প্রধান শিক্ষকের হটকারিতায় ধ্বংসের পথে অভয়নগর উপজেলা অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের হটকারিতায় ধ্বংসের পথে অভয়নগর উপজেলা অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍//

যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক প্রধান শিক্ষকের হটকারিতার কারনে একটি অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ধবংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে । বিদ্যালয়ের নামে সামান্য কিছু অংশ জমি দান করে তিনি বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে । তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে,
প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে শিক্ষক পদে ও তার ভগ্নিপতিকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নানামুখি ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণসহ একের পর এক চাকুরি থেকে ছাঁটাই করার হুমকি প্রদান করছেন। তিনি- মাসের পর মাস বিদ্যালয়ের জরুরি সকল কাগজপত্র নিজ বাড়িতে আটকে রেখে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন‌ এবং তার পাশাপাশি একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানীতেও চাকুরি করছেন । অভয়নগর উপজলা অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নামের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক তুহিন রায়, সঞ্জয় গাইন, অপি দত্ত, কল্পনা রায়, মঞ্জুয়ারা আক্তার, সবিতা বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম বিদ্যালয়ে দুই বোনকে চাকুরি দেয়ার পর এবার স্ত্রী ও ভগ্নিপতিকে চাকুরি দিতে ব্যর্থ হয়ে গত ৩ মাস আগ থেকে নিজেই বিদ্যালয়ে বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। এমনকি বিদ্যালয়ের রেজুলেশন বহিসহ সকল কাগজপত্র তিনি নিজ বাড়িতে আটকে রেখেছন। বিষয়টি নিয়ে গত প্রায় দেড় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকল শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন আর চাকুরি করবেন না এবং তিন দিনের মধ্যে সকল কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিবেন এইমর্মে অঙ্গীকার করেন। জরুরি বৈঠক কালে ওই প্রধান শিক্ষকের পিতাও উপস্থিত ছিলেন।
দেড় মাস অতিবাহিত হলেও তিনি এখনো কোন কাগজপত্র জমা দেননি। অবশেষে গত ১৯ অক্টোবর তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতার দাপটে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যান কিন্তু শিক্ষকেরা বাঁধা সৃষ্টি করলে তিনি স্বাক্ষর না করে ওখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ মোশারেফ হোসেন জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের পিতা বিদ্যালয়ের নামে আট শতক জমি প্রদান করেন। শর্ত মোতাবেক তার ছেলে আব্দুর রহিমকে প্রধান শিক্ষক তার দুই বোন রাজিনা সুলতানা ও পলি খাতুনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও ভগ্নিপতিকে ওই সময় নিয়োগের চেষ্টা করেন । বিদ্যালয়কে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তিনি বেঁকে বসেন এবং বিদ্যালয়ের সকল কাগজপত্র নিজ বাড়িতে আটক রেখে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন। মাসাধিক কাল অতিক্রম হওয়ার পর তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়। সন্তোষজনক জবাব না মিলায় পূণরায় দু’বার নোটিশ করা হলে তিনি তা গ্রহন করতে অস্বীকার করেন। এক পর্যায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যন্ত গড়ায়। গত প্রায় দেড় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠকে তিনি চাকুরি করবেন না এবং তিনদিনের মধ্যে কাগজপত্র ফেরত দেবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন। সেই থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম একাধিকবার তাগাদা দিলেও তিনি কাগজপত্র না দেয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ কার্যালয়ে ডেকে চাঁপ সষ্টি করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক তার জমি ফেরত না দিলে কাগজপত্র দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বাকবিকন্ডতায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ইউএনও তাকে গালাগাল করছে বলে অভিযাগ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিমের ব্যবহৃত ০১৯২৫-৯২৪০১৯ নম্বর যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযাগ অস্বীকার করে বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ শতক জমি দেয়া আছে ওই জমি ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তিনি কাগজপত্র ফেরত দিবেন না। তিনি কাগজ দিতে না চাওয়ায় ইউএনও তাকে গালাগালি করছে। এ ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সব জানি, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় বৈঠকে তিনি চাকুরি করবেন না এবং তিনদিনের মধ্যে কাগজপত্র ফেরত দেবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন । উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের সকল কাগজপত্র নিজেই বাড়ি আটকে রেখে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক । তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়। তিনি কারন দর্শানোর নোটিশের কোন জবাব দিতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *