স্বাস্থ্য শিক্ষায় ভারতের শিক্ষার্থীরা কেন বাংলাদেশে পড়তে আসে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের সুদীপ্ত মাইতি। তিনি বছর চারেক আগে বাংলাদেশে পড়তে যান। সে সময় যত ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ছিলেন, তার চেয়ে এখন সংখ্যাটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ধারণা, সংখ্যাটা বেশ কয়েক হাজার হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতীয় সংসদে জানান, ৯ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ছেন। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতে তাঁদের বড় অংশই গত জুলাইয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন।

সুদীপ্তর মতে, এই ভারতীয় শিক্ষার্থীর বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ যাওয়া-আসার সুবিধা।

সুদীপ্ত বলেন, ‘এই গন্ডগোলের সময়েও আমরা আখাউড়া থেকে আগরতলা হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় চলে এলাম। সেখান থেকে আমার বাড়ি মেদিনীপুরে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগল। এটা অন্য দেশ হলে সম্ভব হতো না।’

অন্য দেশ বলতে রাশিয়া, ইউক্রেন, চীনসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কথা বুঝিয়েছেন সুদীপ্ত। এসব দেশেও পড়তে যান ভারতের শিক্ষার্থীরা। এসব দেশেও পড়ার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু এসব দেশের ক্ষেত্রে এত দ্রুত যাওয়া-আসা করা যায় না।

সুদীপ্তর কথায়, অন্যত্র যাওয়া-আসার অসুবিধার পাশাপাশি ভাষার সমস্যাও রয়েছে। আর খাওয়াদাওয়ার সমস্যা তো আছেই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা এখন এতই ভালো যে প্রায় সব জায়গা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে আসা যায়। সম্ভবত এ কারণে ভারত থেকে এত শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে পড়াশোনা প্রসঙ্গে কাশ্মীরের এক ছাত্রী, যিনি নিজেকে শুধু ‘কাজি’ নামে পরিচয় দিতে ইচ্ছুক, তিনি বললেন, ‘পড়ার সুযোগ ও খরচ—দুটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী কাজি বললেন, ‘আমি ২০১৯ সালে ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য বাংলাদেশে যাই। তখন কাশ্মীরে মাত্র দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। আর কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এখানে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সে সময় অনেকগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। যে কারণে আমি ও আমার অনেক বন্ধু বাংলাদেশে পড়তে যাই।’

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিতে সহায়তা করেন কলকাতার শিক্ষা পরামর্শদাতা কাজী মহম্মদ হাবিব। তাঁর সংস্থা চেকমেট ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাঁদের পড়তে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করাসহ কলেজ পর্যন্ত যেতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করে।

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। দেশটিতে দ্রুত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে, বাড়ছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি। তবে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আগামী কয়েক বছর হয়তো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে এই দুই সংকট কাটলে আবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়বে। তখন দেশটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থী যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।

বড় কারণ খরচ কম

বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে কম খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেন কাশ্মীরের ছাত্রী কাজি ও তাঁর আরেক বন্ধু।

কাজি বলেন, ভারতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে এক কোটি রুপির মতো খরচ পড়ে। আর আনুষঙ্গিক সব খরচ ধরলে ব্যয় কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সব মিলিয়ে মোটামুটিভাবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ রুপি সমমানের খরচে পড়াশোনা শেষ করা যায়।

সুদীপ্ত বলেন, ঢাকার মতো প্রধান শহরের বাইরে ছোট উপশহরে এই খরচ দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ রুপির সমপরিমাণ।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে সুদীপ্তর চেয়ে এক বছরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিত আনোয়ার। তাঁর ভাষ্য, মূলত খরচ কম বলেই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেখানে পড়াশোনার মান খারাপ।

একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী যদি বিদেশে মেডিকেল অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন, তাহলে দেশে ফিরে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েশন এক্সামিনেশন (এফএমজিই) পাস করতে হয়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে পড়ে এলে এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।

যেসব শিক্ষার্থী মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বা রাশিয়া থেকে পড়ে আসেন, তাঁদের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সংখ্যায় এফএমজিই পাস করেন বলে জানান বাসিত। তাঁর মতে, এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো উভয় দেশের পাঠ্যক্রম মূলত একই। ভারতে তাঁরা যে বই পড়েন, বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই বই পড়তে হয়। শিক্ষকদের অনেকে ভারতে পড়েছেন। তাঁরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন। তাঁরা জানেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে এফএমজিই পরীক্ষায় বসতে হবে। ভারতে প্র্যাকটিস করার জন্য। ভারতের চাহিদা সম্পর্কে এই সচেতনতার কারণে এখানকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া পছন্দ করেন।

এফএমজিই পরীক্ষায় পাস করাটা অবশ্য খুব একটা সমস্যার নয় বলে মনে করেন বাসিত। মোট ১৯টি বিষয় নিয়ে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় ১৫০ নম্বর পেলেই চিকিৎসক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাসিত জানান, এখানে কোনো নেগেটিভ নম্বর দেওয়া হয় না। এটা অন্য সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো নয়, যেখানে যাঁরা বেশি নম্বর পাবেন, তাঁরাই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারবেন। এখানে ১৫০ নম্বর পেতে হবে। তাহলেই একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা রাখার প্রধান কারণ দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তাই এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়। আর একেকজন অনেকবার এফএমজিই দিতে পারেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পাস করাটা খুব সমস্যা নয়।

তবে এ ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে বলে জানালেন বাসিত। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের যে অংশটা থিওরি (তত্ত্ব), সেই অংশটা প্রায় পুরোপুরি ভারতের পাঠ্যক্রমের মতো। তবে প্র্যাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) অংশটায় কিছু সমস্যা আছে। এখানে হয়তো কিছুটা কম সময় দেওয়া হয়, যার ফলে বিষয়টা পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। তবে ভারতে ফিরে এফএমজিই দিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করতে শুরু করেন, তখন এই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।’

বাসিতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেন তাঁর অন্য বন্ধুরাও।

বেশি শিক্ষার্থী ভারতের

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৩ হাজার ১০০ আসন আছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ভারতের।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ১ হাজার ৬৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী সে দেশে মেডিকেলে পড়তে গেছেন। নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান থেকে গেছেন যথাক্রমে ২৬৪ জন, ১২ জন ও ২ জন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফিলিস্তিন থেকে গেছেন একজন করে শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ২২০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে পাঠাতে পারে ভারত।

মহম্মদ হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের বিস্তারের ফলে সার্কভুক্ত দেশের যেমন লাভ হয়েছে, তেমনি লাভ হয়েছে বাংলাদেশেরও। সে দেশে এমবিবিএস পড়ার খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫০ লাখ রুপির সমপরিমাণ। সুতরাং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা ভালো অঙ্কের অর্থ আয় করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মেডিকেলে ভারতীয় শিক্ষার্থী যখন বাড়ছে, তখন আবার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য আসছেন। কেন এমনটা হচ্ছে, এটা একটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ হাবিব বলেন, এখানে একটা দিক হলো চিকিৎসা অধ্যয়ন, অপরটি হলো চিকিৎসাসেবা। বাংলাদেশে বিশেষত চিকিৎসাশিক্ষার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় তারা এখনো পিছিয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে আসেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যেমন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি ফটোগ্রাফি, ভিডিও, টেলিভিশন, ফিল্ম আর্টের চর্চা করে। এখানে ছয় মাসের কোর্স করে দেশে ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের সুপর্ণা নাথ। তিনি বলেন, পাঠশালা একটি ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীসহ বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এসেছেন। তাঁরা আন্তরিক উষ্ণতা পেয়ে এসেছেন। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে তাঁদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। রাতের অন্ধকারে দেশে ফেরার জন্য তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স করে বিমানবন্দরে ছুটতে হয়েছিল। পথে নানান মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়েছে। তবে তাঁরা এখন আশা করছেন, শিগগিরই বাংলাদেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। তাঁরা বাংলাদেশে গিয়ে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন।

Daily World News

প্রথম আলো

মোদির শপথগ্রহণ শেষে নৈশভোজে খাবারের মেনুতে কিকি ছিল জেনে নিন

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের মতো শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে আটটায় রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেন তিনি। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুরমু।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ যুগনৌত, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল ‘প্রচন্দ’, এবং আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র সিচেলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আতিফ।

তাদের জন্য নৈশভোজ সভার আয়োজন করেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

শপথ অনুষ্ঠানে বাহারি পদের খাবার ছিল অতিথিদের জন্য।  গরম থেকে বাঁচতে নৈশভোজের মেনু এবং খাবারে আনা হয় টুইস্ট। পানীয়ের তালিকায় ছিল রিফ্রেশিং জুস, বিভিন্ন ধরনের শেক, স্টাফড লিচু, মটকা কুলফি, ম্যাঙ্গো ক্রিম এবং রায়তা।

রিফ্রেশিং পানীয়ের পর ডিনারের মেনুতেও ছিল নানান পদের আয়োজন। ছিল যোধপুরি সবজি যা রাজস্থানের একটি সুস্বাদু তরকারি, ডাল, ছিল মশলা এবং সুগন্ধযুক্ত ভেষজ দিয়ে তৈরি সিদ্ধ চালের পদ দম বিরিয়ানি। তালিকায় ছিল পাঁচ ধরনের রুটিও। এর সঙ্গে ছিল ডেডিকেটেড পাঞ্জাবি ফুড কাউন্টার। এরসঙ্গে ছিল বেশ কিছু দেশীয় পদ।

যারা বাজরা পছন্দ করেন, তাদের মেনুতে ছিল বাজরা খিচড়ি। এটি মুক্তা বাজারা থেকে একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর পদ। এর সঙ্গে ছিল নানান ধরনের সবজি।

পানীয় বিভাগটিও সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। পাঁচ ধরনের জুস, তিন ধরনের রায়তা এবং দইয়ের ওপর একটি সাইড ডিশ ছিল। এই সব খাবার গরমে অতিথিদের ঠান্ডা রাখতে সহায়ক ছিল।

ডেজার্ট উৎসাহীদেরও নিরাশ করেনি এ নৈশভোজ। মেনুতে ছিল আট ধরনের ডেজার্ট। ছিল জনপ্রিয় ভারতীয় মিষ্টি, সাদা রসমালাই, দুধে ভেজানো ক্রিম, চার ধরনের ঘেওয়ার- এটি একটি ঐতিহ্যশালী রাজস্থানী মিষ্টি।

এবারের নির্বাচনে মোদির রাজনৈতিক দল বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দেশটির লোকসভায় মোট ৫৪৩টি আসন রয়েছে। কোনো দল যদি এককভাবে দল গঠন করতে চায় তাহলে তাদের কমপক্ষে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়। কিন্তু বিজেপি এবার পেয়েছে ২৪০টি আসন। তবে তাদের এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯৩ আসন। তাই তাদেরকে সরকার গঠনের অনুমতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুরমু।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নিতিন গড়করি, নির্মলা সীতারামন, ড. এস জয়শঙ্কর, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং পীযূষ গোয়েল। অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির প্রবীণ শিবরাজ সিং চৌহান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, জেডিইউ নেতা রাজীব রঞ্জন সিং, এইচএএম নেতা জিতন রাম মাঝি, আরএলডির জয়ন্ত চৌধুরী, জেডিএস নেতা এইচডি কুমারস্বামী, এলজেপি (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসোয়ান এবং জিতিন প্রসাদ।

তৃতীয় মেয়াদে মোদির শপথ অনুষ্ঠান|| যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন শেখ হাসিনা। আগামীকাল রোববার উপস্থিত থাকবেন নরেন্দ্র মোদির অভিষেক আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ভারতীয় প্রেসিডেন্টের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া সফরকালে বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যসম্পাদন এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, গত বুধবার টেলিফোনে নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা।

টানা তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন কিন্তু বিভাবে এবং কত আসন পেলেন

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

  • ২০১৪ সালে ২৮২ আসন পেয়ে সরকার গড়েছিলেন মোদি। পাঁচ বছর পর পেয়েছিলেন ৩০৩ আসন।
  • জোট সরকার চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা মোদির নেই। এবারই প্রথম তাঁকে জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে।

আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বার। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পাশে নিজের নামটিও তিনি খোদাই করতে চলেছেন। যদিও নেহরুর মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে তিনি ব্যর্থ হলেন। পারলেন না ‘চার শ পার’ স্লোগান সার্থক করে রাজীব গান্ধীর রেকর্ড টপকে যেতে।

গতকাল মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফল মোদির দল বিজেপি এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেলেও তাদের এনডিএ তিন শ আসনও ছুঁতে পারল না। প্রবলভাবে উঠে এল কংগ্রেসের উদ্যোগে গড়া ‘ইন্ডিয়া’ জোট। টানা এক দশক পর তারা মোদির বিজেপির একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাল। সরকার গড়লেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে এখন থেকে হতে হবে পরমুখাপেক্ষী। তাঁর ঘাড়ে প্রতিনিয়ত শ্বাস ফেলবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৮৬ আসন পেয়েছে। ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২০২টি আসন। বিজেপি একা সরকার গঠনের জন্য ২৭২ ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ। দলটি পেয়েছে ২৪০ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি। এর অর্থ, বিজেপিকে সরকার গড়তে হলে নির্ভর করতে হবে প্রধানত দুই শরিক নীতীশ কুমারের জেডি–ইউ ও অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) ওপর। এই দুই দলের সম্মিলিত আসন ২৮টি।

কংগ্রেস স্বভাবতই এই ফলে উৎফুল্ল। গতকাল বিকেলে দলীয় দপ্তরে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে পাশে নিয়ে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ও নৈতিক পরাজয়। গোটা নির্বাচনটাই বিজেপি লড়েছিল মোদির নামে। যাবতীয় গ্যারান্টিও দিয়েছিলেন মোদি। এটা ছিল তাঁর পক্ষে অথবা বিপক্ষের গণভোট। জনতা তাঁর বিরুদ্ধেই মত দিয়েছে।

খাড়গে ও রাহুল দুজনেই জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে বুধবার (আজ)। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। ওয়েনাড ও রায়বেরিলি, দুই জেতা আসনের কোনটি রাখবেন কোনটি ছাড়বেন—সেই সিদ্ধান্তও সবার সঙ্গে আলোচনার পর নেবেন বলে রাহুল জানান। দুই নেতাই বলেন, এই জয় জনতার জয়।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, আগামী দিনগুলোয় প্রশাসক নরেন্দ্র মোদিকে নতুনভাবে আবির্ভূত হতে হবে। সেই ভূমিকা কোনো দিন তিনি পালন করেননি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সরকার ছিল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। কারও ওপর নির্ভর করতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে কখনো অন্য কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়নি। ২০১৪ সালে সরকার গড়েছিলেন ২৮২ আসন পেয়ে। পাঁচ বছর পর পান ৩০৩ আসন। এবার এক ঝটকায় তা ২৪০– এ নেমেছে। সরকার গড়ার এই যে ৩২টি আসন ঘাটতি, তা মেটাতে হবে জেডি–ইউ, টিডিপি, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠী, চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি ও উত্তর প্রদেশের জয়ন্ত চৌধুরীর আরএলডির মতো দলগুলোর সমর্থন নিয়ে। এদের কাউকেই উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করার মতো অবস্থায় মোদির বিজেপি থাকবে না; বরং সারাক্ষণ তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। দাবি মানতে হবে। পছন্দের মন্ত্রিত্বও দিতে হবে। না হলে জোট ছাড়ার প্রচ্ছন্ন শঙ্কার মধ্যে থাকতে হবে। নীতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবুর অতীত মোদির জানা। বারবার তাঁরা জোটে এসেছেন, বেরিয়েও গেছেন। নাইডু এবার আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান। অন্ধ্র প্রদেশে একার ক্ষমতাতেই সরকার গড়ার মতো অবস্থায় তিনি। মোদি তাঁকে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছেন যে গণনা চলাকালীনই তাঁকে ফোন করে জানিয়ে দেন, তাঁর শপথে নিজে উপস্থিত থাকবেন। চন্দ্রবাবু শপথ নেবেন ৯ জুন, ওই দিনটিই মোদি বেছে রেখেছিলেন তৃতীয়বার শপথ নেওয়ার জন্য।

জোট সরকার চালানোর কোনো অভিজ্ঞতাই মোদির নেই। জোটের ধর্ম কেমন, তা–ও তাঁর অজানা। টানা ১০ বছর দাপিয়ে তিনি শাসন করেছেন। কারও তোয়াক্কা না করে সরকার চালিয়েছেন। পুরোপুরি নিজের ইচ্ছেমতো। সেই উঁচু মাথা হেঁট করে অনমনীয় চরিত্র নমনীয় করে শরিকদের যাবতীয় আবদার মেনে শাসন করার কায়দা তাঁকে শিখতে হবে। আত্মমগ্ন ও কর্তৃত্ববাদী কোনো শাসকের পক্ষে রাতারাতি এই রূপান্তর কঠিন। সেই কঠিন কাজই মোদিকে রপ্ত করতে হবে। এমন মোদিকে কেউ কখনো দেখেনি। সে দিক দিয়ে তিনি নিজেই চমকপ্রদ দ্রষ্টব্য হয়ে উঠবেন।

এই ভোট ও তার ফল নরেন্দ্র মোদির কয়েকটি স্বপ্নও খানখান করে দেবে। যেমন তাঁর সাধের ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি। তিনি ভেবেছিলেন, প্রথম দুবারের মতো একক ক্ষমতায় তৃতীয়বার সরকারে এলে এই নীতি চালু করে দেবেন। ইন্ডিয়া জোট শুরু থেকেই ওই নীতির বিরোধী। এনডিএর শরিকদেরও তাতে মত থাকবে কি না, সন্দেহ। একইভাবে বানচাল হয়ে যাবে বহু প্রচারিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার বিষয়টিও। দুটি সিদ্ধান্ত বলবৎ করতে গেলে সংবিধান সংশোধন জরুরি। সে জন্য প্রয়োজন সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ সমর্থন; এই ফলের পর যা আশা করা বৃথা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া ‘ইলেকটোরাল বন্ড’ কিছুটা পাল্টে নতুন করে আনার পরিকল্পনা মোদির ছিল। সেই আশাও জলাঞ্জলি দিতে হবে। ‘পিএম কেয়ার্স’ তহবিলও এরপর সরকারি অডিটের আওতার বাইরে রাখা মোদির পক্ষে সম্ভবপর হবে কি না, বলা কঠিন। বিরোধীদের উপস্থিতি সোয়া দুই শর বেশি হওয়ায় অর্ধেক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ তাদের দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, গত পাঁচ বছর হীনবল বিরোধীদের যে দাবি মোদি কর্ণপাত করেননি, তা এবার মেনে নিয়ে লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের পদটি দিতে হবে বিরোধীদের। ৯৯ আসন পাওয়া কংগ্রেসকে দিতে হবে বিরোধী নেতার পদ, যা পেতে গেলে ৫৫ আসন জিততে হয়। গতবার যা ছিল মোদির দাক্ষিণ্য।

দেখার বিষয় আরও আছে। পাঁচ বছর ধরে মোদি সরকার ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগ, এনআইএর যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। তাদের দল ভাঙানো ও দল গঠনের মতো কাজে লাগিয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। রাহুল নিজেই গতকাল বলেছেন, কংগ্রেসকে বিপদে ফেলতে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছিল। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর শক্তিশালী বিরোধীদের চাপে এই প্রবণতা কতটা বজায় থাকে, সেটাও দেখার। স্পষ্টতই এত দিন মোদির সরকার এদের যেভাবে ব্যবহার করে এসেছে, তাতে তাদের রাশ টানতেই হবে। এত দিন ধরে যে বিশেষণে মোদি ভূষিত হয়েছেন, সেই ‘স্বৈরতন্ত্রী’ তকমা বজায় রাখতে তিনি পারবেন কি?

এই ফল জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে ফিরিয়ে আনল। হিন্দি বলয়ে যে দল প্রায় মুছে গিয়েছিল, কিছুটা হারানো জায়গা তারা ফিরিয়ে আনল। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান ও বিহারে। পাঞ্জাবের প্রতিষ্ঠিত সব কংগ্রেস নেতা বিজেপিতে চলে গেলেও একার ক্ষমতায় তারা অধিকাংশ আসন জিতেছে। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে জমি খুঁজে নিয়েছে। ব্যর্থতা তাদের অবশ্যই আছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশে কিছুই প্রায় করতে পারেনি। কিন্তু আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করে ১০০ ছুঁই ছুঁই অবস্থায় পৌঁছে যাওয়া দলটাকে চনমনে করে তুলবে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে পায়ের তলার জমি আরও শক্ত করতে প্রিয়াঙ্কাকে রায়বেরিলি থেকে জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা যখন রয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় মহা ধুমধামের সঙ্গে বিজেপি তাদের দলীয় দপ্তরে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করল। দৃশ্যত উৎফুল্ল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহাস্য মুখে অভিবাদন গ্রহণ করলেন। যদিও মনে খচখচানি তাঁর থাকারই কথা। দলের ৩৭০ পাওয়া তো দূরের কথা, জোটকে ৩০০ পাইয়ে দিতেও তিনি ব্যর্থ। শুধু কি তাই? যে বারানসি থেকে গতবার তিনি সাড়ে ৪ লাখের বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেখানে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ ভোটে। নরেন্দ্র মোদির কাছে দুটোর কোনোটাই সম্মানের নয়।

মোদির জোট ৩৬৭ আসন পেয়ে তৃতীয় বারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম তথা শেষ দফার ভোট শেষ হলো আজ। প্রধানমন্ত্রীর আসনে এবার হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বুথ ফেরত জরিপগুলো এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করছে। খবর এনডিটিভির

দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন আগামী ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায় তাহলে তাদের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ২৭২টিতে জয় পেতে হবে।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে দুটি বড় জোটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। এর একটি দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) এবং অন্যটি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট।

মোট ছয়টি বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনডিএ পাবে ৩৬৭টি আসন, ইন্ডিয়া জোট পাবে ১৪৩টি আসন। বিজেপির স্কোর হবে ৩২৭ এবং কংগ্রেস পাবে ৫২টি আসন।

জান কি বাতের বুথ ফেরত জরিপ বলছে, এনডিএ সর্বাধিক ৩৬২-৩৯২টি আসন পাবে। আর বিরোধী জোট পাবে ১৪১-১৬১টি আসন।

এর পরেই রয়েছে ইন্ডিয়া নিউজ-ডি ডায়নামিক্স। তারা বলছে, এনডিএ ৩৭১ টি আসন এবং ইন্ডিয়া জোট ১২৫ টি আসন পাবে।

এনডিএ-র পক্ষে সর্বনিম্ন স্কোর ২৮১-৩৫০ এবং ভারতীয় ব্লকের জন্য অনুরূপ উচ্চতর স্কোর ১৪৫-২০১।

মনে রাখতে হবে যে, এক্সিট পোল সব সময় ঠিক হয় না।

লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার আজ ভোট দেবে প্রায় ১৮ কোটি ভোটার

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

এই দফায় দেশটির ১০ রাজ্যের ৯৬টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশের ২৫, তেলেঙ্গানার ১৭, উত্তর প্রদেশের ১৩, মহারাষ্ট্রের ১১ এবং মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের আটটি আসনে ভোট হচ্ছে। এছাড়া বিহারের পাঁচটি, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে চারটি করে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের একটি আসনে ভোট হচ্ছে।

৯৬টি আসনে মোট ভোটার ১৭ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৯৭ লাখ আর নারী ৮ কোটি ৭৩ লাখ। ভোটের দায়িত্বে আছেন ১৯ লাখেরও বেশি কর্মী।

এই ধাপে বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা অখিলেশ যাদব, অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-সহ ১ হাজার ৭১৭ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তারকা প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা, মহুয়া মৈত্র, অমৃতা রায়, অভিনেত্রী শতাব্দী রায় ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

ভারতে মোট সাত দফায় লোকসভা নির্বাচন হবে। ইতোমধ্যে তিন দফার ভোট শেষ হয়েছে। প্রথম তিনটি পর্বে তুলনামূলকভাবে কম ভোটদানের হার, হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খবরের শিরোনামজুড়ে থাকলেও চতুর্থ পর্বের শেষে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, দেশটি এখন সে দিকেই তাকিয়ে। তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

থ্রি ইডিয়টসের ফুংসুক ওয়াংচুক নামের ‘র‍্যাঞ্চো’ লাদাখে আমরণ অনশন করছেন কেন…

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ফুংসুক ওয়াংচুক বললে এখনো অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বলিউডের সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর আমির খানের মুখ। ফুংসুক ওয়াংচুক ছিলেন ওই সিনেমার সেই নায়ক, যার ডাক নাম ছিল ‘র‌্যাঞ্চো’। তাঁর খোঁজে তিন বন্ধু পাড়ি দিয়েছিলেন লাদাখের রাজধানী লেহ।

সিনেমার সেই ‘র‌্যাঞ্চো’ বাস্তবে লাদাখের অতিপরিচিত পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, পরিবেশ রক্ষাসহ কয়েকটি দাবিতে তিনি ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ বুধবার ১৫ দিনে পড়ল তাঁর অনশন। খোলা আকাশের নিচে মাইনাস ১৫ ডিগ্রিতে তাঁর সঙ্গে দিনরাত অতিবাহিত করছেন আরও অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জন লাদাখবাসী। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এখনো হেলদোলহীন।

ম্যাগসাইসাইজয়ী সোনম ওয়াংচুক আজ বুধবার সরাসরি জানতে চাইছেন, লাদাখের পর্বতরাজি বিভিন্ন শিল্প সংস্থা ও খনির কারবারিদের কাছে বেচে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেছে কি না।

সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর সঙ্গীরা আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন ৪ মার্চ। সেই দিন কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখবাসীদের জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। প্রতিবাদে ৬ মার্চ থেকে সোনম ও তাঁর অনুগামী সমর্থকেরা আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নেন।

ওই দিন থেকে খোলা আকাশের নিচে রচিত হচ্ছে ওয়াংচুক ও তাঁর সহযোগীদের দিবারাত্রির কাব্য। তাঁদের আন্দোলনে প্রতিদিন যোগ দিতে হাজির হচ্ছেন লাদাখের হাজার হাজার মানুষ। রুখু লাদাখের পাহাড় ও নদী পেরিয়ে সেই আন্দোলনের ঢেউ ভারতের মূল ভূখণ্ডের প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে যৎসামান্যই। তাতে বাস্তবের ‘র‌্যাঞ্চো’ যদিও ভ্রুক্ষেপহীন। তাঁর কথায়, সত্যের পথে থাকলে জয় অবধারিত।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে গড়ে তোলা হয়েছিল দুই পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। অবিভক্ত ওই রাজ্যে বিধানসভা ছিল। কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরকে বিধানসভা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেছে। রাজ্যের মর্যাদা জম্মু-কাশ্মীর এখনো পায়নি। হয়নি বিধানসভার নির্বাচনও। লাদাখবাসীও পায়নি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো।

অনশনরত সোনম ওয়াংচুক সেই কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে এক বার্তায় বলেছেন, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট ও ২০২০ সালের পার্বত্য পরিষদের নির্বাচনের সময় বিজেপির সরকার বলেছিল, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের রক্ষাকবচ দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি তাদের বিপুল ভোটে জয়ী করেছিল।

তার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষার ধারকাছে দিয়ে সরকার হাঁটেনি। বরং ৪ মার্চের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয় ষষ্ঠ তফসিল দেওয়া যাবে না। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বা বিধানসভাও নয়।

কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) ও লেহ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওই বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অথচ আগে তিনি বারবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী জমি, চাকরি ও সংস্কৃতি রক্ষায় লাদাখের রক্ষাকবচের ব্যবস্থা সরকার করবে।

সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কেডিএ ও লেহ অ্যাপেক্স কাউন্সিলও সহমত, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার কারণে লাদাখের জমি ও খনিজ পদার্থের ভার ধীরে ধীরে শিল্পপতিদের হাতে চলে যাবে, যার ফলে ভঙ্গুর লাদাখের পরিবেশ বিপন্ন হবে। সোনমের আন্দোলন তাই দ্বিমুখী। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা।

সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় তফসিল উপজাতি অধ্যুষিত মোট ১০টি জেলা রয়েছে, যেখানে তাদের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা জারি রয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর লাদাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষণব্যবস্থা চালু হয়নি। বিধানসভার মতো গণতান্ত্রিক কাঠামোও দেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো গণতান্ত্রিক রীতিও নেই। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি চালিত হচ্ছে দিল্লির মর্জিমাফিক। তাদের নিযুক্ত আমলাদের দিয়ে।

সোনম ওয়াংচুকের অভিযোগ, মানুষের মোহভঙ্গ ঘটেছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় লাদাখে সেনাদের মনোবলও ভেঙে পড়ছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ লাদাখের পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করানোর পাশাপাশি সোনম ওয়াংচুক চান লাদাখের জন্য পূর্ণ রাজ্য ও ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা।

সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)। আজ তারা গোটা লাদাখে অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করে। ২৪ মার্চ, অনশন আন্দোলনের ২১তম দিনে লাদাখের পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সহমর্মিতা জানানোর আবেদন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।

চালকছাড়া ৭০ কি:মি{ চলল ৫৩বগির পণ্যবাহী ট্রেন

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে ঘটল এক বিস্ময়কর ঘটনা। একটি পণ্যবাহী ট্রেন চালকবিহীন ছুটে চলল ৪৩ মাইল (৭০ কিলোমিটার)। কিন্তু অবাক করার বিষয়, এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাথুয়া রেলস্টেশন থেকে রোববার পণ্যবাহী ট্রেনটি চালক ছাড়াই পাঞ্জাব প্রদেশের হোশিয়ারপুরে এসে পৌঁছায়। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ট্রেনটি পরে থামানো হয়েছে। এ সময় কোনো দুর্ঘটনা কিংবা কেউ হতাহত হননি।

এদিকে দ্রুতগতির ট্রেনটির ছুটে চলার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রেনটি না থেমে একের পর এক স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে। ট্রেনটির গতির কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্টেশনে থাকা মানুষের মধ্যে।

নুড়িপাথর বোঝাই ৫৩ বগির পণ্যবাহী ট্রেনটি জম্মু থেকে পাঞ্জাবে আসছিল। ক্রুদের দায়িত্ব বদলানোর জন্য কাথুয়া রেলস্টেশনে চালক ট্রেনটি থামান। কর্মকর্তারা জানান, ওই জায়গায় রেললাইনে ঢাল ছিল। চালক ও তার সহকারী নেমে যাওয়ার পর হঠাৎ ট্রেনটি নিজে নিজে চলতে শুরু করে।

একপর্যায়ে চালকবিহীন ট্রেনটি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে শুরু করে। থামানোর আগে ৭০ কিলোমিটারের বেশি পথে সেটি পাঁচটি স্টেশন পেরিয়ে যায়। খবর পেয়ে ওই পথে অন্য ট্রেনের চলাচল ও রেলক্রসিং বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেললাইনের ওপর কাঠের ব্লক ফেলে দ্রুতগতির ট্রেনটির গতি কমিয়ে ফেলা হয়। একপর্যায়ে ট্রেনটি থামানো হয়।

এমন অবাক করা ঘটনা কেন ঘটল, তা অনুসন্ধানে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর কখনোই না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সংগীতশিল্পী পঙ্কজ উদাস আর নেই

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতীয় কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী পঙ্কজ উদাস মৃত্যুবরণ করেছেন।  তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার তিনি মারা যান বলে তার মেয়ে নয়াব উদাস ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থায় ভুগছিলেন পঙ্কজ উদাস।

৪০ বছরেরও বেশি সময় বলিউড মাতিয়েছেন বিখ্যাত এই গায়ক। হিন্দি ছবির গানে আশির দশককে মুগ্ধ করেছেন পঙ্কজ। ‘চান্দি জ্যায়সা রং’, ‘না কাজরে কি ধার’, ‘দিওয়ারো সে মিল কর রোনা’, ‘আহিস্তা’, ‘থোড়ি থোড়ি প্যার করো’, ‘নিকলো না বেনাকাব’— পঙ্কজ উদাসের গাওয়া অসাধারণ সব গজল আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কাটে।

ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে আগ্রহী ভারত

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরবর্তী ধাপে উন্নীত করতে যৌথ উদ্যোগে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’ বিষয়ে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতার বিস্তৃত দিকগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে আগ্রহী ভারত, যার মধ্যে সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ‘পরবর্তী স্তরে’ উন্নীত করার কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ দর্শনে গত এক দশক ধরে পরিচালিত ভারতীয় প্রতিরক্ষাশিল্পের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সেমিনারে তুলে ধরেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, ওই দর্শনে পরিচালিত হওয়ায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে বিপুল বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা রপ্তানিও বাড়িয়েছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত এই সেমিনারকে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ভারতের প্রতিরক্ষাশিল্পের আগ্রহের প্রতিফলন এবং ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার একটি নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণচুক্তির বিষয়টিও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নেওয়ার অংশ।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম আর শামীমও সেমিনারে বক্তব্য দেন। ভারতের সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধিরাও সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।