//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//
অভাবী পিতার সংসার নুন আনতে পান্তা পোহায়। তাই সকল অভিমানের সঙ্গে লড়াই করে অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও নিজের একক প্রচেষ্টায় ভালো ফলাফল করা যায় তারাই অনন্য দৃষ্টান্ত ডুমুরিয়া উপজেলা কাঞ্চননগর গ্রামের মেধাবী আম্বিয়া খাতুন।
সৈয়দ ঈসা টেক্যনিকাল কলেজ এন্ড বিজনেস কলেজে থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এবছর জিপিএ -৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উর্ত্তীন হয়েছে। জীবন সংগ্রামী আম্বিয়ার সকল কষ্টের মাঝে একটি স্বপ্ন ছিল মানব সেবা সরকারী নার্সিং এ পড়ার। কিন্ত প্রবল ইচ্ছা শক্তি যেন চান্স না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা গ্রস্থ। অর্থের অভাবে ভার্সিটি কোচিং এবং ফরম পুরুন করে পারেনি। একদিকে ঘরে একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তি পিতা অসুস্ত হয়ে ঘরে বসে আছে ।
ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জানতে পেরে পিতার জন্য সমাজসেবা দপ্তরের প্রতিবন্ধী সনাক্ত কার্যক্রমের প্রতিবন্ধী জন্য আবেদন করা হয়। যাছাই বাছাই প্রক্রিয়ার সময় আম্বিয়ার অসায়ত্বের কথা সমাজসেবা কর্মকর্তা সূব্রত বিশ্বাসের নিকট তুলে ধরেন। তিনি আম্বিয়াকে ইতি বাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমানকে অবগত করেন। পরবর্তীতে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি এনজিও প্রশাসনের আহবানে সাড়াদিয়ে মেধাবী আম্বিয়ার শিক্ষা সহায়তা হিসাবে ভর্তির জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে নির্বাহী কর্মকতা শরীফ আসিফ রহমানের উপস্থিতে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি এরিয়া কোঅডিনেটর সরকার রজারুনা, জুনিয়ার কোঅডিনেটর শামীমা সুলতানা আম্বিয়া খাতুন ও তার মা শিরিনা বেগম।
জীবন সংগ্রামী আম্বিয়া সাথে কথা বলে জানা গেছে, অশিক্ষিত পিতার স্বপ ছিল মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করার । দিন মজুর পিতা অন্যের বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের যত সামান্য আয় ও পাশাপাশি ভ্যান গাড়ী চালিয়ে তাদের সংসার চলতো। সে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু বেতাগ্রাম সরকারী প্রাইমারী থেকে প্রাথমিকে ৩.৯২গেড, এরপর বেতাগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে ৮ম শ্রেনীতে ৪.৫০ একই বিদ্যালয় হতে এসএসসিতে ৪.৮৩ গ্রেড পেয়ে আঠারো মাইল সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল বিজনেস কলেজে ভর্তি হই। পিতার অর্জিত আয়ে ৪জনের সংসারে চলছিল এমন সময় পিতা আ: রব শেখ এক দুঘটায় পড়ে পা ভেঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে ।
সকলে সহযোগিতা ও এক খন্ড জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করা হয়। কিন্ত পা আগের মতো হলো না। ঘরে বসেই কাটতে লাগলো। পিতা মাতার ও ছোট ভাই কষ্টের সংসার চলে না তাই কলেজের একাদশে ভর্তি হয়ে আয়ের সন্ধানে ঢাকা একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী কাজ করতে গিয়ে ছিলাম তিন মাস করার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজে না যাওয়া আমার সাথে কথা বলেন। এর পর ফিরে এসে নিজে কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে পরীক্ষা জিপিও -৫ পেয়ে উর্ত্তীণ হলাম। ভাল কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন ছিল কিন্ত সাধ আছে সাধ্য নেই তাই ঐই ভাবনার দিকে না তাকিয়ে সরকারী নার্সিং এ পড়ার বাসনা নিয়ে ফরম পুরন করি। চান্স হয়নি তাই আপেক্ষটা কষ্টের।
অনার্সে ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে বসে আছি। পিতাকে প্রতিবন্ধী জন্য আবেদন করি উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে। সনাক্তের সময় কর্মকতার কাছে আমাদের অসহাত্বের কথা জানাই এরপর ইউএন ও সারের মাধ্যমে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি প্রকল্পের আপারা আমাকে ডেকে এনে ভর্তি ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং উচ্চ শিক্ষার জন্যে আরো খরচের জন্য প্রতিমাসে পাচ শত টাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস বলেন এ ঘটনা জানার পর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান স্যারের পরামর্শে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি নামের একটি এনজিওকে বললে তারা এগিয়ে আসে। এ ছাড়া উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষা ভাতা ও তার পিতার চিকিৎসা জন্য অনুদানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।
এ বিষয়ে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর সরকার রজা রুনা জানান, জিইপির উদেশ্য সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র পিছিয়ে পড়া শিশুদের (মেয়ে) উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তিত করা এবং তাদের জীবন মান উন্নত করা।

