছর নষ্ট হলো মেধাবী শিক্ষার্থী আসমা খাতুন ও দীপুমন্ডলের । চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তাদের । রাতদিন পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন অথচ কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার আসমা খাতুন ও দীপুমন্ডল পরীক্ষা দিতে পার পারছেন না। পড়ার টেবিলে থাকার বদলে আসমা অসুস্থ হয়ে এখন বিছানায় । মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় কলেজ শিক্ষার্থী আসমা ।

তার মতো আরো অনেকে ওই অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী আসমা খাতুন জানায়, আমি ২০২০ সালে এসএসসি পাশকরি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি, এরই মাঝে পারিবারিক ভাবে আমার বিবাহ হয়। এসএসসি পাশ করার পর আমাকে শশুরবাড়ি তুলে নেবে ।তাই সুশীল সমাজের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, এখন আমার কি উপায় হবে?। ফরম পূরণসহ কলেজের যাবতীয় ফিস পরিশোধ করেছি । পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছেন । অথচ আমি এখনো প্রবেশপত্র হাতে পাইনি ।ওই অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করে বলেন, আমি জরুরী কাজে ঢাকায় এসেছি তোমার প্রবেশপত্র বাড়িতে পৌঁছে যাবে । পরবর্তীতে তার কাছে কল করলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি । ধোপাদী গ্ৰামের ধোপাপাড়া এলাকার সুফল মন্ডলের ছেলে দীপুমন্ডল অভিযোগ করে বলেন,অধ্যক্ষ শহিদুল স্যার ফরম পূরণ করার নামকরে আমার কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু আমার এখন ও প্রবেশপত্র দেয়নি।। এখন আমি চরম বিপদে পড়েছি । আমি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করছি। শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের অভিযোগ হাজার হাজার টাকা নিয়েও তাদের প্রবেশপত্র দেয়নি শহীদ স্মৃতি (এসএস )কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম । শিক্ষার্থী আসমার পিতা আসাদুল হক কান্না জনিত কন্ঠে এই প্রতিনিধিকে জানান, মেয়ের পিছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। পরীক্ষার ফরম পূরণ করার নামকরে দুই হাজার টাকা নিয়েছেন এবং আরো পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছেন এস এস কলেজের অধ্যক্ষ । অথচ আমার মেয়ের প্রবেশপত্র আনতে পারিনি । এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেনজির হোসেন বলেন, শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ কারিগরের হাতিয়ার । একজন কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে এমন প্রতারণা করতে পারে তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।ওই শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা কি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে? বিজ্ঞ মহলের কাছে আমার ছোট্ট একটি প্রশ্ন । তাছাড়া ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি গোটা শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে তার শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত ।
এবিষয়ে অভয়নগর ধোপাদী এস এস কলেজের অধ্যক্ষ এস এম শহিদুল ইসলাম টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী নিয়মিত কলেজে আসেনা। আমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছি তাই দুইহাজার টাকা নিয়েছি। ফরম ফ্লাপ ওই ছাত্রীর দোষে হয়নি। এদিকে আছমার জীবনের একটি বছর নষ্ট হওয়ার জন্য ওই অধ্যক্ষকে দায়ী করেছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার, তারা শিক্ষা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে ওই অধ্যক্ষের শাস্তি দাবি করেছেন। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

