কালিয়ার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা দুর্ণীতির বরপুত্র!

 

কালিয়ার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সেবা প্রার্থীরা ১৬ মার্চ ওই কর্মকর্তার দূর্ণীতির চিত্র তুলে ধরে নড়াইল জেলা প্রশাসাক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। পহরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসী ওই কর্মকর্তার অপসারন দাবি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার অনিয়ম, দুর্ণীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। তিনি প্রায় এক বছরের অধিককাল পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তা ভুমি অফিসে আসার পর ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়না।

 

মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন বাহিরে আছি আপনি সন্ধার পর মিরাজের বাড়িতে আসেন। সাক্ষাতের পর পূর্বের দাখিলা দেখালে তিনি তার কোন মুল্যায়ন না করে বলেন, এ দাখিলা সঠিক নিয়মে কাঁটা হয়নি এবং পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিভাবে দিয়েছে সেটা তার ব্যাপার। আমার কাছ থেকে নিতে হলে গোড়া থেকে খাজনা পরিশোধ করতে হবে বলে অতিরিক্ত টাকার হিসাব দেন এবং ওই টাকার আংশিক দাখিলায় তুলে বাকীটা নিজেই আত্মসাৎ করেন।

 

দাখিলায় কম টাকা উঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আপনাকে অল্পের ভিতরে হিসাব দিয়েছি, অতিরিক্ত টাকা অডিট খরচ বাবদ রাখছি। এছাড়া ভুমি দস্যুদের সাথে আতাৎ করে সরকারী জমির মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার নামে। জমির নামজারী করার নিয়ম জানতে গেলে ওই কর্মকর্তা ভূমি মালিকদের তার সাথে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন এবং বলেন আমার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নামজারী হবেনা। এভাবে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব চাপিয়ে দেন।

 

অবশেষে সেবা প্রার্থীরা জমি ঠিক করার জন্য ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীরা উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার যোগসাজসে সরকারী গাছ কেঁটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যা ৪০/৫০ হাজার টাকা দাবী করে এবং বিধবা মহিলাদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়।

 

নারীলোভী, ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার এহেন কর্মকান্ডে ইউনিয়নবাসী সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিডিও ও অডিও রেকর্ড প্রমান স্বরুপ সংরক্ষিত আছে বলে তারা জানান। পাশাপশি তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইউনিয়নবাসী মন্তব্য করেন।

 

পূর্বে ও ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী, বাগুডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা শিকদার (৭৫) বলেন, আমার ও শরিকদের নামীয় পর্চার ৭ শতক জমির দাখিলা কাটতে আমি দেড় মাস যাবৎ ঘুরতেছি। নায়েব সাহেব বলেছেন ২১শত টাকা লাগবে নতুবা হবেনা। অনেক অনুরোধ করে ৪৫০ টাকায় রাজি করিয়েছি তাও শুধু ঘুরাচ্ছে। অথচ আগের নায়েব এই জমির দাখিলায় ১৫০ টাকা নিয়েছিল। আমি বৃদ্ধ মানুষ এভাবে আসা যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়।

 

এই ঘটনা সাংবাদিকদের বলায় নায়েব আমাকে জালিয়াত বলেছে। কেন আমায় উনি জালিয়াত বললেন, এর যথাযথ প্রমান উনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি। আমি আমার এ অপমানের সুষ্ঠ বিচার চাই। সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে অনেক ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

চরসিংগাতী গ্রামের মুরসালিন, জানান, তিন/চার মাস আগে ৫০০ টাকা নিয়ে তাকে একটি ভুয়া দাখিলা দিয়েছেন, বল্লাহাটি গ্রামের মামুন মোল্যা, জানান, বাসায় বসে আমায় দাখিলা কেটে দিয়েছে ২৭০০ টাকা লেখা কিন্তু নিয়েছে ৫৫০০ টাকা, পাখিমারা গ্রামের ডাঃ বোরহান জানান, দাখিলায় লেখা ৩৬০০ টাকা কিন্তু নিয়েছে ৯৫০০ টাকা, এভাবে পহরডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমান, মেহেদী হাসান, ও লাভলু শেখ, সরসপুরের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম, বল্লাহাটির মুরাদ মোল্যা প্রমুখ অভিযোগ করেন।

 

ভুক্তভোগীরা এর উপযুক্ত বিচারসহ ওই নায়েবের অপসারন দাবী করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা প্রথমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে তিনি আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা প্রশাসক জনাব মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ততাধীন আছে। তদন্তে দোষী প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

//মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, নড়াইল জেলা//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাম মূর্শেদী

 

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী জমি দখল বানিজ্য বহাল : গ্রামের লোকজন জিম্মি

 

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে সনাতন ধর্মের ও সরকারী জমি বিক্রয় করা সহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ নানা অভিযোগ। সরজমিনে জানা যায়, ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রামের নিরিহ জনসাধারনদের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের বিস্তর অভিযোগ।

এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ জগন্নাথপুর থানা ও আদালতে রয়েছে ৮ এর অধিক মামলা। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশও। থানা পুলিশের উপর হামলা করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করায় জেলও কেটেছেন তিনি। তারপরও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে।

জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রমাপতিপুর গ্রামের মৃত মুক্তার মিয়ার ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালি বাহীনি। তার বাহীনি দিয়ে গ্রামের নিরিহ লোকজনের জমি দখল, সনাতন ধর্মের পরিত্যক্ত ভূমি ও সরকারী জমি নানা কৌশলে দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন। তার অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হতে হয় জনসাধারনকে। এ ব্যাপারে গ্রামের ভুক্তভোগি আবুল মনাফ, সৈয়দ মিয়া, ছোরাব উল্লাহ, নাসির মিয়া, আনছার মিয়া, ফজলু মিয়া, হারুন মিয়া, আব্দুল মমিন, ফারুক মিয়া সহ শতাধিক লোকজন জানান, মোজাহিদপুর ও চৌকি মৌজার সরকারী জায়গা বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রামের লোকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ভূমি খেকো কাজল মিয়ার নেতৃত্বে হাতের লেখা স্টাম্প করে প্রতারনার মাধ্যমে ভূমিগুলো বিক্রয় করেছেন। এমনকি গ্রামের বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটি ভেঙ্গে নিজে একাই দায়িত্ব নিয়ে কোন রকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পকেটভারি করে যাচ্ছেন। যার কারনে দীর্ঘ ৫মাস ধরে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

তার নিজস্ব বাহিনি দিয়ে বার বার হামলা চালিয়ে আতঙ্কে পরিনত করেছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে। বর্তমানে কাজল বাহিনির ভয়ে গ্রামের লোকজন গ্রামের মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভয়ে গ্রামবাসী গত ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জগন্নাথপুর থানার এসআই সাফায়েত ও এসআই শামিম সহ একদল পুলিশি পাহারায়। গ্রামের রাস্তা ঘাটে চলা ফেরায় প্রতিবন্ধকতা সহ পার্শবতি শিবগঞ্জ বাজারেও আসতে পারছেন না গ্রামে নিরিহ লোকজন। বার বার অপরাধ করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য খুটির জোড়ে। এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কাজল ও তার বাহিনির হাত থেকে রক্ষা পাননি গ্রামের অসহায় মহিলাও। বার বার আক্রমের শিকার হলেও গ্রামের লোকজন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারী জায়গা থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করলে গ্রামবাসী বাঁধা দেন এতে হামলার শিকার হন গ্রামের নিরিহ লোকজন। রমাপতিপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের মুখে কাজল মিয়া তার নিজস্ব লোকের কাছে সরকারী জমি বিক্রয় করে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তায় বাঁধার সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে এলাকার গন্যমান্য লোকজন বার বার শালিসির চেষ্টা করলেও সুযোগ দিচ্ছেনা এই ইউপি সদস্য। এ দিকে সম্প্রতি গ্রামবাসী ও কাজল বাহীনির মধ্যে সংর্ঘষে ঘটনা ঘটে এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন আহত হন।

এ সময় কাজল মিয়ার লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী জনসাধারন কাজল মিয়া ও তার লোকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। অভিযুক্ত কাজল মিয়ার সাথে মুঠোফোনের ৩টি নাম্বারে ০১৭১১-০১৭৮৫-০১৩১….নিউজ লেখার আগ মর্হূতে বার বার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় আলাপ করা সম্ভব হয় নাই এমনকি কাজলের ওয়াটসআপ নাম্বারে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন নাই। কাজলের লোকজনের সাথে আলাপ করার চেষ্টা করা হলে তারা মন্তব্য করতে নারাজ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শাহান আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এই গ্রামের বাসিন্দা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উভয় পক্ষের লোকজনের সম্মতি না থাকায় সমাধান করতে পারি নাই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যারম্যান হাজী মখলিছ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রমাপতিপুরের দুই পক্ষের লোকজনের সমস্যার জন্য আমি সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বার বার সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু কোন পক্ষেই আমাদের বিচারের তারিখ দেয় নাই। আমাাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ আরো অনেকেই বহু চেষ্টা করে সমাধান করতে পারেন নাই। সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর (সার্কেল) কামরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ উভয় পক্ষেই দিয়েছে।

অভিযোগের আলোকে আইনআনুক ব্যবস্থা গ্রহন করতেছি। আসামী যাকে পাব থাকেই ধরবো আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

 

ঠিকাদারির আড়ালে দেলুর হাজার কোটির অবৈধ দোকান বাণিজ্য: হাজারো ব্যবসায়ী নি:স্ব

মার্কেটের আসল মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন এক ঠিকাদার। ঠিকাদারির আড়ালে কৌশলে বহু বছর ধরে ৮২৪টি দোকান নিজের দখলে রেখে চালাচ্ছেন ভাড়া-বাণিজ্য। প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় কোটি টাকা।

 

 

শুধু ভাড়া নয়, ৯১১টি অবৈধ দোকান বরাদ্দের নামে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে কয়েকটি খাত থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তার পকেটে পুরেছেন।

 

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী চার ব্যবসায়ী তাকে আসামি করে আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেছেন। দেড় যুগ ধরে এই নৈরাজ্য চলছে নগর ভবনের কয়েক শ গজ দূরে ফুলবাড়িয়ার নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে।

 

যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তীরসেই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু অবৈধ দোকানবাণিজ্য কবজা করতে তিনটি মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে রেখেছেন ২৬ বছর ধরে

 

এক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সমিতির নির্বাচন আটকে রাখার অভিযোগও আছে। এই পদের প্রভাবেই দোকান-বাণিজ্যের ফাঁদ তৈরি করেন।

 

সেই ফাঁদে পা দিয়ে এখন হাজারো ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। ভুক্তভোগী একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে চেকের মাধ্যমে ৩৫ কোটিসহ বিভিন্ন সময়ে শতকোটি টাকা ‘ঘুস’ দেওয়ার বিষয় ফাঁস এবং এ ঘটনায় খোকনকে আসামি করে মামলা করে ব্যাপক আলোচিত হন ওই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু।

 

এদিকে তার (দেলুর) সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন।

 

অবৈধ পথে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ করেছেন সেকেন্ড হোম প্রকল্পে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেতে ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

 

ঠিকাদারির আড়ালে অবৈধ দোকান-বাণিজ্য চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘এই তিনটি মার্কেটে তৈরি অবৈধ দোকান এরইমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যিনি দোকানগুলো বানিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দীর্ঘদিন দখলে রেখে ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি প্রকৌশল বিভাগ দেখে থাকে।’

 

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুন্সি আবুল হাশেম যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্মাণাধীন মার্কেটে দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঠিকাদারের আইনগত কোনো এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে মার্কেট পরিদর্শন করে অভিযুক্ত ঠিকাদার দেলুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা। এখনো এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

দেলোয়ার হোসেন যা বললেন : উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার। সরকারি নিয়ম মেনেই সিটি করপোরেশনের নির্মাণকাজ করে থাকেন।

 

তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে করপোরেশনের কোনো অভিযোগ নেই। ঠিকাদারির পাশাপাশি তিনি আমদানি-রপ্তানি, হাউজিং, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ী হিসাবেই তিনি নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পদ দখলের অভিযোগ মিথ্যা।

 

মার্কেটে অবৈধ দোকান তৈরি করে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করা ও ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী মার্কেট নির্মাণ করেছেন। কোনো অবৈধ দোকান তৈরি ও ভাড়া-বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

 

