খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত সুলতানা কামাল জিমনেশিয়ামের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জিমনেশিয়াম নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুলতানা জিমনেশিয়াম ভবনের আয়তন ৩ হাজার ৯৭ বর্গমিটার। এই জিমনেশিয়ামে থাকবে হ্যান্ডবল কোর্ট, গ্যালারি, ফিটনেস সেন্টার, ইনডোর গেমস্ কাম স্টুডেন্ট ক্যাম্পিং, ডাইনিং ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের রুমসহ অন্যান্য আধুনিক সুবিধা। জিমনেশিয়াম ভবনের উপরে থাকবে ৮ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক। একই সাথে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য ৪০০ কে.ভি.এ বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি থাকবে ১০০ কে.ভি.এর জেনারেটর সুবিধা। এই অবকাঠামোর মধ্যে সন্নিবেশিত থাকবে ফিটনেস সেন্টারটি।
উদ্বোধনের আগে তিনি বলেন, নির্মাণকাজের যথাযথ মান ঠিক রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। এই জিমনেশিয়াম নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও শরীর চর্চা কার্যক্রমে ব্যাপকতা বহুলাংশে বাড়বে এবং নতুন নতুন ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন
এ সময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আর ডি এন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আজ রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা মহিলা লীগ এবং যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি ও তার সহধর্মিনী মিসেস সারমিন সালাম এর নিজস্ব অর্থায়নে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়।
এসময় দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা লীগ এর সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামসুন নাহার এর সভাপতিত্বে ভিডিও কন্ফারেন্স এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ফ ম আব্দুস সালাম, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহবায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন, সেনহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী, সাধারন সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিতা,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম, এমপি মহোদয় এর চিপ কোয়ার্ডিনেটর মোঃ নোমান ওসামানী রিচি, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ রায়হান উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান তারেক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মঈন শেখ,সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার মোঃ সামসুল আলম বাবু, উপজেলা যুবলীগ এর সহ সম্পাদক হাচান মাহমুদ রাকিব, শেখ সাইদুর রহমান, রুবেল শেখ, মহিলা লীগের নেতৃ পাখি বেগম,আল্পনা বেগম,জয়ন্তী রানী রায়,ঝর্ণা বেগম,পারুল বেগম,আর্জিনা বেগম,অমলা রানী,লক্ষীরানী,সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সৈয়দ জামিল মোর্শেদ মাসুম, যুগ্ম আহবায়ক শেখ আলামিন, যুব মহিলালীগ নেতৃ স্বর্ণালি হাচান,নয়ন তারা,ফাতেমা বেগম প্রমূখ।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে এ ফল ঘোষণা করা হয়।
গণভবন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে ফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সার্বিকভাবে পাশের হার ৯৫.২৬। এর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৯৭.২৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী; বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৯৫.৭৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৭১ শিক্ষার্থী; কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৯৭.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থী; দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৯২.৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯ শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৮৯.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭২০ শিক্ষার্থী; সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৯৪.৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ শিক্ষার্থী; যশোর বোর্ডে পাশের হার ৯৮.১১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ শিক্ষার্থী।
ফল প্রকাশের পর থেকে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.educationboardresults.gov.bd) এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসেই ফল পাওয়া যাবে।
এ পরীক্ষায় এবার ১৪ লাখ ১৪৫ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরু হয় ২ ডিসেম্বর। শেষ হয় ৩০ ডিসেম্বর।
এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। শুধু বিভাগভিত্তিক তিনটি করে নৈর্বাচনিক বিষয়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে অন্যান্য বিষয়ে এসএসসি ও জেএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করে শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হ্যাস বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে তিনি ঢাকার সঙ্গে একত্রে কাজ করতে আগ্রহী।
শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। আজ সকালে এখানে প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হ্যাস ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন, তিনি আশা করছেন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মার্চের প্রথম দিকে ঢাকায় আসবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম ও মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা নতুন দূতকে স্বাগত জানান।
আলোচনাকালে দুই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারা বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে উভয় পক্ষের বৃহত্তর সম্পৃক্ততা এবং পারস্পরিক লাভজনক কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে রাষ্ট্রদূত হ্যাস দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রদূত হ্যাস রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের উত্তরসূরি।
চাঁদপুর হাইমচর উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের খাল খননে বাঁধা দেয়ায় বিপাকে পড়েছে কয়েক হাজার কৃষক। এতে পানির অভাবে কৃষকদের ৪ হাজার একর কৃষি জমিতে এবারের মৌমুমে ফসল আবাদে বিঘ্ন ঘটছে। যার ফলে ফসলি জমিতে পানির সেচ দিতে খালটি পুনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছে ভুক্তভোগী কৃষকরা। বহুবছরের পুরনো প্রবাহমান জনগুরুত্বপূর্ণ খাল রক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক প্রশাসনকে গণস্বাক্ষরসহ লিখিতভাবে অবহিত করেছে।
১১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ৩নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরভাঙ্গা ও চরপোড়ামুখী গ্রামের শত শত কৃষক তাদের ফসলি জমিতে দাঁড়িয়েই মানববন্ধন করেন।
কৃষকরা জানান, প্রায় বৃটিশ শাসনামল থেকে নদীবিধৌত হাইমচর এলাকায় বিভিন্ন ফসল চাষের উর্ভর ভূমি হিসেবে খ্যাত। এই উপজেলার ৩নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরভাঙ্গা চরপোড়ামুখী গ্রামের কৃষকরা তাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরেই এখানে কৃষি ফসল ফলান। বর্তমানে ওই গ্রামের কৃষকরা তাদের মালিকানাধীন ৪ হাজার একর কৃষি জমিতে চাষাবাদ করছে। এই বিপুল সংখ্যক ফসলি জমাতে চাষাবাদে পানি প্রবাহের জন্য একটি ছোট্ট খাল রয়েছে। গ্রামের প্রায় ৭ হাজার পরিবারের সুবিধার্থে এই খালটি সরকারি বরাদ্দের খনন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবছর হঠাৎ করেই ওই গ্রামের পূর্ণচন্দ্র চরণ মহাজনের ছেলে শ্যামল চন্দ্র মহাজনসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধা প্রদান করছে। এতে করে বর্তমানে কৃষকরা যেমন পানির জন্য হাহাকার করছে, তেমনি ভাবে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হলে পানিতে ডুবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবার আশংঙ্কা করছে। এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল হাওয়ায় বোরো, ইরিগেশন, ডাল মরিচ বাদাম ও পান চাষের জন্য পানি প্রবাহ ও নিষ্কাশনের খালটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ।
ভুক্তভোগী কৃষকরা আরো জানান, এই খালটি খননে স্থানীয় চেয়ারম্যান কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সালে পুনঃখননের ব্যবস্থা করেন। এবছরও খাল খননের উদ্যেগ নেয়া হলে তাতে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। তাই খালটি খনন ও অসাধু ব্যক্তি দের হাত থেকে পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।
এ বিষয়ে ৩নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাস্টার জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার শত শত পরিবারের সুবিধার্থে এই খালটি কয়েক বৎসর পূর্বে পুনঃখনন ও রাস্তার মধ্যে কালভার্ট নির্মাণ করেছি। খালটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কিছু সংখ্যক লোক পানি নিষ্কাশনের বাধা প্রদান করছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এছাড়াও কৃষকরা নির্বাহি অফিসার ও থানা লিখিত অভিযোগ করেছে বলে আমি অবগত হয়েছি।
এ বিষয়ে হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুব মোল্লা জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। গ্রামের কৃষকদের পক্ষ থেকে হাইমচর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর যে দরখাস্ত করা হয়েছে তার একটি অনুলিপি আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রায় ৫ বছর আগে কৃষকদের উদ্যোগে ৪০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি জমির পানি সরবরাহের জন্য একটি চ্যানেল তৈরি করা হয়। এটি কোন সরকারি প্রকল্প নয়। তাদের নিজেদের জমির মধ্য দিয়ে তারা চ্যানেল তৈরি করেছে। ব্যক্তি মালিকানা জমি বিধায় এখানে সরকারি কোন প্রকল্প দেওয়া হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু লোক নিজেদের উদ্যোগে চ্যানেলটি সম্প্রসারণের কাজ করলে একটি পক্ষ সেখানে বাধা দেয়। তাদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা উপজেলা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছেন। আর একটি পক্ষ চ্যানেলটি সম্প্রসারণ ও চলমান রাখার দাবি জানাচ্ছে। এ অবস্থায় বিষয়টি আমরা দেখছি। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের অংশ হিসাবে বিশিষ্টজনদের পরামর্শ নিতে প্রথম দফার বৈঠক শেষে এখন চলছে দ্বিতীয় দফার বৈঠক।শনিবার দুপুরে ১টা ৫ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়।
এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে একই স্থানে বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সার্চ কমিটি। ওই বৈঠকে ২১ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেন ১৪ জন।
এদিকে সার্চ কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্রায় আড়াইশর মতো প্রস্তাব জমা পড়েছে।
দ্বিতীয় বৈঠকে বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন- ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল হক, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সম্প্রতি আইন পাশ করেছে জাতীয় সংসদ। আইনে বর্ণিত যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় ৫ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি যাবার পথে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জমে মৃত্যু হয়েছিল যে সাতজন বাংলাদেশির – তাদের মরদেহ এখন দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
মৃতদের একজন জয় তালুকদারের দেহ ১০ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইতালি থেকে পাঠানো হবে, আর তা ঢাকায় এসে পৌঁছাবে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোররাতে।
এছাড়া কামরুল হাসান বাপ্পির মরদেহ ১১ই ফেব্রুয়ারি ইটালি থেকে পাঠানো হবে এবং তা ঢাকায় এসে পৌঁছবে ১৩ই ফেব্রুয়ারি।
‘কথিত বাংলাদেশি’ ও নিন্দার ঝড়
অবৈধভাবে ইটালি যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু ঠাণ্ডায় জমে মৃত্যুর ঘটনাটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রতি বছর বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ
তাদের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে আসার পর রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রথমে দায়িত্ব নিতে চায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইটালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল – তাতেও নিন্দার ঝড় উঠেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
সাত বাংলাদেশির ঠাণ্ডায় জমে মারা যাবার খবরটি গণমাধ্যমে আসে গত ২৫শে জানুয়ারি। ২৮শে জানুয়ারি রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৃতদের ‘কথিত বাংলাদেশি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
অথচ ইটালির ল্যাম্পাডুসার মেয়র সালভারোতে মারতেল্লো ঘটনার পরপরই বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছিলেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান এবং যথোপযুক্ত করণীয় নির্ধারণের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ২৬শে জানুয়ারি দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কর্মকর্তা মো. এরফানুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি দল ল্যাম্পাডুসা দ্বীপে পৌঁছায়।
কথিত বাংলাদেশি শব্দটি তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় ইটালি-প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এমন ভাষা ব্যবহারের কারণে দূতাবাসের কড়া সমালোচনা করেন তারা।
এ বিষয়টি নিয়ে যারা বেশ সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ইটালি-প্রবাসী সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশি মারা যাবার খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পরে দূতাবাস বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে চায় না।
মি. আলীর অভিযোগ হচ্ছে, দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলোকে এমনিতেই কোন গুরুত্ব দেয় না।
“প্রবাসীদের তারা অবজ্ঞার চোখে দেখে। এই ‘কথিত বাংলাদেশি’ লেখার মাধ্যমে সে বিষয়টির প্রতিফলন হয়েছে।”
‘কথিত বাংলাদেশি’ হিসেবে বর্ণনা করে দূতাবাস তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন মি. আলী।
“ইটালির স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া নৌকা থেকে আরো অনেক বাংলাদেশি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল। তারাও মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাহলে দূতাবাস কেন তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলো?”
“কথিত বাংলাদেশি লেখার পরে বিষয়টা ভাইরাল হয়ে যায়। ইটালিতে বসবাসকারী হাজার হাজার বাংলাদেশি ফেসবুকে বিষয়টির নিন্দা করেছে।”
ঘটনার চারদিন পরে অর্থাৎ ২৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাত বাংলাদেশির নাম পরিচয় দিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
সেখানে জানানো হয়, রোম দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর এরফানুল হক এর নেতৃত্বে দুই সদস্যদের প্রতিনিধি দল নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া অন্যদের সাথে কথা বলেন। ইটালির ল্যাম্পাডুসা দ্বীপে অবস্থিত ক্যাম্পে ইটালি পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, মৃতদেহের সাথে সনাক্তকারী কোন ডকুমেন্ট না থাকায় সনাক্তকরণে জটিলতা দেখা দেয়।
ঘটনার ১০ দিন পরে ইটালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান সিসিলিতে যান। সেখানে গিয়ে মৃতদের কফিনের সামনে দাঁড়ানো রাষ্ট্রদূতের ছবি প্রকাশ করা হয় দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে।
‘কথিত বাংলাদেশি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হলো, সেটি নিয়ে দূতাবাসের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের সাথে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, প্রথম দিকে যখন পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি তখন ইংরেজি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘রিপোর্টেড বাংলাদেশি’ বলা হয়েছিল, যেটি বাংলায় লেখা হয়েছিল ‘কথিত বাংলাদেশি’।
মাদারীপুর জেলার পিয়ারপুর গ্রামের জয় তালুকদারের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। এলাকায় তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গ্রামের আরো অনেক মানুষকে তিনি ইটালি যেতে এবং যাবার পর রাতারাতি তাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আসতে দেখেছেন।
একারণে জয় তালুকদারের মনে ইটালি যাবার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। তার বাবা পলাশ তালুকদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, জায়গা-জমি বিক্রি করে এবং বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আট লাখ টাকা জোগাড় করেন ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য।
গত ২৮শে নভেম্বর ঢাকা থেকে দুবাই যান জয় তালুকদার। এরপর দুবাই থেকে লিবিয়া। লিবিয়ায় গিয়ে একমাস বাইশ দিন অপেক্ষা করেন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢোকার জন্য।
জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে আরো ২৮০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর সাথে ইতালি যাবার জন্য নৌকায় ওঠেন জয় তালুকদার। কিন্তু তার আর ইটালিতে পৌঁছানো হয়নি।
নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইটালিতে যাবার ঝুঁকি কতটা তা জানতেন তারা, কিন্তু সেটি তাদের থামাতে পারেনি।
পলাশ তালুকদার বলেন, তার ছেলের সাথে তাদের আত্মীয়-স্বজন আরো পাঁচজন ছিলেন। একমাত্র তার ছেলেই মারা গেছে, বাকিরা ইটালি পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।
“এইভাবে অনেক মানুষ যাইতেছে। মনে করছি যাইব গা। এহন একটা একসিডেন্ট হইয়া গেছে। সব কপালের দোষ,” বলেন পলাশ তালুকদার।
এলাকার যে দালাল অবৈধ পথে ইটালিতে পাঠানোর আয়োজন করেছিলেন – তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই পলাশ তালুকদারের। সূত্বির: বিবিসি বাংলা
অষ্টম ধাপে ৫ জেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্মসচিব ও জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
ইসি জানায়, অষ্টম ধাপে ৫ জেলার ৮টি ইউপির ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলে ভোলার লালমোহনের বদরপুর ইউপি নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া যেসব ইউপিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকার কেরানীগঞ্জের তারাগঞ্জ, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শ্রীফলতরী, নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার সুখচর ও নলচিরা, সুবর্ণচরের চর জব্বর ও চর জুবলি ও ঝিনাইদহের শৈলকুপার নিত্যানন্দপুর। এসব ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২০০ জনের মতো প্রার্থী রয়েছেন।
ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য নির্বাচনী এলাকায় ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। কয়েকটি দুর্গম চরাঞ্চলে ভোটের দিনের জন্য নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আছে বাড়তি সতর্কতা।
এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শুরু হয় গত বছরের ২১ জুন। প্রথম ধাপে দুই দফায় ৩৬৯ ইউপিতে এবং দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৩ ইউপিতে ভোট হয়। তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউপিতে, চতুর্থ ধাপে ৮৩৬, পঞ্চম ধাপে ৭০৭, ষষ্ঠ ধাপে ২৯১ এবং সপ্তম ধাপে ১৩৮ ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে।
খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা সোমবার সকালে খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুষ্পমাল্য অর্পণের সময় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন পর্যায়ে পাঁচজন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুইজন একত্রে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নিতে পারবেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা শিশু একাডেমি ও সরকারি গণগ্রন্থাগার আলাদাভাবে শিশুদের জন্য চিত্রাংকন, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা তথ্য অফিস নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। ঐদিন বাদজোহর ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল মসজিদে দোয়া এবং সুবিধাজনক সময়ে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে একই স্থানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্রে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) সুশান্ত সরকার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) সোনালী সেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবিরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এখন পর্যন্ত কয়টি এবং কোন কোন রাজনৈতিক দল নাম প্রস্তাব করেছে এবং ব্যক্তিগতভাবে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব করেছেন কি না- তা সুনির্দিষ্টভাবে এখনো জানা যায়নি।
জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব শফিউল আজিম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, নাম আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কয়টি দল নাম পাঠিয়েছে, সেটা বলা ঠিক হবে না। কারণ পরে সংখ্যাটা ঠিক হবে না। তবে বৈঠকের পর জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গত রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে সার্চ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রায় তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যরা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেজন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য নামের প্রস্তাব চাইবে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি।
পরে এদিন রাতেই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নাম প্রস্তাব করতে বলেছে সার্চ কমিটি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব শফিউল আজিমের স্বাক্ষরে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনে বর্ণিত যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য দশজন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবে প্রত্যেক দল। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সেই তালিকা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া বা ইমেইল (gfp_sec@cabinet.gov.bd)করা যাবে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ আগ্রহী হলে তিনিও নিজের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তাদেরও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।
সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল আজিম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ৬ সদস্যের ছোট কমিটি। তাই যেকোন সময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। অর্থ্যাৎ সার্চ কমিটির সভাপতি ফোন করে যখন বৈঠকের কথা বললেন, সেই সময়েই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই কমিটি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নাম সুপারিশ করবেন। সেই নাম থেকে ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। আর সেই ইসির পরিচালনায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হবে।