রূপসা প্রতিনিধি :
শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষুব্দ—প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবক জোরপূর্বক টিসি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কু—চক্রীমহলদ্বারা অপপ্রচার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুন্ন করার ঘটনা ঘটেয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন আলাইপুর গ্রামে। ১৯৬৫ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। এরপর থেকে সু—দক্ষ শিক্ষক ও পরিচালনা পরষদ দ্বারা স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসে। এভাবে বিদ্যালয় চলতে চলতে এক পর্যায়ে পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এ বিষয় নিয়ে গ্রামে গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা ক্ষুব্দ—বিবেদে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আবারও দুটি পক্ষ।
সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে, পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে বিউটি পারভীন (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব—ভার গ্রহন করাকে মেনে নিতে পারছে না বিদ্যালয়ের একটি পক্ষ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল কাদা ছুড়াছুঁড়ি। তাই কিছু শিক্ষক মিলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ঘোলাটে করছে। বিভক্ত হওয়া শিক্ষকরা বিভিন্ন গ্রুপে যোগ দিয়ে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে না আসলেও তারা বিদ্যালয়ের তথ্য গোপনে গোপনে বহিরাগতদের মাঝে পাচার করে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। ইতিপূর্বে গ্রামের কিছু অভিভাবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেছে। এ কারণে আতংকে থাকতে হয় তাদের। কিছু বখাটেরা ছাত্র/ছাত্রীদের উত্যাক্ত করার কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি করতে চায় না। এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৫/৬ বছর যাবৎ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি ভবন তাও জরাঝিন্ন অবস্থায়। স্কুল ফান্ডে জমা নেই তেমন কোন অর্থ। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নেই বললে চলে। এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সবকিছু জেনেও না জানার ভান করে আছে।
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বিউটি পারভীন জানান, এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে সুবিধা রয়েছে অতুলনীয়। এখানে ভর্তি ফি নেই, সেশন ফি নেই, মাসিক বেতনও নেই। তাছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি এবং পাঠ্যবইয়ের সুবিধা বছরের শুরু থেকে পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ২০০জন। তাদের জন্য ক্লাস রুমে ২০টি সিলিং ফ্যান এবং ৫টি বাথরুমে পর্যাপ্ত পানি খরচ হয়ে থাকে। যে কারণে প্রতিমাসে ১হাজার/১২শ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। যার জন্য ২০১৭ সালে রেজুলেশন করে বদ্যুৎ বিল বাবদ ১০ টাকা হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো।
২০২৩ সালে বিদ্যুৎ দর বৃদ্ধি হওয়াতে বছরের প্রথম থেকে আরো ৫ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপার নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হওয়া অভিভাবক মো. রবিউল সিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাঁর মেয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী উর্মিলা আক্তার কারিমা কে এ প্রতিষ্ঠানে পড়াবে না বলে তাৎক্ষনিক টিসি দিতে বলেন। ৫ টাকার জন্য (ভার:) প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত হতে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন পারভীন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হলে অর্থের প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বেতন সহ কিছু অর্থ নেওয়ার নিয়ম আছে।

