ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালানোর জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া দুই ইমাম গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে গুজব ছড়িয়ে লোকজন জড়ো করে তাণ্ডব চালালো দুই ইমামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ঘাটুরার বঙ্গবন্ধু হাই স্কুল জামে মসজিদের পেশ ইমাম হেফাজত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ওরফে বেলালি ও ঘাটুরা হরিনাদি জামে মসজিদের পেশ ইমাম হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন।

তাণ্ডবের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ রবিবার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই দুজন ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৫৯ জনে।

 

পুলিশের সূত্রটি আরো জানায়, তাণ্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় চারটি ও সরাইল থানায় দু’টিসহ সর্বমোট ৫৫টি মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলায় ৪১৪ জন এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ হাজার লোকের নামে মামলা হয়েছে। এছাড়া আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়।

উল্লেখ্য, হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৬-২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়ে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী ও অঙ্গ সহযোগি নেতাদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারান।

অনলাইন ডেস্ক।।

 

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য যোগাযোগ করুন…

এমপি তন্ময়ের পরিচয়ে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বড় বড় চাকরীর প্রতারণা

এমপি তন্ময়ের পরিচয়ে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বড় বড় চাকরীর প্রতারণা

 

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে কারারক্ষীর চাকরি গেছে। তারেক সরকার নামের ওই কারারক্ষী আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য পরিচয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে ফোন দিতেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অধিদপ্তরের প্রধানদের।

তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২০ সালে প্রতারণার অভিযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে কারারক্ষীর চাকরি হারান নরসিংদীর তারেক সরকার। সচিব থেকে শুরু করে মন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনী ও অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহে ছিলো তার।

ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে হোয়াটস অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলেন তন্ময় পরিচয়ে। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাকরির সুপারিশ করতেন আর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুটে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় পরিচয়ে চাকরির তদবির করতে প্রতারক তারেক সরকার কারা উপমহাপরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করলে সন্দেহ হয় তার। ভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হন পাতা হয়েছে প্রতারণার ফাঁদ।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন জানান, যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন, আমি বললাম যে আরেকটা নাম্বারে তো আরেকজন কথা বলেন।

তখন উনি যাচাই-বাছাই করে নাম্বারটা দিতে বলেন এবং সেভাবেই এটা ভুয়া বের হয়।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (গোয়েন্দা) উপ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, সহিংসতায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সে যারা মন্ত্রণালয়ের প্রধান তাদের নাম্বার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছে।

তাকে যদি আমরা আইনের আওতায় না আনতে পারতাম, হয়তো ভবিষ্যতে সে এরকম আরো প্রতারণার আশ্রয় নিতো।’সূত্র : ডিবিসি নিউজ

//অনলাইন নিউজ//

বিশুদ্ধ পানির জন্য…

কুমিল্লায় বিদেশি নাগরিকসহ জাল ডলার তৈরির পাঁচ সদস্য গ্রেফতার

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাসিগ্রাম থেকে জাল ডলার তৈরি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তার নাম জোসেফ (৪১)। তিনি গিনি দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। 

এছাড়া বাকি চারজন হলেন, গাসিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ওদুদ সরকার(৪০), বেলায়েত হোসেন (২৮), বাউল আলামিন দেওয়ান (২৮) ও আলী আশরাফ মিয়া (৩৫)।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে গাসিগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল ডলার তৈরির সরঞ্জামসহ ওই পাঁচজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল ডলার তৈরি করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। 

অনলাইন ডেস্ক।।

নগরীতে চাদাঁ না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করেন

 

বরিশাল নগরীর ০৬ নং ওয়ার্ড আমানত গঞ্জ মাহ মুদিয়া মাদ্রাসার সামনে হোটেল এর মালিক মোঃ বাহার এর উপর মাদকাসক্ত তিন চারজন যুবক হামলা করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

হামলার শিকার মোঃ বাহার (২৮) পিতা আবদুল বারেক , সোহেল(২২) পিতাঃ দুলাল, রবিন ( ১০) পিতা বাহার,জানান সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে আমানত গঞ্জ এলাকার মোশারফ ফকির এর ছেলে আল আমিন (৪০) শাহিন পিতা ঐ সেলিম ফকির সহ আরো অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জন যুবক দোকানে আসে এবং ৫০ হাজার টাকা চাদাঁ দাবি করে,

আমি চাদাঁ দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার উপর চড়াও হয়, এক পর্যায়ে হোটেলে ভাংচুর ক্যাশে থাকা নগদ টাকা নিয়ে আমাকে বেধরক মারধর করে এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করে, যাওয়ার সময় হত্যার হুমকি দেয় ।

তিনি অরো জানান তারা বিভিন্ন সময়ে আমার দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার বাকিতে নিয়ে টাকা দিত না।

হাফেজ আয়রন ষ্টীল এর থাকা সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায় ইফতার বিক্রি করে সরকারী দীঘনির্দেষনা অনুযায়ী দোকার বন্ধ করার কিছু আগমুহূর্ত আল আমিনে সাথে থাকা বেশকয়েকজন কিশোর ধারালো অস্র রড লাঠি দিয়ে তার উপড়ে হামলা করেন এসময় তার ঢাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আসলে ঘটনা স্থান ত্যাগ করেন।
এসময় গুরুতর আহত বাহার, সোহেল, রবিন কে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করেন স্থানীয়রা। সোহেল ও রবিন কে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন দীর্ঘ দিন যাবত মাদকের সাথে জড়িত বিভিন্ন সময় এলাকায় মাদকাসক্ত হয়ে খারাপ কাজ করে চলছে গত ২২এপ্রিল আমানতগঞ্জ এলাকায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ১শ’৭৫ পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটকৃতরা হলেন মোশারফ ফকিরের পুত্র আল আমিনের সহযোগী উজিরপুরের হারতা এলাকার মৃত আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে মো. লিটন হাওলাদার ওরফে কাঠ লিটন (৪২) এবং একই এলাকার লিটন হাওলাদারের ছেলে মো. শুভ হাওলাদার (১৬)। তারা উভয়ে নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমানগগঞ্জ মোকছেদ ফকির গলির জনৈক ইমরান খানের লীলা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া। তাদের কেউ কিছু বললে তার উপরও চড়াও হয় সেই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।

এ বিষয়ে আহতর বড় ভাই বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

দুই শতাধিক পাকিস্তানি গ্রেফতার ইরানের সীমান্ত থেকে

 

ইরানের তাফতান সীমান্ত এলাকা থেকে ২০৩ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছে। খবর দ্য ডনের।

এক বিবৃতিতে ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রোববার ইরানের তাফতান থেকে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পাকিস্তানিদের আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যেসব পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তারা মূলত অবৈধ উপায়ে তুরস্ক ও ইউরোপের দেশগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ভালো আয় ও উন্নত জীবন অর্জনের জন্যই এমনটি করার চেষ্টা করেছেন তারা।

এদের মধ্যে ১৩০ জন পাঞ্জাব, ৩৩ জন খাইবারপাখতুন, ২৪ জন বেলুচিস্তান ও ১৫ জন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের বাসিন্দা।

ধারণা করা হচ্ছে— বেলুচিস্তান দিয়েই অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ করেছেন তারা। কারণ ওই অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের সিস্তান অঞ্চলের ৯৫৯ কিলোমিটার সীমান্ত আছে।

//আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক//

বাগেরহাটের ফয়লা বাজার চিংড়ি পোনার জন্য বিখ্যাত: প্রতিনিয়ত সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে আহরণ নিষিদ্ধ চিংড়ি রেণু পোনা পরিবহন ও বিক্রির সহায়তার নামে কোস্ট গার্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রতারকচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দীর্ঘ দিন ধরে এমন চাঁদবাজি করে আসছে চাঁদবাজ চক্রের চার সদস্য।

এর মধ্যে রামপাল প্রেসক্লাবের এক সদস্য ও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন আহরন নিষিদ্ধ চিংড়ির রেনু ঢাকা- মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট চিংড়ি পোনার আড়তে আনা হয়। পরে ওই রেনু আড়তের বিভিন্ন ঘরে রেখে বিক্রি করা হয়।

বিক্রি করা ওই রেনু ফয়লা বাজার থেকে পিকআপে করে খুলনা- মোংলা মহাসড়ক দিয়ে রুপসা সেতু পার হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। আহরন নিষিদ্ধ ওই রেনু মাঝে মধ্যে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা রুপসা সেতুতে আটক করে তা নদীতে অবমুক্ত করে।

ফয়লা বাজারে বসে চার সদস্যের একটি প্রতারক চক্র পথে কোস্ট গার্ডের হয়রানী বন্ধের জন্য রেনু পরিবহন করা প্রতিটি পিকআপ থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করে একজন পোনা ব্যবসায়ী বলেন, রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের কুমলাই গাববুনিয়া এলাকার কথিত সাংবাদিক টিপু সুলতান, পার গোবিন্দপুর এলাকার আজাহার হোসেন টুকু , খুলনা জেলার পাইকগাছা এলাকার সঞ্জয় বর্মণ ও বিষ্ণু পাল মিলে কোস্ট গার্ড, বিভিন্ন এলাকার চেকপোস্ট ও থানা ম্যানেজ করার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।

সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফয়লাহাট চিংড়ি পোনার আড়ত থেকে রেনু নিয়ে ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৭১১৮ নং এর একটি পিকআপ পাইক গাছার উদেশ্যে ছেড়ে যায়। রুপসা সেতুতে কোস্ট গার্ড যাতে কোন হয়রানী না করে তার জন্য ওই পিকআপের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এভাবে ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সূত্র জানায়, একটি অসাধু রেণু পোনা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তাদের অবৈধ ব্যবসাকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে পোনা পরিবহনে টাকা দিয়ে থাকেন।

এই টাকার ভাগবাটোয়ারার একটি অংশ কথিত সাংবাদিকরাও পেয়ে থাকে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু সুলতানের কাছে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার আড়তে চিটাগং ও কক্সবাজার থেকে পোনা আসে আমি শুধু বাজারে বসে বেচাকেনা করি অন্য বিষয় জানিনা।

প্রতারক চক্রের প্রধান হোতা সঞ্জয় বর্মণের মুঠো ফোনে ব্যবসায়ী পরিচয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ফোনে না বলে দেখা করুন। পরে ব্যবসায়ী সেজে শনিবার বেলা ১১ টায় ফয়লায় জনৈক ব্যবসায়ীর আড়তে গিয়ে সাংবাদিকরা তার সাথে দেখা করলে সে একটি কাগজে লিখে হিসাব দেন কোথায় কতটা টাকা দিতে হয় !  এতে দেখা যায়, কাটা খালী হাইওয়ে ৫ শ, রূপসা টোল প্লাজায় ৮ শ, অন্য এক জায়গাতে ২ হাজার ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) , ও পি ২ হাজার, ডুমুরিয়ায় ৫ শ, চুকনগর ৫ শ, জাতপুর ২ শ, তালায় ৩ শ, কপিলমুনি ২ শ, ও পাইকগাছায় ৫ শ করে প্রতি ঘাটে ঘাটে টাকা নিয়ে নিরাপদে পোনা পরিবহন করতে হয়।

এ ব্যপারে মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিবুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের কোন সদস্য যদি টাকা নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যারা কোস্ট গার্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে তাদের আাটক করা হবে। ফয়লাহাট চিংড়ি পোনা আড়ৎ মালিক সমিতির একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে বলেন যাদের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক।

তারা কোস্ট গার্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে পিকআপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা নিচ্ছে। এটা বন্ধ করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

|| এইচ নান্টু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ||

হুইপ শামসুল হকের চরম ভূমি জালিয়াতি

 

জাল-জালিয়াতি করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম পটিয়া আসনের এমপি ও হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তিনি বাসার বাবুর্চিকে জায়গার মালিক সাজিয়ে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমি আত্মসাৎ করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে হুইপের ভয়াবহ জাল-জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘শামসুল হক চৌধুরীর জীবনটাই  জালিয়াতিতে ভরা। তার জালিয়াতির আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে বাবুর্চিকে জমির মালিক সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ করা। শামসুল হকের জালিয়াতির ফলে জমি হারানো ওই পরিবার প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ এপ্রিল বিসিএস প্রশাসনের সদস্য হিসেবে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমির বরাদ্দ পান আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল হায়দার মজুমদার। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ওই জমি বিক্রি করে দেন হাজী মোহাম্মদ শফিক আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে।

কিন্তু সহজসরল শফিকের জমির ওপর নজর পড়ে বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর। জমি গ্রাসের কাজে তিনি সহযোগিতা নেন হুইপের তৎকালীন ঢাকার বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমানের। ২০০১ সালে পরিকল্পনামতো সোলেমান বাবুর্চিকে মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সাজিয়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য খুরশিদা খানম নামে এক নারীকে রেজিস্ট্রি দেন। ওই দলিলের শনাক্তকারী ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী নিজে।

২০০২ সালের মাঝামাঝি জালিয়াতির বিষয়টা বুঝতে পারেন সোলেমান বাবুর্চি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হলফনামা দিয়ে জালিয়াতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সোলেমান বাবুর্চি।

এ সময় সাড়ে ৮ লাখ টাকার জমি কিনে প্রতারিত হয়েছেন তা বুঝতে পেরে খুরশিদার পরিবার শামসুল হককে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় এক প্রকার বাধ্য হয়ে তিনি সাড়ে ৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে জালিয়াতি করে নেওয়া জমিটি তার ভাই মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নামে লিখে নেন। ২০০৬ সালে আমমোক্তারনামা দলিলমূলে জায়গাটির মালিক বনে যান শামসুল হক।

জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই জমির মালিকের ছেলে মোহাম্মদ মোক্তার সিএমপির বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর ৬৭০। ওই ডায়েরিতে  তিনি বিবাদী হিসেবে শামসুল হক চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন। থানায় ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, শামসুল হক চৌধুরী তার পৈতৃক সম্পত্তিতে যেতে বাধা দিয়েছেন। মারধরেরও হুমকি দিয়েছেন।

কী ছিল সোলেমানের সেই হলফনামায় : শামসুল হক চৌধুরীর প্লট জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খোলেন মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সেজে জায়গা রেজিস্ট্রি দেওয়া শামসুল হকের বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমান ওরফে সোলেমান বাবুর্চি। ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর সকালে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হাজির হয়ে হলফনামা দেন। ওই হলফনামায় সোলেমান ঘোষণা করেন, ‘আমি ঘোষণাকারী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম মতিন সাহেবের মাধ্যমে পরিচিতির সূত্রে উপরোক্ত এ কে এম মতিন, মুসলিম উদ্দিন এবং শামসুল হক চৌধুরীর একত্রে ভাড়ায় নেওয়া ঢাকাস্থ বাসায় আমি তাদের অধীনস্থ বাবুর্চি হিসেবে চাকরি নিই। ওইখানে চাকরি করা অবস্থায় চট্টগ্রামে ছুটিতে এলে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে শামসুল হক চৌধুরী আমাকে বলেন, তার এক চাচা বর্তমানে খুবই অসুস্থ আছেন। তার পক্ষে বর্তমানে চলাফেরা করা অসম্ভব। তাই তার পক্ষে একটি দলিলে রেজিস্ট্রি দিতে হবে। তার কথামতো রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে শামসুল হক চৌধুরীর উপস্থিত ও অনুগত কর্মচারী হিসেবে দলিলে টিপসই দিই। আমি কোনোরকমে সাধারণ পড়তে পারি ও দস্তখত জানি। কিন্তু শুধু টিপ দিতে হবে বলায় টিপ দিই। আমি উক্ত দলিলের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। উক্ত শামসুল হক চৌধুরীও সাক্ষী হিসেবে দস্তখত করেন। ইদানীং সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দলিলে গ্রহীতাপক্ষ আমাকে মূল দাতা মনে করে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি উক্ত সম্পত্তির মালিক নই এবং আমি উক্ত শামসুল হক চৌধুরীর কথা ও নির্দেশমতো তার চাচার স্থলে টিপ দিয়েছি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের জটিলতা পরিহার করতে প্রকৃত তথ্য ও সত্য বর্ণনা করলাম। ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে আমার দেওয়া টিপের সত্যতা প্রমাণের জন্য নিম্নে আমার টিপ প্রদান করিলাম। অত্র হলফনামায় বর্ণিত উপরোক্ত বিষয়াদি আমার সজ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সত্য আমি স্বয়ং ঘোষণাকারী বিধায় উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত আছি।’ সূত্র: বা.প্রতিদিন

//ডেস্ক নিউজ//

নলজুর একটা নদী, হয়েগেল খাল..! সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ :  সর্বস্তরে চরম ক্ষোভের সঞ্চার 

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর  খনন কাজে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নলজুর নদী যেন এখন খালে পরিণত হয়েছে ? এমনটাই দাবি করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

বার বার পাউবোর কর্মকর্তা হাসান গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি থাকছেন ধরাছোয়ার বাইরে। দীর্ঘ দিন যাবৎ একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

তবে নদী খননের অজুহাতে নামে মাত্র কাজ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাসান গাজীর নেতৃত্বে চলছে সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে নদীর  পানি সংরক্ষণ ও কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে এই খনন কাজ চলমান রয়েছে।

কাজের সময় শেষ পর্যায়ে হলেও এখনো কাজের কাজই হয়নি বরং অতি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পরিষদের সামনে ও জগন্নাথপুর বাজার এলাকায় নদীর কাজ এখনো সমাপ্ত হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকে পাউবোর কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নদীর নীচু প্রকৃতির জায়গা দিয়ে খননের জন্য নকশা তৈরী করে নিজেদের পকেট ভারী করার পায়তারায় লিপ্ত থাকে। কাজ শুরু হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশেনটেক এর যোগসাজশে  শুরু হয় নানা কৌশলে লুটপাট। নদীর নীচু জায়গায় নামে মাত্র খনন এবং উচ্চতা ও প্রস্থ দেখিয়ে সঠিক মানের নদী খনন না করে জনস্বার্থে সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্বে থাকা ঠিকাদার কামরুজ্জামান খান ও সুপার ভাইজার খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে নদীর সরকারি মাটি বিক্রি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। যে কোন সময় বৃষ্টির কারণে অকাল  বন্যা সহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু জনসার্থে সরকারি  কাজের প্রতি তোয়াক্কা না করে নদী পাড়ের কিছু সুবিধাভোগী মানুষের কাছ থেকে এক্সিবেটর মিশিন দিয়ে ঘন্টা হিসেবে বাড়ির ভিট তৈরী করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাছাড়া অকারণে হাওর পাড়ের মানুষ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাড়ী ও দোকান উচ্ছেদের নামে চালিয়ে যাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি।

আর এসব অপকর্মে জড়িত স্থানীয় স্বার্থানেষী একটি প্রভাবশালী মহল। তবে তাদের সংখ্যা একেবারে নঘন্য।

নকশা অনুযায়ী যেভাবে পরিকল্পিত নদী খনন হবার কথা সেভাবে হচ্ছেনা খনন, যত্রতত্র স্থানে মাটি স্তুপ আকারে রাখার কারণে স্থানীয়দের  মধ্যে সৃষ্টি  হয়েছে চরম ভোগান্তির।

অন্যদিকে নদী খনন করে মাটিগুলো নিয়ম মাফিক যেভাবে স্লোপ দেয়ার কথা, সেভাবে না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিশাল আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে।

নদী খনন কাজে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত কয়েক দিন যাবত জনপ্রতিনিধি, এলাকার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় কৃষকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সরব করে তুলেছেন।

প্রতিবাদ করেছেন  কতৃপক্ষের নানা অনিয়ম দূর্নীতির।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায়সারা ভাবে কাজ করে নদীতে পানি  ছেড়ে দেয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভর সৃষ্টি হয়েছে।

খননের শুরুতেই নদীর পাড়ে মাটি এলোমেলো ভাবে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে পূনরায় নদী ভরাটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তড়িঘড়ি করে নামে মাত্র খনন কাজ সম্পন্ন করে নদীর পানি ছেড়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। খনন কাজে এমন অনিয়মের ফলে সরকারের এই মহতি উদ্যোগের সফলতা যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, তেমন বঞ্চিত হচ্ছে জনগণও,  জনগন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ্য ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাদাউড়া থেকে এরালিয়া বাজার পর্যন্ত নলজুর নদী  খনন কাজ শুরু করে।

খনন কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঢাকার ন্যাশনটেক কমিউনিকেশন লিমিটেড। এই কাজের জন্য সরকার  বরাদ্দ দিয়েছে ৫কোটি  ২৫লাখ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী খনন কাজ করছে না এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) এর লোকজন সঠিক সময়ে তা পরিদর্শন করছেন না। তাদের যেন কোন মাথাব্যাথা নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান সঠিক মানের নদী খননের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন অভিরাম চেষ্টা। তিনি প্রতিদিন নদী খনন কাজ পরিদর্শন করে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে জগন্নাথপুর  গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় জনসাধারণ গনমাধ্যমকে জানান, শুরু থেকেই খনন কাজে অনিয়ম- দূর্ণীতি করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও কাজ ভাগিয়ে নেয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যারা কাজ করছে তারা প্রথমে বলেছিলো পাড়ের মাটি দূরে সরিয়ে আরো গভীর করা হবে। কিন্ত তা না করে তড়িগড়ি করে খনন করে নদীর পানি  ছেড়ে দিয়েছে।

কোন কোন স্থানে  খনন কাজ করেনি শুধু দু-পাড়ে নাম মাত্র মাটি দিয়েছে । তাছাড়া সরকারি কাজ রেখে টাকার বিনিময়ে কিছু মানুষের ভিটবাড়ী করে দিচ্ছে তারা । টাকা না দেয়ায় অনেকের বাড়ীর উপর মাটি ফেলে ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। অনেকের কাছে কোন প্রকার সরকারী রয়েল্যাটি ছাড়া মাটি বিক্রয় করা হয়েছে এবং পাশ্ববর্তী ফসলী জমিতে মাটি ফেলে ফসল নষ্ট করা হয়েছে।  তাদের মনগড়া খনন কাজ উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতিই হচ্ছে ।

 

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল হক শফিক বলেন, নদী খনন করতে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হাসান গাজীর সহায়তায়  পিংলার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও শশ্মানঘাটের রাস্তা কেটে মাটি বিক্রয় করছেন   ঠিকাদার কামরুজ্জামান খানের লোকজন। তাদের এমন দুর্নীতি মেনে নেয়া যায়না।

 

তার এধরণের কর্মকান্ডের ফলে উক্ত রাস্তা ও  ফসল রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকির মধ্যে পড়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগন সোচ্চার।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসান গাজী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের  নির্বাহী প্রকৌশলী  জানান, খনন কাজে অনিয়ম হওয়ার কথা নয় ,আমার লোক প্রতিদিন  কাজের তদারকি করছে। কোন অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

//মোঃ রনি মিয়া, সুনামগঞ্জ//

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালককে ৭৮ লক্ষ টাকা জরিমানা

 

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার দায়ে কওমি মাদরাসার এক পরিচালককে (মোহতামিম) ৭৮ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

 

চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী থানাধীন জালালাবাদ তালীমুল কোরআন মাদরাসার পরিচালক-  হাফেজ মোহাম্মদ তৈয়বকে এ জরিমানা করা হয়।

 

জরিমানার পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে কাটা পাহাড়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। গত সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জরিমানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়কে জানানো হয়।

 

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের উপ পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক জানান, মহানগরীর জালালাবাদ আরেফিন নগর এলাকায় অবস্থিত একটি কাউমি মাদরাসার আশে পাশে চারটি স্থানের এক লাখ ৫৬ হাজার ১৫০ ঘনফুট পাহাড় কাটার প্রমান পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে গত ৩১ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শুনানীতে  মাদারাসার পরিচালক হাফেজ মো: তৈয়বকে ৭৮ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরো জানান, মাদরাসার পরিচালককে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কাটা পাহাড়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অভিযুক্তকে তিন মাসের সময় প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায় অভিযুক্তের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //

বিশ্বে প্রায় ৫৩ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস

 

বিশ্বে প্রায় ৫৩ কোটি ৩০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর সব তথ্য অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে হ্যাকাররা৷  ফলে বিশ্বের শতাধিক দেশের কোটি মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ৫৩৩ মিলিয়ন বা ৫৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যবহারকারীর পূর্ণ নাম, ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নাম্বার থেকে শুরু করে প্রায় সব তথ্যই একটি হ্যাকিং ফোরামে প্রকাশ করে দেয়া হয়৷ সেখানে ১০৬ টি দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে৷ ৫৩ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে তিন কোটি ২০ লাখ যুক্তরাষ্ট্রের, এক কোটি ১০ লাখ যুক্তরাজ্যের, ৬০ লাখ ভারতের এবং ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশের৷ অভাবনীয়…!

ফেসবুকের মুখপাত্র লিজ শেফার্ড ব্যবহারকারীদের যাবতীয় তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর স্বীকার  করে বলেন, ‘‘তথ্যগুলো পুরোনো, ২০১৯ সালে বিষয়টি জানা যায়৷ ২০১৯ সালের আগস্টে বিষয়টি আমরা জানতে পারি এবং ব্যবস্থা নিই৷”

তবে তথ্য নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক বছর আগের তথ্য হলেও হ্যাকাররা তা ব্যবহার করে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ক্ষতি করতে পারে৷

এর আগেও অনেকবার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস হয়েছে৷ ২০১৯ সালে বিশ্বের ২৬ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়৷ এর এক বছর আগে ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে৷

গোপনীয়তা রক্ষার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেসবুককে পাঁচ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)৷

এসিবি/কেএম (রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)

সূত্র: ডয়েচে ভেলে