ভারতের ঝাড়খণ্ডে বাংলা ভাষাকে স্থানীয় ভাষার স্বীকৃতি

ভারতের ঝাড়খণ্ডে বাংলা ভাষাকে স্থানীয় ভাষার স্বীকৃতি

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ১১ জেলায় স্থানীয় ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলা। প্রবল ভাষা আন্দোলনের মুখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে এ ঘোষণা দিল রাজ্যটির সরকার। ঝাড়খণ্ডের মোট ২৪ জেলার মধ্যে যে ১১ জেলায় বাংলা ভাষাকে স্থানীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- পূর্ব সিংভূম, রাঁচি, জামতাড়া, সরাইকেলা, পাকুড়, সাহেবগঞ্জ, বোকারো, ধানবাদ, দেওঘর, দুমকা ও গোড্ডা।

একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ড সরকার বোকারো ও ধানবাদ জেলার স্থানীয় ভাষার তালিকা থেকে ভোজপুরী ও মাগাহিকে বাদ দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এই দুই জেলার স্থানীয় ভাষা হিসেবে নাগপুরি, উর্দু, কুড়মালি, কোরথা ছাড়াও বাংলাকে রাখা হয়েছে। কয়েকমাস আগে বোকারো ও ধানবাদ জেলায় স্থানীয় ভাষা হিসেবে ভোজপুরী ও মাগাহিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ডের হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে নামেন। বোকারো ও ধানবাদে আন্দোলন বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের আকার ধারণ করে। যে আন্দোলনে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়ারও জোরালো দাবি ওঠে। প্রায় ৫০ দিন ধরে এই আন্দোলন পরিচালনা করছিল ঝাড়খণ্ডি ভাষা সংগ্রাম সমিতি। অবশেষে জয় হলো এই গণ-আন্দোলনের। ঝাড়খণ্ডি ভাষা সংগ্রাম সমিতি হলো মূলনিবাসী এবং আদিবাসীদের একটি সংগঠন, যারা নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করে থাকে।

গত ডিসেম্বরে ঝাড়খণ্ড সরকার মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভোজপুরী, মাগাহি ও অঙ্গিকাকে যুক্ত করেছিল। সেই সময় বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে রাঁচি ও গিরিডি জেলাতেও। তবে বিতর্ক ১৯৩২ সালকে আবাসিক নীতির জন্য কাট অফ ডেট করা নিয়ে।

পরবর্তী সময়ে ঝাড়খণ্ডের আগের সরকার আবাসিক নীতি শিথিল করেছিল। সেই বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছিলেন ধানবাদ ও বোকারো জেলায় ভোজপুরী ও মাগাহি ভাষাভাষী লোকের সংখ্যা খুবই কম। এই দুই জেলায় বাঙালী, মূলনিবাসী ও আদিবাসীদের সংখ্যাই বেশি। ফলে সরকারী নির্দেশিকায় তাদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ ১৯৬১ সাল থেকে সেখানে হিন্দীকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোজপুরী ও মাগাহি হলো হিন্দী ভাষার অংশ। ঝাড়খণ্ডে হিন্দী ভাষার স্বীকৃতি একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবেই দেখা হয়। -বাংলানিউজ

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

অমর একুশ// একুশের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *