//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন মো. জুয়েল নামে এক যুবক। তিন বছর আগেও স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফেরি করে পানির বোতল বিক্রি করা জুয়েল রীতিমতো বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এ বাহিনীতে রয়েছে অর্ধশত শিশু-কিশোর। ভাসমান এসব শিশু-কিশোরের মাধ্যমে স্টেশন এলাকায় চলে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ। কেবল তাই নয়, জুয়েল বাহিনীর নেতৃত্বে এ এলাকায় প্রকাশ্যে চলে পতিতাবৃত্তি ও জুয়ার আসর। তাদের ছত্রছায়ায় মাদক সেবন ও বেচাকেনায় যারা জড়িত, তারাও থাকেন নির্ভয়ে। অপরাধের এ হটস্পট পয়েন্ট থেকে রেলযাত্রীদের মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া যেন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্রতিরোধ করতে গিয়ে জুয়েল বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন খোদ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা। এ বিষয়ে একাধিকবার আরএনবির পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জুয়েল বাহিনীর দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সূত্র জানায়, ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অটোরিকশা পার্কিং এলাকায় জুয়ার আসর বন্ধে অভিযান চালান আরএনবি সদস্যরা। একই সঙ্গে ভাসমান দোকানদার সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কিছু দোকান সরে গেলেও জুয়েল বাহিনীর একটি দোকান সরাতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন আরএনবি। রেলওয়ের জায়গা থেকে সরে না গিয়ে জুয়েল বাহিনীর সদস্য মো. গফুর আরএনবি সদস্যদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে আরএনবি সদস্যদের মারধর করতে এগিয়ে গেলে নিজেদের চৌকিতে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন বাহিনীর সদস্যরা।
এ নিয়ে ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় আরএনবির জেনারেল শাখার সিআই মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর স্টেশন এলাকায় অবৈধ দোকান সরাতে গিয়ে জুয়েল বাহিনীর হামলার শিকার হন আরএনবি সদস্যরা। খবর পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। ওই ঘটনায় ২ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন চৌকির সিআই আমানউল্লাহ আমান। তবে কোনো ঘটনাতেই জুয়েল বাহিনীর কেউ আইনের আওতায় আসেনি। এরপর থেকে জুয়েলের কোনো কাজে পারতপক্ষে বাধা দিতে দেখা যায়নি আরএনবি সদস্যদের।
আরএনবির চট্টগ্রাম জেনারেল শাখার সিআই আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘স্টেশন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা সরাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ বিষয়গুলো আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম কোনায় প্রকাশ্যে বিক্রি হয় গাঁজা। মাদকের এ স্পটটি গুজার গাঁজার স্পট হিসাবে পরিচিত। এ ছাড়া নতুন স্টেশনের উত্তর দিকের পার্কিং মাঠে রয়েছে মিনা নামে এক নারীর গাঁজা ও ইয়াবার স্পট। নগরীর ৮০ শতাংশ গাঁজা সেবনকারী এ দুটি স্পট থেকে মাদক সংগ্রহ করে থাকে। মাদকের দুটি স্পটই নিয়ন্ত্রণ হয় জুয়েলের মাধ্যমে। কেবল এ দুটি স্পট ছাড়াও স্টেশন এলাকার চোলাই মদ বিক্রেতারাও জুয়েল বাহিনীকে ম্যানেজ করতে হয়। অপর দিকে জুয়েলের নেতৃত্বে অটোরিকশা পার্কিং মাঠে প্রতিদিন বিকাল থেকে আয়োজন করা হয় ইন্ডিয়ান তির খেলা নামক অনলাইন জুয়ার আসর। এ আসরে দায়িত্ব পালন করেন জুয়েল বাহিনীর রনি, আকাশ, সুমন ওরফে চান্দি সুমন ও জয়নাল। রাত ১১টার পর অটোরিকশা পার্কিংয়ের ছাদের ওপর বসে জুয়ার আসর। এ আসরটি চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত। শফিকুল নামে এক যুবক এ আসরটি নিয়ন্ত্রণ করেন। শফিকুল জুয়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর। এ ছাড়া রয়েছে জনি, জলিল, তারেক, ছোট জুয়েল, কামাল, খোকন, হাসান ওরফে মামা হাসান অন্যতম।
স্টেশন এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে পতিতাবৃত্তি চালাতে হলে জুয়েল বাহিনীকে প্রতি মাসে মাসোয়ারা দিতে হয়। মেহেদী নামে এক যুবক হোটেল সিলটন, বসুন্ধরা, আলী বোর্ডিং, গনি বোর্ডিং, ইরেন, মেট্রো ইন এবং স্টেশনের অভ্যন্তরে দুটি আবাসিক হোটেল জুয়েলের নামে মাসোয়ারা নিয়ে থাকে। এ ছাড়া স্টেশন এলাকার ৩০ জন পতিতা ও ১০ দালালের কাছ থেকে প্রতিদিন জুয়েলের নামে চাঁদা আদায় করে শিউলি, নুর জাহান ও ফারুক ওরফে ঠোঁট কাটা ফারুক।
পুরাতন স্টেশনসংলগ্ন ফলের আড়তে সড়কে গাড়ি রেখে মালামাল আনলোড করতেও জুয়েল বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাইয়ে সঙ্গে জুয়েলের অন্তত ২০ শিশু-কিশোর রয়েছে। তারা সকাল, বিকাল ও রাতে তিন শিফটে ছিনতাই করে থাকে বলে জানা গেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. জুয়েল বলেন, ‘স্টেশনের ছাদের ওপরের জুয়ার আসর এবং অনলাইন জুয়ার আসর ছাড়া অন্য কিছুর সঙ্গে আমার সম্পৃক্তা নেই। যারা আমার বিষয়ে এসব কথা বলেছে তারা ভুল বলেছে।’ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যে কোনো অপরাধের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে স্টেশন এলাকায় জুয়ার আসর চলছে-এমন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’সূত্র: যুগান্তর
রামপালে ওয়ারেন্টভুক্ত অস্ত্র মামলার আসামীসহ গ্রেফতার- ২

