বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বঞ্চলে খালাসি নিয়োগে দূনীর্তির অভিযোগে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক জিএম সৈয়দ ফারুক আহমদ সহ ১২ কর্মকর্তা– কর্মচারীর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বুধবার দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম–২ এর উপ– সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন, রেলওয়ের তৎকালীন প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী বর্তমানে ঢাকা রেলভবনে কর্মরত মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) মিজানুর রহমান, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জোবেদা আকতার, সাবেক ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার বর্তমান রেলওয়ে পূবার্ঞ্চলের টিএসও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এমএলএমএস হারাধন দত্ত, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারী উচচ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া আকতার, খালাসী মোহাম্মদ আবুল বশর খান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিপিএ দপ্তরের প্রধান সহকারী খন্দকার সাইফুল ইসলাম, টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি দাশ, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারী উ“চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো: আকতার হোসেন, কুমিল্লার মের্সাস ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার আমিরুজ্জামান আশীষ ও মোসাম্মৎ পারভিন আকতার।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগ কালে কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুই জনের ইন্ডিভিজুয়াল মার্কসীট না থাকা, কম্বাইন্ড মার্কসীটে ৪ জনের নাম্বার দেখানো হলেও এক জনের মূল্যায়ন মার্কসিট অসৎ উদ্দেশ্যে সৃজন করে প্রতারণা পূর্বক ১৯ জনকে নিয়োগ প্রদান, দুই জন নিয়োগ প্রাথীকে চার জেলা থেকে নিয়োগ, বয়স্ক ও জাল সনদধারী লোকদের জাল সনদ সৃজন পূর্বক ব্যবহার করে চাকুরি প্রদান করার অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক একে অপরের সহযোগিতায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ সম্পৃক্ত অপরাধ, ঘুষ ও দূনীতির মাধ্যমে ১ কোটি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা গ্রহন করে ভোগ দখল ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করেছেন।
মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ প্রদান, ঘুষ ও দূনীতির মাধ্যমে ১ কোটি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা গ্রহন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। উলেখ্য যে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগে দূনীতি করা হয়েছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। দুদকের তদন্তে খালাসি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ১২ জনের বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বাদী শরীফ উদ্দিন জানান। দন্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১৬৩/১০৯ ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারা সহ ১৯৪৭ সালের দুনীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম //

