জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ইমরান খানের মুখে ভারত, মোদী, মিরজাফর!

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

পাক পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের কারণ জানাতে গিয়ে ইমরানের মুখে এসেছে ‘স্বাধীন বিদেশনীতির’ প্রসঙ্গ।

তাঁর সরকারের স্বাধীন বিদেশনীতি অনেকেরই না পসন্দ। তাই বিরোধীদের কাজে লাগিয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে বিদেশি শক্তি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে এমনটাই অভিযোগ করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর বক্তৃতায় একাধিক বার এসেছে ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা।

এমনকি, চক্রান্তের উদাহরণ দিতে গিয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে কী ভাবে ইংরেজরা মিরজাফরকে কাজে লাগিয়েছিল, সে প্রসঙ্গেরও অবতারণা করেছেন তিনি। পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পরাজয় কী ভাবে বিদেশি শক্তির পথ খুলে দিয়েছিল, সে কথাও পাক আমজনতাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমরানের মুখে এসেছে   স্বাধীন বিদেশনীতির প্রসঙ্গ। তাঁর সেই পদক্ষেপ যে ভারত-বিরোধী নয়, সে কথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। ইমরান বলেন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের বিদেশনীতি স্বাধীন হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা কারও শত্রু। তার মানে এই নয় যে, আমরা আমেরিকা-বিরোধী, ভারত-বিরোধী বা ইউরোপ-বিরোধী হব।’’

ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর তিনি কী ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী বিরোধীরা দেশের সার্বভৌমত্ব বেচার চক্রান্ত করছে অভিযোগ তুলতে গিয়ে কৌশলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দিকে ইশারা করেছেন ইমরান। এক ভারতীয় সাংবাদিকের বইয়ের উদাহরণ তুলে ইমরান বলেছেন, ‘‘ওই বইয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে লেখা আছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নেপালে গোপন বৈঠক করেছেন। ঘটনাচক্রে, ইমরানের বিরুদ্ধে পাক পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)। বিরোধী জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে নওয়াজের ভাই শাহবাজের নাম। আনন্দবাজার

কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন, ‘গার্লফ্রেন্ড’-এর জন্য ১৪ বছর অটো চালান ইনি

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

চোখেমুখে একটা বিস্ময়ের ভাব দেখে অটোচালক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিকিতাতে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ভাবছেন তো, এত ভাল ইংরেজি এক জন অটোচালক কী করে বলছে!’ এমন প্রশ্ন উড়ে আসবে ভাবেননি নিকিতা। অটোচালক তাঁর মনের কথাটা পড়ে ফেললেন কী ভাবে?

‘প্লিজ কাম ইন ম্যাম, ইউ ক্যান পে হোয়াট ইউ ওয়ান্ট!’

বৃদ্ধ অটোচালকের সাবলীল ইংরাজি শুনে বেশ অবাকই হয়েছিলেন নিকিতা। চোখেমুখে একটা বিস্ময়ের ভাব দেখে অটোচালক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তরুণী যাত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ভাবছেন তো, এত ভাল ইংরেজি এক জন অটোচালক কী করে বলছে!’ এমন প্রশ্ন উড়ে আসবে ভাবেননি নিকিতা। অটোচালক তাঁর মনের কথাটা পড়ে ফেললেন কী ভাবে? কথাটা ভেবে একটু অস্বস্তিও হল তাঁর।

অটো চলা শুরু হল। তার পর সেই ‘ইংলিশ স্পিকিং’ অটোচালকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট কী ভাবে যে কেটে গেল টেরই পেলেন না নিকিতা। নেটমাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তিনি।

নিকিতা আইয়ার। বেঙ্গালুরুর চাকুরিজীবী তরুণী। দিন কয়েক আগের ঘটনা। সে দিন সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য উবরের অটোতে চেপেছিলেন নিকিতা। কিন্তু যানজটের কারণে আটকে পড়েছিলেন। এ দিকে অফিসের সময় হয়ে আসছিল। ফলে একটা দুশ্চিন্তা তাড়া করছিল নিকিতাকে। রাস্তায় চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীকে দেখে প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ অটোচালক— ‘কোথায় যাবেন?’ অটোচালকের প্রশ্নে সম্বিৎ ফিরতেই নিকিতা জানান, দ্রুত অফিস পৌঁছনো দরকার। এমনিতেই বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে।

এর পরের বিষয়টির জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না নিকিতা। তাঁর উত্তর শুনে বৃদ্ধ অটোচালক সাবলীল ইংরেজিতে বললেন, ‘‘প্লিজ কাম ইন ম্যাম, ইউ ক্যান পে হোয়াট ইউ ওয়ান্ট!’ এক জন অটোচালকের মুখে এত সুন্দর ঝরঝরে ইংরাজি শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন নিকিতা। নেটমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘অটোচালকের এত নম্র ব্যবহার এবং তাঁর এত সাবলীল ইংরাজি শুনে আমি থ হয়ে গিয়েছিলাম। তাঁর কথার উত্তরে শুধু বলেছিলাম— ‘ওকে’। তার পরের ৪৫ মিনিট যে কী ভাবে কেটে গেল এবং ওই সময়ে এত সমৃদ্ধ হলাম তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’

অটোচালক! এত সাবলীল ইংরাজি!— এই কথাগুলোই তাঁর মনের মধ্যে তোলপাড় করছিল। কৌতূহলটাও নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারেননি নিকিতা। আর সেই কৌতূহল নিরসনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অটোচালককে তাঁর প্রথম প্রশ্ন, ‘আচ্ছা, আপনি এত ঝরঝরে ইংরেজি বলেন কী ভাবে?’

দু’জনের কথোপকথনের সফর শুরু হল এখান থেকেই। অটোচালক এ বার নিজের জীবনকাহিনির ডালি মেলে ধরলেন নিকিতার সামনে। যত তাঁর কাহিনি শুনছিলেন, নিকিতার অবাক হওয়ার বহর যেন ততই বাড়ছিল। অটোচালক বলতে শুরু করলেন— ‘আমার নাম পাতাবি রমন। এমএ, এমএড করেছি। ইংরেজিতে অধ্যাপনা করেছি মুম্বইয়ের একটি নামী কলেজেও।’ এ পর্যন্ত বলে একটু থেমেছিলেন তিনি। নিকিতা সবে প্রশ্ন করতে যাবে, ঠিক তার আগেই অটোচালক তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করে আরও এক বার যেন ‘অস্বস্তি’তে ফেললেন। এ বারও তিনি বললেন, “জানি, আপনার পরের প্রশ্নটা কী হতে চলেছে। নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করবেন কেন আমি অটো চালাচ্ছি, তাই না?” নিকিতা শুধু ঘাড়টা নাড়ালেন এবং বুঝিয়ে দিলেন যে, ঠিক এই প্রশ্নটাই করতে চাইছিলাম। যেটা আপনি যথারীতি আগেই বুঝতে পেরেছেন!

ফের অটোচালক বলতে শুরু করলেন— ‘কর্নাটকে কাজ পাইনি। তাই চলে গিয়েছিলাম মুম্বইয়ে। সেখানে একটি কলেজে লেকচারারের চাকরি পাই।’ এর পরই তাঁর গলায় আক্ষেপের এবং একটা চাপা ক্ষোভের সুর টের পেয়েছিলেন নিকিতা। অটোচালক আবার বলা শুরু করলেন— ‘কর্নাটকের কলেজগুলিতে যখন চাকরির জন্য আবেদন করি, প্রত্যেক জায়গায় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আমি কোন জাতের। বলেছিলাম আমার নাম পাতাবি রমন। এ কথা শুনে ওঁরা আমাকে বলেছিলেন, ঠিক আছে আপনাকে পরে জানাব।’ কলেজগুলি থেকে এ ধরনের উত্তর পেয়ে বিরক্ত আর হতাশায় কর্নাটক ছেড়ে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন রমন। নিজের রাজ্য মুখ ফিরিয়ে নিলেও মুম্বই কিন্তু মুখ ফেরায়নি। এখানেই পওয়াইতে একটি নামী কলেজে অধ্যাপনার কাজ পান। ২০ বছর ধরে অধ্যাপনা করে অবসরের পর ফের বেঙ্গালুরুতে ফিরে যান রমন।

তিনি বলেন, “শিক্ষকদের বেতন ভাল ছিল না। খুব বেশি হলে ১০-১৫ হাজার টাকা। যে হেতু বেসরকারি কলেজে কাজ করতাম, তাই পেনশনও নেই। কিন্তু পেট তো চালাতে হবে।” এ বার একটু রসিকতার ছলেই বলেন, “বাড়িতে আবার আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। অটো চালিয়ে দিনে ৭০০-১৫০০ টাকা আয় করি। ওতেই আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডের দিব্যি চলে যায়।” গার্লফ্রেন্ডের কথা শুনে নিকিতা হেসে ওঠায়, রমন বলেন, “আসলে স্ত্রীকে আমি গার্লফ্রেন্ড বলেই ডাকি।”

আপনার সন্তান? এ প্রশ্ন শুনে রমন সহাস্যে বলেন, “আমাদের একটি ছেলে। ও আমাদের ঘর ভাড়া দিয়ে দেয়। সাহায্যও করে। কিন্তু আমরা সন্তানের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চাই না। ওরা ওদের মতো জীবন কাটাক। আমরা আমাদের মতো।”

নিকিতা সব শেষে নেটমাধ্যমে লেখেন, ‘মিস্টার রমনের সম্পর্কে যতই প্রশংসা করা যায়, শব্দ যেন ততই কম পড়ে যায়। এমন একটা মানুষের সঙ্গে আলাপ হল, জীবন সম্পর্কে যাঁর কোনও অভিযোগ নেই, কোনও অনুতাপ নেই। এমন মানুষগুলির কাছ থেকে যেন অনেক কিছু শেখার আছে।’ আনন্দবাজার

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

রাশিয়া কখনই ইউক্রেনের জন্য আপস করবে না: কাদিরভ

 

ঋতুপর্ণাকে উঠতে দিলনা বিমানে: শুধু শুধু ৪০ মিনিট তর্ক করল

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ভোরের বিমান। বোর্ডিংয়ের সময় ভোর ৪.৫৫ মিনিট। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত পৌঁছেছেন ৫.১২ মিনিটে। টানা ৪০ মিনিট ধরে অনুরোধ, উপরোধ। তার পরেও তাঁকে বিমানে উঠতে দিল না প্রথম সারির একটি বিমান সংস্থা! টলিউডের প্রথম সারির নায়িকার গন্তব্য আমদাবাদ। সেখানে দিন-রাতের শ্যুট করতেই তাঁর এই যাত্রা। পুরোটাই মাঠে মারা গেল বিমান কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে! এমনই অভিযোগ নায়িকার।

কী হয়েছে পর্দার ‘পারমিতা’র সঙ্গে? ঋতুপর্ণা জানিয়েছেন, আমদাবাদের বিমান ধরার জন্য যাত্রীদের গেট নং ১৯-এ বোর্ডিংয়ের সময় ভোর ৪.৫৫ দেওয়া হয়েছিল। তিনি পৌঁছন ৫.১০ থেকে ৫.১২ মিনিটের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানানো হয়, বোর্ডিং গেট অনেক ক্ষণ আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে! এবং তাঁকে দেখতে না পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নাকি তাঁর নাম ঘোষণাও করেছেন কর্তৃপক্ষ। ফোনেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নায়িকার দাবি, তাঁর কাছে ফোনে কোনও ফোন আসেনি।

এ দিকে, সঠিক সময়ে শ্যুটিংয়ে না গেলে প্রযোজকের সমস্যা হবে। বন্ধ হয়ে যাবে শ্যুট। তাই সেই সময় তিনি ক্রমাগত বিমানবন্দরের কর্মীদের তাঁকে বিমানে উঠতে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। এ ভাবে টানা ৪০ মিনিট তাঁর সঙ্গে কথা হয় কর্মীদের। কিন্তু নায়িকার দাবি, তাঁর সমস্যা কেউ বুঝতেই চাননি! বিমান ধরতে না পারার কষ্টে কেঁদেও ফেলেন অভিনেত্রী। তবু কোনও হেলদোল দেখা যায়নি কর্মীদের।

অথচ এই বচসা চলার সময়েই ঋতুপর্ণা দেখতে পান বিমানটি তখনও দাঁড়িয়ে! বিমানে ওঠার সিঁড়িও খুলে নেওয়া হয়নি! অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘মাত্র ৫০ পা দূরে বিমান দাঁড়িয়ে। আমি দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু যেতে পারছি না। অথচ আমার বোর্ডিং পাস থেকে শুরু করে সিট নম্বর সব মজুত। কিছু দিন আগেই আমায় সংস্থার পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পাসপোর্টও দেওয়া হয়েছে। নয় নয় করে বেশ কয়েক বার এই সংস্থার বিমানে চড়ে যাতায়াতও করেছি। কোনও দিন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি!’’ সূত্র: আনন্দবাজার।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

আর্মেনিয়া দাবি করেছে আজারবাইজান নাগোর্নো কারাবাখ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে

অভিনেতা অভিষেকের মৃত্যু// ইন্ডাস্ট্রি খোলা// ক্ষোভ শুভাশিসের

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

সদ্যই প্রয়াত হয়েছেন টলি ও টেলি ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চ্যাটার্জী (Abhishek Chatterjee)। মাত্র ৫৭ বছর বয়সে সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা। বুধবার রাত ১ টা ৪০ মিনিট নাগাদ নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগ জনিত কারণেই অকালে প্রাণ হারালেন তিনি। স্বভাবতই তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা টলি ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু তারই মাঝে খানিকটা বেশি ভেঙে পড়তে দেখা গেল অভিনেতা শুভাশিসকে (Subhasish Mukhopadhay)। সহকর্মী ছাড়াও অভিষেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল শুভাশিসের।

আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আরও বেশি করে কাছের ছিল তাঁরা। অভিনেতার মৃত্যুর পর জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা শুভাশিস (Subhasish Mukhopadhay) বলেন যে-কিছুদিন আগে তাপস চলে গেল। আর এবার মিঠু। ভীষণ অভিমানী ছিল। তবে সোজা সাপটা মানুষ ছিল। অভিষেকের কথা বলতে গিয়ে একপ্রকার কান্নায় ধরে আসছিল তাঁর গলা। এমনকি এও বলেছেন যে কত কথা মনে পড়ছে।

নব্বইয়ের দশকের বহু ছবিতে প্রসেনজিৎ, অভিষেক ও শুভাশিসের কেমিস্ট্রি নজর কেড়েছে সকলের। এমনকি তাঁদের তিনজনকে টলিপাড়ার ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ বলা হতো। এদিন শুভাশিস পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণায় অনেক কথাই তুলে ধরেন। এমনাকি অভিষেক কতটা রসিক মানুষ ছিলেন তাও জানান। তবে, সবকিছুর পরেও শুভাশিস (Subhasish Mukhopadhay) আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন একটি বিষয়ে। সাক্ষাৎকারেই অভিনেতা বলেন যে শেষবারের মতো তিনি অভিষেককে দেখতে গিয়েছিলেন।

কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। কারণ তাঁর শ্যুটিং ছিল। আর এই প্রসঙ্গেই অভিনেতা খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে-অভিষেকের মৃত্যুর দিনে কি ইন্ডাস্ট্রি এদিনের কাজ বন্ধ করে রাখতে পারতো না? এটুকু সম্মান কি মিঠুর প্রাপ্য ছিল না? এরপরই খানিকটা নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন যে ক্ষমা করবেন। আমি আর কোনো কিছু বলতে পারছি না।

English Dainikbiswa

চাঁদপুরের হাইমচরে ৪০০ কেজি জাটকা ও পিকআপ ভ্যানসহ আটক ২

 

ঘূর্ণিঝড় অশনি বাংলাদেশসহ যেসব দেশে আঘাত হানতে পারে

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে যাচ্ছে। এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অশনি’। সোমবার প্রবল শক্তি নিয়ে এটি ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে আঘাত হানতে পারে।

শনিবার থেকেই ভারতের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্র তীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোর তৎপরতাও আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। রোববারের মধ্যে তা সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে। আর সোমবার সকালের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আছড়ে পড়বে। তার পর উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে তা উত্তর মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ উপকূলে পৌঁছাবে।

যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কোনো প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না। তবে শনিবার থেকেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বৃষ্টি শুরু হবে। রোববার তা আরও বাড়বে। আর সোমবার তা ভারী থেকে অতিভারী আকারে বর্ষিত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। যে কারণে শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হচ্ছে সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রও।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। কাঁচাবাড়িতে যারা থাকেন, তাদেরকে ভারত সরকারের তরফ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আসন্ন জলোচ্ছ্বাসের জেরে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। সূত্র: আনন্দবাজার।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

কুকিং রেসিপি

‘আমরা ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে পারব না’, ন্যাটো দেশ

 

ইউক্রেনের সুমিতে আটকে পড়া ৬৯৪ ভারতীয় পড়ুয়াকেই উদ্ধার করা হয়েছে

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

প্রধানমন্ত্রী মোদী সুমি-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধারে যুযুধান দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সাহায্য চেয়েছিলেন।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বের শহর সুমিতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ৬৯৪ জন ভারতীয় পড়ুয়ার প্রত্যেককেই উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এ খবর জানিয়ে বলেন, ‘‘সোমবার রাতেই সুমি শহর থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের বাসে তুলে পলতাভা শহরে পাঠানো শুরু হয়েছিল। আমি নিজে কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করেছিলাম। আজ ৬৯৪ জনকেই সুমি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’’

বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুমিতে আটকে পড়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের দক্ষিণের শহর পলতোভা থেকে সড়কপথে পশ্চিম সীমান্তের কোনও দেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধে পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে আলোচনা করেছিলেন। সে সময়ই মোদী সুমি-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধারের বিষয়ে যুযুধান দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার রাতে রুশ সেনাবাহিনী সুমিতে হামলা শুরু হওয়ার পরেই সেখানকার ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সুমি স্টেট ইউনিভার্সিটি হস্টেলের পাশেই এক কারখানায় বোমা পড়ায় সেখানকার পড়ুয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বোমা পড়ার পরেই এলাকায় বিদ্যুৎ এবং জলের সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। শীতের মধ্যে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছিল ভারতীয় পড়ুয়াদের।

সুমির কাছে রুশ সীমান্ত। রাশিয়া এ দিক থেকেই আক্রমণ শানাচ্ছে। বিদেশি পড়ুয়ারা দেশে ফিরছেন মূলত ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি অথবা পোল্যান্ড গিয়ে দেশে ফেরার উড়ান ধরছেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে নয়াদিল্লিও ভারতীয় পড়ুয়াদের সেই পথে ফেরানোর কথা ভেবেছিল। কিন্তু পুতিন সরকার প্রস্তাব দেয়, রাশিয়ার পথে দেশে ফেরানো হবে তাঁদের। সেই প্রস্তাব ইউক্রেন নাকচ করে দেওয়ায় পড়ুয়াদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর সোমবার জট কাটল।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ভোট দিতে এসে জানলেন ভোট স্থগিত, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য ২০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছে- জাতিসংঘ

টাকা না পাওয়ায় বীর নিবাসের তালিকা পাঠাননি তালতলীর ইউএনও – অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধাদের

রাশিয়ার বিরুদ্ধেভোট না দেওয়ায় চাপ বাড়ছে ভারতের উপড়: বিবিসি

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি ভারত। পরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল নয়াদিল্লি। চলমান সংকট সমাধানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন ভারতের নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ভারতের ওপর পশ্চিমাদের চাপ বাড়ছে বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট ঘিরে ভারত সরকার এর মধ্যেই নানা বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ইউক্রেনে হামলা নিয়ে রাশিয়ার সমালোচনা করেনি দিল্লি।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। দেশটির সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে মস্কোর পরীক্ষিত বন্ধু দিল্লি। অপর দিকে গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া বিপরীতমুখী বিবৃতি দিচ্ছে। এ থেকেই চলমান সংকট ঘিরে দিল্লির চ্যালেঞ্জ বোঝা যায়। গতকাল শনিবার ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপোভ দিল্লির পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাধীন অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সময়ে এ নিয়ে কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু। তিনি বলেন, ইউক্রেন নিয়ে ভারত যেন স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে থাকলে ভারতের জোটনিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করে চলাটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিবিসি

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ইউক্রেন ইস্যুতে এমন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের যুদ্ধ ঘোষণার শামিল

বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় কর্মীর লাশ উদ্ধার

//নিজস্ব প্রতিবেদক///

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার একটি বাড়ি থেকে এক ভারতীয় নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অরবিন্দ কুমার শ্রীবাস্তব (৪১) নামের ওই ব্যক্তি নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

আজ রোববার দুপুরে মোংলার দিগরাজ এলাকার নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ভাড়া বাড়ির রান্নাঘর থেকে রশিতে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মোংলা থানার উপপরিদর্শক অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, রান্নাঘরের সানসেটের একটি রডের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অরবিন্দের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকানো ছিল। তাঁর শরীরের কোথাও আঘাতের বাহ্যিক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অরবিন্দ নির্মাণাধীন রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ করা পাওয়ার ম্যাক প্রজেক্ট লিমিটেডের হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর চাকরির পিপি নম্বর আর-২২৫৪২০৬। তাঁর বাড়ি ভারতের রাজস্থানে।

পুলিশ জানায়, অরবিন্দের সহকর্মীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তিনি দিগরাজ এলাকার নাসির উদ্দিন হাওলাদারের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। ওই ঘরে তিনি ছাড়া আর কেউ থাকতেন না।

 

ভারতের প্রথম টায়ার কারখানা ডানলপ বিলুপ্তির পথে

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

বাম সরকারের সময় থেকেই ডানলপ নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন সেই কারখানা নিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডানলপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতির পারদের ওঠানামা মোটেই অপরিচিত নয়। এ বার কার্যত ‘হিমঘরে’ চলে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ডানলপ কারখানার নিলাম আসন্ন। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই অনলাইনে নিলামে উঠবে হুগলির সাহাগঞ্জ এবং তামিলনাড়ুর অম্বাত্তুরে ডানলপ কারখানার শাখা। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই বক্তব্য, এর ফলে দেশের প্রথম টায়ার কারখানা ডানলপের অন্তিমযাত্রা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল।

ইতিমধ্যে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কারখানাটির ‘ভ্যালুয়েশন’-এর কাজ শেষ হয়েছে। সূত্রের দাবি, এতে ডানলপের সাহাগঞ্জ শাখার থেকে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য সাড়ে তিনশো কোটি টাকার কিছু বেশি। চারশো কোটি টাকার কিছু বেশি মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে অম্বাত্তুর শাখায়। দু’টি কারখানার ‘প্লান্ট-মেশিনারি’ (অর্থাৎ কারখানার যন্ত্র, আচ্ছাদন বা শেড ইত্যাদি) এই দফায় নিলামে উঠবে। সাহাগঞ্জ শাখায় এই সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি এবং অম্বাত্তুরের তা প্রায় ২ কোটি টাকা। শিল্প পর্যবেক্ষকদের অনেকেই জানাচ্ছেন, ওই অর্থমূল্য থেকেই নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, কোম্পানি, ঋণদাতা, শ্রমিক-স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ২০১২ সালেই ডানলপকে লিকুইডেশনের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু নানা আইনি প্রক্রিয়ার পরে শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে লিকুইডেটরের নোটিস ঝোলে কারখানার গেটে। অর্থাৎ, লিকুইডেটর কারখানার সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা মেটাবে।.

কোম্পানি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই জানান, সাধারণত এই ধরনের নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ‘সিকিওরড ক্রেডিটর’ বা ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বকেয়া মেটানোর কাজে ব্যবহার করার হয়। এ ক্ষেত্রেও হয় তো তেমনই ঘটবে। তবে সূত্রের দাবি, গত বছরের গোড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত লিকুইডেটরের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছিল ডানলপের যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হবে। তখন বহু শ্রমিক ছিলেন, যাঁদের পাওনাগণ্ডা বাকি ছিল। ফলে প্রক্রিয়া ‘বাধাহীন’ ছিল না।

কিন্তু এ বার আগে থেকেই শুরু হয়েছে বকেয়া পাওনাগন্ডা মেটানোর প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে সাহাগঞ্জ কারখানার ৫৪ জন স্থায়ী শ্রমিকের বকেয়া বাবদ প্রায় ২ কোটি এবং অন্য আরও ১১৩ জন শ্রমিকের (ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ার্কমেন) বকেয়া বাবদ প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও কারও পাওনা থেকে যাচ্ছে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।

বাম সরকারের সময় থেকেই ডানলপ নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন সেই কারখানা নিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়াও চালু করেছিল তাঁর সরকার। এখনও কারখানার শতাধিক কর্মীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেয় রাজ্য। ২০১৬ সালে ডানলপকে অধিগ্রহণ করার জন্য বিধানসভায় বিল পাশ করে তৃণমূল সরকার। কিন্তু মমতার অভিযোগ ছিল, বিধানসভায় বিল পাশ করানোর পাশাপাশি কারখানাকে অধিগ্রহণ করতে চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠিও দিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু কেন্দ্র তা করতে দেয়নি। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে সাহাগঞ্জে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, “(কেন্দ্রের উদ্দেশে) নিজেরাও করবেন না, আমাদেরও করতে দেননি।” প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেরও কড়া বিরোধী এ রাজ্য।

তবে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই দফায় তাঁর সরকারের লক্ষ্য হবে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান। আগামী এপ্রিল মাসে রাজ্যে বসবে শিল্প সম্মেলনের আসর। দেশীয় শিল্পই যে সেই সম্মেলনে অগ্রাধিকার পাবে, তাও কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে ডানলপের ‘অন্তিমযাত্রা’ আদৌ কাম্য ছিল কিনা, সেই প্রশ্ন অনেকের মনে উঠেছে।

তবে প্রবীণ আইএএস অফিসারদের অনেকেই জানাচ্ছেন, ডানলপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের সরাসরি কিছু করার ছিল না। তবুও রাজ্য কারখানাটিকে অধিগ্রহণ করার চেষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হয়। আবেদন খতিয়ে দেখে তাতে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে তবে রাজ্য সরকারি ভাবে অধিগ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সে সবই করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না মেলায় তা সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৫ সালে সংসদীয় প্রতিনিধি দল ডানলপের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিল। কারখানাটিকে অধিগ্রহণ করলে যে লাভজনক করে তোলা যাবে, তারাও তখন সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না। সূত্র: আনন্দবাজার

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ইউক্রেনে রুশ বিমানবাহিনীর তৎপরতা কি কমে গেল….!

 

ডিগ্রি যাক-প্রাণ থাক//  কিভ থেকে হাঙ্গেরি সীমান্তে পালিয়ে আসা হাওড়ার রোহন

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

কিভ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন রোহন। ৬ বছরের প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণ শেষ হতে আর মাত্র তিনমাত্র তিনমাস বাকি। তার পর পুরোদস্তুর চিকিৎসক হয়ে যাবেন। সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ শুরু হল যুদ্ধ।

ডাক্তারি ডিগ্রি পেতে আর তিনমাস বাকি ছিল। কিন্তু মাথার উপর যখন উড়ে বেড়াচ্ছে বোমারু বিমান, মুহুর্মুহু শোনা শোনা যাচ্ছে ক্ষেপনাস্ত্র ফাটার শব্দ, তখন আপনি বাঁচলে ডিগ্রির নাম—এই কথাটাই ভয়ঙ্কর সত্যি হাওড়ার বাসিন্দা রোহন আজাদ লস্করের কাছে।

কিভ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন রোহন। ৬ বছরের প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণ শেষ হতে আর মাত্র তিনমাত্র তিনমাস বাকি। তার পর পুরোদস্তুর চিকিৎসক হয়ে যাবেন। সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ শুরু হল যুদ্ধ। থেকে থেকেই আকাশের বুক চিরে তীব্র শব্দ করে উড়ে যাচ্ছে বোমারু বিমান। বেজে উঠছে সাইরেন। তবুও রোহন সহ প্রায় ১৫০ ভারতীয় ছাত্র থেকে গিয়েছিলেন হোস্টেলে। কেন? তাঁর কথায়, ‘‘অফলাইন ক্লাস চলছিল। শহরে যে দিন প্রথম বোমা পড়তে শুরু করে তার আগের দিনও ক্লাসের কাজ জমা দিতে হয়েছে। পরদিন ভোর চারটে পঁয়তাল্লিশ নাগাদ বোমার শব্দে ঘুম ভাঙে। পর পর দশটি বোমার শব্দ শুনতে পাই।’’ কিন্তু তার পরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলছিল ক্লাস যেমন চলছে তেমনই চলবে। রোহন বলে চলে, ‘‘এখানে অনেক নিয়ম একশ শতাংশ ক্লাস করতে হয়। না হলে ডিগ্রি পাওয়া যাবে না। যে হেতু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে বলেনি তাই আমরা যেতে পারছিলাম না।’’

ডিগ্রি যাক-প্রাণ থাক//  কিভ থেকে হাঙ্গেরি সীমান্তে পালিয়ে আসা হাওড়ার রোহন
রেল স্টেশনেছবি রোহন // আজাদ লস্কর

কিন্তু নাগাড়ে বোমা পড়তে শুরু করলে তারা সিদ্ধান্ত বদল করে ফেলে। কিভ শহর ছেড়ে নিকটবর্তী সীমান্তে যাওয়ার জন্য কলেজ হস্টেল থেকে রোহনরা ৫০ জন বেরিয়ে পড়ে। নির্কতবর্তী স্টেশনে এসে চক্ষুচড়কগাছ। গাদাগাদি ভিড়। পণ্যঠাসা ট্রেনে বস্তা ঠেসে দেওয়া মতো নিজের শরীরটাকে কোনও রকমে গুঁজে দিয়ে ট্রেনে ওঠে পড়ে রোহনরা। তার পর ন’ঘণ্টার যাত্রা। পোল্যান্ডের সীমান্ত লিভে পৌঁছে তিন-চার ঘণ্টার লম্বা লাইন দেওয়ার পর জানানো হল, ওখান থেকে শুধু ইউক্রেনীয় শিশু এবং মেয়েদের পার করানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশিদের জন্য কোনও জায়গা নেই। রোহনের কথায়,‘‘ আমরা বুঝতে পারলাম ওখানে দিয়ে পার হওয়া যাবে না। তাই পরিকল্পনার বদল এনে ৭ ঘণ্টা দূরে হাঙ্গেরির উজোরোদ সীমান্ত দিয়ে পার হাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।’’

তাঁরা নিজেরাই বাসে করে উজোরোদ রওনা দেয়। রোহনের বলে,‘‘ তখনও দূতাবাস থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। ইউক্রেনীয়রাই খাবার, চা, কফি দিয়েছে। মাইনাস ন’ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা। আগুন জ্বালিয়ে নিজেদের গরম রাখতে হচ্ছিল। জ্বালাতেও সাহায্য করেছিলেন ইউক্রেনবাসীরা।’’

ফোনে কথা বলতে বলতে গলা কাঁপছিল রোহনের। উৎকণ্ঠার কম্পন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা তো কোনওমতে বেরিয়ে এসছিলাম কিভে যাঁরা থেকে গিয়েছিলেন পরে তাঁরা কেউ আর ট্রেনই উঠতেই পারেননি। বাড়িতে ফোন করে একজনের মৃত্যুর খবর পেলাম। খুব খারাপ লাগছে। জানি না বাকিদের কী হবে।’’ তিন-চারদিন বাঙ্কারেও কাটাতে হয়েছে রোহনদের।

তবে এখন কিছু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তাঁরা। ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ করেছে। তারাই ওদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে।

আর বিশ্ববিদ্যালয়? ওখানে পড়ে আছে উচ্চমাধ্যমিক-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শংসাপত্র। রোহন বলে, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিককে ওগুলোর জন্য ম্যাসেজ করলে বলছে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই দয়া করে ম্যাসেজ করবেন না। এখন আর ও সব নিয়ে আর ভাবছি না। আগে তো প্রাণ বাঁচুক।’’ সূত্র: আনন্দবাজার

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

বরিশাল সরকারি পানির লাইন বিক্রি, প্রতিবাদ করায় হামলা