বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ

বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড় সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য,অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভারতে পাচার,পুস্তক বানিজ্য, ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায়,কর ফাকিরসহ বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নিয়োগ বানিজ্য করায় বাগেরহাট সহকারি জজ আদালতে দেঃ আপিল ০৪/২২ নং মামলা চলমান আছে।এঘটনায় বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক সুবাস চন্দ্র সাহা দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।

প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক সুবাস চন্দ্র সাহা জানান, বিধান চন্দ্র গাইন প্রধান শিক্ষক হিসেবে বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এপর্যন্ত ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। বাধাল বাজারের দক্ষিন পাশে ১২ লক্ষ টাকার জমি ক্রয় করে বাড়ী নির্মান করেছেন।স্কুলের পুরাতন ঘর প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় না করে গোপনে বিক্রয় করে ৭০ হাজার, কমিটি গঠন না করে নিজ ইচ্ছামত কাঠ মিস্ত্রীদিয়ে নাম মাত্র চেয়ার টেবিল মেরামত ও স্কুল কক্ষ প্লাষ্টার না করে ২দুই লক্ষ ৩০হাজার, এস,এ,সি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত র্বোড ফি এর রশিদ প্রদান করলেও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে খরচা বাবদ লাগবে বলে ভুল বুঝিয়ে ২/৩শত টাকা,কোম্পানীর লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের নি¤œ মানের নোট গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে  বাধ্য করেন।

বিভিন্ন ব্যাংকে তার নিামে ও বেনামে ব্যাংক হিসাব রয়েছে। ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক আঃ হান্নান এর নিকট থেকে স্কুলের শহিদ মিনার নির্মান ও পূর্ব পাশের টিনশেড বিল্ডিং এর ৩টি রুমে ৬টি ফ্যান ক্রয়ের কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে শুধুমাত্র ১৫ হাজার টাকায় ৬টি ফ্যান ক্রয় করে বাকি ৬৫ হাজার টাকা,স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের ছবিতোলা,ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ও আপ্যায়ন,জরিমানা, অনুপস্থিত শিক্ষকের বেতন প্রদান, স্কুলে অনুপস্থিত থাকার অনিয়ম, পূজা পার্বনের, অফিস আদালতে যাতায়াত,মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড এর টাকা আত্মসাৎ করে।

তিনি আরো জানান, ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভারতে পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার চুঁচুড়া থানার  কুলিহান্ডা গ্রামে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জায়গা কিনে সেখানে ২য় তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মান করেছেন। সেখানে তাহার স্ত্রী,ভাই, পিতা ও মাতা সহ পরিবারের লোক জন বসবাস করে। ঝ৫২৫/পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচক তালিকা ২০১৯,১৯০ চুঁচুড়া(সাধারন)বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র অংশ নং-১৬২ এর ৬১ নং বিবেকানন্দ গাইন, ৬২ নং স্ত্রী মালতী বিশ্বাস,স্বামী বিধান চন্দ্র গাইন পরিবর্তন করে শিপ্রা গাইন, স্বামী বিভুতি ভুষন গাইন নামে লিপিবদ্ধ আছে। ৬৩ নং মাতা রেনুবালা গাইন এর নাম পরিবর্তন করে রেনুকা গাইন নামে  লিপিবদ্ধ আছে। ৬৬ নং পিতা মাধব চন্দ্র গাইন এর নাম পরিবর্তন করে মহাদেব গাইন নাম লিপিবদ্ধ আছে। ৬৭ নং নাম বিধান চন্দ্র গাইন, পিতা মাধব চন্দ্র গাইন পরিবর্তন করে বিভুতিভুষন গাইন, পিতামহাদেব গাইন  লিপিবদ্ধ আছে। তিনি প্রতিবছর বিশেষ করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের পরপরই লম্বা ছুটি নিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে যাতায়াত করেন। ওই শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইন বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কড়াবৌলা গ্রামের ০৯২৮ ভোটার এলাকা ১৪১ নং ভোটার ও তার স্ত্রী  মালতী রানী বিশ্বাস ১৪৪ নং ভোটার।

এ ব্যাপারে বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *