মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ। খেটে খাওয়া এ সকল মানুয়ের এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। করোনার কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের রোজগার বলতে গেলে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অথচ জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের মূল্য লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। চাল তার অন্যতম।
চাল এমন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ, যা ছাড়া মানুষ একদিনও কল্পনা করতে পারে না। সে চালের বাজারে চলছে অস্তিরতা। চালের বাজারের লাগাম টেনে ধরতে সরকার আমদানী শুল্ক কমিয়ে দিলেও তার প্রভাব চট্টগ্রামের চালের বাজারে নেই।
১৪ এপ্রিল সারা দেশে লকডাউন শুরুর পর থেকে চালের বাজারে অস্তিরতার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত ১৪ দিনে চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি আড়াই থেকে তিন শত টাকা। আর খুচরা বাজারে বেড়েছে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ শত টাকা।
লকডাউনের আগে থেকে চট্টগ্রামে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। সে সময়ে হঠাৎ করে চালের দাম বস্তা প্রতি চার থেকে পাঁচ শত টাকা করে বেড়ে যায়। সে বিষয়ে পাইকারী বিক্রেতারা মিল মালিকদের দোষ দিয়ে বলে মিল মালিকদের মওজুদের কারনে বাজারে চালে ঘাটতি দেখা দেয়ায় চালের দাম বাড়তি। অন্যদিকে মিল মালিকদের ভাষা ভিন্ন। তারা বলেন, বৈশ্বিক বাজারের মূল্য রৃদ্ধি ও আমদানীর অসামজস্যতা কারনে চালের দাম বেড়ে চলেছে।
চট্টগ্রামের চালের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, গত ১৪ দিনের ব্যবধানে জিরা সিদ্ধ চালের দাম ৫০ কেজির বস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচেছ ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। পারি সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, স্বর্ণ সিদ্ধ ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, মিনিকেট সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, কাটারী সিদ্ধ (২৫ কেজির বস্তা) এক হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচেছ।
অন্য দিকে বেতি আতপ ২ হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে (৫০ কেজির) বস্তা ২ হাজার ৭ শত টাকায়, মিনিকেট ২ হাজার আট শত টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার এক শত টাকায়, ইরি আতপ ১ হাজার ৮ শত টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ১ শত টাকায় বিক্রি হচেছ।
অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত বেতির কস্টিং মূল্য কম হলেও বর্তমানে একই মানের চাল বিক্রি হচেছ ২ হাজার ৪ শত টাকা থেকে ২ হাজার ৭ শত টাকায়। নাজির সিদ্ধ (২৫ কেজির) বস্তা বিক্রি হচেছ ১ হাজার ২ শত টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪ শত টাকায়। পাইকারী বাজারে চালের এই অবস্থা হলেও খুচরা বাজারের অবস্থা বর্ণনাতীত। খুচরা বাজারে প্রতি বস্তা চাল পাইকারী বাজারের ৪ থেকে ৫ শত টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচেছ।
এ ব্যাপারে নগরীর কালা মিয়া বাজারের বাসিন্দা আবদুল মোতালেব জানান, তিন মাস আগে বাসমতি চাল কিনেছি (৫০ কেটি বস্তা) ২ হাজার ২ শত টাকায়, একই চাল এখন কিনতে হচেছ ৩ হাজার ২ শত টাকায়। যা ছয় মাসের ব্যবধানে ১ হাজার টাকা বেশি।
এ দিকে খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে দেশে আমন সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত- ৭০ হাজার ১৩৬ টন আমন সিদ্ধ চাল, ৪ হাজার ৮ শত ৬৩ টন আতপ চাল এবং ১২ হাজার ৩ শত ৪২ টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারী পর্যায়ে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৮২ হাজার ২ শত ২ টন। সরকারী পর্যায়ে গত কয়েক মৌসুম ধরে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী চল সংগ্রহ করতে পারে নি।
২০২০ সালে বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা থাকলেও সরকার ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করতে পারে নি। এর মধ্যে সরকারী চালের মজুদ ৫ লাখ টনের নিচে নেমে আসলে বেসরকারী ভাবে চাল আমদানীর সুযোগ দেয়া হয়। এ দিকে চালের এই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন- মধ্যবিত্ত লোকজন সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকার চালের মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে জনগনের জীবন যাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা ভেবে দেখা দরকার।
// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //
বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…
