বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সমগ্র বাংলাদেশের ন্যায় সীমান্তবর্তী যশোর জেলাও বিপর্যস্ত।গত কয়েকদিন করোনা ও করোনার উপসর্গে মৃতের লাশের গন্ধে ও স্বজনদের কান্নায় যশোরের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আছে।দিন যত যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
এর মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটড ইউনিটে সীট, আইসিইউ ও অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া করোনা রোগীর অধিক চাপ হওয়ায় নূন্যতম সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছেন। এরকম একটা সংকটময় মুহূর্তে করোনার সুপার পাওয়ার নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে ও লকডাউন বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন,পুলিশ, র্যাব,বিজিবি ও সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ।
কিন্তু সীমান্তবর্তী করোনার হটস্পট খ্যাত যশোর জেলার সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই অধরাই থেকে যাচ্ছে। আজ ৫ জুলাই-২০২১ রোজ সোমবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের সবাই নারী এবং বয়স ৪৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে।
মৃতদের মধ্যে ৪ জন যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার এবং নড়াইল ও ঝিনাইদহের ১ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণকারী রোগীরা সকলেই হাসপাতালের রেডজোনে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালের রেডজোনে ভর্তি আছেন ১২৬ জন এবং ইয়োলোজোনে ভর্তি আছেন ৮৬ জন।যা করোনা ইউনিটের আসন সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে আজ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৪৪৫ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ১৮৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪১.৭৯ শতাংশ। গত কয়েকদিনের করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশের বেশি গ্রামের রোগী।যারা সাধারণ জ্বর, সর্দিকাশি মনেকরে গ্রামের হাতুড়ি ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
কিন্তু যখন কোন কিছুতেই কাজ হয়নি তখন জীবন সায়াহ্নে হাসপাতালে আসছেন।তখন চিকিৎসকদের কিছুই করার থাকছে না। তাই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গ্রামে যাদের সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যাথা হচ্ছে তাদেরসহ অন্যদের গণহারে করোনা ভাইরাসের টেষ্ট করানো দরকার এবং করোনার সংক্রমণরোধে মাস্ক ব্যবহার,হাতধোয়া,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,জনসমাগম এড়িয়ে চলাসহ সকল বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়গুলি নিশ্চিত না করা গেলে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ অধরাই থেকে যাবে।
//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//
দিঘলিয়ার ১৫০জন কর্মহীন মাঝি পেলেন প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা

