খুলনায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেব দুলাল ও ভাই সহ মামলায় অভিযুক্ত ৩৪

 

বটিয়াঘাটার বহুল আলোচিত নজরুল হত্যা মামলায় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈই বাপ্পী ও তার সহোদর নগর ছাত্রলীগের চলতি কমিটির সহ-সভাপতি সজল বাড়ৈইসহ ৩৪ জনের নামে চার্জশীট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করলেও করোনার কারণে এখনও মামলাটির তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

আদালত ও সিআইডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বটিয়াঘাটা থানা সূত্রে জানা যায়, বটিয়াঘাটার আতালের চর মৎস্য ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই মৎস্য ঘের অনেক প্রভাবশালীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে দখল করে মাছ চাষ করে আসছে। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈই বাপ্পির নেতৃত্বে ২৫/২৬ টি মটর সাইকেলযোগে স্থানীয় ও শহরের ৪০/৫০ জন ব্যক্তি স্বশস্ত্র অবস্থায় ওই মৎস্য ঘের দখল নিতে যায়।

এসময় এলাকাবাসী চারিদিক থেকে তাদেরকে ঘিরে ফেললে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের ছোড়া গুলিতে করের ডোন গ্রামের নজরুল ইসলাম শেখ নিহত হয়। এ ঘটনায় তার ভাই সিরাজুল ইসলাম শেখ বাদি হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈই বাপ্পি, তার ভাই বর্তমান মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সজল বাড়ৈইসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ কে আসামি করা হয়।

বটিয়াঘাটার থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক মামুন প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন। এক মাসের মাথায় মামলাটি পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ (সিআইডি)তে হস্তান্তর হয়। খুলনা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শেখ শাহাজান মামলাটি তদন্ত করেন। তার বদলিজনিত কারণে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন। দীর্ঘ ৪ বছর তদন্ত শেষে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি আদালতে মামলাটির চার্জসীট দাখিল করেন।

এর মধ্যে ২০ জন আসামি বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জামিন নিয়েছে। তবে পুলিশের খাতায় এখনও ১৪ জন পলাতক রয়েছে। পলাতক ১৪ জন হচ্ছেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রূপসার জোয়ার মৈশাঘুনী গ্রামের মৃত রসময় বাড়ৈই এর ছেলে দেব দুলাল বাড়ৈই বাপ্পি, তার সহোদর মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সজল বাড়ৈই, বটিয়াঘাটার তালবুনিয়া বিরাট গ্রামের সোহেল, মহানগরীর বসুপাড়ার বাসিন্দা শেখ সাদিকুর রহমান রিমন, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার জয়দেব দাসের ছেলে প্রবীর দাস, টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড়ের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ডলার, নগরীর সোলায়মান নগরের বাসিন্দা মোঃ কোরবান আলী, লবনচরা এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহম্মেদ, পশ্চিম বানিয়াখামারের আজাদ লন্ডীর ড্রেন খালপাড়ের বাসিন্দা মোঃ সরফরাজ, বাগমারার বাসিন্দা মোঃ আবুল কাশেম সুজন, টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোডের বাসিন্দা মোঃ মাহামুদুল হাসান শাওন, শীতলাবাড়ি মন্দিরের পাশের ইসলামপুর ক্রস রোডের বাসিন্দা মোঃ সুমন হাওলাদার, পশ্চিম বানিয়াখামারের বাসিন্দা মাসুদ হাসান লাভলু ও সোনাডাঙ্গার বাসিন্দা এস এম রোকনুজ্জামান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরির্দশক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে ৩ জন অফিসার এ মামলাটি তদন্ত করেছেন। সকল অফিসারই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার সত্যতা পেয়েছেন।

এ হত্যাকান্ডের সাথে যে ৩৪ জন জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে তাদের নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এ এস আই মনির হোসেন বলেন, সিআইডি বটিয়াঘাটার নজরুল হত্যা মামলার চার্জশীট প্রায় ১ মাস আগে আদালতে দাখিল করেছেন।

তবে মহামারী করোনার কারণে আদালতে এখনও ওই মামলার দাখিলকৃত চার্জসীটের ব্যাপারে কোন শুনানি হয়নি। কোর্ট পরিদর্শক আশরাকুল হক বারি বলেন, সিআইডি চার্জসীট দাখিল করেন। আমরা মামলার নথি রেখেছি। আদালত সিদ্ধান্ত দিলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। এদিকে চাঞ্চল্যকর এ নজরুল হত্যা মামলার ১৪ আসামিকে পুলিশ পলাতক বললেও অধিকাংশ আসামি শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

দেব দুলাল বাড়ৈই বাপ্পি, তার সহদর ও তার বেশ কয়েকজন সহযোগিকে সার্বক্ষনিক ধর্মসভা ক্রসরোডের মোড়ে আড্ডা দিতে দেখা যায় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রূপসা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বদানকারী এক নেতার সাথে বাপ্পি সব সময় থাকেন। দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ওই নেতার সাথে থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার ছবি দিয়ে গেল ঈদেও প্যানা ফেস্টুন দিতে দেখা গেছে। সূত্রটির দাবি আইনজীবি ওই নেতার ছত্রছায়ায় বাপ্পি ও তার সহযোগিরা থাকায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার থেকে বিরত রয়েছে।

//  খুলনা প্রতিনিধি //

খুলনা ফুলতলায় ৬০০ অসহায় পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

 

খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এপ্রিল মাসের সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি ছিলেন।

সভায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনার বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই। লকডাউনে খুলনার বাইরে থেকে আসা কাঁচামালের মোকামগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষের অকারণ ঘোরাঘুরি বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।

খুলনা নগরীর বাইরে হতে জরুরি সেবা ও রোগী বহনকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোন যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সন্ধ্যার পর দোকানপাট যেন খোলা না থাকে সে জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার।

সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান যে কোন মূল্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি খুলনায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সব ধরণের জনসমাবেশ পরিহারের আহবান জানান ।

সিভিল  সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনায় করোনাভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকা গ্রহীতাকে টিকা নেওয়ার জন্য ফোনে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন বিন জামান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন রমজানে তারাবি নামাজের সময় মসজিদে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অবহিতকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। করোনাকালীন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার  সুযোগে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদেরকে সজাগ থাকতে হবে।

এসময় আতঙ্কিত হয়ে বাজার থেকে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য না কেনার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ ইউসুপ আলী সভার শুরুতে বিগত মাসে খুলনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে  তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয় খুলনা জেলা অধিক্ষেত্রে বিগত মার্চ মাসে ১৬৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার সংখ্যা বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের হওয়া মামলা থেকে ২১ টি বেশি। খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্রে মার্চ মাসে ১৭৭ টি মামলা হয়েছে যা বিগত ফেব্রুয়ারি হতে ২৩ টি বেশি।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা অনলাইনে যুক্ত হন।

//আ: রাজ্জাক সেখ, খুলনা ব্যুরো//