রাণীশংকৈলে নাসিরুল নির্যাতন মামলার মূল আসামি গ্রেফতার

মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল, প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি গ্রামের যুবক নাসিরুলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলার মূল আসামি করিমুল ইসলাম(৩৫)কে ২৬ সেপ্টেম্বর রবিবার গ্রেফতার

করেছে পুলিশ।  রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের সহযোগিতায় করিমুলকে বিকেল ৫টায় ঠাকুরগাঁও শহর থেকে গ্রেফতার করে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আরেক আসামি করিমুলের

স্ত্রী সেলিনা আকতার(৩০)কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে নাসিরুল (২১)একই এলাকার করিমুল ইসলামের মেয়ে কেয়ামনি(১৮)কে প্রেম করে বিয়ে করায় গত ২০ সেপ্টেম্বর করিমুল ও তার পরিবারের লোকজন নাসিরুলকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। এ নিয়ে নাসিরুলের বাবা থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। গুরুতর অসুস্থ নাসিরুল বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন আছে।

রাণীশংকৈল থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল করিমুল গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ “Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

১৯৫৮ সালে সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্যে যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও যশোর সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলাধীন ডুমুরিয়া,ফুলতলা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫৪ টি বিলের  ১ লক্ষ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে ও ২৭ টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নেহালপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী টেকা- মুক্তেশ্বরী নদীর ভবদহ নামক স্থানে তৈরি হয় স্লুইসগেট। ফলে নদীগুলোর উৎস মূল পদ্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সাগর বাহিত পলি উজানের দিকের হরি-টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা-হরিহর-বুড়িভদ্রা নদী  ও এর সাথে সংযুক্ত খালের তলদেশে পড়ে উঁচু হতে থাকে এবং পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ও কুলটিয়াসহ এলাকায় ১৯৮২ সালে প্রথম জলাবদ্ধতার  সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজসহ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যা আজও বিরাজমান।

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ “Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ঐ এলাকার বিলগুলোতে  সারাবছরই পানি জমে থাকে এবং ২৭ টি বিল বছরের পর বছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে।ফলে অত্র জনপদের  কৃষি, শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ সকল মৌলিক অধিকার ভেঙে চৌচির  হয়ে গেছে। যা সারা বাংলাদেশে ভবদহের দুঃখ হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ৮০ গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক জনগন আবারও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ঠিক এরকম একটি মুমূর্ষু সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর জেলাধীন ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ” Elevated Flow” পাইলটিং প্রকল্প নিয়ে  যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স  রুমে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

উক্ত  সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ রফিকুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব)  মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম তাহমিদুল ইসলাম, যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাওহিদুল ইসলাম।

কিন্তু ভবদহ নিয়ে নতুন উদ্ভাবনী “ Elevated  flow”  বা “উত্তোলিত প্রবাহ” কার্যক্রম নিয়ে উপস্থানের শুরুতেই তোপের মুখে পড়ে আয়োজক  পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

কারণ কয়েক দশক ধরে ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন যাবত  নদী ও খাল খনন করা হয়েছে কিন্তু তাতে নদীর নাব্যতা হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এরপরে গতবছরে শুরু হয়েছে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে বৃহৎ এলাকার জলাবদ্ধ দূরীকরণের জন্য একটি অবাস্তব, কল্পনাপ্রসূত বালখিল্য প্রকল্প।ফলে বিল থেকে পানি তো অপসারিত হয়নি বরং নতুন করে কৃষি আবাদ সম্ভব হয়নি চারশত হেক্টর জমিতে। আর তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি জনগণের আস্থা তালানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

উক্ত সেমিনারে বক্তরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৪০ বছর ধরে ভবদহ এলাকার জনগণকে  গিনিপিগের ন্যায় কেটে ছিড়ে বৈজ্ঞানিকের ন্যায় পরীক্ষা নিরীক্ষাই করছে কিন্তু ফলাফল শূণ্য। তাদের এই তামাশার কারণে ভবদহ এলাকার ২ শত গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক লোক জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়ে বাস্তুহারা হওয়ার উপক্রম।

বক্তরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সকল  কল্পনা প্রসূত হরিলুট মার্কা প্রকল্পের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের জন্য সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং আগামী ডিসেম্বর মাসের আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম ( টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু এবং পানি নিষ্কাশনে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত ও সংস্কারের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব)  মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, সরকারের ডেল্টা প্লানে টিআরএম বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে বিধায় টিআরএম বাতিল হবে না।আমরা জনগণের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূরত্ব দূর করতে উদ্যোগী হয়েছি।আগামীতে যে প্রকল্পই নেওয়া হবে সেটি স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। সময়ই বলে দিবে কথার সাথে বাস্তবতার কতটা মিল আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে”। তাই আর নতুন নতুন উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের কোন আস্থা নেই। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন প্রকল্প Elevated Flow অঙ্কুরের বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম।আর তাই স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন , নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করে বিশাল এই জনপদের জীবন মান রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নড়াইলের কালিয়ায় এক যুগ পর কমিটি পেল খাশিয়াল ইউনিয়নবাসী !

 

ভোলায় গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

//নিজস্ব প্রতিনিধি//

মাদকদ্রব্য চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে ভোলা জেলা পুলিশের বিশেষ বিশেষ  চৌকস টীম।

তারই ধারাবাহিকতায় ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে  সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত১ঃ০৫ ঘটিকায় বোরহানউদ্দিন থানার চরগাজীপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোস্তফা মাঝির ঘরে অভিযান পরিচালনা করে ১ কেজি ৫ শত গ্রাম গাঁজা ও ৭৩ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী ১. মোঃ মোস্তফা মাঝি(৫৩), পিতা- মৃত নজির আহমেদ মাঝি, গ্রাম- চরগাজীপুর, থানা- বোরহান উদ্দিন, জেলা- ভোলা ও ২. মোঃ সোহাগ সওদাগর (৩৫), পিতা- শাহজাহান সওদাগর, গ্রাম- দক্ষিণ কুতুবা, থানা- বোরহানউদ্দিন, জেলা- ভোলাদের গ্রেফতার করেন।

 

উল্লেখিত বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার ‘Presidency of Hope’ (প্রত্যাশার নেতৃত্ব) টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৬তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি Volkan BOZKIR কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখসারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাঁদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র’ মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে।”

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছি।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশি দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে।

আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১’ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।

এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি :

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।

তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক Intergovernmental Panel on Climate Change-এর ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র – কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (COP) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁরাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহমারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।

শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

সূত্র:বাপ্র.

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ, অসচ্ছল ও অসহায় ক্রীড়াসেবী এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে :সালাম মূশের্দী

 

খুলনায় চালু হচ্ছে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খুলনায় পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। এছাড়া সকল বিভাগে চালু হবে বিটিভির কেন্দ্র। এর ফলে শিল্পসাহিত্যর বিকাশ হবে এবং নতুন নতুন প্রতিভা আত্বপ্রকাশ করবে। একই সাথে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। নির্বাচনের আগেই খুলনায় বিটিভি পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক তহবিল থেকে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সকল মতাদর্শের সংবাদকর্মিরা প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পাবে।

এ ক্ষেত্রে মতাদর্শ বিচার বিবেচনা হবে না। সরকার প্রধান সাংবাদিক বান্ধব। এজন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠন করেছে সরকার। যা অন্য কোন দেশে হয় নি। এর আগে সাড়ে তিন হাজার সাংবাদিককে সাড়ে তিন কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এবারে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দিয়েছেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টে। দুস্থ ও চাকুরিচ্যুতদের এ সাহায্য দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক নেতাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমি নিজে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিনি। এটা সম্পূর্ন তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, এ সরকারের পক্ষ থেকে অনেক ধরণের ভাতা দেয়া হচ্ছে। যা অন্য দেশে নজির নেই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা ও গর্ভকালীন ভাতা।

জিডিপি গ্রোথ প্রসঙ্গে মন্ত্রি বলেন, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ তিন নম্বরে। যার ফল স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে জিডিপি পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ বছর দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫০ ডলার, যা ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে ৭৫ জন সাংবাদিককে দশ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। এর আগে মন্ত্রী বিটিভির খুলনা কেন্দ্র, বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী

 

সরকার গ্রামকে শহরে রূপ দিতে নানা ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে: সালাম মূশের্দী এমপি

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশের্দী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহর থেকে গ্রামের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। গ্রামে শহরের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করছে। আমার বিশ্বাস এক সময় মানুষ আর শহরমুখী হবে না। গ্রামে শহরের সব সুবিধা তৈরি হবে। সরকার গ্রামকে শহরে রূপ দিতে নানা ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অনুষ্ঠান দূর্গাপূজা অনু্িঠত হবে। পূজায় কোন ধরনের বিশৃংখল না হয় তার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এটা ধারণ করে আমাদের চলতে হবে। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টায় রূপসা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন শৃংখলা ও সমস্বয় কমিটির সভায় জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. সাজ্জাদ হোসেন,ভাইচ চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ যোবায়ের, ফারহানা আফরোজ মনা, থানা অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান। এছাড়া বক্তৃতা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন পারভিন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহিরা খাতুন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, বন কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ইইপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, আ. মজিদ ফকির, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল, জাহাঙ্গির শেখ, মাওলানা শফিউদ্দিন,উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক শেখ, ইউপি সদস্য রিনা পারভিন, আজিজুল হক কাজল।

এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২১-২২ অর্থ বছরের খরিপ মৌসুমে ইচ্চ ফলনশীল পাট বীজ অর্জনের জন্য বিনামূল্যে নাবী পাট বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।এসময় ২০জন কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হ য়।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত: ১ চিকিৎসককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড

 

প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি পুরস্কার মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে: কাদের

জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সবার জন্য শান্তি-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্যের জন্য এই বিশ্ব স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই অনন্য অর্জন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পূর্ণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রিস্যাক্স ‘জুয়েল ইনদি ক্রাউন অব দি ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি জানান, অর্থনীতিবিদ জেফ্রিস্যাক্স বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলাকালে ও এসডিজি অর্জনে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্য তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ওবায়দুল কাদের বিশ্বপর্যায়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগসহ দেশের সব মানুষের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের জবাবে বলেন, দেশের মানুষ ভালো আছে বলেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা ভালো নেই।

তিনি বলেন, এ জন্যই বিএনপি মহাসচিব কাল্পনিক অভিযোগ করে বলছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে দেশের মানুষ করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে ভালো আছে বলেই বিএনপি নেতাদের কষ্ট হচ্ছে।

ক্ষমতার মোহে অন্ধ, মিথ্যাচার আর বিষোদগারকে যারা রোজনামচায় পরিণত করেছে, তারা মানুষের ভালো থাকা পছন্দ করবে না— এটিই স্বাভাবিক উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি মানসিকতার কারণে বিএনপিই নিজেদের ভালো থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে জীবন এখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যদিকে বিএনপি গৃহকোণে বসে নসিহত করছে। তাদের এমন আচরণ একদিকে মানুষের এগিয়ে চলার উদ্যমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অপরদিকে নিজেদের হতাশাকে জাতির সামনে স্পষ্ট করছে।

সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ভাঙা রেকর্ড জনগণ গত ১৩ বছর ধরে শুনে আসছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঘরে বসে বিএনপি কৃষক, শ্রমিক আর সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না দেখায়।

কৃষক নাকি উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায় না— বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু যা করেছেন, সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে শেখ হাসিনা উৎপাদন, পণ্যমূল্য, পণ্যবাজারজাতকরণ, উপকরণ সরবরাহ এবং ঋণ ও প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে দেশে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

বিএনপির শাসনামলে উৎপাদনের জন্য সার চেয়ে পাননি কৃষকরা; বরং কৃষকদের বুকে গুলি চালিয়েছিল বিএনপি এসব স্মরণ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কৃষকরা পায়নি প্রয়োজনীয় সাপোর্ট, ভর্তুকি অথচ আজ বিএনপি নেতারা কৃষকদের জন্য মেকি দরদ দেখাচ্ছে।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

এই সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশে ঝড়ের আশঙ্কা

এই সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশে ঝড়ের আশঙ্কা

কিছুদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এ কারেণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বভাসে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগের কিছু জায়গা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশে অবস্থান করছে। এছাড়া লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

আগামী তিন দিনের মধ্যে বা এ সপ্তাহের শেষে সারাদেশে বৃষ্টি বা বজ্র বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল ছাড়া অন্যান্য বিভাগের বৃষ্টির প্রবণতা কম ছিল। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ভোলায়, ২১ মিলিমিটার। ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ জগন্নাথপুর উপজেলার উদ্যোগে ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত

 

অপপ্রচার ছড়ানো ‘বাকস্বাধীনতা’ নয়: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

দেশে অনেক মানুষ আছে যারা আওয়ামীলীগ সরকারের সব সময় সমালোচনা করে। হ্যাঁ, মানলাম সমালোচনা করতেই পারে, ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু সমালোচনা আর অপপ্রচার কি এক জিনিষ?

আপনি দেশ ও সরকার নিয়ে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন নিয়মিত ভাবে, যার কোন ভিত্তি নেই। আমরা সেটার উত্তর দিলে আপনারা বলছেন সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না! আগে কোনটা সমালোচনা আর কোনটা গুজব তা ভাল করে বুঝে আসেন।

আমরা আগেও দেখেছি মিথ্যা অপপ্রচার গুজব সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে হাতে গোণা কিছু লোক, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তথ্য প্রমাণ ছাড়া কেউ মিথ্যা ,  বানোয়াট কথা বলে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। সেই সাথে দেশের বাইরে বসে যে সব কুলাঙ্গার নিয়মিতভাবে দেশ ও সরকারকে নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাদের দেশে এনে কিংবা বিদেশের মাটিতেই শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই বলেছিলেন  ‘মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া বাকস্বাধীনতা নয়, যে কোনো মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত, মানুষকে আসল ঘটনা জানতে হবে, চুপ করে বসে থাকা যাবে না। দেশ ও বিদেশে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রয়েছে যারা দেশের অগ্রগতি চায় না এবং তারা কখনই চায়নি যে দেশ স্বাধীন হোক। বাংলাদেশ অগ্রগতি দেখে তারা দুঃখ অনুভব করে।

‘তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) বাংলাদেশকে একটি গরীব দেশ এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল রাখতে চেয়েছিল,’এইসব গুজব, অপপ্রচার বন্ধে সকল মুজিব সৈনিককে দেশ ও দশের স্বার্থে এক হতে হবে এবং চোখ কান খোলা রাখতে হবে।

//নিজস্ব প্রকিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

১৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ মেঘনায় নৌ পুলিশের অভিযানে

 

বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদেরকে বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের খাবার বিতরণ

বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের উদ্যোগে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ, দুস্থ রোগীদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং দুপুর দেড়টায় বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিউর রহমান মজুমদার।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম আইয়ুব, অর্থ সম্পাদক লায়ন নাসিমুল আহসান চৌধুরী জুয়েল পিএমজেএফ,  সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওবাইদা আরাফাত, যুগ্ম সম্পাদক নাফিজ মিনহাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ডা. আসিফুল হক, মালেকুজ্জামান রাজু, সাংবাদিক কল্যাণ বড়ুয়া,  সাংবাদিক মিজান বিন তাহের, সাংবাদিক আবু বকর বাবুল প্রমুখ।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘দুস্থ রোগীদের মাঝে বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের খাবার ও অর্থ বিতরণ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয় উদ্যোগ। বাঁশখালীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রাম কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সমিতির উদ্যোগে কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’

।।প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাগেরহাটের রামপালে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম ৯ ইউনিয়ন, বাইনতলায় ইভিএম এ ভোট