//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাাম//
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সেনাবাহিনীর অধীন ৩৬ খালের মধ্যে ১৮টি খালের খনন কাজ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের জুনে। সবকিছু ঠিক থাকলে খননকৃত এসব খাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) বুঝিয়ে দিতে চায় সেনাবাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের আওতাধীন ৩৬ খালের খনন কাজ চলমান রয়েছে এ প্রকল্পের আওতায়। এছাড়া বাকি খালগুলোর খনন কাজ করছে সিডিএ। জুনে খনন কাজ শেষ হতে যাওয়া সেনাবাহিনীর আওতাধীন প্রকল্পের ১৮ খালের দৈর্ঘ্য ২৮ হাজার ৮৪ মিটার। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯৫১ মিটার দৈর্ঘ্যের ৭টি খালের দুই পাশের রিটার্নিং ওয়ালের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব খালের খনন কাজ শেষ করে পানি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। বাকি ২১ হাজার ১৩৩ মিটার দৈর্ঘ্যের ১১টি খালের কাজ শেষ হবে আগামী জুন মাসের মধ্যে।
কাজ শেষ হওয়া ৭টি খাল হলো: ১ হাজার ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রাজাখালী-২, ৫২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সদরঘাট-১, ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সদরঘাট-২, ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কলাবাগিচা, চাক্তাই এলাকার ৭১৬ মিটার দৈর্ঘ্যের মরিয়মবিবি খাল, এয়ারপোর্ট এলাকার ২ হাজার ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের গুপ্তাখাল এবং নগরের আমবাগান এলাকার ১ হাজার ৮৭ মিটার দৈর্ঘ্যের আজব বাহার খাল।
১১ টি খালের খনন কাজ চলমান রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে চান্দগাঁও শমসের পাড়া এলাকার ৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ত্রিপুরা খাল, ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রুবি সিমেন্ট খাল, ৬৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নয়াহাট খাল, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ফিরিঙ্গি বাজার খাল, ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টেকপাড়া খাল, ৭২০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোগলটুলি খাল, ২ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রামপুর খাল, ১ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নাছির খাল, ২ দশমিক ৭৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাজাখালী-১, ১ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের রাজাখালী-৩ এবং ২ দশমিক ৩৩৮ মিটার দৈর্ঘ্যের বাকলিয়া খাল। এসব খালের খনন কাজ শেষ হলে নগরীর জলবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী জানান, আমরা দ্রুত খাল খননের কাজ শেষ করতে চাই। এখন পর্যন্ত আমাদের প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পাধীন ৩৬ খালের মধ্যে ১৮ খাল চলতি জুন মাসের মধ্যে সিডিএকে বুঝিয়ে দিতে চাই। বাকি খালগুলোর কাজেরও অগ্রগতি হয়েছে। সামান্য কিছু প্রƒতিবন্ধকতার কারণে কাজ শেষ করতে একটু দেরি হচ্ছে।
২০১৭ সালের আগস্টে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ এবং ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়। এ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ২ হাজার ১১১ কোটি ৯৮ লাখ ব্যয় হয়েছে। এ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প শেষ হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে দায়িত্বরত সিডিএ’র প্রকৌশলী আহমেদ মাইনুদ্দিন জানান, এ প্রকল্পে সেনাবাহিনীর কাজ ছাড়া তেমন কোনও কাজ নেই। যা কাজ করছেন তারাই। তবে জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে আমরা কিছু কাজ করছি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন অফিসে ৮টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বেশকিছু ভুল-ত্রুটি পেয়েছেন। তা পরিমার্জন করে আমরা আবারও প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতা নিরসন করতে আরও ৩-৪ মাস সময় লাগতে পারে।
অস্কার জয়ী উইল স্মিথ হরিদ্বারেও পূজা করেছেন
পুতিনের হুঙ্কার : জেলেনস্কিকে বলুন, ওদের গুঁড়িয়ে দেব!