একটি মহল মার্কেটের দখল নিতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কোথায় মামলা করল তাতে কিছু যায়-আসে না। সম্পদের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক সম্পদের হিসাব চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছি।

 

তবে অনুসন্ধানকারী দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন মিথ্যাচার করেছেন। সম্পদের তথ্য দিতেও তিনি গড়িমসি করছেন। বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।’

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের আমল থেকেই দেলোয়ার হোসেন দেলু করপোরেশনের ঠিকাদারি শুরু করেন। তার মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন একের পর এক মার্কেট নির্মাণের কাজ পায়।

 

বিএনপি-আওয়ামী লীগ সব আমলেই তিনি নগরভবনে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ঠিকাদারির আড়ালেই তিনি শুরু করেন ‘দোকান-বাণিজ্য’। অবৈধ এই বাণিজ্য কবজায় রাখতে দখল করেন নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ।

 

মামলার এজাহার : গত এপ্রিলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলাদাভাবে চারটি মামলা করেন। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামি দেলোয়ার হোসেন জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় ১২ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১২/১ নম্বর দোকান বরাদ্দ দেন।

 

২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৩০ লাখ টাকা। এককালীন এক হাজার টাকার নোটের ৩০টি বান্ডিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতির প্যাডে সই করে দোকানের বরাদ্দ দেন তিনি। কিন্তু চুক্তির শর্ত মোতাবেক সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে কামাল হোসেন ৩০ লাখ টাকা ফেরত চান।

 

টাকা ফেরত না-দিয়ে এখন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর যখন আমি দোকানের বৈধতা হিসাবে সিটি করপোরেশনের অনুমোদনপত্র পাইনি, তখনই বুঝেছি আমি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। এখন আমার দোকানও নেই, টাকাও নেই। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করায় উলটো হুমকির মধ্যে আছি।

 

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আসামি দেলোয়ার হোসেন একজন প্রতারক, বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী। তিনি জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের বেজমেন্টের পূর্বপাশে ১৬ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১৬/১ নম্বর দোকান (৮৫০ বর্গফুট) লিখিতভাবে বরাদ্দ দেন।

 

এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে না-পারলে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। টাকা না-দিলে মামলা করার কথা বললে তিনি বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমানও তাদের মামলার এজাহারে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাদের মতো হাজারো ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে ৯১১টি অবৈধ দোকান বানিয়ে ওই সব ব্যবসায়ীকে সমিতির প্যাডে সই করে বরাদ্দ দেওয়ার নামে দেলোয়ার হোসেন হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫০ কোটি টাকা-এ অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব দোকান অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন তিন মার্কেটের বেজমেন্টে ৫৩৯টি দোকান তৈরি করে সেগুলোর নামজারির কথা বলে প্রতি দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকা হারে মোট ২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

 

বরাদ্দ ও ভাড়া-বাণিজ্য : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক হিসাবে দেখা গেছে, তিনটি মার্কেটে অবৈধ ৯১১টি দোকানের প্রতিটি সর্বনিু ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেন দেলোয়ার হোসেন। গড়ে ২৫ লাখ টাকা হিসাবে ৯১১টি দোকান থেকে নেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। আর ৮২৪টি দোকানের ভাড়া থেকে প্রতিমাসে আদায় হয় প্রায় কোটি টাকা (দোকানপ্রতি গড়ে নয় হাজার টাকা)। এ খাত থেকে গত ১২ বছরে আদায় করা হয় অন্তত দু’শ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বেজমেন্টে দোকানের নামজারি খাত থেকেও কোটি কোটি টাকা আদায় করেন দেলু। সব খাত মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

নগর প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২০১৪ সালে নগর প্লাজার চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ পান দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন। দেড় বছরের মধ্যে ২০০ দোকানের নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু দোকানগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে কৌশলে নির্মাণকাজের সময় বাড়িয়ে নেন। এই ফাঁকে সব দোকান তিনি গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেন। দুই বছর ভাড়া-বাণিজ্যের পর তিনি দোকান বুঝিয়ে দেন। প্রতি দোকান থেকে আট হাজার টাকা হারে মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এ হিসাবে দুই বছরে এ খাত থেকে তিনি ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন; যা নির্মাণকাজের বিলের চেয়েও বেশি। একই মার্কেটের ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকান তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে ভাড়া-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেলু। ২০১৮ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে এসব দোকান থেকে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হারে তিন বছরে ১২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন।

 

সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এই মার্কেটের ৪ ও ৫ তলার ২০০ দোকান একইভাবে দুই বছর আটকে রেখে ভাড়া-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে রাখেন অন্ধকারে। এখনো সিটি প্লাজার ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকানের মধ্যে ২০০টি দোকান তিনি গোডাউন ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে তিনি এখন মার্কেটমুখী না-হলেও তার লোকজন প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা হারে ভাড়া তোলেন। তার মেয়েজামাই আফিফ জামান আবীর, ভাতিজা রবিন, শাওন, আরমান ও তারেক ভাড়া তোলার কাজ করেন। দেড় বছরে এসব দোকান থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ভাড়া-বাণিজ্য করেন দেলু। ২০২০ সালের শুরুতে দোকানগুলো গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ছয় মাসের ভাড়া এককালীন আদায় করা হয় বলেও জানান মোস্তাক।

 

জাকির সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, তাদের মার্কেটের ২, ৩ ও ৪ তলার প্রতিটি ফ্লোরে ৯৪টি করে দোকান আছে। এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন এ কাজ পায়। ২০০৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে দোকানগুলো করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুঝিয়ে দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। কাজ ঝুলিয়ে রেখে প্রতিটি দোকান আট হাজার টাকা হারে ভাড়া দিয়ে এ খাত থেকে নয় বছরে তিনি হাতিয়ে নেন ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এই তিন ফ্লোরের নির্মাণব্যয় বাবদ ৩৫ কোটি টাকা বিলও পান দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর তৃতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরের নির্মাণকাজ ঝুলিয়ে রেখে কোটি কোটি টাকার ভাড়া-বাণিজ্য করেন তিনি।

 

দুদকের অনুসন্ধান : জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন দেলুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কাজে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে দুদক থেকে একটি চিঠিও (স্মারক নম্বর : ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.১১৮.১৯/৩২৪৩৬) দেওয়া হয়েছে দেলোয়ার হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩টি মার্কেট দখল করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। চিঠিতে তার কর্মকাণ্ড, সম্পদসহ ৭টি ক্রমিকে নানা ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের দায়িত্বে আছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদক তার সম্পদের তথ্য পেতে দেশের ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। এরইমধ্যে তার বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি এসেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে। দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

২৬ বছর সভাপতির পদ দখল : ১৯৯৪ সালে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ দখলের মধ্যদিয়ে উত্থান দেলোয়ার হোসেনের। এরপর দুই বছরের ব্যবধানে তিনি ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে নেন। ফুলবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী মহলে পরিচিতি পান ‘চেয়ারম্যান সাহেব’ হিসাবে। ২৬ বছর ধরে ওই তিন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন দেননি তিনি। যারা তার অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন, তাদেরই তিনি নানাভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সরিয়ে দিয়েছেন।

এই পদের প্রভাবেই তিনি তিনটি মার্কেটে অবৈধ দোকান বানিয়ে বরাদ্দ দেন। ব্যবসায়ীরা বারবার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও তিনি নির্বাচন দেন না। সবশেষ গত ৮ মার্চ শ্রমভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জাকের সুপার মার্কেটের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ মার্চ শ্রম অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচন করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। দেলোয়ার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আমিনুল হকের মোবাইলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার কল করা হলে প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত।সূত্র: যুগান্তর

 //অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নওগায় চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার…

এমপি তন্ময়ের পরিচয়ে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বড় বড় চাকরীর প্রতারণা

 

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে কারারক্ষীর চাকরি গেছে। তারেক সরকার নামের ওই কারারক্ষী আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য পরিচয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে ফোন দিতেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অধিদপ্তরের প্রধানদের।

তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২০ সালে প্রতারণার অভিযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে কারারক্ষীর চাকরি হারান নরসিংদীর তারেক সরকার। সচিব থেকে শুরু করে মন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনী ও অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহে ছিলো তার।

ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে হোয়াটস অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলেন তন্ময় পরিচয়ে। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাকরির সুপারিশ করতেন আর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুটে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় পরিচয়ে চাকরির তদবির করতে প্রতারক তারেক সরকার কারা উপমহাপরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করলে সন্দেহ হয় তার। ভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হন পাতা হয়েছে প্রতারণার ফাঁদ।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন জানান, যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন, আমি বললাম যে আরেকটা নাম্বারে তো আরেকজন কথা বলেন।

তখন উনি যাচাই-বাছাই করে নাম্বারটা দিতে বলেন এবং সেভাবেই এটা ভুয়া বের হয়।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (গোয়েন্দা) উপ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, সহিংসতায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সে যারা মন্ত্রণালয়ের প্রধান তাদের নাম্বার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছে।

তাকে যদি আমরা আইনের আওতায় না আনতে পারতাম, হয়তো ভবিষ্যতে সে এরকম আরো প্রতারণার আশ্রয় নিতো।’সূত্র : ডিবিসি নিউজ

//অনলাইন নিউজ//

বিশুদ্ধ পানির জন্য…

হুইপ শামসুল হকের চরম ভূমি জালিয়াতি

 

জাল-জালিয়াতি করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম পটিয়া আসনের এমপি ও হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তিনি বাসার বাবুর্চিকে জায়গার মালিক সাজিয়ে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমি আত্মসাৎ করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে হুইপের ভয়াবহ জাল-জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘শামসুল হক চৌধুরীর জীবনটাই  জালিয়াতিতে ভরা। তার জালিয়াতির আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে বাবুর্চিকে জমির মালিক সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ করা। শামসুল হকের জালিয়াতির ফলে জমি হারানো ওই পরিবার প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ এপ্রিল বিসিএস প্রশাসনের সদস্য হিসেবে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমির বরাদ্দ পান আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল হায়দার মজুমদার। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ওই জমি বিক্রি করে দেন হাজী মোহাম্মদ শফিক আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে।

কিন্তু সহজসরল শফিকের জমির ওপর নজর পড়ে বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর। জমি গ্রাসের কাজে তিনি সহযোগিতা নেন হুইপের তৎকালীন ঢাকার বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমানের। ২০০১ সালে পরিকল্পনামতো সোলেমান বাবুর্চিকে মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সাজিয়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য খুরশিদা খানম নামে এক নারীকে রেজিস্ট্রি দেন। ওই দলিলের শনাক্তকারী ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী নিজে।

২০০২ সালের মাঝামাঝি জালিয়াতির বিষয়টা বুঝতে পারেন সোলেমান বাবুর্চি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হলফনামা দিয়ে জালিয়াতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সোলেমান বাবুর্চি।

এ সময় সাড়ে ৮ লাখ টাকার জমি কিনে প্রতারিত হয়েছেন তা বুঝতে পেরে খুরশিদার পরিবার শামসুল হককে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় এক প্রকার বাধ্য হয়ে তিনি সাড়ে ৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে জালিয়াতি করে নেওয়া জমিটি তার ভাই মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নামে লিখে নেন। ২০০৬ সালে আমমোক্তারনামা দলিলমূলে জায়গাটির মালিক বনে যান শামসুল হক।

জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই জমির মালিকের ছেলে মোহাম্মদ মোক্তার সিএমপির বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর ৬৭০। ওই ডায়েরিতে  তিনি বিবাদী হিসেবে শামসুল হক চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন। থানায় ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, শামসুল হক চৌধুরী তার পৈতৃক সম্পত্তিতে যেতে বাধা দিয়েছেন। মারধরেরও হুমকি দিয়েছেন।

কী ছিল সোলেমানের সেই হলফনামায় : শামসুল হক চৌধুরীর প্লট জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খোলেন মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সেজে জায়গা রেজিস্ট্রি দেওয়া শামসুল হকের বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমান ওরফে সোলেমান বাবুর্চি। ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর সকালে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হাজির হয়ে হলফনামা দেন। ওই হলফনামায় সোলেমান ঘোষণা করেন, ‘আমি ঘোষণাকারী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম মতিন সাহেবের মাধ্যমে পরিচিতির সূত্রে উপরোক্ত এ কে এম মতিন, মুসলিম উদ্দিন এবং শামসুল হক চৌধুরীর একত্রে ভাড়ায় নেওয়া ঢাকাস্থ বাসায় আমি তাদের অধীনস্থ বাবুর্চি হিসেবে চাকরি নিই। ওইখানে চাকরি করা অবস্থায় চট্টগ্রামে ছুটিতে এলে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে শামসুল হক চৌধুরী আমাকে বলেন, তার এক চাচা বর্তমানে খুবই অসুস্থ আছেন। তার পক্ষে বর্তমানে চলাফেরা করা অসম্ভব। তাই তার পক্ষে একটি দলিলে রেজিস্ট্রি দিতে হবে। তার কথামতো রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে শামসুল হক চৌধুরীর উপস্থিত ও অনুগত কর্মচারী হিসেবে দলিলে টিপসই দিই। আমি কোনোরকমে সাধারণ পড়তে পারি ও দস্তখত জানি। কিন্তু শুধু টিপ দিতে হবে বলায় টিপ দিই। আমি উক্ত দলিলের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। উক্ত শামসুল হক চৌধুরীও সাক্ষী হিসেবে দস্তখত করেন। ইদানীং সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দলিলে গ্রহীতাপক্ষ আমাকে মূল দাতা মনে করে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি উক্ত সম্পত্তির মালিক নই এবং আমি উক্ত শামসুল হক চৌধুরীর কথা ও নির্দেশমতো তার চাচার স্থলে টিপ দিয়েছি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের জটিলতা পরিহার করতে প্রকৃত তথ্য ও সত্য বর্ণনা করলাম। ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে আমার দেওয়া টিপের সত্যতা প্রমাণের জন্য নিম্নে আমার টিপ প্রদান করিলাম। অত্র হলফনামায় বর্ণিত উপরোক্ত বিষয়াদি আমার সজ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সত্য আমি স্বয়ং ঘোষণাকারী বিধায় উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত আছি।’ সূত্র: বা.প্রতিদিন

//ডেস্ক নিউজ//

নলজুর একটা নদী, হয়েগেল খাল..! সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ :  সর্বস্তরে চরম ক্ষোভের সঞ্চার 

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর  খনন কাজে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নলজুর নদী যেন এখন খালে পরিণত হয়েছে ? এমনটাই দাবি করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

বার বার পাউবোর কর্মকর্তা হাসান গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি থাকছেন ধরাছোয়ার বাইরে। দীর্ঘ দিন যাবৎ একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

তবে নদী খননের অজুহাতে নামে মাত্র কাজ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাসান গাজীর নেতৃত্বে চলছে সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে নদীর  পানি সংরক্ষণ ও কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে এই খনন কাজ চলমান রয়েছে।

কাজের সময় শেষ পর্যায়ে হলেও এখনো কাজের কাজই হয়নি বরং অতি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পরিষদের সামনে ও জগন্নাথপুর বাজার এলাকায় নদীর কাজ এখনো সমাপ্ত হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকে পাউবোর কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নদীর নীচু প্রকৃতির জায়গা দিয়ে খননের জন্য নকশা তৈরী করে নিজেদের পকেট ভারী করার পায়তারায় লিপ্ত থাকে। কাজ শুরু হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশেনটেক এর যোগসাজশে  শুরু হয় নানা কৌশলে লুটপাট। নদীর নীচু জায়গায় নামে মাত্র খনন এবং উচ্চতা ও প্রস্থ দেখিয়ে সঠিক মানের নদী খনন না করে জনস্বার্থে সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্বে থাকা ঠিকাদার কামরুজ্জামান খান ও সুপার ভাইজার খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে নদীর সরকারি মাটি বিক্রি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। যে কোন সময় বৃষ্টির কারণে অকাল  বন্যা সহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু জনসার্থে সরকারি  কাজের প্রতি তোয়াক্কা না করে নদী পাড়ের কিছু সুবিধাভোগী মানুষের কাছ থেকে এক্সিবেটর মিশিন দিয়ে ঘন্টা হিসেবে বাড়ির ভিট তৈরী করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাছাড়া অকারণে হাওর পাড়ের মানুষ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাড়ী ও দোকান উচ্ছেদের নামে চালিয়ে যাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি।

আর এসব অপকর্মে জড়িত স্থানীয় স্বার্থানেষী একটি প্রভাবশালী মহল। তবে তাদের সংখ্যা একেবারে নঘন্য।

নকশা অনুযায়ী যেভাবে পরিকল্পিত নদী খনন হবার কথা সেভাবে হচ্ছেনা খনন, যত্রতত্র স্থানে মাটি স্তুপ আকারে রাখার কারণে স্থানীয়দের  মধ্যে সৃষ্টি  হয়েছে চরম ভোগান্তির।

অন্যদিকে নদী খনন করে মাটিগুলো নিয়ম মাফিক যেভাবে স্লোপ দেয়ার কথা, সেভাবে না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিশাল আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে।

নদী খনন কাজে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত কয়েক দিন যাবত জনপ্রতিনিধি, এলাকার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় কৃষকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সরব করে তুলেছেন।

প্রতিবাদ করেছেন  কতৃপক্ষের নানা অনিয়ম দূর্নীতির।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায়সারা ভাবে কাজ করে নদীতে পানি  ছেড়ে দেয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভর সৃষ্টি হয়েছে।

খননের শুরুতেই নদীর পাড়ে মাটি এলোমেলো ভাবে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে পূনরায় নদী ভরাটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তড়িঘড়ি করে নামে মাত্র খনন কাজ সম্পন্ন করে নদীর পানি ছেড়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। খনন কাজে এমন অনিয়মের ফলে সরকারের এই মহতি উদ্যোগের সফলতা যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, তেমন বঞ্চিত হচ্ছে জনগণও,  জনগন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ্য ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাদাউড়া থেকে এরালিয়া বাজার পর্যন্ত নলজুর নদী  খনন কাজ শুরু করে।

খনন কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঢাকার ন্যাশনটেক কমিউনিকেশন লিমিটেড। এই কাজের জন্য সরকার  বরাদ্দ দিয়েছে ৫কোটি  ২৫লাখ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী খনন কাজ করছে না এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) এর লোকজন সঠিক সময়ে তা পরিদর্শন করছেন না। তাদের যেন কোন মাথাব্যাথা নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান সঠিক মানের নদী খননের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন অভিরাম চেষ্টা। তিনি প্রতিদিন নদী খনন কাজ পরিদর্শন করে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে জগন্নাথপুর  গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় জনসাধারণ গনমাধ্যমকে জানান, শুরু থেকেই খনন কাজে অনিয়ম- দূর্ণীতি করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও কাজ ভাগিয়ে নেয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যারা কাজ করছে তারা প্রথমে বলেছিলো পাড়ের মাটি দূরে সরিয়ে আরো গভীর করা হবে। কিন্ত তা না করে তড়িগড়ি করে খনন করে নদীর পানি  ছেড়ে দিয়েছে।

কোন কোন স্থানে  খনন কাজ করেনি শুধু দু-পাড়ে নাম মাত্র মাটি দিয়েছে । তাছাড়া সরকারি কাজ রেখে টাকার বিনিময়ে কিছু মানুষের ভিটবাড়ী করে দিচ্ছে তারা । টাকা না দেয়ায় অনেকের বাড়ীর উপর মাটি ফেলে ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। অনেকের কাছে কোন প্রকার সরকারী রয়েল্যাটি ছাড়া মাটি বিক্রয় করা হয়েছে এবং পাশ্ববর্তী ফসলী জমিতে মাটি ফেলে ফসল নষ্ট করা হয়েছে।  তাদের মনগড়া খনন কাজ উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতিই হচ্ছে ।

 

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল হক শফিক বলেন, নদী খনন করতে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হাসান গাজীর সহায়তায়  পিংলার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও শশ্মানঘাটের রাস্তা কেটে মাটি বিক্রয় করছেন   ঠিকাদার কামরুজ্জামান খানের লোকজন। তাদের এমন দুর্নীতি মেনে নেয়া যায়না।

 

তার এধরণের কর্মকান্ডের ফলে উক্ত রাস্তা ও  ফসল রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকির মধ্যে পড়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগন সোচ্চার।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসান গাজী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের  নির্বাহী প্রকৌশলী  জানান, খনন কাজে অনিয়ম হওয়ার কথা নয় ,আমার লোক প্রতিদিন  কাজের তদারকি করছে। কোন অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

//মোঃ রনি মিয়া, সুনামগঞ্জ//