২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ ভাগ মৃত্যু হবে তামাকের কারণে

২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ ভাগ মৃত্যু হবে তামাকের কারণে

//চট্টগ্রাম প্রতিনিধি//

২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর অন্তত ৮০ ভাগের মৃত্যু তামাকের কারণেই হবে। পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং নামে সংগঠন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা এ কথা বলেছেন।

বুধবার রাতে কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত তামাক প্রতিরোধক বিষয়ক ওই সেমিনারে ৪০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারমান অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপির সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারমান আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, আমরা যারা ট্যোবাকো বিরোধী ক্যাম্পেইনে যারা দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছি, তারা খুব ভালো করেই জানি আমরা কতদূর জেতে পারি, কতটা করতে পারি এবং কত দ্রুত করতে পারি।

প্রফেসর মেরিনা জাহান এমপি বলেন, তামাকের বিরুদ্ধে লড়াইটা আমাদের পরিবার থেকে শুরু করতে হবে।

আনোয়ারুল আবেদীন খান এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা তাতে একমত। কিন্তু আমাদের গভীরে যেতে হবে। এখনও গ্রামেগঞ্জে দোকানে সিগারেটের প্যাকেট সবার আগে থাকে। বিমানবন্দরে ধূমপানের আলাদা জায়গা আছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দামে সিগারেট পাওয়া যায় এখানে। এগুলো থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের পরিবার, সমাজ থেকে এই আন্দোলন শুরু করতে হবে।

এ সময় জাকিয়া নওশিন জুই বলেন, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেন আজ সূচনা হলো। আজ এখানে বাংলাদেশের সকল সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে, সেই সুযোগ তাদের আছে। সংবাদপত্রে তামাকের বিরুদ্ধে সংবাদ বাড়াতে হবে। দেশে তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে। তাহলেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি বলেন, সংসদ অধিবেশনে জাতীয় সংসদের বাজেট সেশনে আমাদের আলোচনা করতে হবে। বিভিন্ন সভা সেমিনারে তামাকের বিরুদ্ধে আরও বেশি জোরালো করে কথা বলতে হবে। বিশেষ করে লঞ্চ, বাস, ট্রেনসহ সব পাবলিক প্লেসে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এগুলো কমিয়ে আনতে হলে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারবো।

নোয়ার হোসেন এমপি বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দাবি করে তামাক থেকে প্রতি বছর ৩০ হাজার কোটি টাকা লাভ হয়। কিন্তু তা সত্যি নয়।  তামাক ব্যবহারে আমাদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি৷

সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’ সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার প্রত্যয়ে আমাদের এই আয়োজন। আমরা জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা করছি সকলে মিলে তামাকের বিরুদ্ধে লড়াই করার।

তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা করছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

English Dainikbiswa

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ// চীনকে জাপান যে বার্তা দিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *