আজ হিন্দু ধর্মালম্বীদের নবান্ন উৎসব পালিত

আজ হিন্দু ধর্মালম্বীদের নবান্ন উৎসব পালিত

//পলাশ চন্দ্র দাস, স্টাফ রিপোর্টার//

আজ হিন্দু ধর্মালম্বীদের নবান্ন উৎসব প্রতি বছরের কার্তিকের শেষ অগ্রহায়ণ প্রথম দিন অর্থাৎ (পয়লা) দিন হিন্দু ধর্মাবলিদের এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ধান পাকতে শুরু করে। এ পাকা ধান দেখে খুশি হন কৃষক কৃষানিরা। এরপর কৃষক কৃষাণীরা সে ধান কেটে ধানের গোলায় তোলেন। নতুন এ ধান গোলায় তোলার পর কৃষকের কৃষাণীর পরিবারে উৎসবের মুখর পরিবেশ এর সৃষ্টি হয়। খাওয়া হয় নতুন ধানের ভাত। ভাত খাওয়ার পাশাপাশি সবাই মিলে আনন্দ উৎসব করেন। নতুন ধান ঘরে তোলার এ আনন্দের নামই নবান্ন উৎসব। অগ্রাহায়ণ মাসে এই দিনে অর্থাৎ পহেলা অগ্রহায়ণ হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে এ উৎসব পালন করে থাকে।প্রাচীনকাল পূর্বপুরুষ থেকেই

এই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যয় বরিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু দের পঞ্জিকা মতে আজ শুক্রবার (অগ্রহায়ণের প্রথমদিন) হিন্দু ধর্মালম্বীরা নবান্ন উৎসব পালন করেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ উৎসব পালনে নানা আয়োজন করে থাকেন। এদিন প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় নতুন আতপ চালের গুড়া দিয়ে আল্পনা আঁকা হয়, উঠান ও ধানের গোলায় গোবর দিয়ে লেপ পোজ দেয়া হয়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সূর্য ওঠার আগেই ছোট ছেলেদের স্নান করিয়ে নতুন ধুতি পড়িয়ে বাবা কিংবা ভাইয়ের সঙ্গে নিয়ে নিজের আবাদী জমিতে যায়। জমির ধান কেটে তাতে সিঁদুরের ফোঁটা, কলাপাতা দিয়ে ঢেকে বা মুড়িয়ে মাথাই করে ঘন্টা বাজিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে আসে শিশুরা। এসময় বাড়ির গৃহবধূরা শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে শিশুটিকে বরণ করে নেয়। এধরণের অনুষ্ঠানকে হিন্দু ধর্মালম্বীর লোকজন আগকাটা বলে থাকেন। তারপর কাটা ধানগুচ্ছ ঘরের তীরে অথবা ধানের গোলায় রাখা হয়। এটি হিন্দু ধর্মালম্বীদের পূর্বপুরুষ থেকে পালন করে আসা একটি ঐতিহ্য প্রথা।

উপজেলার কইল গ্রামের বাসিন্দা কালিপদ সরকার।সুজন কুমার সেন। ও সনজিৎ কুমার মালাকার (মন্টু ) জানান, আবহমান কাল থেকেই হিন্দু ধর্মালম্বীরা এ নবান্ন উৎসব ধুমধামের সঙ্গে পালন করে আসছেন। এতে করে সমাজে একে অপরের প্রতি ভাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।এদিকে এ নবান্ন উৎসব উপলক্ষে আজ  নগরের  মাছ বাজারে বড় বড় মাছ দেখাগেছে। লোকজন তাদের সাধ্যমত বড় বড় মাছ কিনে হরেক রকম সুস্বাদু রান্না, নতুন চালের ভাত পায়েশ, পিঠা-পুলি তৈরি করে আত্মীয় স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী দের আপ্যায়ন করে থাকেন। মৎস্য ব্যবসায়ী  কালা জানান গত বছরের চেয়ে এ বছর বেচাকেনা একটু ভালো হয়েছে দাম ও ভালো পাওয়া গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *