আমতলীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকরেন

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে ঘূর্নিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৃথক দু’টি সভায় ত্রাণ বিতরণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিন্ত্রী মোঃ মহিববুর রহমান এমপি।

আজ বুধবার (৩ জুলাই) সকালে এবং দুপুরে বরগুনার আমতলী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন বিষয়ক আমতলী উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা আয়োজিত দুটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় মন্ত্রী বরগুনা জেলার জন্য ১ কোটি টাকা,আমতলী উপজেলা পরিষদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন,৭ ইউনিয়নের জন্য ৩৫ লাখ টাকা,আমতলী পৌরসভার জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গুলিশাখালী ইসাহাক ও শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় দু’টিতে দুটি সাইক্লোন সেল্টার বরাদ্দের ঘোষাণা দেন। মন্ত্রী মতবিনিময় শেষে রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল তুলে দেন।

আমতলী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপত্বি করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান, আমতলী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান,বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিমেষ বিশ্বাস,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসাইন ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম তালুকদার, আখতারুজ্জামান বাদল খান।

আমতলী পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রাণ বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় সভাপত্বি করেন পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান। সভা দু,টিতে উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম,আমতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এমএ কাদের মিয়া,আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু,কুয়াকাটা পৌর মেয়র মোঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার,কলাপাড়া পৌর  মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, আমতলীর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান,ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা ও রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ী ফেড়ার পথেই মায়ের মৃত্যু, মোটর সাইকেল চালকেরও মৃত্যু

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে মোটরসাইকেল ও এ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা পুস্প বেগমেরও (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক রুবেল সিকদার (৩২) মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা জেলার আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্হানে। পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা যায়,পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গন্ডামারি গ্রামের আলম হাওলাদার (৪৫) দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। শনিবার রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মা পুস্প বেগম ছেলে আলম হাওলাদারের লাশ নিয়ে আজ রবিবার সকালে গ্রামের বাড়ী নিশানবাড়িয়া যাওয়ার পথে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটর সাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স খাদে পরে যায় এবং মোটর সাইকেল দুমড়ে-মুড়চে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকদারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন,পুলিশ ও দমকল বাহিনী খাদে পরা এ্যাম্বুলেন্স থেকে মৃত্যু ছেলে আলম হাওলাদার ও মা পুস্প বেগমের লাশ উদ্ধার করে। পরে তিনটি লাশকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।

নিহত মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকাদারের বাড়ী আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের চাউলা গ্রামের আনসার সিকদারের ছেলে।
নিহত পুস্প বেগমের ভাই রহিম তালুকদার বলেন, আমার ভাগ্নে আলম হাওলাদার লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।ভাগ্নের লাশ নিয়ে বাড়ী খিড়ছিল আমার বোন বোন পুস্প বেগম।
পথেই মোটর সাইকেল ও লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংষর্ঘে আমার বোনের মৃত্যু হয়। তিনি বোনের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া তার কাছে হস্তান্তরের দাবী জানান।

নিহত মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকদারের স্বজন নাশির উদ্দিন বলেন,আমতলী থেকে বাড়ী আসার পথে এ্যাম্বুলেন্স ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রুবেল নিহত হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,নিহত দুইটি মরদেহসহ তিনটি মরদেহই থানায় নিয়ে আসাহয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় জাতির পিতা ও নির্বাহী অফিসারকে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার এর উদ্বোধন উপলক্ষে আমতলীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্স এর সঞ্চালনা করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সঞ্চালনার শুরুতে নির্বাহী আশরাফুল আলম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামীতে আরও উন্নয়ন হওয়ার কথা জানান।

গতকাল ২৮শে জুন চ্যানেল আমতলী সেই ভিডিও’টি আপলোড করে। সেই ভিডিওতে এলএস আতিক হাসান সজল নামের ফেইসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে উদ্দেশ্য করে লিখেন “ওনি নাকি হক পথে থাকে হক পথে চলে আর উনি কিভাবে বলে জাতির পিতা ছিল শেখ মুজিবুর রহমান বড় একটা চামচা”।

সজলের এই কমেন্টে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা তা অস্বীকার করা হয়েছে এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিভাবে বলে জাতির পিতা ছিল শেখ মুজিবুর রহমান বড় চামচা একটা চামচা”।

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় জাতির পিতা ও নির্বাহী অফিসারকে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি

সজলের এই কমেন্টে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা হিসেবে অস্বীকার করা হয়েছে এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জাতির পিতা বলায় কমেন্টে তাকেও কটুক্তি করায় আমতলীতে চরম  অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য,গত বছরের ১৯ জানুয়ারি দেশের ১৩টি জেলার আমতলী সহ ৪৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আমতলীতে আয়োজিত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সঞ্চালনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সংসদীয় আসন আমতলী-তালতলীর কথা উল্লেখ করে নির্বাহী অফিসার জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন। আমতলী থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও গতকাল চ্যানেল আমতলীতে আপলোড করার দুই ঘন্টা পর এই কমেন্ট করে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিএম ওসমানী হাসান বলেন, জাতির পিতাকে নিয়ে ঔদ্ধত্য পুর্ন কমেন্টের জন্য উক্ত এলএস আতিক হাসান সজলকে খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় কমেন্টে এ ধরনের লেখার দুঃসাহসী কে এই জামাত শিবিরের লোক? বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় কমেন্টে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে যা লেখা হয়েছে তা আমতলী বাসী কোনভাবেই মেনে নিবেননা। তাই অনতিবিলম্বে উক্ত সজলকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,বিষয়টি দেখেছি খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম যারা চায়নি সেই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা মওদূদীর অনুসারী জামাত-শিবিররাই মূলত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করে। এদের স্বাধীন বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই মওদূদীবাদী জামাত-শিবির সহ সকল স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যক্তিসহ দল নিষিদ্ধ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমতলীতে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আমতলী-ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের উপজেলার মহিষকাটা নামক স্থানে হিমাচল সীমান্ত পরিবহনের  চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী মঞ্জু খাঁন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার সকালে।

জানা গেছে,ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হিমাচল সীমান্ত পরিবহন কুয়াকাটার উদ্দেশ্য আসছিল একই সময়ে ব্যবসায়ী মঞ্জু খান আমতলীর কুতুবপুর দরবার থেকে মোটর সাইকেল যোগে পটুয়াখালীতে ফিরছিল। বরগুনার আমতলী উপজেলার মহিষকাটায় মোটর সাইকেল ও পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী মঞ্জু খান (৪৮) নিহত ও মোতালেব হাওলাদার (৫০) গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খান তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। বরিশাল নেয়ার পথে ব্যবসায়ী মঞ্জু খান নিহত হয়। নিহত মঞ্জু খান পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাঁধঘাট মাছের আড়ৎ এর  ব্যবসা করে। পুলিশ ঘাতক বাসটি ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,ঘাতক বাস ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। দুর্গটনায় মঞ্জুখান নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

তালতলীতে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে গভীর নলকূপ প্রদানে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

বরগুনার তালতলীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে গভীর নলকূপ প্রদানের জন্য “সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠন” এর আয়োজনে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল ১১ টায় ‘রাইট টু গ্রো প্রকল্পের’ সহযোগিতায় উপজেলার “সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠন” এর কার্যালয়ে এক অ্যাডভোকেসি সভায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর হাতে নলকূপ  চাহিদার তালিকাটি তুলে দেন “সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠন”।

“সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠনের” সভাপতি নজরুল ইসলাম লিটু’র সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন সাহিন,স্বাস্থ্য কর্মকর্তা,জন-প্রতিনিধি,স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিনিধি,সাংবাদিক, সিএসও কমিটির সদস্যসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে “শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করবে দেশের সমৃদ্ধি” এই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে “সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠন ” বা সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) ডাচ সরকারের অর্থায়নে ‘এসিএফ’ ও ‘জাগো নারী’ বাস্তবায়নাধীন ‘রাইট টু গ্রো প্রকল্প’ এর সহযোগিতায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্য,পুষ্টি ও ওয়াশ সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

“সমুদ্র সমাজ সুশীল সংগঠনের” সভাপতি নজরুল ইসলাম লিটু বলেন,আমরা ৩৩৬টি সামাজিক মানচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৩৮৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। যার মধ্যে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে ৩২টি,ছোটবগী ২৬টি, কড়াইবেড়িয়া ১৬টি, শারিকখালী ২৭টি,বড়বগী ১৬৫টি, নিশানবাড়িয়া ৮৯টি ও সোনাকাটা ৩৭টি।

আমতলীতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে আসার পথে ব্রীজ ভেঙ্গে ৯জন নিহত

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে কনের পক্ষ থেকে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে আমতলী আসার পথে আমতলীর হলদিয়ার হাট ব্রীজ ভেঙ্গে একই এলাকার সাতজন সহ নয়জন নিহত হয়েছেন।

আজ শনিবার বেলা দেড়টার সময়ে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন থেকে আমতলী পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে সেখানে কনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আসার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নয়জনের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সাতজন হলেন, রুবিয়া (৪৫), রাইতি খান (২২), ফাতেমা (৩৫), তাহিয়াত মেজবিন (৭), ফরিদা বেগম (৪৮), শাহনাজ আক্তার (৩৭), তাসফিয়া মুবাসসেরা (১২), নিহতদের অপর দু’জন হলেন আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের তক্তা বুনিয়া গ্রামের জাকিয়া (৩৫) ও রুকাইদ ইসলাম (৪/৫)। দুর্ঘটনায় আহত দুই নারীর অবস্থা আশংকাজনক।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন, নিহতরা সকলেই হাসপাতালে আসার পুর্বে মৃত্যু বরন করেন।

ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা কে এই আবদুর রহমান?

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ নিয়ে গত ২৪মে দৈনিক ইনকিলাবে অনলাইন ভার্সনে আমতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আক্বিদা ও আদর্শ বিরোধী ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সংবাদদাতা কে এই আবদুর রহমান?

এদিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত সংবাদটি অনলাইন ভার্সন থেকে সরিয়ে ফেলে।

প্রকাশিত সংবাদটি আমতলীব সাংবাদিকের নজরে আসার পর সংবাদে উল্লেখিত সংবাদাতার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় সংবাদের শুরুতে লেখা  আমতলী থেকে মোঃ আবদুর রহমান। আমতলীতে এ নামের কোন সংবাদদাতা না থাকায় অনুসন্ধান করে ও তার ফেইসবুক প্রোফাইল ঘেটে দেখা যায় তার বাড়ী পটুয়াখালীতে।আবদুর রহামান এর বিষয়ে খোঁজ নিতে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন উজ্জ্বল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এ নামে পটুয়াখালীতে কোন সাংবাদিক নেই।আবদুর রহমান এর ফেইসবুক প্রোফাইলে লেখা রয়েছে বাড়ী পটুয়াখালীতে থাকে ঢাকায়।

প্রকাশিত সংবাদের কোন সত্যতা না থাকায় ও বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সব অবান্তর বিষয় লিখে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশকে অশান্ত করার হীন প্রয়াস বলে মনে করছেন আমতলীর আপামর জনসাধারণ।

আমতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমামের পদটি শুন্য থাকায় ও বর্তমান মুয়াজ্জিন চাকুরী করতে আগ্রহী না হওয়ায় এ দু’টি পদে নতুন ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের জন্য মসজিদ কমিটি বিজ্ঞাপন সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা করে। মসজিদ কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় নিয়োগ প্রধান করার জন্য নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়।সে নিয়োগ বোর্ডে বিশিষ্ট আলেম সহ উভয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে বিগত ২৩ই মে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ প্রদান করেন।

যে নিয়োগকে আমতলী বাসী সাদুবাদ জানালেও একটি চক্র ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছেন আমতলী উপজেলা বাসী।

এই নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা হয় যা দেখে আমতলীর আপামর জনসাধারণ সন্তুষ্ট থাকলেও একটি চক্র নিয়োগকে বিতর্কিত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপ-সাংবাদিকতাকে কাজে লাগিয়েছে।

উল্লেখ্য, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন আমতলী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান। এ কমিটিতে আরও রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ তারিক হাসান,আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

রিমেলের তান্ডবে বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে আমতলীর নিম্নাঞ্চল

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

ঘুর্ণিঝড় রিমেলের তান্ডবে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ঐ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু হওয়া দেশের বৃহত্তম নদী বুড়িশ্বর (পায়রা) পারের এ বাঁধটি ভেঙ্গে ঐ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ বাড়ীঘর ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ঘূর্নিঝড়ের সার্বিক তদারকি করা হয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় কিছু এলাকায় এমন ভোগান্তি হচ্ছে।

বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ শুনে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্হ এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব বলেন,পশরবুনিয়া বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমাদের লোকজন সেখানে মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমতলীতে ‘রেমাল’ মোকাবেলায় জরুরী সভা, প্রস্তুত ১১১ সাইক্লোন শেল্টার

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি;

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনার আমতলী উপজেলায় ১১১টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তত সহ সর্বাত্মক সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা  হয়েছে।

আজ শনিবার ২৫ মে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্যোগ প্রস্ততি কমিটির জরুরি সভায় নদী তীরবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন সেল্টারে নিয়ে আসা সহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উপকূলীয়  উপজেলা আমতলীতে বিকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।মৃদু বাতাসের সাথে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।বাহিরে মানুষের তেমন কোন  আনাগোনা নেই।নেরেমাল এ  উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২ হাজার ৮৮০ জন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান সহ সরকারি কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আমতলিতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এলাকা ছাড়ার হুমকি!

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মনির ফকির (৪৫) এর কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঐ নারীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুকুয়া গ্রামের জুয়েল মিস্ত্রি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন।বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।স্বামী না থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী পূর্ব চুনাখালী গ্রামের মনির ফকির (৪৫) পিতা -আকব্বর ফকির দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়  পরিবারকে ভয়-ভীতি হুমকি ও দিতেছিল। ভয় আর আতংকে দুই সন্তান নিয়ে নিজের ঘরেও থাকতে পারছে না ঐ নারী।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মরিয়ম (ছদ্ধ নাম) বলেন,মনির ফকির আমার উপর অনেক অত্যাচার করতে আছে তার কথা আমি মানি নাই তারপর অনেক ধমকি দেহাইতেছে তোমার ভাইরে মাইরালাম তোমার পোলাপান মাইরালামু।ওর জালায় নিজের ঘরেও থাকতে পারিনা দুই পোলা লইয়া এহন মানসের বাড়ি থাহি।আমি এইয়ার বিচার চাই।

 

গৃহবধূর ভাই জাহাঙ্গীর সরদার বলেন,আমার বুইন জামাই ঢাকা থাহে। বুইনে দুই পোলা লইয়া বাড়ি থাহে।মনির ফকির আমার বুইনেরে দাবায় দমকায়। ওর জালায় আমি বুইনেরে একবার ঢাকাও পাঠাইছি। বাড়িতে আইয়া ও থাকতে পারেনা ভয় ভীতি দেহায়।আমি এর বিচার চাই।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জুয়েল মিস্ত্রি বলেন,আমার বউ বাড়িতে থাকে দুই পোলা লইয়া। আমি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি।মনির ফকির আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে কু- প্রস্তাব দেয় তাতে রাজি না হলে  ভয়ভীতি দেখায়। আমি একবার ঢাকা নিয়েও রাখছি বাড়ি আইসা থাকতে পারে না। মনির ফকিরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমি তার বিচার চাই।

অভিযুক্ত মনির ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি যদি দোষী হইয়া থাকি কেউ প্রমাণ দিতে পারে দেশের আইনে যা বিচার হয় আমি মাথা পাইত্তা নিমু।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।