একজন সারমিন সালাম- হয়ে উঠেছেন জনদরদি- মানবতার প্রতীক

একজন সারমিন সালাম- হয়ে উঠেছেন জনদরদি- মানবতার প্রতীক

 // আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা //

স্বামী হারা এক অসহায় স্ত্রী অনেক স্বপ্ন নিয়ে  তার একমাত্র পুত্র হাবিব (১০) কে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন ছেলেকে  কোরআনে হাফেজ হিসাবে গড়ে তুলবেন।

কিন্তু হটাৎ বাধা হয়ে দাড়ালো ছেলেটির চোখের সমস্যা ।

পড়াশুনা করতে পারে না।

ছেলেটির বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলা পাচানী গ্রামে। একই গ্রামের পাচানী দবির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে হাবিব। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করে দিন-মুজুর মা।

অসহায় মা রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন  জনের কাছে সহযোগিতার জন্য যান সন্তানের চোখের চিকিৎসার জন্য। ছেলেটির মা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারবে না যে তার ছেলে এক সময় অন্ধ হয়ে যাবে তাও চিকিৎসার অভাবে।

সাহায্যের জন্য এমন সময় কাউকে পাশে না পেয়ে রূপসার এক গন মাধ্যম কর্মীর  মাধ্যমে শরণাপন্ন হন খুলনা-৪ আসনের  সংসদ সদস্য ও অসহায় মানুষের ভালবাসার সেই মহান ব্যাক্তি আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও তার সহধর্মিনী মানবতার মূর্ত প্রতীক সারমিন সালামের কাছে।

সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় গরীব, অসহায়,দু:স্থ মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসার কারনে  মানবতার মা‌‌  উপাধী অর্জন করেছেন।

শিশুটির মায়ের সাথে সকলের প্রিয় মা সারমিন সালাম কথা বলেন এবং  তাকে আশ্বস্ত করেন যে চোখের সমস্যার চিকিৎসার সম্পূর্ন অর্থ সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘ সংগঠনটি ব্যয় করবে অর্থাৎ সে নিজেই দিবে।

একথা অনুযায়ী শিশুটির মায়ের কাছে  তাঁর হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয় এমপির চীফ কো-অডিনেটর নোমান ওসমানী রিচি  ও সালাম মূশের্দী সেবা সংঘের টিম লিডার সামসুল আলম বাবুর কাছে।

তারা বাড়ি এসে সেই আর্থিক সহায়তা শিশুটির মায়ের হাতে তুলে দেন।

শুধু তাই না সারমিন সালাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ও চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়।

আর্থিক সহায়তা করার মুহূর্তে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এমপি পত্নী মিসেস সারমিন সালাম কথা বলেন।

সেই কোরআনে হাফেজি পড়া শিশু হাবিবের সাথে ও শিশুটির মায়ের সাথে কথা বলার সময় আবেগ ঘন একটি মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। শিশুটি সহ তার মা এবং এমপি পত্নী নিজেও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এভাবেই রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার মা হয়ে সকলের মাঝে সারাজীবন বেচে থাকবেন মিসেস সারমিন সালাম।

এই সকল বিষয় শিশুটির মাতা বলেন, আমার  অনেক স্বপ্ন ছেলে হাবিবকে হাফেজ বানাব। বাবা ছাড়া ছেলেটাকে অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে ওর পড়াশুনা করাচ্ছি। কালো জ্বরের পর ওর চোখের এই সমস্যা ধরা পড়ে ৬বছর পর।

অনেক টাকা লাগবে ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে। কোথায় পাইব এ টাকা। সারাদিন চোখের পানি ঝরলেই গলেনি মানুষের মন।

অনেকের কাছে গেছি কেউ তেমন কোন সহযোগিতা করেনি। আমাদের প্রিয় এমপি ও তার স্ত্রী (ভাবী)সারমিন সালামের সাথে একজন যোগাযোগ করিয়ে দেন।

ভাবী আমার সব কথা শুনেন। তখন আমাকে বলেন হাবিবের চিকিৎসা আমি করিয়ে দিব। তুমি চিন্তা করিবে না। সেই মত আমার বাড়িতে এসে নগত টাকা দিয়ে যান তাদের কাছের মানুষ গুলো।

আমি কখন ও ভাবতে পারেনি আমার ছেলেকে ভাল চিকিৎসা করাব।

আজ আমার ছেলের ভাল চিকিৎসা করাতে যাচ্ছি যে মানুষটির জন্য আল্লাহ তাদেরকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন। আমি নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ ভাবী ও এমপি সাহেবকে হায়াত দান করুন। আমার মত অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করতে পারে সেই কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *